ম্যাড-কাউ-ডিজিস রোগটির নাম এখন অনেকেরই জানা। নাম থেকেই বোঝা যায় এটি গবাদি পশু অর্থাৎ গরুর সেঙ্গে সম্পর্কিত এবং মূলত গরুর মস্তিষ্ক তথা স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। গবেষণায় দেখা গেছে প্রাণীদেহের জন্য প্রয়োজনীয় একটি প্রোটিনের রাসায়িনক পরিবর্তন জনিত অস্বাভাবিকতা ও আধিক্যই এই রোগের একটি বড় কারণ। এটির নাম "প্রিয়ন প্রোটিন" (PrP, or prion protein)। এই প্রোটিনের অস্বাভাবিক ক্রিয়ার ফলে স্নায়ুতন্ত্রের অধঃপতন (neuronal degeneration) ঘটে। গরুর ক্ষেত্রে এ রোগটির পুরনাম Bovine Spongiform Encephalopathy, সংক্ষেপে 'BSE'। মানুষেরও প্রায় একই ধরণের উপসর্গ বিশিষ্ট রোগ হতে পারে। তখন একে Creutzfeldt-Jakob Disease, সংক্ষেপে 'CJD' এবং Variant Creutzfeldt-Jakob Disease, সংক্ষেপে 'vCJD' নামে আখ্যায়িত করা হয়।
মানুষের এই রোগ (vCJD) হলে মানসিক বৈকল্য দেখা দেয়। অসুস্থতা যত বাড়ে এই অবস্থার ততই অবনতি ঘটতে থাকে। প্রায়ই অনৈচ্ছিকভাবে মাংসপেশীর খিচুনি হয়। রোগী অন্ধও হয়ে যেতে পারে। ধীরে ধীরে কথা বলার ও নড়াচড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং অবশেষে অচেতন হয়ে যায়। এই সমস্ত রোগীর বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দেয় এবং সাধারণত নিউমোনিয়া ও সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।
কোন মানুষের এ রোগ হলে তার থেকে ব্লাড-ট্রান্সফিউশনের মাধ্যমে রোগটি অন্যের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাছাড়া আক্রান্ত গরুর অর্ধসিদ্ধ মাংস ও মগজ বা স্নায়ুতন্ত্র খেলও এ রাগ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উচ্চ তাপে ভালভাবে সিদ্ধ করে খেলে এতে আক্রান্ত হবার সম্বাবনা নেই বললেই চলে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- নিঃশ্বাস প্রশ্বাস, হাঁচি, কাশি ও সাধারণ সংষ্পর্শের মাধ্যমে রোগটি ছড়ায় না। এই রোগ নিরাময়ের সফল কোন চিকাৎসা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি।
গবেষণায় দেখা গেছে প্রাণীদেহের হাড় ও মস্তিষ্ক থেকে কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত খাদ্য গরুকে খাওয়ালে এ রোগ হয়। আল্লাহতায়ালা গরুকে নিরীহ প্রকৃতির গৃহপালিত তৃণভোজী প্রাণী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু অধিক উৎপাদন ও বাণিজ্যে অল্প সময়ে বেশি লাভ করার নেশায় গবাদি পশুর ফার্মের সঙ্গে জিড়িতরা প্রাণীদেহের হাড়, মস্তিষ্ক ইত্যাদি থেকে উৎপাদিত কৃত্রিম জিনিস খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াচ্ছে। অতিরিক্ত মাত্রায় হরমোন ইন্জেক্সন দেয়া হচ্ছে। তৃণভোজী এই প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্যের জন্য এগুলো মোটেই উপযোগী নয়। আর তাই এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া স্বরূপ এ ধরণের অনাকাঙ্খিত রোগ-ব্যাধির উদ্ভব হচ্ছে। ফলে গবাদি পশুর সাথে সাথে মানুষকেও ভুগতে হচ্ছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে প্রকৃত অর্থে মানুষের নির্বুদ্ধিতাই 'ম্যাড-কাউ-ডিজিসের' মত রোগগুলোর উৎপত্তির জন্য দায়ী।
কোন বিষয়ে সীমালংঘন না করাই ধর্ম তথা মানবতার দাবি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে প্রাণীকুলের মধ্যেও সৃষ্টিগত স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ও ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আর এজন্য স্থলজ ও জলজ প্রাণীদের প্রতিপালন, ব্যবসা, চিকিৎসা ও এগুলো নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট এবং সেইসাথে দেশ ও বিদেশের সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে সময়োচিত সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে যত্নবান হতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


