উর্মিকে ইমার্জেন্সি ও টি তে নিতে নিতে আমাকে বোঝান রাজা ভাই। বেচারা দুইদিন ধরে নাইট করছে। কদিন ধরে পি. জি. টির ভাইয়া আপুরা কেউ আসে না । সমস্ত চাপ রাজা ভাই এর উপর। আমি আর বর্না তো নাদান। যতটা পারি রাজাভাই এর ফাই ফরমাশ খাটি।জ্ঞানের চেয়ে উৎসাহ বেশি।
ঃ ক্যালকুলেশন টা করে ফ্যাল! এ লট অফ ফ্লুইড িস লস্ট। এটা ঠেকাতে না পারলে হবে না!
শর্মিকে আরেক সিনিয়ার আপুর কাছে দেওয়া হয়েছে। কাজে কর্মে বেশ উৎসাহী। প্রাইভেট মেডিকেল থেকে পাশ করে সরকারী হাসপাতালে ইন্টার্ন ী করছেন বলেই কিনা জানি না একটা সিনসিয়ারিটি প্রমানের চেষ্টা থাকে। কতটা সত্য কে জানে! শর্মির বার্ন অতটা নয়, কিন্তু বয়স কম বলেই বিপদে আছে। শুধু ফ্লুইড টা ঠিক রাখতে পারলেই হবে। রাজা ভাই হিসাবটা বুঝিয়ে দিয়ে আমাদের সাথে সাথে আসে!
উর্মির অবস্থা আসলেই খারাপ। মেয়েটা কোথায় পোড়েনি? মাথার চুল থেকে শুরু করে নাকের ভিতর পর্যন্ত সিনজড বানর্ড।তার মানে হলো তড়িৎ প্রবাহ একেবারে ভিতর দিয়ে গেছে, মাথার ভিতর, শ্বাসনালী , সব ঝলসে গেছে। চিকিৎসা শাস্ত্রে এর চেয়ে ভয়ংকর বার্ন আর নেই। ভীষন বিপদজনক অবস্থা!
আমরা গণিতের পর গণিত করি। ব্যাগের পর ব্যাগ স্যালাইন যায়। উর্মির শরীর বিদ্্রোহ করেছে। সে নেবে না কিছুতেই শিরায় জল। আমরা ওকে কেটে ফালা ফালা করি। যে ভাবেই হোক , জল চাই জল! রুধির ধারা রুদ্ধ হয়ে যাবে, আমরা তা হতে দেব কেন? তাই , ওর শরীরটাকে আমরা যেখানে পারি ফুটো করি, জল ঢোকানোর পথ খুঁজি!
অমানুষিক পরিশ্রম যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা যেতে থাকে! পানির মত টাকা খরচ.......
আগামী 1 মাস হেটে বাসায় যেতে হবে আমার।
ঃ মোটা কমে যাবে।
আমি ঠাট্টা করি!
রাত বাড়ে। উর্মির 7 বছরের প্রান টা নিয়ে যমে মানুষে টানাটানি- কখনো যম এগিয়ে আসে- কখনো আমরা ঠেলে পিছনে পাঠাই।
রাজাভাই মেঝেতে শুয়ে পড়েন। 5 মিনিট পরেই ধড়মড় করে উঠে বসেন।
ঃ ইমন , ড্রিপটা দ্যাখ তো!
ঃ জি, রাজাভাই, দেখছি। আপনি একটু রেস্ট করেন।
ভাইয়া উঠে হাজার বার করা হিসাব আবার করতে বসেন। আমি ক্যালকুলেটর এগিয়ে দেই। বুঝি উনি শান্ত হবেন না।
প্রতিটা অংক গোটা গোটা অক্ষরে লিখে ও টির দেয়ালে সেঁটে দেই। 15 মিনিট অন্তর অন্তর নেওয়া রিডিং লিখি।
ভাইটাল সাইন, ফ্লুইড ইনপুট, আউটপুট, আরও অনেক কিছু।
বর্না ছুটে আসে। নামাযের দুই রাকআত পড়েছে কি পড়েনি!
ঃ কি হইসে?
ঃ কিসু হয়নি। তুই নামায শেষ কর।
ঃ কিসু হইলে , আমারে ডাকিস!
ঃ আইচ্ছা।
ভোর পর্যন্ত যুদ্ধ চলে। এর মাঝে 2 বার ভেইন কলাপস করেছে। পা 2টা ফালি ফালি করে আবার চ্যানেল ওপেন করি। হাতে হয় না। টু মাচ বার্নড।
কেউই ঘুমাইতে পারি না। শরীরে এত চামড়া পুড়ে গেছে! অনেক অনেক চামড়া লাগবে মেয়েটার। 7 বছরের শরীরে চামড়া পাব কই?
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


