somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধুর প্রেম ও আমার হাইফেন হবার কাহিনী

১০ ই আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৫:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কলেজে ভর্তি হইলাম বেশ উৎসব এর মত করেই। প্রধান কারন আমাদের ঘনিষ্ট বন্ধুদের কেউই দূরে ভর্তি হয়নি। আমরা সবাই একসাথে। বেশ আমুদে ভাব নিয়ে কলেজে যাই। আমার পার্ট তো আরো বেশি কারন গ্রামের মফস্বল একটা কলেজে এ+ পাওয়া ছাত্র খুবই কম ছিল। সবাইরে নিয়া আড্ডা দেই। জুনিয়র কাওরে পাইলেই উপদেশ দেই। বন্ধুদের গুরত্বপুর্ন(!!!!) পরামর্শ দেই। দেশ ও জাতি নিয়ে বিস্তর চিন্তা ভাবনা করি। অল্প কিছুদিন এর মধ্যে কলেজে একটা পজিশন দাড়া করিয়ে ফেললাম। সবাই সমীহ করে।এমন সময় আমার এক বন্ধু তার পুরাতন ভাললাগা ভালবাসায় পরিনত করল।

কন্যা আমার খুবই প্রিয় বান্ধবী। আমার সাথে তার খুবই আন্ডারস্ট্যান্ডিং। বন্ধুটির উপর মাইয়াই প্রথম ক্রাশ খায় ক্লাস নাইনে থাকতে। কিন্তু তখন আমার উদাসী বন্ধু কোন পাত্তাই দেয় নাই। মাইয়া ধিরে ধিরে হতাশ হইয়া লাইন ক্রস কইরা এখন অন্য পথে। এমন সময় আমার বন্ধু প্রেমে পড়ল। কথায় যেন পড়ছিলাম...প্রেম যখন আসে তখন আসতেই থাকে। পুর্ন যুবতি কন্যার রুপ দেখে বন্ধু সেভাবেই ফাইসা গেল। এখন তারে ফিরায় কে। হাতে সিগারেট নিয়ে বন্ধু আমার আকাশের তারা গুনে। সবাই মিলে ডিসিশন নিলাম। নাহ...এভাবে তো চলে না।একটা কিছু করতে হবে। করবে কে!!!......এবার আমি ফাইসা গেলাম।

কন্যাকে বলতেই তার পুরাতন অপমান মাথা চারা দিয়ে উঠল। রেগে একদম আগুন। এসব কথা সে কানে নিতেও নারাজ। আমিও নাছোড়বান্দা। বুঝাইতেই থাকি। শেষে কইল......ঠিক আছে,ওরে আমার সাথে কথা বলতে বল। প্রথম দফা সফলতার পর বন্ধু আমাকে সেইরকম খাওয়া খাওয়াইল। এখন বন্ধুর থেকে আমারই আগ্রহ বেশি। যেকোন পরিস্থিতিতে উদরপুর্তি একটা টনিকের কাজ করে।

এবার বন্ধুকে কঠিন ভাবে ট্রেনিং দিলাম। কিভাবে কি বলতে হবে কয়েকজন প্রেমিকপুরুষ তাকে উত্তমরুপে সাজেশান দিল। বন্ধুর আবার রগচটা অভ্যাস। সবাই এটা কন্ট্রোল করতে ব্যাপক উপদেশ দিল। ঘটনার আগের দিন বন্ধুকে কয়েকটা নার্ভ পিল কিনে দিলাম। নার্ভাস সিস্টেম যেন সতেজ থাকে।

সকাল ৯ টা।ক্যাম্পাস মোটামুটি ফাকা। কন্যা মাঠের এক কোনায় অপেহ্মা করছে। আমি বন্ধুর বুকে কয়েকটা ফু দিয়া কইলাম......যা। বন্ধু কয়েক পা যেয়ে আমার ফিরা আইসা কইল...একা যাইতে ভয় লাগে। তুইও চল। আমার আবার ইমোশন বাইড়া গেলে সাউন্ড সিস্টেম কাজ করে না তখন তুই বুঝাইয়া বলবি। আচ্ছা চল.........

"আমি তোমাকে ভালোবাসি..."
"কেন?"

বন্ধু একদম থতমত খাইয়া গেল। এই উত্তর তো ভুইলা গেছে মনে হয়। বন্ধু একবার আমার দিকে তাকায় তো আরেকবার মাইয়ার দিকে তাকায়। প্রেশার বাড়তেছে...বাড়তেছে...বারতেছে.........এমন সময় কোথা থেকে যেন কন্যার বড় ভাই উদয় হইল। আসলে এতো সকালে কন্যাকে ক্যাম্পাসে আস্তে দেখে তার বড় ভাই নিজ দায়িত্বে তাকে অনুসরন করছে।কে তোরে ডিস্টার্ব করে রে?!!......মাইয়া আংগুল তুলল......বন্ধু তো ভয়ে আমার পিছনে লুকাইছে। আংগুল নির্দেশ করল আমাকে......হায় হায়......কে কাকে বুঝায়.........এক সেকেন্ডের ব্যাবধানে যা তা কিছু হয়ে যেতে পারে......দুই বন্ধু দুইদিকে দিলাম দৌড়। আমিই যেহেতু চিহ্নিত অপরাধি সো আমার দিকেই বড় ভাই সাইক্লোনের বেগে ছুটে আসতে লাগল......দৌড়......দৌড়......একেবারে মেয়েদের কমন রুমে ঢুকে গেলাম। জৈনেক মেয়ে তখন আংশিক ড্রেস আপ পরির্বতন করছিল। আমাকে দেখে সে লজ্জায় লাল হইয়া অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে উঠল। এখানে সেফ মনে হচ্ছে না। কিন্তু বাইরে তো সাহ্মাত যম। এখন কি করি!!!...শর্টকাটে মাইয়ারে কিছুটা বুঝাইলাম। কিছুটা শান্ত হইল...যাইহোক কিছু সময় পর বড় ভাই এর প্রস্থান......কমন রুম থেকে বের হইলাম যখন তখন ক্যাম্পাসে সবাই আস্তে শুরু করছে...প্রথমে আমি বের হইলাম তারপর ড্রেসিং মাইয়াটা......হায় হায় সবাই এরকম সন্দেহের চোখে তাকায় ক্যারে!!......নারী নির্যাতন কেস খাইলাম নাতো!!!...সামনে পরল এক স্যার......এমন ভাবে তাকাইল যেন বলতেছে...ছি ছি...তোমার কাছে এইডা আসা করি নাই...আরো জটিল মজাদার কিছু চাইছিলাম!!!

বন্ধুরা খেপানো শুরু করল। কিরে...এতোহ্মন কমনরুমে কি করলি!!!......সত্য কথা কইলেও মান সন্মান থাকে না...আবার মিথ্যা কথাও বলা যাচ্ছে না......মহা বিপদ।
ছাতামাতা বুঝ দিয়া ক্লাস থেকে বের হইছি দেখি...বন্ধু ও বান্ধবী একে অপরের হাত ধরে পাশাপাশি বসে আছে। প্রেম হয়ে গেছে!!!......হাসুম নাকি কান্দুম বুঝতেছি না। তবে যাই করি সেটা হত আনন্দের।

ওদের সম্পর্ক এখন পর্যন্ত অটুট। এতো ভালবাসা খুব কম রিলেশনেই আমি দেখেছি। আর ওদের ভাললাগা কিছু সময়ে আমাকেও জরিয়ে ফেলে মাঝে মাঝে। একটা সময় আমি ওদের মধ্যে হয়তো একটা হাইফেন ছিলাম কিন্তু আমি চাইনা বাকি সারা জীবনে ওদের মাঝে কোন দুরত্ব থাকুক। ভাল থাকিস তোরা...........
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা

লিখেছেন আবু সিদ, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮

'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×