somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

স্বরচিতা স্বপ্নচারিণী
অবসরে বই পড়তে পছন্দ করি, মুভি দেখতেও ভালো লাগে। ঘোরাঘুরিও পছন্দ তবে সেটা খুব একটা হয়ে উঠে না। বাকেট লিস্ট আছে অনেক লম্বা। হয়তো কোন একদিন সম্ভব হবে, হয়তো কোনদিন হবে না। কিন্তু স্বপ্ন দেখতে জানি, প্রত্যাশা করতে জানি। তাই সেটাই করে যাচ্ছি।

সেই রাত্রির মায়া

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





প্রত্যাশার অনেক খুশি লাগছে। এত আনন্দ তার শেষবার কবে হয়েছে সে মনে করতে পারছে না। আম্মু এত এত জামা তার জন্য কখন বানালো মাথায় আসছে না। আগে যখন ছোট ছিল তখন অনেক জামা আম্মু বানিয়ে দিত। কিন্তু বড় হওয়ার পর আর তেমন কিছু বানায়নি। আসলে সময় সুযোগ কিছুই হত না তাই সেটাও একটা কারণ ছিল। ছোটবেলায় বেশিরভাগ সময়ই ফ্রক বানাতো তার জন্য। মজার ব্যাপার হল আজও সব ফ্রকই বানিয়েছে, একটাও কামিজ না। সব থেকে সুন্দর লাগছে বোটল গ্রীন কালারের ফ্রকটা। ফ্রক পরলে তাকে কেমন লাগবে কে জানে। তার সব সময় মনে হয় ফ্রকে তাকে মানায় না। তাই সে কখনও ফ্রক কাটিং এর কোনো ড্রেস পরেনা। তবে আজ খুব যত্ন করে বোটল গ্রীন ফ্রকটা পরলো। সাথে আবার আম্মু সব ড্রেসের সাথে ম্যাচিং মাস্ক বানিয়ে রেখেছে। প্রত্যাশা আসলেই ভাবেনি ফ্রকটা পরলে তার বয়স দশ-বারো বছর কম দেখাবে। নিজেকে কখনও ভালো লাগেনা তার তবে আজ মনে হচ্ছে তাকে ভালো দেখাচ্ছে। হয়তো আম্মু বানিয়েছে ড্রেসটা সেই জন্য হতে পারে। কিন্তু আম্মু মাস্কটা কি কাপড়ের বানিয়েছে আল্লাহই ভালো জানেন। এত ট্রান্সপারেন্ট! দেখে মনে হচ্ছে মসলিন বা টিস্যু কাপড়ের মাস্ক। কিন্তু হাত দিয়ে ধরলে মনে হচ্ছে সুতি কাপড়ের। এমন কাপড় তো কখনও দেখেনি সে। দেখতে ভালো লাগলেও এর অসুবিধা আছে। মাস্ক পরলে মানুষজন মুখের কোনো এক্সপ্রেশান ঠিকমত দেখতে পায় না। তাই কোনো সিরিয়াস অবস্থাতে হাসি পেলেও অনায়াসে হাসা যায়। এটা পরে বাইরে গেলে এমনভাবে হাসা যাবে না। এই যে এখন প্রত্যাশা সব দাঁত বের করে হাসছে সেটা আয়নাতে দেখা যাচ্ছে।

"তুশি! তুশিমনি! এই জামাটাও একটু পরে দেখো। এটা পরলে অনেক ভালো লাগবে।"

"আম্মু আমার কমলা রং একটুও ভালো লাগেনা। আমার ধারণা এই রং পরলে আমাকে পাগল দেখা যায়। রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে মানুষ বলবে ঐ দেখো একটা পাগল যাচ্ছে। তুমি জানো তারপরও এই রং এর ড্রেস কেন বানালে?"

"এটা অনেক সুন্দর। স্ট্যান্ডার্ড লাগছে। তুমি আর কোনো কথা বলবে না। যাও এটা পরে আসো।"

প্রত্যাশা মন খারাপ করে জামাটা নেয়।

************************************************

ঘুম ভেঙ্গে গেল প্রত্যাশার। কত বাজে জানে না সে তবে বুঝা যাচ্ছে এখন অনেক রাত। এটা কি স্বপ্ন ছিল? পুরোটাই মায়া? মন খারাপ হয়ে গেল। সুন্দর জিনিসগুলো শুধু স্বপ্ন হয় কেন? পাশে আম্মুর বালিশে কোলবালিশটা শুয়ে আছে। প্রত্যাশা এমনভাবেই রাখে প্রতিদিন বালিশটা যাতে অন্ধকারে মনে হয় আম্মু শুয়ে আছে পাশে। কিন্তু হঠাৎ করে প্রত্যাশাকে অবাক করে দিয়ে বালিশটি নড়ে উঠলো। না কোলবালিশ নয়তো, আম্মুই শুয়ে আছে।

"আম্মু তুমি এসেছো? আমি ভেবেছি তুমি আর কোনোদিন আসবে না।"

"তুশিমনি, আজ কি অনেক শীত পড়েছে? কম্বলে তো শীত মানাচ্ছে না। সোয়েটার পরে ঘুমানো উচিত ছিল।"

"যা খুশি পরো কিন্তু গতবারের মত আমার জাম্পার পরে ঘুমাবেনা। আমার জাম্পারটা বড় হয়ে যাবে।"

"তুই তোর জাম্পার মাথায় করে রাখ। আগে শীতে বেঁচে নেই তারপর দেখা যাবে। এত তো শীত লাগেনা আমার, আজ মনে হয় অনেক শীত পড়েছে।"

"আম্মু তুমি কি সত্যিই এসেছো? তুমি না এলে আমি আসলেই থাকতে পারতাম না। আমার বিশ্বাসই হয়না তোমার সাথে পৃথিবীতে আমার জার্নি এতটুকুই ছিল। আমার এখন অনেক ভালো লাগছে তুমি চলে এসেছো।"

"তোর আব্বু আর নানি অনেক যন্ত্রণা করছে?"

"হ্যাঁ, অনেক! জানো আম্মু সেইদিন গিয়েছিলাম সেই পুরানো টেইলারের কাছে, যার কাছ থেকে আগে জামা বানাতাম। তোমার কথা জিজ্ঞাসা করেছিল।"

"কি বলেছিলি?"

"বলেছিলাম তুমি মারা গিয়েছো। কিন্তু বলতে একটু সময় লেগেছিল। কেন যেন মুখে আসছিল না কথাটা, গলার কাছে আটকে ছিল।
আচ্ছা আম্মু! নানা মারা যাবার পর নানার খাতাটা তুমি নিয়ে এসেছিলে না? ওটা আমার অনেক প্রিয় ছিল। অনেক দিন ধরে ওটার কথা মনে ছিল না। ওটা কোথায় রেখেছো? খালাও একদিন বলছিল খাতাটার কথা। বলছিল ওটা পেলে খালা ওটা নিবে। তবে আমি তাকে সেটা দিব না। আমার কাছেই রাখবো।"

"সব তুই তোর কাছে রাখবি?"

"রাখতে আর পারলাম কই? আমি যখন স্কুলে পড়তাম সেই সময় আমার জন্য পহেলা বৈশাখে শাড়ির সাথে পরার জন্য একটা ব্লাউজে তুমি গ্রাফ পেপার বসিয়ে সেলাই করেছিলে। সেই ডিজাইনটার স্যাম্পল তোমার কাছে আর একটাও ছিল না। কিন্তু তুমি তাও সেটা ফুফুর মেয়েকে দিয়ে দিলে। কি দরকার ছিল দেওয়ার? অনেক সুন্দর ছিল ডিজাইনটা।
তুমি একটা শালে ফুল সেলাই করেছিলে কিন্তু দিয়ে এলে তোমার ছোট খালাকে। সেইদিন দেখছিলাম তোমার ছোট খালার সাথে তোলা ছবি গুলো। সেই চাদরটা পরে ছিলেন। আমি একবার চিন্তা করেছিলাম তোমার ছোট খালাকে আমি অন্য একটা শাল দিয়ে তোমার সেলাই করা শালটা নিয়ে আসবো। তোমার জিনিস আমি যতটা যত্ন করে রাখতে পারবো অন্য কেউ তেমনটা পারবে না আম্মু। কিন্তু পরে সেই চিন্তা ড্রপ করে দিয়েছি। তুমি যেহেতু দিয়ে গিয়েছো তাই আর নিতে ইচ্ছা করেনি।"

"জিনিস তো অনেক আসবে আর যাবে তুশি। কিন্তু সবার কাছে তো আর আমি যেতে পারবো না। তোমার কাছে যেমনটা আমি আসতে পেরেছি।"

"সেটা ঠিক বলেছো। তুমি প্লিজ প্রতিদিন একবার করে হলেও এসো। আমার একা থাকতে আর ভালো লাগছে না।
আচ্ছা আম্মু! দাঁড়াও একটু। সব কথা কি অন্ধকারে বলবো নাকি? লাইটটা জ্বালিয়ে আসি। তোমাকে কিছু জিনিস দেখাবো।"

প্রত্যাশা খাট থেকে নেমে লাইটটা জ্বালালো।

"হ্যাঁ, আম্মু যা বলছিলাম ...... আম্মু! কোথায় গেলে তুমি?"

জানালার পাশ দিয়ে একটা নাম না জানা পাখি ডাকতে ডাকতে চলে গেল। প্রত্যাশা অনেকবার এই পাখির ডাক শুনেছে কিন্তু নাম জানেনা। শুধু রাতের বেলা এটা ডাকে। আম্মুও নাম জানতো না। দূর থেকে আজানের ধবনি ভেসে আসছে। আম্মুর বালিশের উপর কোলবালিশটা শুয়ে আছে। শূন্য বিছানার দিকে তাকিয়ে প্রত্যাশা ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো।





সেই রাত্রির মায়া

স্বরচিতা স্বপ্নচারিণী
০৪/০২/২০২২


ছবি ― মুঠোফোনে তোলা
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৩ রাত ১০:০০
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টুইস্টেড মাইন্ড অফ আ সিরিয়াল কিলারঃ কবি কালিদাস স্পেশাল

লিখেছেন এইচ তালুকদার, ২৭ শে মে, ২০২৪ রাত ১:১৩



সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে আমার আগ্রহ শুরু হয় এই ব্লগেরই একজন অসাধারন ব্লগার ''ডক্টর এক্স'' এর লেখা পড়তে যেয়ে। বাংলা ভাষায় সাইকোলজির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেলফ হেল্প ধরনের অসাধারন কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিলিস্তিনে কী শান্তি সম্ভব!

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ২৭ শে মে, ২০২৪ সকাল ৯:২১

এক.
প্রতিদিন ঘুমানোর আগে আলজাজিরা দেখি৷ গাজার যুদ্ধ দেখি৷ রক্ত দেখি৷ লাল লাল৷ ছোপ ছোপ৷ সদ্য জন্মানো শিশুর৷ নারীর৷ কিশোর কিশোরীর৷ বৃদ্ধের৷ সারি সারি লাশ৷ সাদা কাফনে মোড়ানো৷ ভবনে চাপা পড়া৷... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাকৃতিক দূর্যোগে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে মে, ২০২৪ সকাল ৯:৩৫

আমার জীবনে আমি সরাসরি প্রাকৃতিক দূর্যোগের ভেতরে পড়েছি বলে আমার মনে পড়ে না । ২০১৯ সালের ঘটনা। ঘূর্ণিঝড়ের নাম সেবার ছিল সম্ভবত বুলবুল ! সেটা যখন আসছিল তখন আমি ছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপকূলের ভাই-বোনদের প্রতি গভীর সমবেদনা

লিখেছেন বিষাদ সময়, ২৭ শে মে, ২০২৪ দুপুর ১:০৭




আমরা ঢাকার পাকা দালানে বসে যখন আয়েস করে চায়ে চুমুক দিয়ে বৃষ্টি বিলাসে বিভোর, ঠিক সেই সময় আমাদের উপকূেলের ভাই-বোনেরা হয়তো কেউ স্বজন, কেউ ঘর, কেউ ফসল, কেউবা গবাদী... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ব্লগার ভাবনা: অশ্লীলতা কি পোশাক দিয়ে নির্ধারণ করা উচিৎ নাকি মানসিকতা ও চরিত্র দিয়ে?

লিখেছেন লেখার খাতা, ২৭ শে মে, ২০২৪ দুপুর ২:৫২


ছবিটি -ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

কহিনুরের, ফ্লোরা ওরিয়েন্টাল বিউটি সোপ।১৯৭৮ সালের বিজ্ঞাপন। ছবিটি ফেসবুকে পেয়েছি। ব্লগার সোনাগাজী, ব্লগার কামাল ১৮ সহ যারা মুরুব্বি ব্লগার রয়েছেন তারা হয়তো এই বিজ্ঞাপনটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×