আমার প্রিয় পোস্ট

সবকিছুতেই নির্মোক থাকছি, সবকিছুই ইদানীং অর্থহীন মনে হয়; নিজের এই নেতিবাচক প্রবণতায় নিজেই লজ্জিত ।:(

অশউইৎস- বিরকেনিঊ, নাজী কনসেনস্ট্রেশান গ্যাস চেম্বারের গনহত্যা, আমাদের বিষণ্ণ যাত্রা...

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৯

শেয়ারঃ
0 3 0

ঢোকার গেটে লেখা ছিলো জার্মান ভাষায় ‘ARBEIT MACHT FREI’ ; যার অর্থ কর্ম মুক্তি দেয়। কিন্তু মুক্তি ছিলো না এই গেট দিয়ে। মুক্তি ছিলো হয় ক্রিমেটোরিয়ামের চিমনি দিয়ে ছাই হয়ে উড়ে যাওয়ায়, না হয় গ্যাস চেম্বারে সাইক্লন গ্যাসে পুড়ে যাওয়া, তারপর ভিস্তুলা নদীতে মিলিয়ে যাওয়া। রেখে যাওয়া অস্তিত্ব বলতে কাছের ফ্যাক্টরিতে হতভাগা মানুষগুলোর চুল দিয়ে তৈরি কার্পেট , অথবা ছাই দিয়ে তৈরি সার হিসাবে পৃথিবীর মাটিতে মিলিয়ে যাওয়া।




‘ARBEIT MACHT FREI’ , সেই বিখ্যাত গেটটি; যার অর্থ কর্ম তোমাকে মুক্তি দেবে। জীবন এই দিক দিয়ে ঢুকত, বের হতো ক্রিমেটোরিয়ামের চিমনি দিয়ে।

অক্টোবরের এক কুয়াশাময় ভোরে আমরা চার সহকর্মী ব্রস্লো-ক্রাকাঊ হাইওয়ে ধরে ছুটে যাচ্ছি অশউইৎসে, গাড়ি চালাচ্ছে পোলিশ সহকর্মী গ্রেগজ। আরেক গাড়িতে আছে গ্রেগজ এর বন্ধু চ্যামেক আর ওর স্ত্রী গ্রাশা । দুইপাশে কুয়াশা-রোদে মাখানো পোলিশ কান্ট্রিসাইড, মাঝে মাঝে সবুজ-কমলায় মেশানো বনভূমি, মনে করিয়ে দিচ্ছে শীত সমাগত। কিন্তু আগের সপ্তাহের কার্পাজ ভ্রমণের মত কোন দৃশ্যই মন কাড়ছে না। বরং মাঝে মাঝেই কুঁকড়ে যাচ্ছি কি দেখতে হবে এই ভেবে। আগের রাতে ইউটিউবে ‘Auswitz’ সার্চ দিয়ে দেখা ভিডিও ক্লিপগুলোই যে কাউকে অসুস্থ করে দেবার জন্য যথেষ্ট।

জায়গাটা অশউইৎস- বিরকেনিঊ , পোলিশ উচ্চারণে অসভিয়েচিম এর একটা অংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নাজী কনসেনস্ট্রেশান ক্যাম্প , গ্যাস চেম্বার নামেই সমাধিক পরিচিত। পৃথিবীর নৃশংসতম গণহত্যাগুলোর একটি এখানেই হয়েছিলো, ঠান্ডামাথায়,সুশৃঙ্খল পদ্ধতিগতভাবে ।

বিরকেনিঊ হচ্ছে অশউইৎস এর দ্বিতীয় ক্যাম্প, প্রশান্তিতে হারিয়ে যাবার মত জায়গা। প্রচুর বার্চ গাছে ঘেরা শির শির শব্দে বয়ে যাওয়া ভিস্তুলা নদীর স্পর্শমাখা বাতাস দেখেই পোলিশ কৃষকরা নাম দিয়েছিলো বিরকেনিঊ। এখন সেই একই বাতাস কোনো প্রশান্তি জাগায়ই তো না, জেগে থাকলে স্পর্শে গা শির শির করে; চোখ বন্ধ করলেই দুঃস্বপ্ন।

তৃতীয় ক্যাম্পটি মনোভিটজ, যেটা মূলত ছিলো ফ্যাক্টরি এলাকা। সিন্থেটিক রাবার , ফুয়েল প্ল্যান্ট ছিলো, শেষদিকে বন্দীদের চুল দিয়ে তৈরি হত কার্পেট, দেহভস্ম দিয়ে সার। কি নিদারুণ নৃশংসতা। এই ক্যাম্পটি এখন আর সংরক্ষিত নেই।

এখানেই হত্যা করা হয়েছিলো ১৫ লক্ষ মানবসন্তান, অধিকাংশই ইহুদী , তার সাথে ছিলো হাঙ্গেরিয়ান, রুমানিয়ান , জিপসী, পোলিশ, সেভিয়েত, কিছু নরওয়েজিয়ান, সুইডিশ।


‘কর্ম তোমাকে মুক্তি দেবে’ লেখা গেটটি পার হলাম সকাল দশটার দিকে, তার আগে ছিলো শিউরে উঠার একটা সংক্ষিপ্ত মুভি প্রদর্শনী। ওয়্যারলেস অডিও কিট নিয়ে আমাদের গাইড মার্চিনের সাথে আমরা যাত্রা শুরু করলাম। গ্রুপটা মিক্সড, আমরা তিন বঙ্গসন্তান ছাড়া আছে পোলিশ, রাশিয়ান, ফ্রেঞ্চ, তিনজ়ন স্প্যানিশ,আমেরিকান।পরে বুঝেছিলাম দুইজন জার্মান আর কয়েকজন ইসরায়েলি ও ছিলো।


অশউইৎস এর কাঁটাতারঘেরা ক্যাম্প, ১৫০০০০০ মানবসন্তানের উপর নৃশংসতার স্বাক্ষী।

প্রথম ক্যাম্পটিই বিশাল, সবগুলো মিলিয়ে চল্লিশ বর্গকিলোমিটার। সুতরাং নির্দিষ্ট কিছু ব্লকই আমাদের দেখতে হবে। সব মিলিয়ে সতেরোটা ব্লক দেখা হবে, কুখ্যাত ব্লক-১১ (ডেথ ব্লক),২৪ ,১০ সহ। প্রত্যেকটি ব্লক একেকটি বিষয়বস্তুর উপর সাজানো হয়েছে । দেখছিলাম আর বিস্ময়ে কেঁপে ঊঠার অনুভূতি হচ্ছিলো। কারণ যুদ্ধে লাখ লাখ সৈন্য মারা যাওয়া এক ব্যাপার , সেটা অস্তিত্বের লড়াই, কেউই নিরস্ত্র নয়। আর এখানে ঠান্ডা মাথায় একেবারে নির্দিষ্ট নিয়মে লাখ লাখ লোক মেরে ফেলার একটা সিস্টেম মানুষই তৈরি করতে পারে, অকল্পনীয়। জার্মানরা মেথডিক্যাল জানতাম, জার্মানদের সাথে কাজ করে সেটা বুঝতে পেরেছি। কিন্তু গনহত্যার মত একটা কাজকেও জার্মান এসএসরা যেভাবে সুশৃংখল নিয়মে নিয়ে এসেছিলো দেখলে কেমন জানি হতবাক লাগে।


অশউইৎসের ব্লকগুলো ছায়াময় পথে পথে হাঁটতে হাঁটতে ঘৃণা আর শোকের অভিব্যাক্তি অনুভূতিটাকে চিনতে পারছিলাম।


ব্লক ব্লকে আমরা যাচ্ছি দেখছি, আর একটু একটু করে ভার বাড়ছে। প্রথমে আমার কাছে আমাদের গাইডের বর্ণনা অতি আবেগী মনে হচ্ছিলো, কিন্তু এইসব দেখার পর সেটাই মনে হচ্ছিলো স্বাভাবিক।
একটা ব্লকে দেখলাম দুই টনের বেশী মাথার চুল রাখা আছে - স্তম্ভিত হয়ে ভাবতে হলো কি সংখ্যার মানুষ হতে এই পরিমাণ চুল আসতে পারে! সাইক্লোন বি এর ব্যাবহার করা ক্যানগুলো দেখলাম, প্রথম গ্যাসিং এর পর হেনরিক হিমলারের লেখা শংসাবাচন দেখলাম।


স্তুপ করে রাখা হাজার হাজার (নাকি লক্ষ লক্ষ) জুতা , চশমার ডাঁটি দেখলাম। একটা ব্লকে বাচ্চাদের জামাকাপড় জুতা রাখা আছে । অনেককেই দেখলাম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। বিশেষত বৃদ্ধরা । যুদ্ধের ক্ষত
অনেকেই বয়ে চলেছেন এখনো। এই রুমটাতে আসলে আবেগ সংবরন অসম্ভব । ছোট ছোট বাচ্চাদের , যাদের অনেকে তাদের প্রথম জন্মদিনটিও পার করেনি, জীবন মিলিয়ে গিয়েছিলো গ্যাস চেম্বার বা ক্রিমেটোরিয়ামের ফ্যাকাসে অন্ধকারে। ইলেক্ট্রিফায়েড কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে মুক্ত জীবন দেখেনি অনেক কিশোর-কিশোরী। তার বদলে তাদের যেতে হয়েছে নাজী বিকৃত ডাক্তার মেঙ্গেল এর ছুরির নিচে,জীবন্ত । এই এসএস ডাক্তারদের অনেকেই (বিশেষত ডাঃ মেঙ্গেল) বাচ্চাদের কেটে কেটে নানা পরীক্ষা চালাতো, বৈজ্ঞানিক গবেষনার জন্য! ব্লক-২৪ এর নারীদের উপর চলতো আরো ভয়াবহ পরীক্ষা, গর্ভধারণ আর বাচ্চার বৃদ্ধি নিয়ে। এসএস দের কাছে বন্দীর মর্যাদা পশুর কাছাকাছি ও ছিলো না, ছিলো কীটপতঙ্গের সমান (সভ্যতার ‘কীট’ বলেই সম্বোধন করা হত তাদের)। সুতরাং, এইসব কাজে তারা ছিলো চরম নির্বিকার।


দুই টনের বেশী মাথার চুল রাখা আছে - স্তম্ভিত হয়ে ভাবতে হলো কি সংখ্যার মানুষ হতে এই পরিমাণ চুল আসতে পারে!


সাইক্লোন বি এর ব্যাবহার করা ক্যানগুলো।


ছায়াময় পথে পথে হাঁটতে হাঁটতে ঘৃণা আর শোকের অভিব্যাক্তি অনুভূতিটাকে চিনতে পারছিলাম। রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে প্রথম যেবার যাই, সেবারও একই অনুভূতি হয়েছিলো। অনেকের সাথে অনেক জাতীয়তার সাথে মিশে আমার মনে হয় মানুষ আসলে একই, মানুষের কান্নাও এক। পার্থক্য শুধু প্রকাশে। ওরা কান্নাকে শোককে শক্তি আর কাজে রুপান্তর করেছে , আমরা করেছি আবেগী কথামালায় ; বাস্তব পদক্ষেপ প্রায় কিছুই নেইনি।

এই ক্যাম্পটিতে বিদ্রোহ হয়েছিলো দুইবার । নেতৃত্বে ছিলো মুলত পোলিশ রাজনৈতিক বন্দীরা। বিদ্রোহ ব্যর্থ হবার পরে সেই বন্দীদের দুইভাবে হত্যা করা হয়। না খাইয়ে মাটির নিচের সেলারে আটকে রেখে , যেটা ছিলো এই ক্যাম্পে অন্যতম জনপ্রিয় একটা পদ্ধতি। গুলি করেও মারা হতো ব্লক-১৭ এর পাশের দেয়ালে, আনুমানিক ৫০ হাজারের মত হত্যা করা হয়েছিলো গুলি করে। বাকীদের ভয়াবহ নির্যাতনের পর ফাঁসি দেয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যে অবশ্য ফাঁসি দেবার দরকার ছিলো না, তারা নির্যাতনে প্রায় মৃতই ছিলো।

একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদাররা আর তাদের দোসর রাজাকার-আলবদর মিলে হেরে যাবার মূহুর্তে যেরকম আমাদের বুদ্ধিজীবি-সাংবাদিক-শিক্ষকদের মেরে জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার প্রক্রিয়ায় ছিলো, সেইরকম নাজীরাও ১৯৪৪ থেকে পোল্যান্ড এ এই প্রক্রিয়াটি শুরু করেছিলো।

ফ্যাকাসে অন্ধকারে ঢাকা ক্রিমেটোরিয়ামে ঢোকার পর খুব চাপ লাগে মনের উপর। চুল্লীগুলো আগের মতই আছে। মাঝে মাঝে জীবন্ত মানুষকেও নাকি ঢুকিয়ে দেয়া হত এখানে! ক্রিমেটোরিয়ামের পাশেই ফাঁসিমঞ্চে ঝুলানো হয়েছিলো রুডলফ হেসকে ১৯৪৭ সালে। হেস ছিলো এই ক্যাম্পের প্রথম কমাণ্ড্যান্ট।

একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম কখনোই এখানে জার্মানদের সরাসরি দায়ী করা হয় না। বলা হয় জার্মান এসএস, নাজী, গেস্টাপোদের কীর্তি এইসব। সাধারণ জার্মান সৈন্যরাও ভয় পেত ঘৃণা করত এসএস দের। যারা এরিক মারিয়া রেমার্কের ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ণ ফ্রন্ট’ বা ‘ইন দ্য টাইম অভ ডেথ , ইন দ্য টাইম লাভ’ পড়েছেন তারাও ব্যাপারটা লক্ষ করেছেন। বার্লিনের গেস্টাপো হেডকোয়ার্টারের ধধংসস্তুপ আর সেখানে সাধারণ জার্মানদের ওপর এসএস, গেস্টাপোর নির্যাতনের বর্ণনা মনে পড়ে গেলো।


ক্রিমেটোরিয়ামের চিমনি, এই ঘরটাতে দেয়া হতো হট শাওয়ার, তারপর চুলাতে...



ক্রিমেটোরিয়ামের চুল্লী...

ক্রিমেটোরিয়ামের পাশেই ফাঁসিমঞ্চে ঝুলানো হয়েছিলো রুডলফ হেসকে ১৯৪৭ সালে। হেস ছিলো এই ক্যাম্পের প্রথম কমাণ্ড্যান্ট।



ঠিক যে উদ্দেশ্যে এই ক্যাম্পটি এখন দর্শনীয় স্থান – মানুষ যাতে নৃশংসতাকে চিনতে পারে , ‘এথনিক ক্লিনজিং’ এর মত উম্মাদ ধারণাগুলোকে প্রত্যাখান করতে পারে , আর যাতে এইসব অমানবিকতার পুনরাবৃত্তি না হয়; সেটা ও মনে হয় মাঝে মাঝে উদ্দেশ্যহীন হয়ে পড়ে। বিরকেনিঊ যাবার পথে শাটল বাসে কথা বলছিলাম চ্যামেক আর স্প্যানিশ তিন তরুণীর সাথে , গায়ে পড়ে এক প্রৌঢ় লোক তর্ক লাগিয়ে দিলো। আমি বলছিলাম, ইহুদী জাতি নিজেরাই ‘জাতিগত নির্মূল’ ধারণার শিকার , নির্যাতন কাকে বলে তাদের চাইতে আর কেউ বেশী জানে না, আবার তারাই আধিপত্যবাদী দখলবাদী নির্যাতনমুখী একটা রাষ্ট্রীয় চরিত্র কীভাবে তৈরি করে আমি বুঝি না। আমাদের আলোচনার মাঝেই সে লোক বলে বসল , এটা নাকি ’আই ফর আই’। আমি বিস্মিত। তারে বললাম, প্যালেস্টাইনিরা তোমাদের কোন চোখ কি করেছে আমাকে বুঝিয়ে দাও । তুললে তো তোমার অন্য চোখ তোলা উচিত।

অন্যান্য দর্শনার্থীদের প্রতিবাদের মুখে ওই লোক চুপ হয়ে গেলো । পরে বুঝলাম উনি ছিলো ইসরায়েলি নাগরিক। এর মাঝে রাষ্ট্রের নির্যাতনমুখী ,জাত্যাভিমান ও জাতিবিদ্বেষী আচরণ নিয়ে শুরু হলো আলোচনা। একগাদা শীতকাপড়ের নিচে আমি পরে গিয়েছিলাম এলেন গীন্সবার্গের ‘সেপ্টেম্বর ইন যশোর রোড’ কবিতা লেখা একটা টি শার্ট। আমাদের গাইডকে ওটা দেখালাম জ্যাকেট খুলে। তারপর শুরু হলো অবিশ্রান্ত প্রশ্ন আর বিস্ময়। অনেকেই জানে না একাত্তরে আমাদের এই ভয়াবহতম গনহত্যার কথা। এটা আমাদের চরম ব্যার্থতা। অনেককেই দেখলাম চরম ক্ষোভ আর বিষন্নতা প্রকাশ করতে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের কত বড় অর্জন তা নতুন করে বুঝলাম তাদের প্রতিক্রিয়া দেখে, আমাদের ক্লীবতা আর ব্যার্থতা কতদূর সেটাও বুঝলাম।



সাড়ে বারোটার দিকে আমরা বের হয়ে শাটল বাসে রওনা দিলাম বিরকেনিঊ এর দিকে।
বিরকেনিঊ পৌঁছে ঠান্ডা বাতাসে ঊড়ে যাবার মত অবস্থা হলো। ঢুকেই দেখলাম মোটামুটি প্রতীকে পরিনত হয়ে যাওয়া সেই রেলস্টেশানটি, স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘শিন্ডলারস লিস্ট’ মুভিতে অনেকে যেটাকে দেখেছেন। রেললাইনের শেষে দাঁড়িয়ে দেখলাম শেষ ডিসট্যান্ট সিগন্যালটাকে, মনে হলো জীবনের শেষ, মৃত্যুর শুরু। কি এক অদ্ভুত অনুভূতি। প্রায় ষাট বছর আগে এই প্ল্যাটফর্মে নেমে আসা মানুষগুলোর অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করলাম, মনে হলো ব্যার্থ চেষ্টা । সেটা একটা অসংজ্ঞনীয় অবস্থা।

এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই বাছাই হত বন্দীদের। বামে যেতে বলা হত বৃদ্ধদের , শিশুদের। মায়েদের আশ্বাস দেয়া হত, তাদের শিশুদের ফেরত দেয়া হবে , স্কুলে পড়ানো হবে। কিন্তু বাম মানেই ছিলো তাৎক্ষনিক মৃত্যু। বামে সোজা গেলেই সেই নারকীয় গ্যাস চেম্বার, যেখানে এই জাতিসত্ত্বাগুলোকে কীট ঘোষনা করে হত ‘মাস কিলিং’ ।


ঢুকেই দেখলাম মোটামুটি প্রতীকে পরিনত হয়ে যাওয়া সেই রেলস্টেশানটি, স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘শিন্ডলারস লিস্ট’ মুভিতে অনেকে যেটাকে দেখেছেন।


রেললাইন ধরে বিষন্ন মনে হাঁটতে হাঁটতে যাচ্ছিলাম গ্যাস চেম্বারের ধধংসস্তুপ এর দিকে ।


ডানে যেত শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান বন্দীরা। কিছুক্ষণ পরেই যখন ব্যারাকগুলো দেখা শুরু করলাম , মনে হলো শুরুতেই যারা বামে যেত তারাই বেশী ভাগ্যবান। কাঠের তিনতলা খাঁচায় গাদাগাদি করে রাতের থাকার ব্যাবস্থা, পাঁচ মিনিটের শৌচ সুবিধা, দিনের একবার খাবার, বারো ঘন্টার মত কাজ, নির্যাতন, ছোটখাটো শাস্তি হিসাবে সারাদিন কাজের পর সারারাত শিকল বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা বা জোর করে দাঁড়িয়ে রাখা, গুলি করে ফেলে রাখা এইজীবনের চাইতে তাৎক্ষনিক মৃত্যু মনে হয় অনেক বেশী প্রশান্তিকর। সর্বোচ্চ্য যে বন্দীটি টিকে ছিলো , তার মেয়াদ নয় মাস। গড়ে টিকে থাকার বয়স ছিলো তিন মাস।

রেললাইন ধরে বিষন্ন মনে হাঁটতে হাঁটতে যাচ্ছিলাম গ্যাস চেম্বারের ধধংসস্তুপ এর দিকে । ডানে বিশাল ব্যারাকের অবশিষ্ট ফেলে। সেভিয়েতরা মুক্ত করার সময় জার্মান এসএস রা পুরো ক্যাম্পে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলো। গ্যাস চেম্বারের ধধংসস্তুপ এর সামনে দীর্ঘক্ষন আমরা শুনলাম কীভাবে পুরো ব্যাপারটি করা হত, একেকবারে প্রায় ২০০০-১০০০০ জন করে। মুক্তি পাওয়া কিছু বন্দী আর গ্যাস চেম্বারের ওয়ার্ডেনদের সাথে মার্চিনের কথা হয়েছে। সেই ভয়াবহ আর সংজ্ঞাহীন অনুভূতিগুলো আসলে ওই অবস্থায় না পড়লে বোঝাই যাবে না। পাশেই আছে ইন্টারন্যাশনাল হলোকাস্ট মনুমেন্ট।


গ্যাস চেম্বারের ধধংসস্তুপ ।


ইন্টারন্যাশনাল হলোকাস্ট মনুমেন্ট।


বেলা প্রায় চারটার দিকে ক্লান্ত ক্ষুধার্ত বিষন্ন আমরা ফিরে আসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আসি বিরকেনেঊ থেকে। ঠান্ডা আবারো বাড়তে শুরু করেছ, আমাদের মনের বিষন্নতার সাথে পাল্লা দিয়ে।

অশউইৎস মুক্ত হয় সেভিয়েত সৈন্যদের হাতে পোল্যান্ড পার হয়ে ক্রাকাও হয়ে বার্লিনের পথে। দিনটা ছিলো জানুয়ারীর ২৭ তারিখ, ১৯৪৫ । বেঁচে যাওয়া বন্দীদের জন্য আক্ষরিক অর্থেই যেটা ছিলো অকল্পনীয় স্বপ্ন।

এটি এখন ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষিত হয়েছে, জার্মানী ও অশউইৎস মুক্ত দিবসটিকে বিশেষভাবে পালন করে, যাতে এই ভুলের আর কোনো পুনরাবৃত্তি না হয়। জার্মান চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মার্কেল ২০০৮ এই অশউইৎস ঘুরে গিয়েছেন, গেরহার্ড শ্রেয়েডার ও ক্ষমা প্রার্থনা করে বক্তব্য দিয়েছেন ২০০৫ এ। রুডলফ হেস (অশউইৎস এর প্রথম পরিচালক) সহ এই ‘এথনিক কিনজিং’ এর হোতাদের বিচার হয়েছে, ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল ও হয়েছে।

একাত্তরে আমাদের তিরিশ লাখ শহীদের আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে নির্মিত যে স্বাধীনতার ছায়ায় আমাদের বসবাস পরিচয়, সেই স্বাধীনতার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আবেগ কতটুকু আসলে? খুব সংক্ষেপে তিনটি প্রশ্ন জেগেছিলো বিরকেনেঊ এর গেট দিয়ে বের হয়ে আসবার সময়-

এক. আমরা কি করেছি আমাদের আত্মদানকারী শহীদদের সম্মান রক্ষায়?

দুই. আমাদের স্বাধীনতাবিরোধী চেতনাবিরোধী অপশক্তির উম্মুক্ত কন্ঠ , মতাদর্শ প্রচার কোন যুক্তিতে গ্রহণযোগ্য?

তিন. পাকিস্তান নামক দেশটিকে একাত্তরের গনহত্যার বিষয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা বা ব্যাখা না দিয়েই বিশ্বের কাছে চুপচাপ থাকবার অধিকার আমরা দিচ্ছি কেন?


ফিরে আসার পথে কালচে আকাশ দেখতে দেখতে আসছিলাম ।
ফিরে আসার পথে কালচে আকাশ দেখতে দেখতে আসছিলাম , মনের উপর চাপ কমছেই না। প্রায় নির্বাক আমরা সবাই, অনেকদিন ধরে ভাবানোর মত একটা জায়গা ফেলে যাচ্ছি।



ব্লগার 'মেন্টাল' এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তীরন্দাজ এর অনেক দিন আগের দুটো সম্পর্কিত পোস্টঃ
মূহুর্ত হলেও, থামুন: কনসেন্ট্রেশান ক্যাম্প, ডাখাউ, জার্মানী
বাস্তবের ফ্রাঙ্কেনষ্টাইন, জামর্ান নাজী জোসেফ মেঙ্গেলে

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): অশউইৎস/ অশভিটজAuswitzবিরকেনিঊbirkena্‌অসভিয়েচিমOswiecim ;
প্রকাশ করা হয়েছে: ঘোরাঘুরিসমসাময়িক  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৯
সাইফুর বলেছেন: তোমার অনুভুতি অনেকটাই অনুভব করলাম :(
অনুভব করছি কতটা ভয়াবহ ছিলো
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:১৮

লেখক বলেছেন: অনুভুতি কতটা ভয়াবহ ছিলো, সেটা বুঝতে পেরেছিলাম পরের প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে। আমরা তিন কলিগ ই খুব চাপা বিষণ্ণতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলাম। তাদের মাঝে একজন ছিলেন , যিনি ভাবতেন হিটলার ইহুদী মেরেছিলো বলে সে ভালো (!) , কিন্তু যেকোনো এথনিক ক্লিনজিং এর ধারণা কত ভয়াবহ তা না ভাবলে, না দেখলে বা আমাদের মত শিকার না হলে বোঝা যায় না। এই ভ্রমণের পর উনার মন পুরোপুরি পরিবর্তিত ছিলো।

২. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:০০
সাইফুর বলেছেন: তুমিযে কতটা ভালো ভাবে লিখেছো..নিজেও জানোনা..প্রতিটি লাইনের সাথে অনুভুতি টের পেলাম
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:২১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ,তোমাকে, অন্তঃত আমার অনুভূতিটা শেয়ার করতে পারছি কারো সাথে এইজন্য।

আগামীকাল আমাদের শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস, তার দুদিন পর মহান বিজয় দিবস । আমাদের কি উত্তর আছে আমাদের করণীয় নিয়ে?

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:১২
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:
কিছু বানানের উচ্চারণ নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারেঃপ্রথম কমেন্ট হিসাবেই দিতে চেয়েছিলাম এট।

সাইক্লন- zyklon , Cyclone B
ভিস্তুলা - vistula
অশউইৎস/ অশভিটজ –Auswitz
বিরকেনিঊ-birkenau
অসভিয়েচিম- Oswiecim
৫. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৩৪
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন: রূশো বলেছেন: অসাধারন। +
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪৮

লেখক বলেছেন: অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন: রূশো বলেছেন: অসাধারন। +

---
ধন্যবাদ

৬. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫৬
রাতমজুর বলেছেন: বহুদিন পর আবার গেলাম সেই নরকে, আপনার বর্ননা দারুন।
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১৪

লেখক বলেছেন: বর্ননা দারুন না আসলে, লেখার সময় খুব আবেগাক্রান্ত হয়েছিলাম, তাই।

ঈদ শেষ, কাজকর্ম শুরু?

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:২৫

লেখক বলেছেন: বর্ননা দারুন না আসলে, লেখার সময় খুব আবেগাক্রান্ত হয়েছিলাম, তাই।

ঈদ শেষ, কাজকর্ম শুরু?

৭. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০২
বৃত্তবন্দী বলেছেন: কি বলব খুজে পাচ্ছিনা...
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৫

লেখক বলেছেন: আপনি অনুভব করতে পেরেছেন, তাই ই আসলে বলা.।

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৯. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৮
ইমন জুবায়ের বলেছেন: অনেক দিন ধরে হলোকাস্টের ইতিহাস পড়ছি। তবুও আজ যেন অনেক কিছুই জানলাম।
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৪

লেখক বলেছেন: আরি আপনি! আপনাকে লিঙ্কে নিয়েছি আপনার পোস্টগুলো সময় করে পড়বো বলে। আচ্ছা , ঢাকার উপর একটা সিরিজ করা যায়না?

১০. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৮
অচেনা আগন্তক বলেছেন: অসাধারন বর্ণনা। নাজিদের গণহত্যা নিয়ে যত কথাই বলা হোক না কেন, এই নৃশংশতা কোন ভাবেই ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা।

"পাকিস্তান নামক দেশটিকে একাত্তরের গনহত্যার বিষয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা বা ব্যাখা না দিয়েই বিশ্বের কাছে চুপচাপ থাকবার অধিকার আমরা দিচ্ছি কেন?"- এর জবাব বোধ হয় আমরা কেউই জানিনা।++
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৩

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ আন্তরিকভাবেই। আর, জবাবটা কিন্তু আমাদের জানা জরুরী। এই ব্যাপারগুলো যদি আমরা পরিস্কার করে নিতে না পারি , তাহলে আমাদের ফেলে আসা পথ ছায়া ছায়াই থেকে যাবে।

১১. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১২
হাসিব বলেছেন: zyklon , Cyclone B - ৎসিক্লোন বে
vistula - ফিস্টুলা
Auswitz - আইসভিৎস
birkenau - বিরকেনাউ
Oswiecim - অসভিকিম
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৭

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ হাসিব ভাই। আমার পোলিশ বন্ধুরা অসভিকিম / অসভিয়েচিম দুটাই বলে।

১২. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৪
হাসিব বলেছেন: Arbeit Macht Frei - আরবাইট মাখট্ ফ্রাই - কর্ম মুক্তি দেয় (এটা ভালো অনুবাদ । "তোমাকে" শব্দটা নেই এখানে ।
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪০

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ। আপনার অনুবাদটি ব্যাবহার করলাম পোস্টে।

১৩. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫৯
ইমন জুবায়ের বলেছেন: @লেখক

ঢাকার ওপর সিরিজ করা যায়-অবশ্যই।
ধন্যবাদ।
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫৬

লেখক বলেছেন: করে ফেলুন। ভালো একটা সংগ্রহ হবে, আমরা আগ্রহী অনেকে আছিও।

১৪. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০০
হাসিব বলেছেন: সেটাই । আঞ্চলিক টান সব জায়গাতেই আছে । এজন্য উচ্চারণের পার্থক্য দেখা দেয় ।
১৫. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩৯
আসিফ বলেছেন: অসাধারন!
হলোকস্ট নিয়ে আমি অনেক ডকুমেন্টারি দেখেছি। টিভিতে দেখলেই মন খারাপ হয়ে যায়, জায়গাগুলো স্বঃচক্ষে দেখে কেমন অনুভুতি হতে পারে তা ভাবতেও পারছি না।
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০১

লেখক বলেছেন: স্বঃচক্ষে দেখার আগে মানসিক প্রস্তুতি জরুরী। খুবই বিষন্ন অনুভূতি।

১৬. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪৩
মেন্টাল বলেছেন: চমত্কার বর্ণনা।
অনেক আগে তীরুদা দুটো পোস্ট করেছিলেন কনসেন্ট্রেশান ক্যাম্পের উপর।
Click This Link
Click This Link
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫০

লেখক বলেছেন: আন্তরিক ধন্যবাদ তীরন্দাজ এর পোস্ট দুটোর লিঙ্ক দেবার জন্য । ঐ বদমাইশ ডাঃ মেঙ্গেল কেই একমাত্র ধরা যায়নি, শেষ জীবন ব্রাজিলে কাটিয়ে মারা গেছে।

আগ্রহীদের জন্য তীরন্দাজ এর পোস্ট দুটোর লিঙ্ক আমার মূল পোস্টে যোগ করলাম।

১৭. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০০
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: অসাধারণ।প্রিয় পোষ্টে নিলাম।

একটা কথা বলে যাই।গণহত্যা, নির্যাতন ,এমনকি আমাদের অনুভূতি সবকিছুই কিন্তু নির্মানযোগ্য।আমি এইটাকে নেগেটিভলি নিচ্ছিনা কিন্তু।

আর্মেনিয়ার গণহত্যা,৭১-এ বাংলাদেশ জেনোসাইড, রুয়ান্ডার গণহত্যার মতো নির্মমতা
যখন অনেকটাই বিশ্ববাসীর কাছে অজানা থেকে যাই, তখন ভাবি যাদের সম্পদ কিংবা প্রভাব যত বেশি তাদের দু:খগাধা কিংবা ইতিহাস ততবেশি বিকোয়।

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৯

লেখক বলেছেন: যাদের সম্পদ কিংবা প্রভাব যত বেশি তাদের দু:খগাধা কিংবা ইতিহাস ততবেশি বিকোয়।

--- অতীব সত্য কথা শিমুল ভাই। এর সাথে অবশ্য ঐ জাতি আর তাদের উত্তরসূরী গণহত্যা নির্যাতনকে কিভাবে নেয় সেটাও ধার্য।

আমার সবসময় মনে হয় আমাদের প্রজন্মের কাছে একাত্তরের গণহত্যা কেবল কিছু কাহিনীমাত্র, অনুভব নয়।

প্রিয়তে? ধন্যবাদ।

১৮. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০৭
লিপিকার বলেছেন: চমৎকার বর্ণনায় অসাধারণ পোষ্ট......+++
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

প্রশ্নগুলো?

১৯. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৭
রাতমজুর বলেছেন:
ফেরিতে দেরীর কারনে গাবতলী থেকে ব্যাগেজ সহ সোজা অফিসে ঢুকেছিলাম সকালে।

আপনার খবর কি?
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৩

লেখক বলেছেন: Click This Link

আমিও ,বৃহঃস্পতিবার থেকে। ফ্রম প্যারাডাইস টু আর্থ!

২০. ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৩
বৃষ্টি ভেজা সকাল বলেছেন: খুব ভাল একটা পোষ্ট। +++++
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২১. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৮
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: শিউরে ওঠার মতো পোস্ট ... +++++
১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, আন্তরিকভাবে।

২২. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪২
আউলা বলেছেন: পরে সময় করে পড়বো সেইভ করে রাখলাম
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৮

লেখক বলেছেন: হু,ম,ম... ব্যাংকের আফাগো ভালা পাই না...। :(

২৩. ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:৫৮
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন: অসাধারণ। নামিয়ে রাখলাম।
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২১

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ। কবিদের কাছে এই নির্মম গদ্য কোনরৃপে চেনায়?

২৪. ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:২৪
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: অনেক সুন্দর করে লিখছেন । ধন্যবাদ লিখাটার জন্য
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বিমাদা।
স্টেচিন যাওয়া হইলো না। :( ঠিক আছে পরেরবার।

২৫. ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:২৭
নরাধম বলেছেন: নিয়তির কি টার্ন, এরাই এখন প্যালেস্টাইনে একই ধরণের গণহত্যা চালাচ্ছে।
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:০৫

লেখক বলেছেন:
নরাধম'দা, এই ব্যাপারটা আমাকে খুব বিস্মিত করে। এদের মনস্তত্ব কেন জানি মনে হয় অসুস্থ। কাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় মারা গেছেন ৩০০ এর বেশী , ইস্রায়েলি হামলায়। ঐসব দৃশ্য দেখলে ইচ্ছা করে গায়ে বোমা বেঁধে ইস্রায়েলি আর্মিক্যাম্পে হানা দেই, 'সন্ত্রাসবাদী'দের আর কি দোষ দেবো।

-- আহসান হাবীব শিমুলের কমেন্টটি মনে পড়ছে,


একটা কথা বলে যাই।গণহত্যা, নির্যাতন ,এমনকি আমাদের অনুভূতি সবকিছুই কিন্তু নির্মানযোগ্য।আমি এইটাকে নেগেটিভলি নিচ্ছিনা কিন্তু। আর্মেনিয়ার গণহত্যা,৭১-এ বাংলাদেশ জেনোসাইড, রুয়ান্ডার গণহত্যার মতো নির্মমতা যখন অনেকটাই বিশ্ববাসীর কাছে অজানা থেকে যাই, তখন ভাবি যাদের সম্পদ কিংবা প্রভাব যত বেশি তাদের দু:খগাধা কিংবা ইতিহাস ততবেশি বিকোয়।

২৬. ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৬:৩১
উত্তরাধিকার বলেছেন:
চমৎকার লেখা ও সবাক সব ছবি।

হলুদ তারকা সমেত সাথে করে নিয়ে গেলাম।
:)
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

শুধু আমরাই সবাক হতে পারলাম না এখনো। :(

২৭. ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩০
ইরতেজা বলেছেন: খুব ভালো লেগেছে। অনেক কিছু জানলাম। এই বিষয় নিয়ে ব্লগে আগে কোন লেখা পড়েছি বলে মনে পড়ে না। এত সময় নিয়ে ছবি সহ ভালো লেখাটি দেবার জন্য ধন্যবাদ
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:২৪

লেখক বলেছেন: লেখাটি লেখার সময় অনেকটা নির্মোক থাকতে হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে লিখে। আমরা নিজেরাও ভয়াবহ গনহত্যার ভিক্টিম জাতি হিসাবে হয়তো বেশী অনুভব করবো এটা।

'তীরন্দাজ' দুটি পোস্ট দিয়েছিলেন অনেক আগে, আমিও জানতাম না। ব্লগার 'মেন্টাল' লিঙ্ক দেবার পর পোস্টের নিচে যোগ করে দিয়েছি।

২৮. ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৮
রাশেদ বলেছেন: অসাধারন লেখা।
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:২৭

লেখক বলেছেন: রাশুদা ধন্যবাদ।
শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসের আগে এই পোস্টটা দিয়েছিলাম আমাদের অক্ষম আবেগটাকে দেখানোর জন্য, কি করার আছে।

২৯. ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:০৩
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: লেখাটা পড়ে অন্যরকম একটা অনুভূতি হল , ঠিক বুঝাতে পারব না হয়ত । ৬৫ বছর আগের দিনগুলোতে ফিরে যাবার অনুভূতিটা কেমন হতে পারে , অশউইৎসে না গেলে হয়ত টের পাব না ।

শিন্ডলার্স লিস্ট দেখার পর দু'দিন কথা বলতে পারিনি ঠিকমত , লাইফ ইজ বিউটিফুল দেখার পর চোখ থেকে অজান্তেই অশ্রু গড়িয়ে পড়েছে । জাজমেন্ট অ্যাট ন্যুরেমবার্গ দেখে হয়েছিলাম স্তব্ধ ।

অন্য পাশটার কথাও আবার ভাবি , পশ্চিমা মিডিয়ার কৃপায় যার খন্ডাংশ কানে আসে , তবুও চোখে দেখা হয় না ।আর যা নিজের চোখে দেখিনা সেটার শতভাগের একভাগও উপলব্ধি করতে পারি না । গাজায় নির্মম গণহত্যা চলছে আজ , ৩০০/৪০০ কোন সংখ্যাই যেন মনে হচ্ছে না । লাখ মানুষের শহরে ৪০০ টি প্রাণ ঝরে যাওয়ার মানেই তো প্রতিটা মানুষের অন্তত একজন আপনজন হারানো । যাদের জন্য অশ্রু ফেলেছি , তারা আমার ভাইদের উপর এমন প্রতিদান দিল ? হিসাব মেলাতে পারি না ।


মাসখানেক আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছি , এসব মুভি পুরোপুরি বর্জন করব । তার ধারাবাহিকতায় "মিউনিক" মুভিটা পেয়েও ডিলিট করে দিলাম । অন্যায় আমাকে ফ্যানাটিক করে দেয় । সত্যকেও হয়ত বর্জন করাতে শেখায়
...................................
হাদী ভাই , কেমন আছেন ? অসাধারণ সব লেখাগুলো পড়লাম আপনার । অনেক ভালো লাগল , প্রিয় পোস্টে রেখে দিলাম
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৩৪

লেখক বলেছেন: অন্যায় আমাকে ফ্যানাটিক করে দেয়.।।

-----

ইস্রায়েলিদের এই ব্যাপারটা আমাকে খুব বিস্মিত করে,উম্মাদ ও মনে হয় । এদের মনস্তত্ব কেন জানি মনে হয় অসুস্থ। কাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় মারা গেছেন ৩০০ এর বেশী , ইস্রায়েলি হামলায়। ঐসব দৃশ্য দেখলে ইচ্ছা করে গায়ে বোমা বেঁধে ইস্রায়েলি আর্মিক্যাম্পে হানা দেই, 'সন্ত্রাসবাদী'দের আর কি দোষ দেবো।



নির্মোক থাকাটা খুব কঠিন।

---
আছি ভালো, কিছুটা ক্লান্ত, অকারণে, অহেতকু ।
ভালো থাকবেন।

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:০৪

লেখক বলেছেন: হুমম, আমিও।

৩১. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৮
নুশেরা বলেছেন: অসামান্য, অসাধারণ একটা পোস্ট। লেখা, ছবি সব মিলে। প্রিয় পোস্ট হিসেবে যোগ করলাম। বর্ষসেরা পোস্টে এটি মনোনীত হবার মতো।
০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:০৬

লেখক বলেছেন: নুশেরা`পু, আপনি , শওকত হোসেন মাসুম ভাই , ইমন জুবায়ের , বিমা , নরাধম সহ (লিস্ট দিলে ট্রেন হয়ে যাবে.।) আমার প্রিয় ব্লগারদের ছুঁয়েছে এই লেখাটা, এটাই অনেক বড় পাওয়া , মনোনয়ন অনেক গৌণ এখানে।

ধন্যবাদ।

৩২. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪৭
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: এই ধরণের কাহিনীর প্রথম ছবি দেখি-- "দ্য পিয়ানিস্ট"। আপনার লেখার ফ্লেভার অসাধারণ...পিয়ানিস্ট পারলে দেখবেন!! শিন্ডলার্স লিস্ট আর অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ণ ফ্রন্ট খুজতাছি দেখার জন্যে। প্রিয়তে নিলাম
০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১৬

লেখক বলেছেন: দ্য পিয়ানিস্ট দেখি নাই এখনো।
আহসান হাবীব শিমুল আর মেহরাব ভাইয়ের সাজেশান মত 'গুডবাই লেনিন' খুঁজছি।

অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ণ ফ্রন্ট প্রায় মুখস্থ , বিশবারের ও বেশী পড়ার সুবাদে।

৩৩. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৬
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: একটু দেরিতে পড়লাম পোস্টটা। সরাসরি প্রিয়তে রাখলাম। খুবই জীবন্ত বর্ণনা। আপনার চোখ দিয়ে দেখলাম।
০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১২

লেখক বলেছেন: আমার প্রিয় ব্লগারদের ছুঁয়েছে এই লেখাটা, এটাই অনেক বড় পাওয়া । মাসুম ভাই , অনেক অনেক ধন্যবাদ।

০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৪২

লেখক বলেছেন: হ্যাপ্পি হ্যাপ্পি নিঊ ইয়ার, রাশুদা.।

৩৫. ০৩ রা জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৫০
রুখসানা তাজীন বলেছেন: এই লেখাটা যে কত ভালো হয়েছে সেটা আশা করি তুই নিজেও বুঝতে পারছিস। এত আবেগ নিয়ে আমি কম লেখাই পড়েছি। প্রিয়তে।
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৭

লেখক বলেছেন: সত্যি বলছি , নিজের আবেগ প্রিয় ব্লগারদের আবেগকেও ছুঁয়েছে, এই চিন্তা করে অদ্ভুত ভালো লাগছে। গনহত্যার বিচার ও প্রতিরোধের বিষয়টি চিরন্তন (এখন যেমন ‘গাজা’, আমাদের লজ্জা) ; সেই অনুভূতিটি যত বেশীজনকে ছুঁতে পারে ভালো।

৩৬. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৬
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: দেরি হলো পড়তে, আমি একটা ডকু দেখেছিলাম টিভিতে কয়েকমাস আগে। কিংবা একটা মুভিতে, এখন ঠিক মনে নাই।

পড়তে পড়তে আমার নিজের দেশের কথাও মনে পড়লো। কিছু জায়গায় ঠিক মত পড়িনি, খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে বর্ণনাটা পড়তে।

শো-কেসে রেখে দিলাম। আপনাকে ধন্যবাদ এই পোস্টটার জন্যে।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কবি।
কষ্ট হলেও পড়তে হবে, কারণ আমাদের ও হিসাব এখনো মিলিয়ে নেয়া হয়নি।

৩৭. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:১৩
সামী মিয়াদাদ বলেছেন: পড়তে পড়তে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম....
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৬

লেখক বলেছেন: এখন স্তব্দ করে দিচ্ছে গাজা।

০৮ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:১৫

লেখক বলেছেন: করার আছে... অনুভূতিটাকে নৈর্বক্তিকভাবে ছড়িয়ে দেয়া।

১২ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:২৮

লেখক বলেছেন:
কেন জানি ইদানীং কিছুই লিখতে ইচ্ছা করে না। পোস্ট নয়, একটা অখাদ্য হাঁ হঁতাশ দিয়েছিলাম...
আপনি কি আসা নিয়েই বেশী ব্যাস্ত?

৪০. ১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:০৩
পারভেজ বলেছেন: বলার ভাষা পাচ্ছিনা। নৃশংসতার কত রূপ হতে পারে; জানা না থাকলে অনুমান করা সম্ভব নয়।
+++
২১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১০

লেখক বলেছেন: এখন দেখছি আমরা গাজায়।

৪১. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:৩১
'লেনিন' বলেছেন: মানুষ কেবল বিশ্বাস বা মতবাদের বিভিন্নতার কারণে কীভাবে নির্যাতিত হতে পারে তার নিদর্শন এটি।
২১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:০৩

লেখক বলেছেন: নিজে জাতীয়তাবাদী বা আস্তিক হলেও ভাবি অতি-জাতীয়তাবাদ বা অতি-আস্তিকতা মনে হয় মানবিকতাকে ধধংস করে দেয়।

গাজার এখনকার গনহত্যা, রুয়ান্ডা-বুরুন্ডি, বসনিয়া, কসোভো, ইস্ট তিমুর... সবগুলো বীভৎসতার গোড়ার প্যাটার্ন অনেকটা কাছাকাছি।

৪২. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:১৮
সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
খুব বেশি হতবিহবল হয়ে পড়েছি । কয়েকটি মুভি দেখা ছিল । আমি ধারনা করেছিলাম হয়তো মুভিগুলোতে একটু অতিরঞ্জন ছিল । না, বাস্তব তো দেখি আরো ভয়াবহ ।
আপনি যে কি ভালো লিখেছেন, তা আপনি নিজেও জানেন না । স্যালুট ম্যান ।
প্রিয়তে ।
২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৬

লেখক বলেছেন: বাস্তব বোধকরি সবসময়েই কঠিন। গনহত্যার এই রৃপগুলো আসলে আমাদের কল্পনার ও বাইরে। তবে বর্ত্মান ইস্রায়েলি জায়নিস্টদের কল্যাণে আমরা অনেকটা লাইভই দেখছি, গনহত্যা! মুভির মতো। ছিঃ


-- শেষাংশের জন্য সত্যিকারভাবেই লজ্জিত হলাম। ধন্যবাদ।

৪৩. ০৩ রা এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:০৫
শিমুল সালাহ্উদ্দিন বলেছেন:
























































































লেখক কে +। শুভকামনা।





ধিক্কার ওইসব পশুরুপী হিটলারদের।।।।।।টিক্কাদের।।।।।।।।
২৯ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৯

লেখক বলেছেন: বিশাল মন্তব্য !
ধন্যবাদ। ধিক্কার এর এই অনুভূতিটুকু 'নৈর্বক্তিক'ভাবে লালন করতে হবে।

৪৪. ১২ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:১৬
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: অনেক পাপ জমে আছে এই মানব ইতিহাসে!

Führer is always right.
১৭ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:০০

লেখক বলেছেন:
উদা কি ব্যাঙ্গ কইরা কইলেন ঠিক বুঝলাম না। তয় পাপের লগে বিনির্মান ও আছে। আহসান হাবীব শিমুলের কমেন্ট টা পইড়েন।

৪৫. ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১:১১
সৌরভ সাখাওয়াত বলেছেন: আমার পড়া এবং ভালো লাগা খুব অল্প কয়েকটা লেখার একটি।
১৭ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৮

লেখক বলেছেন:

আমার তাড়ার উপর লেখা অল্প কয়েকটি লেখার এটি একটি। অনেকটা ধন্যবাদ তোমার ও প্রাপ্য।

৪৬. ২৫ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ৮:২৯
ধূসর মানচিত্র বলেছেন: একটা লিংক থেকে লেখাটা পেলাম আপনার। আপনার লেখার প্রতিটি লাইনে সত্যিই আবেগের ছোয়া আছে,সেই ছোয়া আমাদের ও মন খারাপ করে দেয়।
২য় বিশ্বযুদ্বে হলোকাস্ট বলুন অথবা ট্রুম্যানের অহেতুক হিরোশিমার উপর আনবিক বোমা পরীক্ষা সত্যিই ন্যাক্কারজনক।
মানুষ যে চরম অমানুষ হতে পারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের লিডাররা এটাই প্রমাণ করে দিয়ে গিয়েছেন। আর আমাদের দেশের রাজাকারদের বিচারের
কথা বলছেন- তারা হল দাবার গুটি। একদল এখন ব্যবহার করে এই গুটিকে প্রচারের জন্য, আরেকদল ভোটের জন্য।
৪৭. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:০৩
ধুম্রজ্বাল বলেছেন: Frederic Forsyth এর "The ODESSA File" বই টা পড়ে অশউইৎস এর কথা জানি।পরে Fox History চ্যানেলে কয়েক পর্বে একটা ডকুমেন্টরী দেখেছি। আপনার লেখাও অসাধারন।
৪৮. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:৪৯
জনৈক আরাফাত বলেছেন: এত পরে পোস্টটা নজরে এলো? :||

শুভ জন্মদিন ব্লগার!
৩০ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:০৫

লেখক বলেছেন:
সমসাময়িক পোষ্ট যেহেতু নয় , পরে পড়লেও কোন সমস্যা নাই।


শুভেচ্ছা নিলাম , দেরীতে, কিন্তু কৃতজ্ঞতার সাথে।:)

৪৯. ২৭ শে অক্টোবর, ২০১০ ভোর ৫:২৭
ফারহান আহমেদ বলেছেন: তোমার অনুভুতি অনেকটাই অনুভব করলাম :(
অনুভব করছি কতটা ভয়াবহ ছিলো
সহমত
৫০. ১৫ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৫:২৭
অহন_৮০ বলেছেন: খুব ভালো বর্ননা দিলেন.....আসলে মানুষ কত পরিমান নিষ্ঠুর হলে এমন টা করা সম্ভব.....

 

মোট সময় লেগেছে ১.১১৫১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
প্রচুর স্বপ্ন দেখি,কিন্তু প্রচুর হতাশায় ভুগি| প্রচুর কাজ করি,কিন্তু প্রচন্ড অলস| জীবনকে উপভোগ করার পক্ষে, কিন্ত জীবনের সার্বিক যোগফল...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ