somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিশাচ কাহিনীঃ অতিথি

২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চাবি ঘুরিয়ে দরজা খুলতে যাব, হঠাৎ দেখি সিড়িতে একটা লোক বসে আছে।

বিশাল জ্যাম পেরিয়ে অফিস থেকে বাসায় আসতে প্রতিদিন দেরী হয়ে যায়। ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে বাসায় পৌছে কোনরকমে বিছানার ওপর উঠতে পারলেই বাঁচি।এরকম পরিস্থিতিতে আশেপাশে তাকানোর মত মুড কখনও হয় না।

তারপরও আজকে কিভাবে যেন সিড়িতে বসে থাকা লোকটা চোখে পড়ে গেল। অপরিচিত লোকজনের দিকে সাধারণত তাকাই-ই না, তাদের ভাল করে লক্ষ্য করাতো পরের কথা। তবুও এই লোকটার মধ্যে কি যেন ছিল, অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে রইলাম। ফর্সা গাল, ক্লিন শেভড, মাথার চুলগুলো পরিপাটি করে আঁচড়ানো। গায়ে গাঢ় মেরুন রং-এর শার্ট, সাথে কালো প্যান্ট, ইন করা। টোটাল ফর্মাল লুক।

আমাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে লোকটাই প্রথম কথা বলল।
-কিছু বলবেন?
-আপনি কি আমাদের বিল্ডিং-এ থাকেন? আমি জানতে চাইলাম।
-ঠিক থাকি বলা যায় না, তবে এখন থেকে থাকব। লোকটা হেসে জবাব দেয়।
-মানে?
-মানে আমি সালাম সাহেবের ছেলে। এতদিন দেশের বাইরে ছিলাম, এখন পার্মানেন্টলি চলে এসেছি।
সালাম সাহেব আমার প্রতিবেশি, একই ফ্লোরে পাশাপাশি দুটো ফ্ল্যাটে থাকি আমরা। সালাম সাহেবের ছেলে মানে মুনিয়ার
ভাই।ওহ, এই সুযোগইতো খুজছি এতদিন ধরে।
-আপনি সালাম আংকেলের ছেলে? মানে মুনিয়ার ভাই?
-হ্যা, আপনি চেনেন মুনিয়াকে?
-কি যে বলেন ভাই, পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকি।নিজের প্রতিবেশিদের না চিনলে চলে নাকি? বিপদেআপদে উনারাইতো সবার আগে কাজে আসে।
-তা ঠিক। সবাই কোথায় গেছে বলতে পারেন?
-মানে?
-আসলে আমি কাউকে জানিয়ে আসিনি। ইচ্ছা ছিল হঠাৎ এসে সবাইকে চমকে দেব, আর দরজা তালা দেখে নিজেই চমকে গেছি। গত এক ঘন্টা ধরে এই সিড়িতে অপেক্ষা করছি আমি।
-আজকেই দেশে এসেছেন?
-হ্যা।
-আপনার লাগেজ?
-বন্ধুর বাসায় আছে।ওকে আগেই আসার কথা জানিয়েছিলাম। ঢাকা শহরে লাগেজ নিয়ে চলাফেরা করা ঝামেলার ব্যাপার।
তাই ওর গাড়িতে মাল তুলে দিয়ে আমি এদিকে এসে পড়েছি।
-যদি আপত্তি না থাকে আমার বাসায় অপেক্ষা করতে পারেন।এতবড় জার্নির পর বিশ্রাম দরকার নিশচয়ই।
ভদ্রলোকের মুখে হাসি ফুটল।
-থ্যাংক ইউ ব্রাদার। আমার সত্যিই খুব বিশ্রাম দরকার।
-সালাম আংকেলকে ফোন করে বলব আপনার কথা?
-প্লিজ এই কাজ করবেন না ভাই। তাহলে পুরো সারপ্রাইজটাই নষ্ট হয়ে যাবে।
-ওকে ব্রাদার। আসুন, ভেতরে আসুন।
দুজন বাসায় ঢুকলাম।
-আপনি কি ফ্রেশ হয়ে নেবেন? আমি এই সুযোগে ডিনারের এরঞ্জমেন্টটা করে ফেলি।
-আপনি এত কষ্ট করবেন কেন ভাই?
-কি যে বলেন। একদিনইতো।
-আচ্ছা, তাহলে এক কাপ চা। ডিনারটা বাসায় গিয়েই করব।
-ওকে ব্রাদার। ওয়াশরুমটা ওইদিকে।
ভদ্রলোক ফ্রেশ হতে চলে গেলেন।

আমি তাড়াতাড়ি গলির শেষ মাথার রেস্টুরেন্টটায় ফোন দিলাম।যদিও জানি ভদ্রলোক ভারী কিছু খাবেন না, তবুও এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই ভাল আয়োজন করে ফেলতে হবে।

এই সুযোগে পাঠককে জানিয়ে দেই কেন এই ভদ্রলোককে ইমপ্রেস করার এত চেষ্টা। মুনিয়াকে আমি পছন্দ করি অনেকদিন থেকেই, ইন্ডিরেক্টলি প্রস্তাবও পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু কোন এক বিচিত্র কারণে সালাম আংকেল আমাকে অপছন্দ করেন। তাই মুনিয়ার বড় ভাইকে নিজের দলে আনাটা খুব জরুরী।

বেলটা বেজে উঠল।দরজা খুললাম। দারোয়ান, হাতে একটা পলিথিন।
-স্যার, খানার অর্ডার দিছিলেন?
বাহ, ইদানীং বেশ অল্প সময়ের মধ্যেই এরা ডেলিভারি দিয়ে দিচ্ছে।সার্ভিসের উন্নতি হচ্ছে।
-হ্যা। এই নাও টাকা। ওদের লোক নীচে দাড়িয়ে আছে না?
-জ্বি।স্যার, যদি কিছু মনে না করেন, বাসায় কি গেস্ট আসছে? বলেই একটা কুৎসিত হাসি দিল মতি মিয়া।
কথাটা শুনেই ইচ্ছা করল চড় কষাই। হারামজাদা, ব্যাচেলরের ঘরের গেস্ট মানেই কি ওইসব?
-তুমি যা ভাবছ তা ঠিক না মতি মিয়া। বাসায় সালাম আংকেলের ছেলে এসেছেন। সালাম আংকেলরা বাসায় নেই, তাই আমার বাসায় অপেক্ষা করছেন।

আমি পুরো কথা শেষ করার সুযোগ পেলাম না,মতি মিয়ার মুখটা হঠাৎ ফ্যাকাসে হয়ে গেল।
-আপনের পাশের ফ্ল্যাটের সালাম সাব?
-তো আর কে হবে?
-এইসব কি কন স্যার?
-কেন?
-সালাম স্যারের পোলাতো পেলেন এক্সিডেন্টে মারা গেছে দুইদিন আগে। আইজকা দেশে লাশ আইসা পৌছাইছে, তারা সবাই গেছে লাশ আনতে।
-দেখ মতি মিয়া, আমার সংগে তামাশা করবা না একদম।
-আপনের সাথে তামাশা করুম কেন? আমার দিলে কি ডর ভয় নাই?
'ওরে বাবারে ' বলে মতি মিয়া হঠাৎ সিড়ি দিয়ে দৌড় দেয়।

হঠাৎ আমি কাধে একটা শীতল হাতের স্পর্শ অনুভব করি।
'এত রাত হয়ে গেল, তবুও ওরা আসছে না কেন বলুনতো ব্রাদার?'


==========================================

আমার লেখা আরও কিছু পিশাচ কাহিনীঃ

পিশাচ কাহিনীঃ পৈশাচিক প্রতিশোধ

পিশাচ কাহিনীঃ শয়তানের পাল্লায়

পিশাচ কাহিনীঃ রক্তখেকো ডাইনী

পিশাচ কাহিনীঃ কন্ঠ

পিশাচ কাহিনীঃ অতিথি
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:০৬
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুভ জন্মদিন প্রিয় ত্রিরত্ন।

লিখেছেন এস.কে.ফয়সাল আলম, ১৭ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৩৫



আজ যখন ঢাকাগামী ট্রেনের সিটে বসে মোবাইল থেকে এই পোষ্ট লিখছি, তখনও প্রিয় সামু ব্লগ দেশের বেশিরভাগ ISP তে ব্লক! ব্লগের সেই চিরচেনা দিনগুলি আস্তে আস্তে যেন স্মৃতিগত হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই পাগলের ঝগড়া

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৫৫


শহীদ্লু ইসলাম প্রামানিক

দুই পাগলে গাছের নিচে
করছে বাড়াবাড়ি
হায়! হায়! হায়! করছে একজন
আরেকজন আহাজারী।

এমন সময় এক পাগলে
দিল গালে চড়
শব্দ হওয়ায় আরেক পাগল
পেল ভীষণ ডর।

ডরের চোটে বলছে পাগল,
এমন করলি কেন
এটম বোমের মতই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে কূটনামীগুলো করলে আপনি ক্ষমতা লাভ করবেন ! :P

লিখেছেন রাকু হাসান, ১৭ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৪১




সব কিছুই একটা নিয়মের মধ্য থেকেই করতে হয় । কূটনামী কিংবা ক্ষমতাবান হওয়ারও কিছু নিয়ম আছে ।
সেগুলো নিয়েই আজকের পোস্টে গোপন সূত্র শেয়ার করবো ;) । যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুটুম

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১১:২৬



শেষরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আমার বেহালার সুর শুনতে ইচ্ছে করে। বেহালা যে আমি খুব ভালোবাসি তা নয়। তবে শেষ রাত সময়টা রহস্যময়। এ সময় মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, পছন্দ-অপছন্দের ভার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলফোর রোড টু কাশ্মীর ! : সভ্যতার ব্লাকহোলে সত্য, বিবেক, মানবতা!

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪০

ফিলিস্তিন আর কাশ্মীর! যেন আয়নার একই পিঠ!
একটার ভাগ্য নিধ্যারিত হয়েছিল একশ বছর আগে ১৯১৭ সালে; আর অন্যটি অতি সম্প্রতি ২০১৯ এ!
বর্তমানকে বুঝতেই তাই অতীতের সিড়িঘরে উঁকি দেয়া। পুরানো পত্রিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×