somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃষ্টির খেরোখাতা

২৪ শে জুন, ২০১৪ রাত ১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েক দিন ধরে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির অনেকগুলো হ্মমতার মধ্যে একটা হচ্ছে মানুষকে নষ্টালজিক করে দেওয়া। বৃষ্টির শব্দ আমাদের
সম্মহিত করে অনেক দুর অতীতে নিয়ে যায়। আমার জীবনের সবথেকে সুন্দর বৃষ্টি দেখেছিলাম যখন আমি প্রাইমারী স্কুলে পরি। একদিন ক্লাস
করছি এমন সময় শুরু হল প্রবল বর্ষণ । আমাদের স্যারটা কেমন জানি অন্য টাইপের মানুষ ছিলেন। ক্লাস ছুটি দিয়ে বললন, কে কে আমার সাথে
ভিজতে যাবি!!...আমি হাত তুললাম।

অন্ধকার আকাশ থেকে নেমে আসছে বর্ষার প্রবল ধারা। আমি আর স্যার তার মদ্ধ্যে হাটছি । বৃষ্টি দেখছি । মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া অনুভব
করছি। স্যার বললেন বৃষ্টি মানুষের ঘু্মন্ত আত্মাকে জাগিয়ে তোলে । সেই বাল্যকালে স্যার এর কথার মর্ম বুঝতে পারিনি । বুঝেছিলাম স্যার অনেক
ভাল কথা বলছেন। কিন্তু কথাটা যে সত্য সেটা বঝেছিলাম অনেক পরে । এখনো মন খারাপ থাকলে মনে মনে প্রার্থনা করি যেন বৃষ্টি হয় ।
বৃষ্টি আমার কাছে অনেকটা টনিকের কাজ করে । হয়তো অনেকের কাছেও তাই। আমার মদ্ধ্যে বৃষ্টির একটা আবেদন জাগিয়ে দিয়েছিলেন
স্যার । স্যার বলেছিলেন দোয়া করি বৃষ্টির প্রতি তোর ভালবাসা সারাজীবন যেনো থাকে।স্যার এর কথা মিথ্যা হয়নি। বৃষ্টি যেকোন অবস্থায় আমাকে
মুগ্ধ করতে পারে। বন্ধুর বাবা মারা গেছেন । মন খুবই খারাপ । এমন সময় বৃষ্টি শুরু হলো। আমার আর কোন কিছুই মাথায় নাই। ভিজতে
বের হয়ে গেছি। এই হোল অবস্থা।

বৃষ্টির নেশাটা থেকেই গেল । একট ঘটনা আমার খুব মনে পরে । ক্লাস নাইনে পড়ি । সেদিন সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিল । ক্লাস হবার
কোন সম্ভাবনাই নাই তবুও কি মনে করে যেন স্কুলে গেলাম ।এখানে সবাই হয়তো আমাকে অনেক সিরিয়াস ছাত্র ভাবতে পারেন । তাদের
জন্য বলছি আমার আগ্রহ শুধু স্কুলে যাওয়া পর্যন্তই ছিল । পড়াশুনা খুব একটা হতো না । যাই হোক গিয়ে দেখি একটা পোলাপান ও নাই ।
আমাদের বিল্ডিং এর বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি আর বৃষ্টিটা উপভোগ করছি । এমন সময় কে যেন ডাকলো । স্কুল গেটে দেখি জ্যোতি দাড়িয়ে আছে ।
ওরে দেখেই আমার হার্টবিট স্লো থেকে স্লো হয়ে যাচ্ছে । পাঠক আশা করি বুঝে গেছেন । ও কি ডাকলো নাকি !!... সেটা কি সম্ভব!!!
আবার ডাকলো। আসলেই তো জ্যোতি ডাকছে । খুশিতে উসাইন বোল্টের মতো দৌর দিলাম । একটু পরই আবিষ্কার করলাম আমি এমনিতেই
যাচ্ছি আমাকে দৌড়াতে হচ্ছে না !!...... দ্রুতগতির পুরষ্কার একদম হাতে হাতে পাইলাম । প্রায় ৪ ফু্ট পিছলা গিয়া ধপাসসসসস...নিচে
একটা কাচের টুকড়া ছিল । কুনুই এর নিচে প্রায় ২ ইঞ্চি চিরে গেল । সারা শরীর রক্তে মাখামখি । ব্যাথা এর থেকেও লজ্জা পাইছি বেশি ।
কাদা ঝাড়তেছি এমন সময় জ্যোতি সামনে এসে দাড়াল । একি!!!ও কাদছে নাকি!!!......তারপর ওর কথা শুনে আমার হাত পা সারা শরীর সব
থান্ডা হয়ে গেল.........ফোপাতে ফোপাতে বলল..."এই বোকা...এভাবে দৌড় দিয়ে যদি পা ভাংতো তাহলে আমাকে তো খোড়া জামাই নিয়ে ঘর করতে হতো...
আমি তো পালাইয়া যাচ্ছি না..."
আমি একদম ভাষা হাড়াইয়া ফেললাম । ওর দিকে তাকিয়ে থাকলাম । চারপাশের সব কিছু ভুলে গেছি । বৃষ্টি হচ্ছে...দুজনেই ভিজতেছি...
এরপর অনেক ঢেও বয়ে গেছে । সেদিনের স্কুল পড়ুয়া ছেলেটি এখন ভার্সিটিতে পড়ে ।দুটো জিনিস এখন পর্যন্ত আমাকে খুবই আপন করে নিয়েছিল ।
এক বৃষ্টি, দুই জ্যোতি। বৃষ্টি এখনো আমার সাথেই আছে । জ্যোতি নেই ।

বৃষ্টি নিয়ে আমার সৃতিচারন চলবেই.........একটা গান খুব মনে পরছে......


তোমাকে মনে পরবে.........
যখনি আকাশ ভেঙে.........
বর্ষা নামে............

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×