somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নৈশ অভিযান!

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত যত বাড়ছে, বিপদের সম্ভাবনাও পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে। শীতের রাত, কনকনে হাওয়া, টিনের চালে খসখস, ঘষঘষে আওয়াজ হচ্ছে। মনে হচ্ছে পারলে টিন খুলে এখুনি ভেতরে চলে আসবে। সমান হারে পাশের বিল্ডিংয়ের বাড়ন্ত রডগুলোকে কে যেন নেড়েই চলছে। রাত যত বাড়ছে, আতঙ্কও সমান হাড়ে উপচে উপচে পড়ছে। খুব সাহস করে টর্চ লাইট নিয়ে বের হতে চাইলে বাবা বললেন, "সাবধান, রড কাটছে। দেখলে পরে রড ছুঁড়ে মেরে আঘাত করতে পারে।" ভেবে দেখলাম কথাতো ঠিকই...... কিন্তু অসহনীয়ভাবে টিনের চালে যেভাবে ধাপাধাপি চলছে তাতে মনে হয় খুব শীঘ্রই ওরা আঘাত হানতে যাচ্ছে। ভাবলাম সাহস করে বের হয়েই দেখিনা কি হয়? যেই ভাবা সেই কাজ! বেরিয়ে পরলাম টর্চ আর লাঠি হাতে, চিৎকার করে বলে উঠলাম, কে রে... সাহস থাকে তো সামনে আয়? চালের উপর টর্চ মেরে দেখছি...... যতদুর চোখ যায় কাউকে দেখতে পাচ্ছিনা...... কিন্তু ওটা কি? কি যেন কেঁপে উঠলো? ছায়া হয়ে এখনো দুলছে...... আরো ভালো করে টর্চের আলো ফেলে বুঝলাম ওটা পাশের বাড়ির কলাগাছের পাতা। কিন্তু রহস্য-তো এখনো শেষ হলোনা। টিনের চালে অর্ধেকটা দেখতে পারছি... বাকি অর্ধেকটা এখনো অন্ধকারে। ঘরের ভিতর থেকে মা বলেই যাচ্ছে এখনো ধুপধাপ করে শব্দ করছে। কি করবো, কি করবো ভাবছি। পাচিল টপকে যেই টিনের চালে উঠলাম...... দেখলাম একটা মোটা তাজা হুলো বেড়াল তার শোবার বন্দোবস্ত করার জন্য একবার এ মাথায় আর একবার ও মাথায় পায়চারি করছে...... কখনো চালে ঘষে ঘষে জায়গাটাকে উষ্ণ বানানোর চেষ্টা করছে। একেতো শীতের রাত, তার উপর উত্তুরে বাতাস......পাশের বিল্ডিংয়ের পানি দেওয়ার জন্য পাইপটা রডের সাথে ধাক্কা খেয়ে টং টং করে শব্দ করছে যেন কেউ রড নিয়ে কাটাকাটি করছে। অবশেষে রহস্যের জট খুলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে যেই টর্চের আলো বিড়ালের গায়ের উপর ফেললাম, সেই সাথে সাথে সে পড়িমরি করে দৌড়! কোন কিছু বলারই সুযোগ দিলোনা, করা তো দুরের কথা!!! তবে সে রাতের সাসপেন্সের পর সেই হুলোটাকে পরের দিন সকালে সামনে দিয়ে হিরো ভঙ্গিমায় সামনে দিয়ে হেঁটে যেতে দেখলাম...... হুশ হুশ করে ধমক দিলাম...... পাত্তাই দিলোনা!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×