somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামের ইতিহাসে কারবালাই শেষ ট্র্যাজেডি নয়

০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলামের ইতিহাসে কারবালাই শেষ ট্র্যাজেডি নয় । কারবালার মাত্র দুই বছর পর, ৬৩ হিজরিতে মদিনার পবিত্র মাটিতে ইয়াজিদি বাহিনী যে তাণ্ডব চালিয়েছিল, তার নাম 'ওয়াকিয়ায়ে হাররা'। এটি এমন এক কালিমালিপ্ত অধ্যায় যা পড়লে যে কোনো মুমিনের কলিজা ফেটে যাবে।

কারবালায় ইমাম হোসেন (রা.)-কে শহীদ করার পর ইয়াজিদের দুঃশাসন যখন মদিনাবাসী মেনে নিতে অস্বীকার করল, তখন ইয়াজিদ তার সেনাপতি মুসলিম বিন উকবার নেতৃত্বে এক বিশাল বাহিনী পাঠাল। সেই বাহিনী মদিনার উপকণ্ঠে 'হাররা' নামক স্থানে সাহাবী ও তাবেয়ীদের ওপর যে নৃশংসতা চালিয়েছিল, তা চেঙ্গিস খানের বর্বরতাকেও হার মানায়।

​ইয়াজিদের নির্দেশে মদিনা মুনাওয়ারাকে তিন দিনের জন্য তার সৈনিকদের কাছে 'হালাল' ঘোষণা করা হয়েছিল। ভাবুন তো, যে শহরকে নবীজি (সা.) পবিত্র ঘোষণা করেছিলেন, সেখানে তিন দিন ধরে চলল লুণ্ঠন আর পৈশাচিকতা। ইতিহাসের কিতাবগুলো সাক্ষ্য দেয়, ইয়াজিদি সৈন্যরা মসজিদে নববীতে ঢুকে পড়েছিল এবং রওজায়ে পাকের পাশে ঘোড়া বেঁধে সেটিকে আস্তাবল বানিয়েছিল। এমনকি ঘোড়ার বিষ্ঠা পর্যন্ত নবীজির মিম্বরের পাশে পড়ে ছিল।

সবচেয়ে কলঙ্কজনক বিষয় হলো—মদিনার শত শত কুমারী সাহাবী কন্যাদের ওপর চালানো হয়েছিল পাশবিক ধর্ষণ। বলা হয়, সেই ঘটনার পর মদিনায় এমন অনেক শিশুর জন্ম হয়েছিল যাদের পিতৃপরিচয় ছিল অজ্ঞাত। হাজার হাজার সাহাবী ও আনসারদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল, আর যারা বেঁচে ছিলেন তাদের বাধ্য করা হয়েছিল ইয়াজিদের 'কেনা গোলাম' হিসেবে আনুগত্যের শপথ নিতে।

মদিনা ধ্বংস করার পর ইয়াজিদি বাহিনী কাবার দিকে রওনা হয় এবং পাথর নিক্ষেপ করে, পবিত্র কাবার গিলাফ জ্বালিয়ে দেয় ও দেয়াল ধসিয়ে দেয়। অথচ আজ অনেক চাটুকার আলেম 'ফিতনা' এড়ানোর দোহাই দিয়ে এই ইতিহাস ধামাচাপা দিতে চায়। তারা চায় না আপনি জানুন যে, আকিদাগত বিচ্যুতি আর ক্ষমতার দালালি কীভাবে ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোকে অপবিত্র করেছিল।

​কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ইয়াজিদ কি একদিনে তৈরি হয়েছিল? না। ইয়াজিদ এক বিশাল রাজনৈতিক ও পারিবারিক চক্রান্তের ফসল। যারা ক্ষমতার লোভে খেলাফতকে রাজতন্ত্রে রূপান্তর করেছিল এবং যারা ইয়াজিদের মতো এক মদ্যপ ও লম্পট ব্যক্তিকে শাসনের 'বৈধতা' দিয়েছিল, ইতিহাস তাদের দায় এড়াতে পারে না। তৎকালীন সময়ে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রাজনৈতিক কৌশলের দোহাই দিয়ে ইয়াজিদকে বায়াত (আনুগত্যের শপথ) দিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলেন।

ব্রিটিশরা যেমন পরে ওহাবী-সৌদ জোটকে ব্যবহার করেছে, ইয়াজিদকেও তেমনি ব্যবহার করা হয়েছিল ইসলামি সাম্যের মূলে কুঠারাঘাত করতে। আজ যখন অনেক আলেমকে ইয়াজিদের পক্ষে সাফাই গাইতে দেখি বা হাররার ঘটনা নিয়ে 'রহস্যময় নীরবতা' পালন করতে দেখি, তখন বোঝা যায় ইয়াজিদের সেই অনুসারী গোষ্ঠী আজও জিন্দা আছে।

ইয়াজিদ কেবল মাত্র কোনো ব্যক্তি নয়, ইয়াজিদ হলো একটি মানসিকতা—যা আজও সেইসব আলেমদের মাঝে বেঁচে আছে যারা জালেমের জুলুমকে 'তাকদির' বলে চালিয়ে দেয়। ইতিহাস আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় যে, যখন আলেম সমাজ সত্য বলতে ভয় পায় এবং ক্ষমতার পা চাটতে শুরু করে, তখন মদিনার পবিত্রতাও ভূলুণ্ঠিত হয়। হাররার সেই রক্ত আজ আমাদের কাছে বিচার চায়—আমরা কি হোসেনি কাফেলায় থাকব, নাকি সেই নীরব ইয়াজিদি আলেমদের কাতারে?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×