somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেম?...নাতো....তাহলে কি?!!!!!!...

১৯ শে আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিকালে হাটতে হাটতে আমাদের প্রিয় আড্ডার জায়গা ব্রিজে এসে বসলাম।প্রতিদিন এখানে অনেক পোলাপান থাকে।আজ কেউ নাই।বিষন্ন মনে মোবাইলটা বের করতেই একটা মেসেজ ভেসে উঠল।সাথে সাথে মনটা ভাল হয়ে গেল।দ্রুত রিপ্লাই দিলাম।কিছুহ্মন পর আবার মেসেজ।আমার রিপ্লাই।শুরু হয়ে গেল আমাদের মেসেজ চ্যাটিং।এভাবেই চলছে আজ চারটি বছর ধরে।ফেসবুকের এ যুগেও আমরা মেসেজেই পড়ে আছি।কি ভাবছেন?......আমার প্রেমিকা?...না...তাহলে?...চলুন আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেই ......

সময়টা ক্লাস টেন।হাওয়ামে উরতাহে ভাব।বাসায় একা থাকতাম বলে বাসা থেকে বিনা বাধায় মোবাইল পেতে কোন সমস্যাই হয়নি।একদিন রাতে পড়তেছি হঠাত সেলফের একটা ডাইরি চোখে পড়ল।খুললাম প্রথম পাতায় মেয়েলি হাতে লেখা
"ভাইয়ার জন্য"......চোখের সামনে ভেসে উঠল সব...একটা মেয়ের সাথে খেলতেছি...ঘুরতেছি......মেয়েটা প্রায় আমার বয়সী হয়তো এক বছরের ছোট.....আমার এক কাজিন...নামটা বলব না...।কিছুটা অজানাই থাক......

ছেলেবেলাটা আমাদের একত্রে কাটলেও মাঝখানে বিচ্ছেদ।মাঝখানে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দুরত্ব।সময়ের হিসাবে প্রায় ৫ বছর।ডাইরিটা হাতে নিয়ে কি মনে করে ওর মা এর নাম্বারে একটা মেসেজ দিলাম।দেখি আমাকে মনে আছে কিনা।এমনিতে ওদের সাথে আমাদের ফ্যামিলিগত যোগাযোগ ছিল কিন্তু আমার সাথে খুবই কম।মেসেজের রিপ্লাই পাইলাম দুইদিন পর।উনার নাকি চোখেই পরে নাই......তারপর থেকে মাঝে মাঝেই মেসেজ দিতাম...রিপ্লাই আসত......এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সেই আগের সময়ে ফিরে গেলাম......মেসেজ চলতেই থাকত...প্রতিটা ঘন্টার সব কিছু শেয়ার করতাম আমরা। দুজনেই খুব ভাল ফ্রেন্ড হয়ে গেলাম। রবি সিম এ ৫ টাকায় ১০০ এসএমএস দিত।এমনো দিন গেছে যে এই প্যাকেজটা ৩-৪ বার ও কিনেছি।সকাল টা শুরু হত ওর মেসেজ দিয়ে আর ঘুমাতে যাইতাম ওকে শুভ রাত্রি বলে।গাছে একটা পাখি দেখলেও ওরে মেসেজ দিতাম।এই ছিল অবস্থা......

আমার পছন্দ হল বৃষ্টি আর ওর আকাশ......কত যে ঝগড়া করছি!!!!.........কোনটা বেশি সুন্দর এইটা নিয়ে......কিন্তু বৃষ্টি হলেই ও আমাকে ফোন করত......আর আমি সময় পেলেই আকাশ দেখতাম......দুজনে বিভিন্ন আজগুবি চিন্তা করতাম সারাদিন.......জাফর ইকবাল ও হুমায়ুন আহমেদ নিয়ে তর্ক করতাম.....আবার কখন একই গান একসাথে দুজনই শুনতাম... প্রতিদিন আমার ইনবক্স ফুল হয়ে যেত......কথা ফুরাত না......ঈদের মধ্যে তো মিনিটে মিনিটে মেসেজ করতাম......মিনিটে মিনিটে রিপ্লাই আসত.....

সময় কাটতেই থাকল।দুজনেই বড় হতে থাকলাম।বাড়তে থাকল আমাদের বন্ধুত্বের পরিধি।কিন্তু একটা ব্যাপার খুব খেয়াল করতাম।আমরা মেসেজে এতো এতো কথা বললেও ফোনে কথা বলতাম খুবই কম।কেমন জানি তখন কথা ফুরিয়ে যেত।এখনো চলছে আমাদের মেসেজ আদান প্রদান.........চার বছরে আমাদের মেসেজের সংখ্যা......প্রতিদিন গড়ে ৩০ টা করে হলেও ৪৩৮০০!! টা.....মাত্র ৩০ টা করে ধরলাম....মাঝে মাঝে তো ৩০০ মেসেজও সেন্ড হত...... ......:D:)

কি? প্রেম মনে হচ্ছে?.........অনেকেই তাই মনে করে.....আসলে তা ঠিক না......স্রেফ বন্ধুত্ব......হয়তোবা একটু বেশি......তারপরেও বন্ধুত্ব......আমার জীবনের সবথেকে বড় প্রাপ্তি......আমার জীবনের সব আনন্দ এবং কষ্টে নিবির ভাবে জরিয়ে আছে এই মেয়েটা........

সেদিনের ক্লাস টেনে পড়া ছেলেটি আজ ভার্সিটিতে পড়ে......আর মেয়েটি?......এবার এইসএসসি তে গোল্ডেন পেয়েছে......আমার একটা সমস্যা আমি সবার সামনে আনন্দ প্রকাশ করতে পারি না......যদি পারতাম তাহলে দেখা যেত আমার মত খুশি কেউ হয়নি......মেয়েটার একটাই স্বপ্ন সবাই কে নিয়ে একসাথে ভাল থাকা......সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন.........
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×