somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক্ষুনি বন্ধ করতে হবে সীমান্ত হত্যা।

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভারত- বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সম্পর্কের চলছে বসন্ত কাল। দুই দেশের সরকারই বজ্রকণ্ঠে বলে আসছে দুই দোশের বন্ধুত্বের অবস্হান সর্বকালের সেরা পর্যায়ে। কিন্তু বাংলাদেশের সাধারন মানুষ সরকারের এমন মন্তব্যকে কতটুকু নীতিবাচক হিসেবে গ্রহন করেন সেটাই একটা বড় প্রশ্ন। আমাদের দেশের প্রায় পুরো সীমান্ত একটাই ভারতের সাথে ভৌগলিক সাংস্কৃতিক কারনে অবশ্যই ভারতে আমাদের সমচেয়ে বড় বন্ধু। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ভারত একটি বিশেষ জয়গা দখল করেছে। ১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সহযোগিতায় আমরা তাদের কাছে অবশ্যই কৃতজ্ঞ। তবে সেই কৃতজ্ঞতার জের ভারত আমাদের কাছ থেকে অনোক ভাবেই আদায় করে নিচ্ছে । শুধুমাত্র ভারত- বাংলাদেশ এই দুই দেশের সীমান্তেই কড়াকড়ি? বিশ্বের আরো অনেক দেশের সীমান্তে কড়াকড়ি আছে, থাকবে৷ কিন্তু হতাশার জায়গাটা হচ্ছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনা এই মুহুর্তে যদি একজন সুস্হ সাধারন মানুষকে প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীর রাষ্ট্রীয় সীমান্তের মধ্যে কোন টি মানবিক বিবেচনায় ভয়ংকর। বিনা দ্বিধায় এক বক্যেই সবাই মুখ থেকে একই উত্তর আসবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। ভারত-বাংলাশে বিভিন্ন রাষ্ট্র হলেও সম্পর্কটা একটু অভিন্ন কারন ভারত বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে সেই ১৯৪৭ সালে সীমা রাষ্ট্র ভাগ হলেও সম্পর্কটা তেমন ভাগ হয়নি আমাদের অনেকেরই অনেক নিকট আত্মীয় ভারতে আছেন বিশেষ করে করে পশ্চিম বঙ্গে। ভারতে নতুন বিতর্কিত আইন নিয়ে যেই ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখছি তার অন্যতম কারন ই হলো সম্প্রতি রক্ষা।
বলছিলাম সীমান্ত হত্যার কথা। সোস্যাল মওডিয়া সুত্রে আমার বন্ধু এ্যাক্টিভিষ্ট কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাওগাতা চক্রবতীর সাথে কথা হচ্ছিল সীমান্ত হত্যা নিয়ে। তিনি ও এ ব্যাপারে অনেকটা ক্ষোভ নিন্দা প্রকাশ করলেন । বললেন দাদা এটা একটা জঘন্যতম নিন্দনীয় অপরাধ আইন কি বলে এটা বড় বিষন না মুখ্য বিষয় মানবতা। একজন মানুষ যাদি অবৈধ ভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে তার জন্য চাইলে যে কোন দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পারে। তার জন্য একটি মানুষকে গুলি করে হত্যা এটা কোন রাষ্ট্রীয় সভ্যতায় পরে। ভারত-বাংলাদেশের মানুষের অবৈধ সীমান্ত অতিক্রমের যথেষ্ট যুক্তি সংগত কারন রয়েছে এবং যুগ যুগ ধরে এই প্রথা চলে আসছে । কারন সীমান্তবর্তী অনেক মানুষের ই সীমানার এপার ও পারে নিকটবর্তী আত্মীয় আছেন। আত্মীয়ের আত্মার টানের কোন সীমানা নাই। সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের অনেকের ই জমিজিরাত সীমান্তের মাঝামাঝি তাই অনেক সময় কৃষকেরা চাষাবাদের সময় অসাবধানতা বশত ই সীমানা অতিক্রম করে ফেলেন এমন কি কৃষকের গরু ছাগল চরানোর সময় ও প্রানীগুলি সীমানা অতিক্রম করে সীমান্তবর্তী নদীগুলিতে জেলেরা মাছ ধরতে নদী গেলে সঠিক সীমানা ঠিক থাকে না। এই বিশেষ করন গুলিতেই আমাদের দেশের মানুষ গুলি ভুলে সীমান্ত অতিক্রম করেন। ভারত যেহেতু আমাদের পাশ্ববর্তী অন্যতম বড় দেশ তাদের সাথে আমাদের বানিজ্যিক সম্পর্ক সেই আদি যুগ থেকেই। অবৈধ বানিজ্যের কারনে ও প্রচুর মানুষ অবৈধভাবে এপার ওপার আসা যাওয়া করে। আর এই কারনেই ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করছে আমাদের দেশের মানুষ।

গত ৯ জানুয়ারি ২০২০ চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওয়াহেদপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমানত রক্ষীবাহিনী বিএসএফের গুলিতে মোঃ সেলিম ও মোঃ সুমন নামের দুই বাংলাদেশী নিহত হন। সংবাদ মাধ্যমের খবরে যতটুকু জানায় সেলিম ও সুমন দুই জনই রাখাল তারা ভারত থেকে গরু আনার জন্য ভারতীয় সীমান্তের প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার টিকলিচর নামক এলাকায় পৌঁছলে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার চাঁদনিচক বিএসএফ ফাঁড়ির সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। সমচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো ব্যাপার হলো নিহত সেলিমের বাবা বুদ্ধু ও ২০০৮ সালে পদ্মার জলসীমায় অনুপ্রবেশকারী বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন। দুঃখজনক হলে সত্যি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কেউ মারা গেলে আইনি ঝামেলা এড়াতে গোপনে মরদেহ পদ্মার চরে পুঁতে ফেলা হয়। গত ০ জানুয়ারী ২০২০ লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী সীমান্তে তামাক ক্ষেতে কাজ করার সময় আবু সাঈদ নামের এক কৃষকে ক্ষেত থেকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে সীমান্তে কাছে ফেলে রেখে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। পরে অবশ্য পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় বাহীনি সাঈদের লাশ বাংলাদেশের বিজিবির কাছে হস্তান্ত করে।

আমাদের সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর হত্যা যেই হিসাব তা সত্যি মানুষ তথা সভ্য জাতি হিসেবে গ্রহন করা কষ্টকর ২০১৯ সালের ১১ জুলাই জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ভারত- বাংলাদেশ সীমান্তে হতহাতের একটি চিত্র তুলে ধরেন। তরা তথ্য অনুসারে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ২০০৯ সালে কমপক্ষে ৬৬ বাংলাদেশি বিএসএফ এর গুলিতে নিহত হন। ২০১০ সালে ৫৫, ২০১১ ও ২০১২ সালে ২৪ জন করে, ২০১৩ সালে ১৮ জন, ২০১৪ সালে ২৪ জন, ২০১৫ সালে ৩৮ জন, ২০১৬ সালে ২৫ জন, ২০১৭ সালে ১৭ জন এবং ২০১৮ সালে তিনজন নিহত হন।তার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে সর্বোচ্চ ৬৬ জন এবং ২০১৮ সালে সর্বনিম্ন তিনজন বিএসএফ এর গুলিতে নিহত হন। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের(আসক) হিসেবে ২০১৯ সালে সীমান্তে ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুলিতে ৩৭ জন এবং নির্যাতনে ছয় জন। আহত হয়েছেন ৪৮ জন। অপহৃত হয়েছেন ৩৪ জন। গত বছরের তুলনায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর হাতে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যার সংখ্যা বৃদ্ধিপেয়েছে প্রায় তিন গুন। সম্প্রতি আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও ভারতীয় সীমান্তবাহিনী এমন হত্যাকান্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

২০১১ সালের ৭ই জানুযারি কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর ঝুলন্ত লাশ ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় তোলে৷ বিএসএফ-এর গুলিতে ফেলানী হত্যার পর বাংলাদেশের দাবির মুখে ২০১৪ সালে দিল্লিতে বিএসএফ ও বিজিবির মহাপরিচালকদের বৈঠকের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু সেই সমঝোতার শুধু দিল্লদ আর ঢাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রশেগেছে এর বস্তব প্রভাব ভারত- বাংলাদেশের ৪,০৯৬ কিলোমিটার সীমান্তের কোথাও পরে নি। আমরা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয়দের জন্য যথেষ্ট উদার আমাদের সমুদ্রে অবৈধ ভাবে মাছ ধরতে এসে ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে ভারতীয় জেলেদের উদ্ধার করে যত্ন সহকারে তাদের নিজ দেশে প্রেরন করে অবশ্যই মানবিকতার প্রমান দিয়েছি। আমাদের দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। কেন এক হিসেবে দেখেছিলাম বাংলাদেশে প্রায় ১১ লাখ ভারতীয় নাগরিক কাজকরছে যাদের অধিকাংশ ই অবৈধ।

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী হাতে বাংলাদেশের নগরিক হত্যানিয়ে যেহেতু আমার লেখা তাই কিভাবে এই সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা যায় এটাই ভাবতে হবে। সীমান্ত হত্যা বন্ধের জন্য সর্বপ্রথম প্রোজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা সেই সাথে কথিত বন্ধুত্বপুর্ন সম্পর্কের বাস্তবায়ন। সীমান্ত থাকবে এটা যেমন সত্য সীমান্তে অবৈধযাতায়াত ও থাকবে এটা ও বাস্তব তবে আমি কোন ভাবে সীমান্তে অবৈধভাবে পারাপার কেনসমর্থন করি না বা করতেনপারি ও না। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ইউরোপের দেশগুলোর মতো খুলে দেয়া হবে সেটা অলিক কল্পনা৷ বরং কেউ অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিতে চাইলে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা ই হবে একটি মানবিক সভ্যরাষ্ট্র কর্তব্য ৷ তবে অবৈধ সীমান্ত পারাপারের নামে ভারত বাংলাদেশ সীামান্তে যে রক্তের হুলি খেলা চলছে তা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এই হত্যার বিরুদ্ধে আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিবাদ এখনি গড়ে তুলতে হবে। না হয় আমাদের স্বাধীনতা কোম ভাবেই অর্থবহ হবে না।
লেখকঃ ওয়াসিম ফারুক, কলামিষ্ট




৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছুটা আত্মকথন, কিছুটা স্মৃতিচারন আর আমার গানের ভুবন!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০১ লা জুন, ২০২০ সকাল ১১:৩৩




কোন একটা ক্রাইসিসে একেক মানুষ একেকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। কারন, ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সবার একরকমের হয় না। মানুষ হিসাবে আমি কেমন….…..দুর্বোধ্য নাকি সহজবোধ্য? প্রশ্নটা আমার নিজের কাছেই।

গত কয়েকদিন ধরে মাথায় ঘুরছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

» প্রকৃতির ছবি, দেশের ছবি (ক্যানন ক্যামেরায় তোলা-৭)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০১ লা জুন, ২০২০ বিকাল ৪:০০

বিভিন্ন সময়ের তোলা কিছু ছবি ।
১। পিটুনিয়া



কেমন আছেন সবাই? কেমন ছিলেন? বন্দিত্বের দিনগুলোতে। অনেক দিন গ্যাপ হয়ে গেলো পোস্ট দিচ্ছি না। বন্দি থেকে থেকে হয়রান হইতে হইতে অফিস করছি এখন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

খানসাব জানিলো কেমনে !!

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০১ লা জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৩৫


খানসাব জানিলো কেমনে!!
নূর মোহাম্মদ নূরু

ও মনু তাইলে তুমিও ছিলা ওদের দলে
বুঝছ এখন ক্যামনে তুমি পড়াছা যাতা কলে!
বারোটা সাঙ্গাত যখন উঠলা রাতের ট্রেনে
মতি গতি ভালোনা তা বুঝলো আামার ব্রেনে।

মজা করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকান সৌন্দর্য্য

লিখেছেন শের শায়রী, ০১ লা জুন, ২০২০ বিকাল ৫:০৩



একেই বলে আমেরিকান সৌন্দর্য্য। সব খানে জর্জ ফ্লয়েডের কারনে আমেরিকায় শুধু মারামারি, হানাহানির ছবি খবর দেখে বিরক্ত। কারন এতে আমি নতুনত্ব কিছু খুজে পাই নাই। আমাদের দেশে এসব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ

লিখেছেন অনল চৌধুরী, ০১ লা জুন, ২০২০ রাত ১০:৪০



ইউরোপ-এ্যামেরিকায় প্রতিদিন মুসলমান-এশিয় ও আফ্রিকানদের উপর জঘন্য বর্ণবাদী আক্রমণ হয়।
এ্যমেরিকাতে এখনো কালোদের প্রায় ক্রীতদাসই ভাবা হয়।

তাদের প্রতি পুলিশের আচরণই তার প্রমাণ।পুলিশ তাদের যেকোনো সময়ে বিনা অপরাধে গ্রেফতার এমনকি হত্যাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×