মূল লেখা: Jamaal al-Din M. Zarabozo-র]
..............পূর্বে প্রকাশিত লেখার ধারাবাহিকতায়:
পবিত্র কুর’আনের গৌণ দিকগুলোকে মুখ্য মনে করা :
বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ মুসলিম কি দৃষ্টিতে কুর’আনকে দেখে থাকেন
আল্লাহ্ পবিত্র কুর’আনে বলেন :
وَقَالَ الرَّسُولُ يَا رَبِّ إِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوا هَذَا الْقُرْآَنَ مَهْجُورًا
“রাসূল বললেন, ‘হে আমার প্রভু, আমার জনগণ এই কুর’আনকে এক মাহজুর বস্তু (যা এড়িয়ে চলা হয় বা অবজ্ঞা করা হয়) হিসাবে গ্রহণ করেছে ।” (সূরা ফুরক্বান, ২৫:৩০)
আজকের দিনে যে কেউ যুক্তি সহকারে দেখিয়ে দিতে পারবেন যে, রাসূলের (সা.) অনেক উম্মতই পবিত্র কুর’আনকে, অবজ্ঞার বা দূরে সরিয়ে রাখার মত এক বস্তুতে পরিণত করেছে। কোন মুসলিমই জেনে বুঝে এমন একটা কাজ করতে পারে না সত্যি। কিন্তু অসচেতন ভাবে একজন মুসলিম এ ধরনের একটা গর্হিত কাজও করতে পারে - আর এখানেই নিহিত রয়েছে আজকের বিশ্বের প্রধান সমস্যার একটি।
কুর’আনকে মাহজুর হিসেবে নেবার অনেক কারণ ও পদ্ধতি থাকতে পারে। নিম্নলিখিত উপায়ে আমরা কুর’আনকে এক অবহেলার বস্তুতে বা পরিহাসের বস্তুতে পরিণত করতে পারি বলে ইবনুল কাইয়্যিম মতামত ব্যক্ত করেছেন :
১। কুর’আন তিলাওয়াত না করা, এতে বিশ্বাস না করা, এর প্রতি মনোযোগ না দেওয়া অথবা এর প্রতি আকর্ষণ বোধ না করা।
২। পবিত্র কুর’আন যা কিছুকে হালাল অথবা হারাম বলে ঘোষণা করে, সেসব বিধিনিষেধের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করা - যদিও বা কেউ নিয়মিত কুর’আন তিলাওয়াত করে এবং সেটাতে বিশ্বাসও করে।
৩। দ্বীনের মূল ও আনুষঙ্গিক সকল বিষয়ে পবিত্র কুর’আনকে চূড়ান্ত ফায়সালাকারী হিসাবে না মানা - অথবা কুর’আনের প্রতিটি বিষয়ে নিশ্চিত বিশ্বাসকে অপরিহার্য মনে না করা।
৪। এর অর্থ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা না করা, তা বুঝতে ব্যর্থ হওয়া এবং আল্লাহ্ কুর’আনের পাঠকের কাছ থেকে কি ধরনের কার্যকলাপ দাবী করেন তা জানতে ব্যর্থ হওয়া।
৫। অন্তরের রোগসমূহের নিরাময়ে পবিত্র কুর’আনকে ব্যবহার না করে, অন্যান্য উৎসের কাছে রোগ নিরাময়ের প্রত্যাশায় ছুটে যাওয়া।
ইবনুল কাইয়্যিম যেসব বলেছেন তা ছাড়াও আরেকটি গুরুতর উপায়ে আমরা কুর’আনকে মাহজুর হিসেবে দেখে থাকি - যেটা অত্যন্ত বিপজ্জনক একটা ব্যাপার, কারণ কেউ হয়তো ব্যাপারটা বুঝতেই পারবেন না অথবা স্বীকারও করতে চাইবেন না - সেটা হচ্ছে এই যে, কুর’আনের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে একপাশে সরিয়ে রেখে, গৌণ ব্যাপারগুলোকে মুখ্য মনে করা এবং সেগুলোর ব্যাপারে সর্বতোভাবে মনোনিয়োগ করা বা কেবল সেগুলো নিয়েই মেতে থাকা।
মুসলিমরা অনেক কারণেই আজ কুর’আনের দ্বারস্থ হয়। আল্লাহ্ই যদিও সবচেয়ে ভাল জানেন, তবু, আজ যে বিশ্বময় মুসলিমরা কুর’আনের কাছ থেকে পরিপূর্ণ পথনির্দেশনা লাভ করতে ব্যর্থ হচ্ছে, তার প্রধান কারণ সম্ভবত এই যে, কুর’আন যে জন্য নাযিল হয়েছিল সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে, কুর’আনের অন্যান্য আনুষঙ্গিক দিকগুলোকে এখন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এই অধ্যায়ে আমরা তাই কুর’আনের এমন কিছু গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করবো, যেগুলো হয়তো বৈধ এবং প্রয়োজনীয়ও - তথাপি অত্যাবশ্যকীয় দিক নয়। মুসলিমরা যদি কেবল এগুলো নিয়ে মেতে থাকে, তবে তারা কখনোই পবিত্র কুর’আনের সত্যিকার বাণীর সন্ধান পাবে না।
(চলবে......... ইনশা'আল্লাহ্!)
[এই পর্বের আগের লেখাগুলো রয়েছে এখানে:
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link ]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



