somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাহাড়ে রহস্য। (দ্বিতীয় পর্ব)

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বৃহস্পতিবার ১৫.১২.১৬

দেখতে দেখতে বৃহস্পতিবার এসে পড়ল। গত এই কইদিন তো হুলস্থুল কান্ড, আমরা কি কি করবো, কি কি নিব, ব্যাগ গুছানো এসব নিয়ে। যাই হোক আমাদের বাস মহাখালি থেকে সকাল ১০ টায় ছাড়বে। তাই আম্মুরে রাতে বলে রাখছি যাতে ৭ টায় ডাক দিয়ে দেয়, তাহলে ৮ টার মধ্যে বের হতে পারবো। আজিমপুরের বাসা থেকে ৮ টায় ঠিক ই বের হইছি কিন্তু বের হয়েই যেই ভয়াবহ জ্যাম এর মধ্যে পরলাম কিভাবে সময়মত যাবো তাই ভেবে পাচ্ছি না।
এই সকাল বেলা এমন জ্যাম কেন জিজ্ঞেস করলে বাসের হেল্পার বলল,” মামা কোন এক ভিইপি না কি যাইবো সেজন্য রাস্তা আটকাইয়া রাখছে।“ কি দেশে আছি এক ভিআইপি র জন্য হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি। এসব ভাবতেই মন কি খারাপ হবে মেজাজটাই বিগড়ে গেলো। ওদিকে শোভন, অনিক, আন্টি সময় মত পৌঁছে গেসে আর এদিকে আমি জ্যামে বসে ভ্যারেণ্ডা ভাজতেছি। না জানি আজকে বাস মিস ই হয়ে যায়। পৌঁছানের পর থেকেই শোভন আর অনিক ফোন দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার যোগাড় করতেছে। তখন ও বাস ফার্মগেটের জ্যাম এ দেখি ৯.৪০ বাজে কি করবো বুঝতেছি না। অনিক ফোন দিয়ে বলল দোস্ত তুই নেমে নাখাল পাড়ার ভিতর দিয়ে রিকশা নিয়ে এসে পর।

অনিকের কথা মত বাস থেকে নেমে দৌড়াদৌড়ি করে রাস্তার ওপর পাশে গিয়ে হলিক্রস কলেজের সামনে থেকে রিক্সা নিলাম। রিক্সাওয়ালা মামকে বললাম, “ উড়াইয়া নিয়া চল, টাইম মত যাইতে পারলে বিশ টাকা বোনাস পাইবা।" উনি ও আমাকে লিটারেলি উড়াইয়াই নিয়া চলল। উনার চালানো দেইখা নিজেই ভয় পাইয়া গেসি। রেইল লাইনের পাশে অমন চিপা রাস্তা দিয়া যেমনে চালাইয়া আনছে ভাগ্য ভাল নইলে আজকে এক্সিডেন্ট করলে নির্ঘাত হাসপাতালে ট্যুর দিতে হইতো। উড়াইয়া নিয়া গেলেও পৌঁছাইতে লেইট হয়েই গেলো। ততখনে বাস ছেঁড়ে দিসে। রিকশা থেকে নেমে ভারা দিয়েই দৌড়, বাস গিয়ে ধরলাম মহাখালি রেইলগেটে। যাক অবশেষে আমাদের যাত্রা শুরু হইলো। একটু সুস্থির হতেই আন্টি পানি দিল । কিছুখন রেস্ট নেওয়ার পর শুরু হল আমাদের গল্প।

দেখতে দেখতে বাস চিটাগং রোডে এসে পরল এরপর কাচপুর ব্রিজ পার হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে। হাইওয়েতে এসে গাড়ির স্পিড অনেক বেড়ে গেলো। এর আগের বার যখন চট্টগ্রাম গেসিলাম তখন হাইওয়ে দুই লেনের ছিল এখন চার লেনের। বাস গুলো খুব সহজেই স্পিড বাড়াতে পারছে। বাস কুমিল্লা পৌঁছাতেই দেখলাম রাস্তার দুধারে খেতের পর খেতে শীতকালীন সবজি। দুপুর ২ টায় আমাদের বাস লাঞ্চ এর জন্য হোটেল গ্রিনভিউ তে থামল। হোটেলটি ছোট হলে কি হবে, পরিবেশ চমৎকার। আন্টি বলল আসো হালকা কিছু খাই কারন বাড়িতে আমাদের জন্য রান্না করা হইছে। আমরা হালকা খাওয়া দাওয়া করে আবার বাসে চড়ে বসলাম। বিশ মিনিট যাত্রা বিড়তির পর আবার শুরু হইলো আমাদের জার্নি।
আন্টি বলল,”সীতাকুণ্ড পৌছাতে বেশি সময় লাগবে না ফেনীর পরে মিরসরাই তারপরই সীতাকুণ্ড। দেড় ঘন্টা পর ই পৌঁছে গেলাম সীতাকুণ্ড। আমরা বাস থেকে নামলাম সীতাকুণ্ড, পন্থিছিলাতে। নেমে একটা অটো নিয়ে নানার বাড়ী পৌঁছাতে মিনিট পাঁচেক লাগলো।

বাড়ী পৌঁছে, ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করতে করতে বিকাল হয়ে গেলো । বাড়ির সবাই খুব ভাল, আমাদেরকে খুব আদর যত্ন করল। বিকালে আমরা গ্রামটা একটু দেখতে বের হলাম। বাড়ী থেকে মাত্র ৫ মিনিট হাটা দুরুত্বে রেইল লাইন। রেইল লাইন থেকে পাহাড় টা দেখা যায়। দারুন দৃশ্য, মনে হয় হাত বাড়ালেই পাহাড় ধরা যাবে। আমরা রেইল লাইন ধরে কিছুখন হাটলাম। দুইপাশে সিম খেত। অনিক বলল, "সীতাকুণ্ড সিমের জন্য বিখ্যাত।” শীতের দিন তারাতারি শেষ হয়ে যায়। একটু পর সন্ধ্যা হয়ে আসতেই আমরা বাড়ী ফিরে এলাম।
বাড়িতে এসে বাড়ির সবার সাথে কিছুক্ষণ গল্প করে, রুমে এসে তিন বন্ধু আবার গল্পতে মেতে উঠলাম। আগামীকাল কিভাবে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাবো তার প্ল্যান করলাম। অনিক আমাদেরকে জানাল,” আগেও একবার গেসি আমি পাহাড়ে।“ এটা চট্টগ্রাম এর সবচেয়ে উঁচু পাহাড়। এই পাহারের উচ্চতা ৯০০ থেকে ১০০০ ফুট এর মত। আর রাতে নানা ভাইর থেকে সব কিছু জেনে নেয়া এই পাহাড় সম্পর্কে।
রাত ১০ বাজতেই আন্টি ডাক দিলেন রাতের খাবার খাওয়ার জন্য। খাওয়ার সময় আন্টি এই পাহাড় ঘিরে কত রহস্য আছেতা কিছু কিছু বললেন আমাদেরকে। সবচেয়ে ভয়ংকর যে কথা টা বললেন সেটা হল মাঝে মধ্যেই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে মানুষ নিখোঁজ হয়ে যায়। একটা লেটেস্ট খবর আন্টি আমাদের কে বললেন,”যেটা হল, কয়েকদিন আগেই নাকি এক ট্যুরিস্ট গ্রুপ এর ৪ জন নিখোঁজ হয়েছে তাদের কে আর পাওয়া যাইনি। আর এই ৪ জনের মধ্যে একজন বিখ্যাত ট্রাভেলার ও আছে। এটা শুনে আমি বলে উঠলাম, আন্টি আমি নিউজটা পড়েছি কিন্তু সেটা যে এখানে তা জানতাম না। আন্টি বলল,” গ্রামের মানুষ তাই কোন কাজ না থাকলে পারতপক্ষে গভীর জঙ্গলে যায় না। এছারাও জঙ্গলে নানা রকম বন্য জীব জন্তু তো আছে। তাই আন্টি বার বার আমাদের কে সাবধান করলেন, যেন আমরা শুধু মন্দিরটা দেখেই তাড়াতাড়ি চলে আসি।
খাওয়া শেষ করে ঘুমানোর জন্য রুমে আসলাম। আমি বললাম,” তাড়াতাড়ি শুয়ে পর সকালে উঠতে হবে।“ কাল কে শুরু হবে আমাদের আসল এডভেঞ্চার। শোভন আর অনিক একসাথে বলে উঠল, হ্যাঁ শুয়ে পরি সারাদিন জার্নি করে ক্লান্ত লাগছে। কিছুক্ষণ গল্প করে তিনজন ই ঘুমিয়ে পরলাম।
আন্টিকে বলে রাখছি যাতে সকাল ৬ টার মধ্যে আমাদের কে জাগিয়ে দেয়। কথা মত আন্টি ঠিক ৬ টা বাজতেই আমাদের কে ডাক দিলেন। শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছা না করলেও পাহাড় এ যাবো এডভেঞ্চারের লোভে বিছানা ত্যাগ করলাম। আন্টি বলল,”ফ্রেশ হয়ে নাও আমি নাস্তা দিচ্ছি। ভাল মত খেয়ে যাও, পাহাড়ে খাওয়ার মত তেমন দোকান টোকান নেই। আমরা ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে গেলাম । নাস্তা শেষ করে রেডি হতে হতে ৭ টা বেজে গেসে। আন্টি ব্যাগ এ আমাদের জন্য কিছু হালকা খাবার আর ডাবের পানি দিয়ে দিসে যাতে পাহাড়ে উঠার পর খুদা লাগলে খেতে পারি। সেই সাথে কিছু ইন্সট্রাকশন ও দিলেন কিভাবে পাহাড়ে উঠবো এই ব্যাপারে। কি কি সাথে করে নিবো তা আমরা তিনজন ভাগাভাগি করে নিলাম, শোভন ক্যামেরার ব্যাগ নিসে, অনিক ডাবের পানির বোতল ওর ব্যাগে আর আমি খাবার এর বাটি গুলো আমার ব্যাগে নিয়ে বের হয়ে পড়লাম। বের হতে হতে ৭.১৫ বেজে গেসে। বের হওয়ার আগে আন্টি বার বার সাবধান করসে যাতে মন্দির দেখা শেষ হলেই আমরা ব্যাক করি।

চলবে..।

প্রথম পর্বের লিংকঃ Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৫৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ আশাহত বালকের আত্মকথা!!

লিখেছেন নীল আকাশ, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:২২



একদা করিয়াছিলাম পণ ছোটবেলায় মনে
সুখি হইতে হইবে আমায় এই জীবনে,
বড় উচ্চাশায় করিলেন ভর্তি স্কুলেতে পিতা
ফি বছর রেজাল্ট দেখে বুঝিলেন সবই বৃথা।

বিদ্যা অর্জন নিতান্তই কঠিন শক্ত মর্ম তাহার,
অবশেষে উপলব্ধি করিলাম এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মরণে বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালি বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৪


বিশ্বজুড়ে তোমারই জয়
হে জাতির পিতা
শত বছরের বন্দী জাতির
তুমি ভাগ্য বিধাতা ।।
সালাম তোমায় প্রণাম তোমায়
জানাই নমষ্কার
সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য
তুমি অনন্য অহংকার।।
ভুলিতে পারনিি তোমায়
ভোলা কি যায় ?
দিকভ্রান্ত দুষ্টু লোকের
নানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Prescription

লিখেছেন রেজা শাহ্‌, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১:৫৯



কলিজাকে ডাক্তার দেখিয়ে Prescription নিলাম ।

মোবাইলে Prescription এর ছবি তুলে ফার্মেসিতে গেলাম ঔষধ কিনতে।

বল্লো হবে না,
অরিজিনাল Prescription ছাড়া কোন মতেই ঔষধ দিবেন না ।

না তো নাই।

= বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুধে ভেজাল মেশানো কোম্পানিগুলো বিপদে ফেলে দিয়েছে খামারিদের

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৮ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:৫১

নিজেদের খামারে উৎপাদিত দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের খামারিরা। ওই অঞ্চল থেকে মিল্ক ভিটা, আড়ং, প্রাণসহ কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান তরল দুধ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার পর প্যাকেটজাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্রেমবন্দির গল্প-২

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১২:১০

©কাজী ফাতেমা ছবি
=ফ্রেমবন্দির গল্প=
গত এপ্রিল মাসে আম্মাকে নিয়ে গিয়েছিলাম ইসলামিয়া ইস্পাহানী চক্ষু হাসপাতাল চোখ দেখাতে। সেখানে চোখ দেখাতে অনেক ঘুরাঘুরি করতে হয়। ফাইল কাগজপত্র এখান থেকে সেখানে, সেখান থেকে ওখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×