somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সোয়াইন-ফ্লু ভাইরাসটি বর্তমানে জেনেটিক রূপান্তরের মাধ্যমে নুতন রূপ ধারন করেছে।

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সম্প্রতি জানা গেছে যে, হাজার হাজার বছর পূর্বেই শূকরের 'জীন' এক ধরনের ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে এবং তা বংশগতভাবে সমস্ত শূকর প্রজাতির মাঝে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে। এই বংশগত সুপ্ত সংক্রমণ থেকে শূকর প্রজাতিকে যে কোন উপায়েই মুক্তি দেয়া সম্ভব নয় সে সম্পর্কে এবং তা যে শূকরের মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রমণের সম্ভাবনা ছিল সে সম্পর্কেও বিজ্ঞানীগণ অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন। বর্তমানে H1N1 influenza virus দ্বারা Swine Flu নামের প্রাণঘাতি ব্যাধিটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। সর্বশৈষ খবর অনুসারে আমাদের বাংলাদেশে এ রোগে এ পর্যন্ত প্রায় ২৮৩৭ জন আক্রান্ত হয়েছে (তবে বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশী হবে) এবং ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শূকর থেকেই যে এর উৎপত্তি হয়েছে তা এখন মোটামুটি নিশ্চিত।

{("দৈনিক প্রথম আলো"-তারিখ ০৫/০৫/২০০৯ ইং-পৃষ্টা-৯)- বর্তমানে ম্যক্সিকোতে এর বিস্তার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি অঙ্গরাজ্যে সোয়াইন-ফ্লুর সংক্রমণ ঘটেছে এবং শিগগিরই সারা দেশে এ সংকমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে) খবর এএফপি। বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ফ্লুর সংক্রমণ কমে এলেও পরে আরও ব্যাপক আকারে এর বিস্তার ঘটতে পারে।}

{("The Daily Star"-Page-15- date-04-05-2009)- The World Health Organisation earlier announced that a pandemic was imminent, but it has decided against declaring a full pandemic alert. Still that doesn’t mean people can relax, Dr. Mike Ryan, WHO's global alert and response director."These viruses mutate, these viruses change, these viruses can further reassort with other genetic material, with other viruses," he said. "So it would be imprudent at this point to take to much reassurance" from the small number of deaths.}

বিশ্ব ব্যাপী শূকরের ব্যবসা মার খাওয়ার ভয়ে ও শূকরের মাংস খাবার প্রতি দূর্বলতা হেতু বিষয়টিকে যতই ঢাকবার চেষ্টা করা হোক না কেন- তাতে কোন লাভ হবেনা। এবার এই ভাইরাসটি ততটা ক্ষতিকর মনে না হলেও এটির জেনেটিক রূপান্তরের বিষয়টিকে মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ প্রতিরোধ পরিকল্পণা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে চরম ক্ষতি হবার সম্ভবনাই বেশি। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

(মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ফিলিপ কালদেরন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'ভাইরাস সংক্রমণ স্থিতিশীল থাকলেও আমরা বিজয় উল্লাস করব না। তবে আমরা সীমিত আকারে কিছু কার্যক্রম আবার শুরু করতে পারি।'-(দৈনিক প্রথম আলো-তারিখ ০৫/০৫/২০০৯ ইং-পৃষ্টা-৯)

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে তিনি ভবিষ্যতে কি ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করার কথা বলেছেন সে দিকে সবারই নজর রাখতে হবে।

সোয়াইন-ফ্লু ভাইরাসটি এর আগে শুধু শূকরকেই আক্রান্ত করত। বর্তমানে ভাইরাসটি জেনেটিক রূপান্তরের মাধ্যমে নুতন রূপ ধারন করেছে। এখন এটি ছয় ফুট দূর থেকেও সংক্রমিত হতে পারে। এই ভাইরাসটি আক্রান্ত শূকর বা মানুষের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস, হাঁচি, কাশি, কফ-থুতু ও সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়ে পড়ে। তাই এর সংক্রমণ রোধের জন্য খুবই সাবধান হতে হয়। ভবিষ্যতে অর্থাৎ কয়েক বছর পর এই প্রাণঘাতি ভাইরাসটি যেন মারাত্মক প্রাণঘাতি রূপ ধারন করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে ব্যাপারে যারা শূকরের মাংস খায় এবং যারা খায়না সবাইকেই সচেতন থাকতে হবে। তা না হলে কেউ রক্ষা পাবে না।

যে সমস্ত দেশের জনগণ শূকরের মাংস খায় এবং এর ব্যবসার সাথে জড়িত সেই দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে শূকরের খামার গড়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত খামারগুলো ছাড়া বেশিরভাগ ছোটখাট খামারই যত্রতত্র হেনতেনভাবে গড়ে উঠে। ময়লা খাওয়া শূকরের স্বভাব এবং এমন কোন পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত জিনিস নেই যে এরা তা গোগ্রাসে খায়না। এরই সুযোগ নিয়ে বেশি লাভ করার জন্য যত ধরনের ময়লা আবর্জনা সস্তায় নিয়ে এসে এগুলোকে খাইয়ে নাদুস-নুদুস বানানো হয়। একটি শূকরের খামার থেকে আনেক (৭০ টির মত) রোগজীবাণূ ও ভাইরাসের বিস্তার ঘটতে পারে। অনুন্নত দেশগুলোর কথা তো বাদই দিলাম, অনেক উন্নত দেশেও আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা পারিবারিক শূকরের খামারগুলোতে যথাযথভাবে এতগুলো রোগের চিকিৎসা করা ও রোগ-প্রতিরোধক ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয় না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বড় বড় ফার্মগুলো ছাড়া ছোট ছোট খামারিরা অনেক সময় চিকিৎসা খরচ বাঁচিয়ে অতিরিক্ত লাভ করতে চায়। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষে আনাচে কানাচে গড়ে ওঠা এই শূকর পালন খামারগুলোকে ঠিকমত নজরদারি করা সম্ভব হয় না। ফলে এই সব খামার থেকেই রোগগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এক্ষেত্রে যারা শূকরের মাংস খায় তাদের তুলনায় যারা শূকর প্রতিপালন ও ব্যবসার সাথে জড়িত তারাই আগে আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে এদের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

মানুষ যদি শূকরের মাংস ও চর্বি থেকে উৎপাদিত সব ধরনের খাদ্যদ্রব্য ও পণ্যসামগ্রী বর্জন করে তাহলে একসময় এগুলোর বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে এবং মানুষ লোকালয়ে শূকরের খামার করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। তখন বন্য প্রাণী ও শূকর লোকালয় থেকে দূরে বনে-জংগলে বাস করবে। এভাবে ওদের মত করে ওরা যতদিন টিকে থাকতে পারে টিকে থাকুক, তাতে তো আমাদের কোন আপত্তি নেই। 'শূকরের মাংস খায় না'- এমন মানুষ বলতে একবাক্যে মুসলমানদেরকেই বোঝায়। একজন ইমানদার মুসলমান শূকরের মাংস তো খায়ই না এবং এগুলো পোষার কথাও চিন্তা করতে পারেনা। অনেক ধর্মগ্রন্থেই শূকরের মাংস খেতে নিষেধ করা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের সহজপথ দেখিয়ে দেয়া হয়েছে। সব ধর্মের ধার্মীক ভাইয়েরা যত তাড়াতাড়ি ধর্মগ্রন্থের এই বিধান মানার প্রতি যত্নবান হবেন ততই মঙ্গল। তবে যারা ধর্ম মানেন না তারা তো নিজেদেরকে মানবতার মূর্ত-প্রতীক হিসেবে দাবি করেন। তাদের কাছে যেহেতু মানবতার উপরে আর কোন ধর্ম নাই, সুতরাং নাস্তিকদের মধ্যে যারা শূকরের মাংস খেতে পছন্দ করেন- মানবতার খাতিরে এ বিষয়টি নিয়ে নুতন করে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৫
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×