স্থানীয় নির্বাচনের হিসাব নিকাশ, বি এন পি জোটের রাজনৈতিক ভুল এবং আগামীতে জোটের করনীয়
০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৫:২৯
শেষ হল স্থানীয় নির্বাচন। মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত অংশ গ্রহনের আরেকটি দৃশ্য দেখা গেল দীর্ঘ ভোটার লাইনের মাধ্যমে। শতকরা প্রায় ৮০ - ৯০ ভাগ ভোট পড়েছে এই নির্বাচনে। যা খুব কম দেশেই হয়ে থাকে। আমেরিকাতে ভোটে অংশ গ্রহনের হার ৫০ ভাগের মত। অথচ বাংলাদেশের নির্বাচন বুথগুলো থাকে মানুষে পরিপূর্ন, থাকে দীর্ঘ লাইন। যা নির্বাচনের প্রতি মানুষের দুর্বলতাকে প্রমান করে।
এদেশের মানুষ যে কতটা নির্বাচনমূখী, তার প্রমান ৭০ এর নির্বাচন। সে নির্বাচনের আগে প্রলয়ংকরী এক জলোচ্ছাসে মারা যায় উপকূলের প্রায় ৫ লাখ মানুষ। "ভোটের বাক্স লাথি মারো" বলে কেউ কেউ এই নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানালেও, সে নির্বাচনে জনগন কতৃক সমাদৃত হয়। সে নির্বাচনের সুদূরপ্রসারী ফলাফলে পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে মানচিত্রে ঠাই নেয় আজকের বাংলাদেশ।
নির্বাচনের প্রতি এতটা শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে যে জাতি, সে জাতির এই অধিকারকে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন সময় অবজ্ঞা প্রদর্শন ছিল একটি সাধারন ঘটনা। দেশ স্বাধীন হবার বহু বছর পরে ৯০ এ প্রথম একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে সত্যিকার ভাবে গন রায় প্রতিফলিত হয়। এর আগে ছিল ভোট কেন্দ্র দখলের রাজনীতি। এমন কি দেশ স্বাধীন হবার পরবর্তী নির্বাচনেও কারচুপির অভিযোগ আনা হয় তৎকালীন আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে। সে নির্বাচন সামগ্রিকভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনের মর্যাদা পায় নি।
এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার সবচেয়ে বেশী পদদলিত হয় সংবিধানের কুখ্যাত চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে। সে সংশোধনী দিয়ে তৎকালীন আওয়ামী সরকারকে পরবর্তী পাচ বছরের জন্য বিনা নির্বাচনে ক্ষমতাশালী করা হয়। কিন্তু ইতিহাস রচিত হয় অন্যভাবে। ক্ষমতার হাত বদল হয়। তবে মানুষের ভোটের অধিকার রয়ে যায় উপেক্ষিত। সেই অধিকার প্রথম ফিরে পায় মানুষ ৯০ তে।
পরবর্তী বি এন পি সরকার ক্ষমতায় এসে আবারো নির্বাচন দিতে গড়িমসি করে। ততদিনে মানুষ অনেক সচেতন। নির্বাচন বিরোধী যে কোন তৎপরতা প্রতিহত করা হয়। ৯৫ তে বি এন পি বিরোধী দলের দাবী মানতে বাধ্য হয়। নির্বাচনে বি এন পি পরাজিত হলেও ভরাডুবি হয় নি। খালেদা জিয়ার ইমেজ ক্ষুন্ন হলেও মলিন হয়ে যায় নি। বি এন পি সর্ব বৃহৎ বিরোধী দলের আসন গ্রহন করে।
২০০১ এ আওয়ামী লীগও নির্বাচন কমিশন সহ প্রায় সব পদে দলীয় লোক নিয়োগ দেয়। কিন্তু জয়নাল হাজারী, শামীম ওসমান সহ আরো অনেকের রাষ্ট্রীয় মদদে প্রত্যক্ষ সন্ত্রাস এবং স্বয়ং শেখ হাসিনার এসব সন্ত্রাসীদের পক্ষে সাফাই গাওয়া - আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে ভরাডুবির দিকে ঠেলে দেয়। সে অবস্থা আগেই আচ করতে পেরে বি এন পি জোট নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নবিদ্ধতা সত্বেও নির্বাচনে অংশ নেয়। সরকার গঠন করে বি এন পি।
২০০৮ এর প্রেক্ষাপট সম্পূর্ন আলাদা। বি এন পি জোট তাদের নিজেদের ক্ষমতা লিপ্সু মনোভাবের কারনে জাতিকে একটি নির্বাচন উপহার দিতে ব্যর্থ হয়। বি এন পি জোট যাই বলুক, ২২ শে জানুয়ারীর নির্বাচন জাতি মেনে নেয় নি বলেই ক্ষমতায় আসে সেনা সমর্থিত সরকার। সাধারন মানুষ ২২ শে জানুয়ারীর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের করা দাবীতে কোন অযৌক্তিকতা দেখতে পায় নি। আমি নিজেও সেদিন এই নির্বাচনের বিরোধী ছিলাম। ক্ষমতায় এসে সেনা প্রধান মইন এবং নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা অনেকটা প্রকাশ্যেই আওয়ামী এজেন্ডাকে বিভিন্ন ভাবে সমর্থন দেন। সিভিল কোড লংঘন করে "জাতির পিতার স্বীকৃতি দিতে পারি নি" সহ বিভিন্ন কথা বার্তার মাধ্যমে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করেন। একই কথা নির্বাচন কমিশনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। "আমি আপনাদের আন্দোলনের ফসল" বলে নির্বাচন কমিশনার একাত্মতা ঘোষনা করেন আওয়ামী লীগের প্রতি। গুজব রয়েছে আওয়ামী লীগের সাথে সরকারের গোপন সমঝোতার। এই সরকারের সাথে আওয়ামী লীগের প্রথম থেকেই সমঝোতা কিছুটা রয়েছে বলেই হাসিনা এই সরকারের সব কর্ম কান্ডের বৈধতা প্রদান করবেন বলে ঘোষনা দেন। ফলে নির্বাচনের ফল যে প্রভাবিত হবে সে বলা বাহুল্য।
গত কালের স্থানীয় নির্বাচন এই সরকারের প্রথম নির্বাচন। নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু ও অবাধ হয়েছে। ফলাফলও অপ্রত্যাশিত নয়। আওয়ামী লীগ দলীয় ভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। বি এন পি জোটের ক্ষেত্রে সেরকম ছিল না। বি এন পি জোট এই নির্বাচন বর্জন করে। কিন্তু স্থানীয় নেতারা অংশ নেয় এবং স্থানীয় নেতাদের চাপে এই নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোন অবস্থান বি এন পি নেয় নি। যেসব বি এন পি নেতারা নির্বাচনে অংশ নেন, তারা দলীয় পরিচয় লুকিয়ে রাখেন নি। এর ফলে জাতির কাছে যে বার্তা পৌছে যায় তা হল দলীয়ভাবে বি এন পির ভরাডুবি হয়েছে। আমি এটিকে রাজনৈতিক ভুল ছাড়া আর কিছুই দেখছি না। কারন এটি ভেংগে দেবে কর্মীদের মনোবল। হতোদ্যম কর্মীরা এই নির্বাচনের ফলাফলে ভগ্ন মনোরথ হবার সম্ভাবনা ষোল আনা। এটিই এই মুহুর্তে বড় ভুল বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এই মুহুর্তে বি এন পি কে ঠিক করতে হবে পরবর্তী কর্ম পন্থা কি। তারা কি নির্বাচনে অংশ নেবে? নাকি বর্জন করবে? কি হবে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ?
বি এন পিকে যে নির্বাচনে অংশ নিতেই হবে এমন কোন কথা নেই। ৮৬ তে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নেন নি। যা তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছিল। এখনও চলছে জরুরী অবস্থা। একটা কাউন্সিল অধিবেশন পর্যন্ত করা যাচ্ছে না। পল্টন জন সমাবেশ দূরে থাক, সেটা তো চিন্তাও করা যায় না। অথচ নির্বাচনের জন্য এসমস্ত জন সংযোগ জরূরী। পৃথিবীর সব দেশেই জরুরী অবস্থায় নির্বাচনকে বাকা চোখে দেখা হয়। বি এন পির নির্বাচনে অংশ গ্রহনের জন্য মূল বাধা জরুরী আইন। এই জরুরী আইনকে প্রতিব্ণ্ধকতা হিসেবে ঘোষনা করে যদি নির্বাচন থেকে বি এন পি দূরে থাকে, তবে তা ভবিষ্যতের জন্য অযৌক্তিক হবে না মোটেই। কারন জরুরী আইন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে বলেই বিশ্ব জানে। নির্বাচন কমিশনার যাই বলুন না কেন। প্রয়োজনীয় জনসংযোগের পরিস্থিতি যেখানে নেই সেখানে কি করে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী হয়। নির্বাচন মানে তো শুধু লাইনে দাড়িয়ে ভোট দেয়া নয়।
আর যদি বি এন পি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হয়, তবে সেটাও কোন ভুল পদক্ষেপ হবে না। কেন না এই মুহুর্তে দেশে প্রয়োজন রাজনৈতিক একটি সরকার। দেশের অর্থনীতি আজ ধ্বংসের পথে। ৯৫ এর পরে আমি ভেবেছিলাম আমি আর আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেব না। কিন্তু আজ এখন এই সিদ্ধান্ত আমি পরিবর্তন করেছি। যদি দেখি বি এন পি নির্বাচনে অংশ না নেয়, তবে আমি চাইব আওয়ামী লীগ যাতে ক্ষমতাসীন হয়। কারন আওয়ামী লীগ কোন জন বিচ্ছিন্ন দল নয়। তারা দেশকে এই তলানি থেকে উদ্ধার করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস আছে। আমি নিজেও চাইছি এই মুহুর্তে ক্ষমতা হস্তান্তর হোক। সেটা নির্বাচন অথবা যে কোন ভাবে। সুতরাং বি এন পি নির্বাচনে অংশ নেবার সিদ্ধান্ত নিলে তা জাতির জন্য আশাপ্রদই হবে।
তবে একটি বিষয় লক্ষনীয়। নির্বাচনে অংশ নেয়া বা নেয়া যে সিদ্ধান্তই বি এন পি নিক না কেন, তাতে তাকে অটল থাকতে হবে। কোন ধরনের দোদুল্যমানতা বি এন পিকে পিছিয়ে নিয়ে যাবে বহুদূর। যদি নির্বাচনে বি এন পি অংশ নেয়, তবে সেক্ষেত্রে তারেকের অসুস্থতা/রিমান্ড, খালেদা জিয়ার বন্দীত্ব অথচ হাসিনার মুক্তি, ২৮ শে অক্টোবর - এসব নির্বাচনে কাজে লাগাতে হবে। তারেকের স্ত্রী, কন্যা কে নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এদেশের মানুষ আবেগ প্রবন। কারাবন্দী অবস্থায় তারেকের দুর্দশাকে পৌছে দিতে হবে মানুষের অন্তরে। নির্বাচনের মাধ্যমে এদের মুক্ত করার শপথ নিতে হবে। পরিস্থিতি প্রতিকূলে হলেও একমাত্র তারেক/খালেদার মুক্তির জন্যই বি এন পি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে - জনমনে এই বার্তা পৌছে দিতে হবে।
আর নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সে সিদ্ধান্তে বি এন পিকে অটল থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে বি এন পি কে শক্ত ভাবে নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। যেসব বি এন পি নেতারা নির্বাচনে অংশ নেবেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। দৃঢ়তার সাথে নির্বাচনের বিরুদ্ধে জনমত তৈরী করতে হবে। মানুষ যাতে এই বুঝতে পারে এই নির্বাচন বি এন পি সম্পূর্ন ভাবে প্রতিহত করেছে। বি এন পির স্থানীয় নেতাদের এই সত্যটি বুঝতে হবে যে দলীয় ভাবে অংশ গ্রহন করা ছাড়া কোন বিকল্প উপায় নেই। স্থানীয় নির্বাচনই তার প্রমান। জাতীয় সংসদ নির্বাচন তো আরো বেশী দলের উপর নির্ভর শীল। সুতরাং অহেতুক অর্থ অপচয় না করে দলকে নির্বাচন বর্জনের সহযোগিতা করাই হবে সমীচীন।
যে সিদ্ধান্তই গ্রহন করা হোক না কেন, বি এন পিকে সেটাতে অটল থাকতে হবে। দৃঢ়তার পরিচয় দিতে হবে। নতুবা সেটা হবে এই স্থানীয় নির্বাচনের মতই বড় একটি ভুল।
(এ লেখার মন্তব্য মডারেটেড)
লেখাটির উপর আলোচনা হয়েছে : Click This Link
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাজনীতি ;
মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেছেন:
লাভ নেই । বিএনপি(খালেদা) অংশগ্রহণ না করলেও বিএনপি (মান্নান-হাফিজ)অংশ নিবে এবং প্রধান বিরোধী দল হবে । আওয়ামীলীগকে এবার আর ঠেকাতে কেউ পারবে না ।
লেখক বলেছেন: ভবিষ্যতের রাজনীতির কথা বলা খুব কঠিন। ৯০ এর নির্বাচনে বি এন পি ১০ টি আসন পাবে বলে ভবিষ্যৎ বানী দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ফল হলো বিপরীত।
আর বি এনপির দলছুটরা প্রধান বিরোধী দল হবে? তারা কোন আসনে জিতবে এটা আমার বিশ্বাস হয় না। তাদের কে ভোট দেবে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়াটা আমার কাছেও স্বাভাবিক মনে হয়। কারন এরা মইনের সরকারের বৈধতার প্রকাশ্য ঘোষনা দিয়েছে। সুতরাং তারা ক্ষমতাসীন হবে সেটাই স্বাভাবিক।
আপনাকে মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
অবকাশ বলেছেন:
দুর্নিতিবাজরা নিপাত যাক।
লেখক বলেছেন: একমত। ধন্যবাদ
প্রচেত্য বলেছেন:
রাজনীতির মারপ্যাচে আমরা সাধারণেরা বড়ই অসহায়, জিম্মীআগে এক কথা পরে আরেক
যেই আসুক সাধারণের ভাগ্য কোনদিনই পরিবর্তন হবেনা, যতই মুখে বড় বড় কথা বলুক
সব কিছু কেমন জানি সয়ে যাওয়া অভ্যাসের মতন হয়েছে
আর বাংলাদেশের মানুষ যে কি প্রেফার করছে তা তো এ স্থানীয় নির্বাচন দেখে নিলেই আচঁ করা যায়
লেখক বলেছেন: সেটা ঠিক। নির্বাচনটাই মানুষ চাইছে। তারা দুর্নীতিকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছে না। হয়ত বা ভোটের লড়াই এ আওয়ামী লীগকে প্রেফার করছে। কিন্তু এটা খুব শক্ত পয়েন্ট নয়। কারন আওয়ামী লীগ থেকে স্থানীয় নির্বাচনে গ্রহনযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বি এন পির সেরকম হয় নি। তাদের তৃতীয়/চতুর্থ পর্যায়ের নেতারা লড়েছে।
তবে আসল সত্য কি তা আমরা নির্বাচন না হলে জানব না।
আপনাকে ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। খুব ভাল লাগে আপনার মন্তব্য পেলে। ভাল থাকবেন।
মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেছেন:
মইনরে সমর্থন দেয়ার কারণে না আওয়ামীলীগের ফিক্সড ভোটার । মইনরা তো চেয়েছিল আওয়ামীলিগে ভাঙন ধরাতে । কিন্তু পারেনি । কারণ আওয়ামীলীগের নেতাগুলো বিএনপির নেতাদের মতো সুবিধাবাদী নয় । আওয়ামীলীগের ভোটব্যাংক কখনো কমেনি । বরং বেড়েছে । ৯০ এর নির্বাচনের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা । তখন আওয়ামীলীগ সাংগঠনিকভাবে বিএনপি থেকে দূর্বল ছিল । কিন্তু এবার আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক ভিত্তিটা অনেক মজবুত । সিলেটের মেয়র নির্বাচনে দেখেছি । নেতা-কর্মীরা কত খাটছে । কল্পনার বাহিরে ।
লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: ৯০ এ আওয়ামী লীগ বি এন পির চেয়ে সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল ছিলো - এটা যদি বিশ্বাস করে থাকেন, তবে আমি বলব আপনি ৯০ এর নির্বাচন দেখেন নি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সেটা।
সে সময় বি এন পির কিছুই ছিল না। আওয়ামী লীগ সেবার নির্বাচনের আগে ছায়া মন্ত্রী সভা পর্যন্ত গঠন করেছিলো। ৯০ তে পরাজয় ছিলো আওয়ামী লীগের জন্য অপ্রত্যাশিত। এরপর হাসিনা পদত্যাগ করেছিলেন। পরে কর্মীদের চাপে আবার ফেরেন।
২০০১ এ আওয়ামী সুবিধাবাদীরা যথেষ্ট খেল দেখিয়েছে। নাসিম তার আপন সহোদর ভাইকে একটি আসনে ছাড় দেয় নি। সুবিধাবাদীরা ক্ষমতাসীনদের সাথে থাকেই। আওয়ামী বিরোধী দলে থাকায় অনেক গোছানো। উল্টো হলে এমন হতো না।
অবশ্য অবশ্য আওয়ামী লীগএবার অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। তবে ভোটের ফল সব সময়ই অপ্রত্যাশিত হয়ে থাকে। সুতরাং অঘটন ঘটতেও পারে।
সে যাক। যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, পরবর্তীতে বাংলাদেশে সুশাসন আসুক - এই চাওয়া।
ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যের জন্য।
মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেছেন:
ফখরুদ্দিনের সরকার যেসব ভাল কাজ করছে তার জন্য তারা শুভেচ্ছা পাওয়ার দাবিদার । এ সরকার সবকিছু তালগোল পাকিয়ে ফেলছে । হাসিনা-খালেদাকে জেলে পুড়ে সবচেয়ে বড় ভুল করেছে । বাঙালি জাতি বড় হারামী জাতি । সারা জীবন খাওয়ালে আর একদিন যদি একটা থাপ্পড় দেন তাহলে ভুলে যাবে অতীতের সব কথা মনে রাখবে কেবল থাপ্পড়ের কথা ।
লেখক বলেছেন: ফখরুদ্দিনের সরকার ভাল কাজের শুভেচ্ছা পাবার যেমন হকদার, তেমনি খারাপ কাজের সমালোচনা শোনারও হকদার। ভাল মন্দের কথা যদি উঠে, মানুষ না খাইয়ে রাখার মত সমতুল্য খারাপ কাজ আমার দৃষ্টিতে আর কোনটা নেই।
আবারো আপনাকে ধন্যবাদ।
কঁাকন বলেছেন:
আমিও এখন বিএনপি আওমিলিগ যে কেউ মানে নির্বাচিত সরকার চাই
লেখক বলেছেন: আমিও। তিক্ত হয়ে গেছি এদের শাসনে।
রিউ বলেছেন:
আপনার বক্তব্যের সাথে একমত।তবে যারা সিটি কর্রোরেশন নির্বাচনের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে মহা খুশিতে আছেন, তাদরে বলব একটু রয়ে সয়ে, আজকের ইত্তেফাকে একটা রিপোর্ট আছে, একবার পড়ে নিয়েন, তাহলে খুশিটা একটু হলেও কমে যাবে।
আপনার প্রস্তাবনাগুলো সুন্দর। আশাকরি এমনটাই করবে আগামীতে বি এন পি এবং তার জোট।
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও। সুন্দর মন্তব্য করেছেন।
লেখক বলেছেন: আমিও বর্জনের পক্ষে। কারন জরূরী অবস্থায় নির্বাচনের গ্রহনযোগ্যতা মোটামুটি ভাবে বিশ্বে প্রশ্নবিদ্ধ। অবশ্য বাংলাদেশ সব সম্ভবের দেশ। এখানে দেখা যাবে নির্বাচন হয়েছে জরূরী অবস্থায়। আর সবাই বাহবা দিচ্ছে। এমন কি বিদেশী মোড়লরাও।
লেখক বলেছেন: যাক, দেরীতে হলেও বিদেশীরা জরূরী অবস্থায় নির্বাচনের বিরোধিতা করেছে।
জরূরী অবস্থা নয়, বরং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় হতে হবে নির্বাচন।
আদৃতা আবৃত্তি বলেছেন:
মাঝে মাঝে শিউরে উঠি নিজের ভেতরের অন্ধকারের অস্তিত্বের সন্ধান পেয়ে। এটি আপনার প্রোফাইলে লেখা.................আপনি যে অন্ধকারের মধ্যে স্বেচ্ছায় ডুবে থাকেন তা বুঝা গেল, না হয় অন্তত তারেক এর বন্দী দশাকে নির্বাচনে পুঁজি করার কথা বলতে পারতেন না। চার দলীয় জোট ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় খোদ জোটের মধ্যে যেখানে তারেকের ভূমিকা তার দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জন, সিএনজি কেলেংকারী ইত্যাদি নিয়ে কথা ছিল, সেখানে চার দলীয় জোট, বিশেষ করে জামাত-শিবিরের সমর্থক হিসেবে আপনি কীভাবে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে পূঁজি করার পরামর্শ দেন। তার মানে কী নির্বাচনে জেতাই আসল উদ্দেশ্য। তাহলে যে বলেন, আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই' সেটি কী শুধূই মিথ্যার বেসাতী ছড়ানো। মহান আল্লাহ আমাদের হিকমতের নামে এ রকম অনাচার থেকে দুরে রাখন.....আমীন।
লেখক বলেছেন: তারেকের অসুস্থতা নিয়ে আমি লিখেছি এই লিংকে:
Click This Link
আমি মনে করি না তারেকের বন্দীত্ব স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে। তাকে বিনা বিচারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। আমি এর বিরোধী।
রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে হাড্ডি ভাংগা হয়েছে। অথচ এখনও কোন বিচার প্রক্রিয়া নেই।
আমি জামাত শিবিরের কোন সমর্থক নই। তাই আপনার কথাগুলো আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আদৃতা আবৃত্তি বলেছেন:
তারেকের বন্দী স্বচ্চ প্রক্রিয়ায় হয়েছে কি হয়নি আমি কিন্তু সেটি নিয়ে কথা বলিনি। আমি তার দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত অবস্থা নিয়ে কথা বলেছি। আপনার মতো শুভবুদ্ধির মানুষ? যখন একজন দুর্নীতিবাজকে নির্বাচনে পুঁজি করার কথা বলেন, তখন স্বচ্ছতার পক্ষে আপনার অবস্থানটা ভীষণ নড়েবড়ে হয়ে যায় না? রাজনীতি তো শুধু রাজনীতি নয়, সেখানে নৈতিকতার প্রশ্নও জড়িত। সে নৈতিকতাটুকু তখন আর থাকে না। আমি সে বিষয়টিই বলতে চেয়েছি........
লেখক বলেছেন: আমি মনে করি তারেক দুর্নীতি বাজ হলেও (যা এখনও প্রমানিত হয় নি) সে এ ধরনের আচরন পাবার অধিকার রাখে না। তারেকের দুর্নীতি আদালতে প্রমান করাটাই ছিল সঠিক পন্থা। কিন্তু সে সঠিক পন্থা কখনই প্রযোজ্য হতে দেখি নি। নির্বাচনে মানুষের কাছে সে ফ্যাক্ট তুলে ধরা আমার কাছে অন্যায় মনে হচ্ছে না। সেটাতে আমার নৈতিকতা আপনার কাছে প্রশ্নবোধক হলেও আমি নিজে অন্তত এতে আমার মধ্যে সমস্যা দেখিনি।
আবারো আপনাকে ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
রাফা বলেছেন:
পুরো লেখাটাতে বিনপির দালালী ছাড়া কিছুই পেলাম না । ২০০১এর নির্বাচনে যদি দুই একজন শামিম ওসমান ও জয়নাল হাজারীর জন্য আওয়ামিলীগের এত বড় বিপর্জয় ঘটে থাকে তাহলে চারদলীয় শাসনআমলে জঙ্গীবাদের উত্থান। তারেক,কোকো,পিন্টু ,নাজমুল হুদা ,বাবর ,পবণ(বর্তমান মহাসচিবের ছেলে ),নাসের রহমান ,মির্জা আব্বাস ও তার সন্ত্রাসী ভাই মির্জা খোকন সহ অসংখ্য নেতা কর্মির দূর্ণিতীকে কি দিয়ে আড়াল করবেন।মামুন সহ আরো অনেকের দূর্ণিতীর খতিয়ান দিলে তো মহাভারত হয়ে যাবে সাথে জামাতের নেতাদের কর্মকান্ড যোগ করলেতো ষোলকলা পূর্ণ হবে।
লেখক বলেছেন: চার দলে শাসনামলে জংগী বাদের উথ্থান হয় নি বরং হয়েছে আওয়ামী আমলে। রমনা বটমূল সহ অধিকাংশ ঘটনা আওয়ামী আমলে ঘটেছে। আওয়ামী লীগ এগুলোর বিচার করেনি। বরং তরিকুল ইসলামকে দায়ী করে চার্জ শিট দিয়েছে।
জংগী নির্মূল হয়েছে জোট সরকারের আমলে। এটা জোট সরকারের অনেক সাফল্যের একটি সাফল্য।
দুর্নীতিতে আওয়ামীরা জোট সরকারের চেয়ে পিছিয়ে আছে - এটা বিশ্বাস করা কঠিন। হ্যা, তবে জোট সরকারের দুর্নীতি ফ্রেশ আর আওয়ামী সরকারের দুর্নীতি বাসি।
লেখক বলেছেন: কোন কথাটা দালালী সেটা জানলে ভাল হত।
বিবেক সত্যি বলেছেন:
আওয়ামীলীগ সাধারনত বিজয়ের নিশ্চয়তা না নিয়ে কোন নির্বাচনে অংশ নেয় না । এই নির্বাচনের ফলাফল ক্ষমতাসীনদের সাথে তাদের আঁতাতের ব্যাপারটাই স্পষ্ট করলো । এ অবস্থায় জাতীয় নির্বাচনেও এমন হবে-বোঝাই যাচ্ছে । লেখক বলেছেন: সেরকমটি হলে ৮৬ এর অভিজ্ঞতা যাদের আছে তাদের কাছে এটা কোন বিচিত্র কোন ব্যপার হবে না।
লেখক বলেছেন: অপ্রত্যাশিত নয়। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পোস্ট টি পড়ার জন্যে।
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন:
শেষ খবরে দেখছি নীতি নির্ধারক, বিশেষত দেলোয়ারের, উপর সবাই ক্রুদ্ধ হয়েছেন সিদ্ধান্তের দোদুল্যমানতার জন্য।কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন বি এন পির উপর এই সরকারের খড়গ দৃষ্টির কথা। বি এন পির তালাবদ্ধ অফিস এখনও খুলে দেয়া হয় নি। বি এন পির সাথে সংলাপ পর্যন্ত হয় নি। জরূরী আইনে দুর্নীতির লেবেল লাগিয়ে যাদের ধরা হচ্ছে তারা সবাই দুর্নীতিবাজ কিনা সেটা জানার উপায় নেই। কারন জরূরী আইনে যে কাউকে যে কোন সময় আটক করা যায়। এর ফলে নীতি নির্ধারকদের পক্ষে সিদ্ধান্তহীনতা কোন অস্বাভাবিক কিছু নয়। তারা যে দল টিকিয়ে রেখেছেন সেই বেশী। মান্নান ভুইয়া সেটা পারেন নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, জরূরী আইন উঠে গেলে আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।
এই মুহুর্তে বি এন পির প্রয়োজন ঘর গুছানো।


















