কিছুদিন পূর্বেও মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল- ধর্মগ্রন্থে কেন শূকরকে সরাসরি অপবিত্র/ অপরিচ্ছন্ন/ নোংরা হিসেবে উল্লেখ করার সাথেসাথে এর মাংস খাওয়া হারাম করা হয়েছে? সর্বজ্ঞ মহান স্রষ্টা কেন শূকরের মাংস খেতে নিষেধ করেছেন তার প্রকৃত কারণ তিনিই ভাল জানেন। মহান স্রষ্টা ও তাঁর প্রেরিত ধর্ম-গ্রন্থের উপরে যাদের বিশ্বাস নেই অথবা যাদের বিশ্বাস কম অর্থাৎ অন্তর বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের দোলায় দোদুল্যমান এবং যারা খানিকটা যুক্তি-নির্ভর ও পার্থিব গবেষণার আলোকে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পছন্দ করেন; তারা হয়ত অবগত আছেন- (গরু, ভেড়া, ছাগল, হাঁস, মুরগি ইত্যাদি) হালাল পশু-পাখির তুলনায় শূকরের মধ্যে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন উপাদানগুলো অনেকাংশে বেশি থাকে।
According to the statement of "Zoonotic Disease Prevention" (The University of Arizona Institutional Animal Care and Use Committee. 23 June 2006. Accessed 17 Sep. 2007.)-
Some diseases associated with swine occur when people touch or consume raw or improperly cooked porkproducts, while other infections can be transmitted by being in close contact with pigs, drinking water contaminated with their urine, or even inhaling soil that contains particles of pig waste. It is not always obvious when a pig is ill or infected with a particular type of bacteria - thus, it is considered unwise to touch pigs or handle them without taking certain precautions.
According to the statement of United Nations Food and Agriculture Organization- FAO (in Bolivia) -
"Many cases that have been diagnosed as epilepsy are, in fact, neurocisticercosis," cysticercosis that has spread to the brain.
Hepatitis E in Europe -- are pigs or pork the problem?
Hepatitis E virus is one of the few viruses which has been shown to be transmitted directly from animals through food. It was recently thought to be confined to developing countries, and although scientists are still unsure exactly how it spreads to people, direct contact with pigs or eating contaminated pork products is a likely route.
If this proves to be a relevant route for pig to human infection for Hepatitis E in Europe, food safety regulations mightAttention: need to be adapted accordingly?, says Dutch researcher Erwin Duizer. ?Where we do find Hepatitis E virus identified in Europe then the strain is usually closely related to the viruses found in pigs in the same country?.
Far fewer cases of Hepatitis E virus are reported than actually occur, since doctors currently rarely ask for the relevant diagnostic tests in many industrialized countries. Although they do not yet know the exact route for most infections, the scientists do know that these viruses can infect people if they eat infected pig’s livers without cooking them.
Genetic material from Hepatitis E viruses has already been detected in pig livers being offered for sale in Japan, USA and the Netherlands, proving that European pigs are in contact with Hepatitis E. Wild boar products could present a similar risk.
গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, শূকর যে সমস্ত (ব্যাকটেরিয়াল, ভাইরাল ও প্যারাসাইটিক-সহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৭০টি) রোগে আক্রান্ত হয়
( Balantidiasis, Brucellosis, Campylobacteriosis, Colibacillosis, Cysticercosis, Erysipelas, Leptospirosis, Trichinosis, Yersiniosis etc. ) তার প্রায় সবগুলোই মানবদেহে অতি সহজেই সংক্রমিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা করার পরও সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা সম্ভব হয় না। ফলে এগুলোর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের কারণে মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি হয়। বিশেষ করে Pork tape worm দ্বারা আক্রান্ত হলে Cysticercosis নামক রোগ হয় এবং এগুলো মানুষের হৃদপিন্ড, স্পাইনাল-কর্ড ও মস্তিষ্কে পৌছে ক্ষতি সাধন করে। মস্তিষ্ক আক্রান্ত হলে তাকে Neurocisticercosis বলে। এর ফলে Epilepsy এর মত উপসর্গ দেখা দেয়ার কারণে রোগ নির্ণয়ে ভুল হতে পারে।তাছাড়া বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে জাপান, ইউএসএ ও নেদারল্যান্ডে বিক্রয়ের জন্য প্রস্তাবিত ইউরোপিয়ান শূকরের কলিজায় ( Hepatitis-E ) হেপাটাইটিস-ই ভাইরাসের জেনেটিক উপাদান সনাক্ত করেছেন এবং বন্য পুং-শূকরের ক্ষেত্রেও একই রকমের ঝুঁকি রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সুতরাং রোগগ্রস্ত (হেপাটাইটিস-ই ভাইরাসে আক্রান্ত) শূকর থেকে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য, বিশেষ করে শূকরের কলিজা খাওয়ার ব্যাপারে এমনকি সরাসরি শূকরের সংস্পর্শে আসার বিষয়েও সাবধান না হলে মানুষের মধ্যে হেপাটাইটিস-ই ভাইরাস যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।
The deadly H1N1 influenza virus that’s fueling fears of a global pandemic is a hybrid of two common pig flu strains. In medical terms, the genetic origins of the virus may not matter. Whether it come solely from pigs rather than a mix of pigs, birds and humans doesn’t change its immunological novelty. However, it seems likely that pigs were the original host.“That’s a logical conclusion,” said Salzberg. “It was probably two different pigs, or one who got co-infected from others. The two strains mixed, and now you have a brand-new strain.”
It was controlled in 1976, 2005, 2006 and wasn't talked much about because the cure was easy to be made for it. Except the one spreading now. Influenza viruses, generally, tend to change shapes and forms so the body immune won't find them easily.
The new Swine H1N1 Virus is a mixture of bird, swine and human viruses merged inside the pig's respiratory system creating a strong fatal virus with an almost impossible cure.
সোয়াইন-ফ্লু রোগটি যে ভাইরাস (H1N1, H1N2, H3N1, and H3N2) দ্বারা হয় সেটার উৎপত্তি হয় শূকর থেকে এবং এটি প্রধাণত শূকরের ফুসফুসকে আক্রমণ করে। তবে বর্তমানে এটি শূকর থেকে মানুষে এবং মানুষ থেকে মানুষের মধ্যেও সংক্রমিত হচ্ছে। যেহেতু এ ভাইরাসটি ৬ ফুট দূর থেকেও সংক্রমিত হতে পারে। তাই সংক্রমণ রোধের জন্য তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে-
• যিনি আক্রান্ত হবেন তাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যারা আক্রান্ত হয়নি তাদের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আর এজন্য তাকে বাসায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে ৭ থেকে ১০ দিন পৃথকভাবে থাকতে হবে এবং বিশ্রাম নিতে হবে।
• বিশেষ করে হাঁচি, কাশি দেবার সময় মুখে রুমাল বা কাপড় দিতে হবে।
• বেশী করে পানি ও তরল খাবার খেতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শমত ওষুধ সেবন করতে হবে।
• শ্বাসকষ্ট বা কোন অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হলে হাসপাতালে যেতে হবে।
• রুগীর নাক, মুখ মোছার জন্য ব্যবহৃত টিসু পেপার্ ও ডিসপোসেবল-মাস্ক নির্দিষ্ট কোন ঢাকনা দেয়া পাত্রে বা ডাস্টবিনে সাবান-পানি বা ডেটল মিশ্রিত পানিতে জমা করে রেখে পরে সেগুলো গর্তে মাটি চাপা দিতে হবে। ব্যবহৃত রুমাল, তোয়ালে ও কাপড়-চোপড় সাবান ও পানি দিয়ে ভালভাবে ধুতে হবে।
• আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও সেবার জন্য নিয়োজিতদেরকে অবশ্যই মুখে মাস্ক অর্থাৎ মুখোশ ব্যবহার করতে হবে এবং মাঝে মাঝে হাত, মুখ, চোখ সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
• যে এলাকায় রোগটি ছড়িয়ে পড়বে সে এলাকার জনগণ বিশেষ কোরে এ রোগে আক্রান্তরা রোগটির ব্যপক বিস্তার রোধকল্পে মানবতার স্বার্থে যেন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পারতপক্ষে সে এলাকা ত্যাগ না করেন।
• শুকরের ফার্মগুলোতে ক্রস-ইনফেক্সন রোধের জন্য মানুষ তথা অন্যান্য গৃহপালীত পশু-পাখি ও শুকরের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।
যেহেতু দেখা গেছে যে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক মহলই বিভিন্ন ধরনের ফায়দা হাসিলের জন্য নানা ধরনের গুজব ও ভীতির সৃষ্টি করে থাকে। তাই সেদিকে কান দেয়া উচিত নয়। বরং এই নাযুক পরিস্থিতিতে মনোবল না হারিয়ে সবেমিলে প্রয়োজনমত উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ইতিমধ্যেই এসব ভাইরাল রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ওষুধগুলোর [Anti-Viral drugs- Cap. Oseltamivir(75mg), Inhalation-Zanamivir(5mg)-etc.] প্রতি প্রতিরোধক্ষমতাসম্পন্ন সোয়াইন-ফ্লু ভাইরাসের উদ্ভব ঘটেছে। গবেষকদের মতে এবার সোয়াইন-ফ্লু ভাইরাসিট ততটা ক্ষতিকর মনে না হলেও ভবিষ্যতে এটির জেনেটিক মিউটেশন ঘটার ফলে ক্ষতির মাত্রা অনেক বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং শুধু মুখে মুখোশ বা মাস্ক পড়ে বসে থাকলে ও দামি ওষুধ গিললেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না। বরং সময় থাকতেই উপযুক্ত সুদূর প্রসারী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর এ ব্যবস্থা স্বরূপ এই ভাইরাসের মূল উৎসস্থল অর্থাৎ শূকরের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব রক্ষা করে চলতে পারলে এই রোগটিকেও দমন করা সম্ভব হবে। এছাড়া অন্য কোন বিকল্প পথ অবলম্বন করলে ভবিষ্যতে অনেক বড় বিপদের সম্মুখিন হতে হবে।
যে সমস্ত দেশের জনগণ শূকরের মাংস খায় এবং এর ব্যবসার সাথে জড়িত, সেই দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে শূকরের খামার গড়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত খামারগুলো ছাড়া বেশিরভাগ ছোটখাট খামারই যত্রতত্র হেনতেনভাবে গড়ে উঠে। ময়লা খাওয়া শূকরের স্বভাব এবং এমন কোন পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত জিনিস নেই যে এরা তা গোগ্রাসে খায়না। শূকর সম্পর্কে জানতে হলে এখানে দেখুন- এরই সুযোগ নিয়ে বেশি লাভ করার জন্য যত ধরনের ময়লা আবর্জনা সস্তায় নিয়ে এসে এগুলোকে খাইয়ে নাদুস-নুদুস বানানো হয়। একটি শূকরের খামার থেকে আনেক ধরনের রোগজীবাণূ ও ভাইরাসের বিস্তার ঘটতে পারে। অনুন্নত দেশগুলোর কথা তো বাদই দিলাম, অনেক উন্নত দেশেও আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা পারিবারিক শূকরের খামারগুলোতে যথাযথভাবে এতগুলো রোগের চিকিৎসা করা ও সময়মত রোগ-প্রতিরোধক ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয় না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বড় বড় ফার্মগুলো ছাড়া ছোট ছোট খামারিরা অনেক সময় চিকিৎসা খরচ বাঁচিয়ে অতিরিক্ত লাভ করতে চায়। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষে আনাচে কানাচে গড়ে ওঠা এই শূকর পালন খামারগুলোকে ঠিকমত নজরদারি করা সম্ভব হয় না। ফলে এই সব খামার থেকেই রোগগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এক্ষেত্রে যারা শূকরের মাংস খায় তাদের তুলনায় যারা শূকর প্রতিপালন ও ব্যবসার সাথে জড়িত তারাই আগে আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে এদের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।
মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে প্রেরিত আল-কোরআনে বর্ণীত আইন-কানুন থেকে শুরু করে সর্বপ্রকার তথ্য ও তত্ত্বই জ্ঞানগর্ভ ও বাস্তবধর্মী এবং এগুলো সঠিকভাবে জানা ও মানার মধ্যেই মানব জাতি তথা সকল সৃষ্টিকুলের শাশ্বত কল্যাণ নিহিত। যেমন আল-কোরআনের বিধান অনুসারে গরু, ভেড়া, ছাগল, হাঁস, মুরগি ইত্যাদি হালাল পশু-পাখি থেকে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য খাওয়া, জিনিসপত্র ব্যবহার করা ও এগুলোর ব্যবসা করা হালাল এবং এগুলোকে সরাসরি অপবিত্রও বলা হয়নি। যেসব গৃহপালিত প্রাণী ও মাছ আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে খেতে অনুমতি দিয়েছেন তা জানতে হলে এই লিংটি দেখে নিতে পারেন-
কিন্তু সূরা বাকারা -এর (০২:১৭৩) নং এবং সূরা আনআম -এর (০৬ : ১৪৫) নং আয়াতে অপবিত্র হিসেবে উল্লেখ করার সাথেসাথে শুকরের মাংস খাওয়া হারাম করা হয়েছে।
আল-কোরআন (Al-Qur'an)-
সূরা বাকারা-(2. Al-Baqara // The Cow)-আয়াত নং ১৭৩
(০২ : ১৭৩) অর্থ- তিনি তোমাদের জন্য হারাম করেছেন মৃত জীব, প্রবাহিত রক্ত ও শূকরের মাংস এবং যেসব জীব-জন্তু আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যদি কোন ব্যক্তি নিরুপায় হয়ে পড়ে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সীমালংঘন না করে, তাহলে তার কোন অপরাধ হবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহতায়ালা ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়াবান।
(02 : 173) He hath (has) only forbidden you dead body, and blood, and the flesh of swine, and that (animal) on which any other name hath (has) been invoked besides that of ‘Allah’. But if one is forced by necessity, without willful disobedience, nor transgressing due limits, - then there is no sin on him, no doubt, Allah is Forgiving and Most Merciful.
সূরা আনআম-(6. Al-Anaam // Cattle)-আয়াত নং-১৪৫
(০৬ : ১৪৫) অর্থ- তুমি বলে দাও, "আমার কাছে যে ওহী পাঠানো হয়েছে তার মধ্যে তো এমন কোন হারাম জিনিস আমি পাচ্ছি না যা একজন ভোজনকারী মানুষ (সচরাচর) খেয়ে থাকে; কিন্তু মৃত বা প্রবাহিত রক্ত অথবা শূকরের মাংস (হলো হারাম)- কেননা এসব অপবিত্র/ অপরিচ্ছন্ন/ নোংরা- অথবা যা অবৈধ আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম নেওয়ার কারণে।" তবে কেউ যদি অবাধ্য না হয়ে এবং সীমালংঘন না কোরে তা গ্রহণে বাধ্য হয়, তাহলে তোমার প্রতিপালক অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(06 : 145) Say, "I find not in the message received by me by inspiration any meal forbidden to be eaten by any eater, unless it be dead body, or blood poured forth, or the flesh of swine,- for it is unholy/ unclean/ impure - or, what is unlawful, (meat of an animal) on which a name has been invoked, other than Allah's". But (even so), if a person is forced by necessity, without willful disobedience, nor transgressing due limits,- thy Lord is Oft-forgiving, Most Merciful.
YUSUFALI- Say, "I find not in the message received by me by inspiration any (meat) forbidden to be eaten by one who wishes to eat it, unless it be dead meat, or blood poured forth, or the flesh of swine,- for it is an abomination - or, what is impious, (meat) on which a name has been invoked, other than Allah's". But (even so), if a person is forced by necessity, without wilful disobedience, nor transgressing due limits,- thy Lord is Oft-forgiving, Most Merciful.
PICKTHAL- Say: I find not in that which is revealed unto me aught prohibited to an eater that he eat thereof, except it be carrion, or blood poured forth, or swineflesh - for that verily is foul - or the abomination which was immolated to the name of other than Allah. But whoso is compelled (thereto), neither craving nor transgressing, (for him) lo! thy Lord is Forgiving, Merciful.
SHAKIR- Say: I do not find in that which has been revealed to me anything forbidden for an eater to eat of except that it be what has died of itself, or blood poured forth, or flesh of swine-- for that surely is unclean-- or that which is a transgression, other than (the name of) Allah having been invoked on it; but whoever is driven to necessity, not desiring nor exceeding the limit, then surely your Lord is Forgiving, Merciful.
'শূকরের মাংস খায় না'-এমন মানুষ বলতে একবাক্যে মুসলমানদেরকেই বোঝায়। যদিও অন্যান্য ধর্মের অনেক মানুষই শূকর খায় না। একজন ইমানদার মুসলমান শূকরের মাংস তো খায়ই না, এমন কি এগুলো পোষার কথা চিন্তাও করতে পারেনা। তবে বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলায় দোদুল্যমান মুসলিম নামধারী কিছু ব্যতিক্রম তো থাকতেই পারে। 'সব শূকর নিধন করে ফেলতে হবে'- এমন অবাস্তব কথা কোন ধর্মগ্রন্থেই বলা হয়নি। অনেকেই না জেনেবুঝে ইসলামের ঘাড়ে দোষ চাপাতে চায়। তারা হয়ত জানেনা অযথা বিনা প্রয়োজনে কোন প্রাণী হত্যা করা নিষেধ। আর মুসলমানদের জন্য শূকর হত্যা করার তো কোন প্রয়োজনই নেই। বরং যারা শূকরের মাংস খেতে অভ্যস্ত- তারাই শূকর নিধনের সঙ্গে জড়িত।
মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে, মহান স্রষ্টা অণূ-পরমানূ থেকে শূরু করে কোন কিছুই অযথা সৃষ্টি করেন নাই। যেহেতু স্বয়ং স্রষ্টা তারই একটি সৃষ্টি সম্পর্কে আমাদেরকে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমাদের (সকল মানুষের) জন্য শূকরকে অপবিত্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন (আল-কোরআন, সূরা নং ৬ আয়াত নং ১৪৫)। সুতরাং এর মধ্যে নিশ্চয়ই অন্তর্নিহিত কোন কারণ রয়েছে। তাই শূকর নিধন বা এদেরকে ঘৃণা করা উচিত নয়, বরং ধর্মীয় নির্দেশ মত এগুলোর সংস্পর্শ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পারলেই হলো। এতে নিশ্চয় মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। ধর্মগ্রন্থে শূকরের মাংস খেতে নিষেধ করা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সহজপথ দেখিয়ে দেয়া হয়েছে। মানুষ যদি শূকরের মাংস ও চর্বি থেকে উৎপাদিত সব ধরনের খাদ্যদ্রব্য ও পণ্যসামগ্রী বর্জন করে তাহলে একসময় এগুলোর বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে এবং মানুষ লোকালয়ে শূকরের খামার করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। তখন বন্য প্রাণী ও শূকর লোকালয় থেকে দূরে বনে-জংগলে বাস করবে। এভাবে ওদের মত করে ওরা যতদিন টিকে থাকতে পারে টিকে থাকুক, তাতে তো আমাদের কোন আপত্তি নেই।
অনেকের অভিযোগ- মহান স্রষ্টা কেন শূকরের মত এমন একটি প্রাণী সৃষ্টি করেলন এবং কেনই বা এগুলোকে অপবিত্র/ নোংরা হিসেবে ঘোষণা করলেন?
তারা নিশ্চয় জানেন যে, এগুলোকে তিনি তাঁরই সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি শুধুমাত্র মানুষের জন্য অপবিত্র হিসিবে ঘোষণা করেছেন। বাঘ, সিংহ বা নেকড়ে ইত্যাদি অন্য কারও জন্য তো এই ঘোষণা নয়।
ঠিক একইভাবে কেউ যদি প্রশ্ন করে- আল্লাহতায়ালা যে মানুষ সৃষ্টি করেছেন সেই মানুষেরই পায়খানা, প্রস্রাবকে তিনি তাদেরই জন্য অপবিত্র/নোংরা হিসেবে ঘোষণা করলেন কেন?
এর উত্তরটি নিশ্চয় এখন সবারই জানা। বিজ্ঞানের বদৌলতে এগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি বলেই তো রোগ-জীবাণূ যেন ছড়াতে না পারে সেজন্য শুধু শহরেই নয়, গ্রামে-গঞ্জেও বিজ্ঞান সম্মত পায়খানা তৈরির পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তবে কেউ যদি সব জেনে-বুঝেও জেদের বশে বলে যে, তার নিজের শরীর থেকে যে পায়খানা প্রস্রাব নির্গত হয় সেগুলোকে সে অপবিত্র/নোংরা মানতে নারাজ। এর উত্তরে বলতে হয়- তাহলে সে যেন তার পায়খানা, প্রস্রাব অন্যত্র ত্যাগ না কোরে বরং বসার ঘরের দামী সোফাসেট বা সোবার ঘরের বিছানায় ত্যাগ করলেই তো পারে। আমার মনে হয় অবুঝ শিশু, গুরুতর অসুস্থ বা বদ্ধ উন্মাদ ছাড়া এমন কাজটি কেউ করবে না। আমাদের শরীরের সুস্থতার জন্য নিয়মিত পায়খানা ও প্রস্রাব ত্যাগ করার যে কতখানি প্রয়োজন রয়েছে তা এগুলো কয়েকদিন বন্ধ থাকলে সহজেই বোঝা যায়। তেমনি এই পৃথিবীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নিশ্চয় কোন না কোনভাবে শূকরেরও প্রয়োজন রয়েছে বলেই তো মহান স্রষ্টা এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন। তবে এর প্রকৃত কারণ যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন সেই মহান স্রষ্টাই ভাল জানেন। কিন্তু খাদ্য হিসেবে উপযোগী নয় বলেই মানুষের জন্য এগুলোকে অপবিত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
একজন ঈমানদার মুসলমান দ্বিধাহীন চিত্তে আল্লাহতায়ালার যে কোন আদেশ পালন করার জন্য সর্বদাই প্রস্তুত থাকে। আল-কোরআন ছাড়াও অন্য ধর্মগ্রন্থে শূকরের মাংস খাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সর্বজ্ঞ মহান স্রষ্টা কেন শূকরের মাংস খেতে নিষেধ করেছেন তার প্রকৃত কারণ তিনিই ভাল জানেন। একজন প্রকৃত মুসলমানের জন্য যেমন কোন প্রশ্ন ছাড়াই এই নির্দেশ পালন করা ঈমানি দায়িত্ব। তেমনি অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের অনুসারীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। বিশ্বাসই হলো ধর্মের মূল বিষয়।
শূকরের মাংস বর্জনের বিষয়ে ধর্মগ্রন্থের দিকনির্দেশনা জানতে হলে এই লিংকটি দেখুন-
ধার্মীক ভাইয়েরা তাদের নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থের এই বিধান মানার প্রতি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যত্নবান হবেন ততই মঙ্গল। অন্যদিকে অনেক ধর্মেই শুকরের মাংস খাওয়া বা না খাওয়ার ব্যপারে তেমন কোন স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় সেসব ধর্মের অনুসারিদের মধ্যে অনেকেই শুকরের মাংস খাওয়াকে দোষের মনে করে না। আবার সব নান্তিকরাই যে শুকরের মাংস খায়- একথাটিও ঠিক নয়। তবে যারা ধর্ম মানেন না বা স্রষ্টাকে বিশ্বাস করেন না তারা তো নিজেদেরকে মানবতার মূর্ত-প্রতীক হিসেবে দাবি করেন। তাদের কাছে যেহেতু মানবতার উপরে আর কোন ধর্ম নাই, সুতরাং নাস্তিকদের মধ্যে যারা এবং স্পষ্ট বিধি নিষেধ না থাকার কারণে যেসব ধর্মের অনুসারিরা শূকরের মাংস খেতে পছন্দ করেন- মানবতার খাতিরে এ বিষয়টি নিয়ে নুতন করে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানাই।
বিশ্ব ব্যাপী শূকরের ব্যবসা মার খাওয়ার ভয়ে ও শূকরের মাংস খাবার প্রতি দূর্বলতা হেতু বিষয়টিকে যতই ঢাকবার চেষ্টা করা হোক না কেন- তাতে কোন লাভ হবেনা। এবার এই ভাইরাসটি ততটা ক্ষতিকর মনে না হলেও এটির জেনেটিক রূপান্তরের বিষয়টিকে মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ প্রতিরোধ পরিকল্পণা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে চরম ক্ষতি হবার সম্ভবনাই বেশি। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
কোন বিষয়ে সীমালংঘন না করাই ধর্ম তথা মানবতার দাবি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে প্রাণীকুলের মধ্যেও সৃষ্টিগত স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ও ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। তাই স্থলজ ও জলজ প্রাণী প্রতিপালন, ব্যবসা, চিকিৎসা ও এগুলো নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট এবং সেইসাথে দেশ ও বিদেশের সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে সময়োচিত সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য যত্নবান হতে হবে।
আল-কোরআন-(Al-Qur'an)-
সূরা মায়েদাহ (05. Al-Maeda // The Table)-(নং ০৫, আয়াত নং- ৯২)
(০৫ : ৯২) অর্থ- এবং আল্লাহর অনুসরণ কর, ও রসূলের অনুসরণ কর এবং সতর্ক হও, যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও- তবে জেনে রাখ যে, স্পষ্ট প্রচারই আমার রসূলের কর্তব্য।
(05 : 92) And obey Allah and obey the Messenger and be careful then if you turn back, know then that the responsibility over Our Messenger is only to deliver the message clearly.
মহান স্রষ্টার সাবধান বাণী যারা বিশ্বাস করে ও মেনে চলে এবং রাসূলুহ্ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে যারা সঠিকভাবে অনুসরণ করে তারা নিরাপদ থাকে। আর যারা অবজ্ঞা করে তারাই চরমভাবে ভোগে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই আসুন আর দেরি নয়, এতদিন অজ্ঞতার আঁধারে থেকে মন্দ যা করেছি তার জন্য অনুতপ্ত হই এবং খাঁটি অন্তরে তওবা করে তা চিরতরে বর্জন করি। সেইসাথে প্রকৃত ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে ইহকালীন ও পরকালীন শান্তি ও মুক্তির পথকে সুগম করে তুলি।
আরও জানতে হলে এই লিংগুলো দেখে নিতে পারেন-
এখানে- ১
এখানে- ২
এখানে- ৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

