রাষ্ট্রভাষার দাবীতে 1948 সালের 11মার্চ হরতাল ডাকা হয় 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' এর পক্ষ থেকে। ঐদিন পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন বহু ছাত্র-জনতা। শেখ মুজিবুব রহমান, অলি আহাদ, শওকত আলী প্রমুখ ছাত্র নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। এর প্রতিবাদে 13 তারিখে আবার হরতাল আহবান করা হয়। এদিন পুলিশ বহু স্থানে গুলি ছুড়ে ও লাঠিচার্জ করে।
এদিন যশোর শহরে কলেজ ছাত্র একরামুল হককে গ্রেফতার করে দুজন পুলিশ বেদম মারতে থাকে। এ দৃশ্য চোখে পড়ে গ্রাম থেকে দুধ বিক্রি করতে আসা এক লোকের। পুলিশ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি দুধ বহনকরা বাঁশের বাঁক নিয়ে পুলিশদ্বয়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাই দেখে আরো অনেকে এগিয়ে আসেন পুলিশের হাত থেকে ছাত্রটিকে উদ্ধারের করতে। আহত পুলিশদ্বয়কে পরে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।
ঐদিনই পুলিশের তাড়া খেয়ে কিছু ছাত্র আশ্রয় নিয়েছিল নিষিদ্ধ পল্লীতে। পুলিশ চারদিক থেকে পল্লীটি ঘেরাও করে। কিন্তু এ পল্লীর বাসিন্দারা সেদিন হাতে দা নিয়ে রণরঙ্গিণীর মত বেড়িয়ে এসেছিল। কোন পুলিশকে তাঁরা ভিতরে ঢুকতে দেয়নি। ফলে ঐদিন গ্রেফতারের হাত থেকে বেঁচে যায় কিছু ছাত্র।
21 ফেব্রুয়ারী 1952 সাল। পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিকসহ আরো নাম না জানা অনেকে। এ খবর শুনে বিক্ষোভ শুরু হয় সারা দেশে।
নারায়নগঞ্জ শহরে সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলে। এ সময়ে পুলিশের কড়া নজর ছিল মর্গান বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ বেগমের উপর। কারণ তিনি শহরবাসীদের আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করছিলেন। 29ফেব্রুয়ারী পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এ গ্রেফতারের খবর শুনে জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে, যা সামলাতে শেষ পর্যন্ত ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসকে নামানো হয়। সরকার কারারুদ্ধ মমতাজ বেগমকে বন্ড সই করে মুক্তির প্রস্তাব দিলে তিনি এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। আন্দোলনে জনতার সমর্থন পেলেও স্বামীর সমর্থন তিনি পেলেন না । মমতাজ বেগমকে তালাক দিলেন তাঁর স্বামী। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে তিনি তাঁর সংসার হারালেও আন্দোলন থেকে পিছু হটেননি।
তথ্যসূত্র: বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


