somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাল্পনিক_ভালোবাসা
বহুদিন আগে কোন এক বারান্দায় শেষ বিকেলের আলোয় আলোকিত উড়ন্ত খোলা চুলের এক তীক্ষ্ণ হৃদয়হরনকারী দৃষ্টি সম্পন্ন তরুনীকে দেখে ভেবেছিলাম, আমি যাদুকর হব। মানুষ বশীকরণের যাদু শিখে, তাকে বশ করে নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দিব সারাটি জীবন।

ইচ্ছে খাতা - যেখানে লিখেছিলাম কিছু প্রেমের চিঠি।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক আগে এক সময় আমি ডায়রি লেখতাম। খুব যে শখ করে লিখতাম তা নয়। ক্লাসের মেয়েদের ইম্প্রেস করাই ছিল মূল লক্ষ্য। ক্লাসের অবসরে উদাস নয়নে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতাম আর আড়চোখে খেয়াল করতাম কোন মেয়ে তাকাচ্ছে। যেই বুঝতে পারতাম কোন মেয়ে তাকিয়েছে, ব্যাস ডায়রির মধ্যে মাথা গুজে লেখা শুরু করতাম। এমন একটা ভাব ধরতাম, দেখে মনে হতো আহা! কি আবেগী ছেলেরে বাবা। কি নিবিষ্ট মনে ডায়রির পাতায় কত কি যে লিখছে। তখনকার সময়ে এই ধরনের লুতুপুতু ছেলেদের ভালো চাহিদা ছিল। এই ধরনের উদাস ও বিরস বদনের ছেলেগুলোর দিকে মেয়েরা খানিকটা নরম দৃষ্টিতে তাকাতো। কারো প্রতি নরম দৃষ্টি দেয়া মানে তার প্রতি মনটাও নরম। এটাই ছিল আমাদের জনপ্রিয় ব্যাখ্যা।

কিন্তু বড় একটা সমস্যা ছিল। সমস্যাটা হচ্ছে আমার চেহারা নিয়ে। আমি হাজার চেষ্টা করলেও আমার চেহারা কোন ভাবেই গোবেচারা কিংবা বিষন্ন হতো না। কেমন যেন শয়তান শয়তান লাগতো। আমার বন্ধুরা বলত, আমি নাকি যখন এইরকম বিষন্ন বদনে আকাশের দিকে বা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকি, আমাকে দেখে নাকি দেখে মনে হয় ভয়ানক কোন দুষ্টামীর প্ল্যান করছি। আমার খুবই মন খারাপ হত। আমি বাসায় ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বিষন্ন হবার প্র্যাকটিস করতাম। কিন্তু কিছুই হয় না। মরার উপর খাঁড়ার ঘা, আমাদের ক্লাসের জনৈক মেয়ে গিয়ে আবার স্যারদের কাছে কমপ্লেইন করলেন, আমি নাকি তার দিকে চেয়ে বাদরের মত ভেংচি কাটি। তারপর যথারীতি যা হবার তা হলো। আমাদের প্রিয় স্যাররা কখনও উত্তমমধ্যম বলে যে একটা বাগধারা আছে সেটার ধারে কাছে যেতেন না। তারা শুধু উত্তম আর উত্তম মাইর দিতেন।

আমাদের ক্লাসে একটি মেয়ে ছিল, নাম নওরিন। যতটা না সুন্দর দেখতে, তার চেয়েও চমৎকার ছিল তার গানের গলা আর লেখার হাত। আহা! মধু মধু! সেকি আবেগী গলা। কলেজের অনুষ্ঠানে একবার সে গাইল, 'একবার যদি কেঊ ভালোবাসতো, আমার নয়ন দুটি জলে ভাসত'। আমার বাঁয়ে বসে ছিল সাব্বির। গান শুনে মন্ত্রমুগ্ধের মত সে বিড় বিড় করছে, আমি আছি, আমি আছি। ডানে বসে ছিল সুমন, সে হতাশ কন্ঠে বিড় বিড় করছে , নীলুফারকে এখন কেমনে না বলব? সেদিন বুঝলাম, হৃদয় ছোঁয়া কণ্ঠের প্রভাব কতখানি হতে পারে।

শুনেছিলাম কিছুদিন পর নাকি নওরিন এর বাবা, ভাঙ্গারীর লোক ডাকিয়ে কয়েক কেজি 'বিশেষ খাম' বিক্রি করেছিলেন।

বলাবাহুল্য এই কয়টি খামের ভিতর আমার কিছু "সাহিত্যকর্ম' (!!!) ছিল। যা কিনা অন্যরা আমাকে বিশেষ উপধৌকনের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছিল। একজন মানুষ ভিন্ন স্বত্তার বিভিন্ন মানুষ হয়ে একই মেয়েকে প্রেম পত্র লিখছে- আমার নিজের বিবেচনায় ব্যপারটা খুবই ইন্টারেস্টিং ছিল। পরিচিত বন্ধু মহলে কয়েকটি সফল প্রেমের চিঠি রচনার করার কারনে আমি অল্প বিস্তর বেশ খ্যাতিও পেয়েছিলাম। তো যাই হোক একবার একটি মেয়েকে দেখে আমার নিজের মধ্যেই প্রেমবোধ ব্যাকুল ভাবে নাড়া দিয়েছিল। খুবই সাধারন একটা মেয়ে। তাকে দেখে বুঝলাম, মেয়েদের আসল সৌন্দর্য তাদের শ্যামলা বর্ণে, গৌর বর্ণে নয়। এই মেয়েকে নিয়ে অনেকগুলো প্রেমের চিঠি লিখেছিলাম। বাঙ্গালীর লেখালেখি কিংবা কাব্যচর্চার হাতে খড়ি হয় কোন প্রেম বা বিরহের মত নির্মম জিনিসের হাত ধরে। আমারও এর ব্যতিক্রম ছিলাম না। ডায়রীর পাতায় পাতায় ছিল, সেই তরুনীর প্রতি আমার ভালোবাসার কথা। কিন্তু বরাবরের এই দূর্বল আমি কখনই জানাতে পারি নি আমার মনের কথা। চিরকালই সেটা রয়ে কাল্পনিক কোন ভালোবাসা।

অনেকদিন পর আজ সে পুরানো ডায়রীটা একটা ট্রাংকে খুঁজে পেলাম। নানা রকম হিবিজিবি ও আপাতদৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিসের নিচে চাপা পড়ে ছিল। এর মধ্যে ছিল একটা ব্যবহৃত টিস্যুপেপারও । কোন এক প্রিয় মানুষ তার চোখের কাজল মুছে ছিল সেই টিস্যুপেপারে। তাতে ছিল খানিকটা লিপিস্টিকের দাগও। অবজ্ঞাভরে ফেলে দেয়া টিস্যুই পরম আদরে স্থান পেয়েছিল আমার কাছে। কুড়িয়ে নিয়ে রেখেছিলাম বুকের বা পাশের বুক পকেটে। মাঝে মাঝে সেখানে হাত বুলিয়ে চরম আনন্দ পেতাম। যেন তাকে স্পর্শ করছি, তার গন্ধ পাচ্ছি, যেন তার ঠোঁটে হাত বুলাচ্ছি। আজ সেই কাজল কালো দাগ কিছুটা ধূসর হয়েছে, কালচে লাল হয়েছে সেই লিপিস্টিকের দাগ। কিন্তু টিস্যুপেপার খানা হাতে নিতেই ছলাৎ করে উঠল বুকের রক্ত। নিজেকে আবারো মনে হল বড় অসহায়।

আমার ধারনা আমি একজন "মায়াবান"। একজন মায়াবতীর পুংলিংগ। কারন আমার সাথে যা কিছুই থাকে তার উপর কেমন যেন একটা মায়া পড়ে যায়। কোন কিছুই ফেলতে পারি না। কিন্তু এবার মায়া ত্যাগ করতেই হবে। আম্মু সম্প্রতি হুলিয়া জারি করেছেন, আমি স্বচ্ছায় সব পরিষ্কার না করলে, তিনি আমাকে সুদ্ধ ঘরের বাইরে ফেলবেন। তার ধারনা যদিও আমি মানুষ কিন্তু আমার বির্বতন হয়েছে হয়ত ইঁদুর থেকে। এই কারনেই এত 'কাগজপত্র', 'নোংরা'র সাথে বসবাস।

দু'একদিনের মধ্যেই ঢাকার বাইরে যেতে হবে। ভাবছি সাথে এই ডায়রী আর সেই সব হিবিজিবি কাগজ পত্রগুলো সাথে করে নিয়ে যাব। চলতি পথে কোন এক সুন্দর নদীর কিনারে দাঁড়িয়ে ভাসিয়ে দিব আমার এই প্রেমের চিঠিগুলো। নদীর স্রোতে ভেসে ভেসে চলে যাবে হয়ত আমার সেই প্রিয় মানুষের কাছে। মিষ্টি অভিমানে আমার চিঠিগুলোতে হাত বুলিয়ে পরম মায়ায় হয়ত বলবে, 'আহারে! আহারে!'

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৪ রাত ৮:০৭
৫৩টি মন্তব্য ৫৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পূর্বপুরুষের অপরাধের দায় বর্তমান জেনারেশনকে দেওয়া অন্যায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

"দোস্ত, ওরা আমাকে এক পাকিস্তানীর সাথে বন্ধুত্ব করতে বলছে যে কিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উলাটা-পাল্টা কথা বলেছে। আমি সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে রুম থেকে বের হয়ে এসেছি।" রাতেরবেলা দেখা হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ও আত্মহত্যা (তথ্য এআই দ্বারা যাচাইকৃত)

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:১৯

গত ১ বছরে বাংলাদেশে আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০ জনের মতো। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪০–৪১ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি।

বাংলাদেশে আত্মহত্যার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (২০২৫–২০২৬):
**মোট আত্মহত্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যত স্বপ্ন।

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭

পাঁচ বছর আগে এই গানটা লিখেছিলাম। আজ গানে 'পরিবর্তন' করলাম।
ঝগড়া করতে চাওয়া সব মানুষদের উৎসর্গ করছি। ;)



ভবিষ্যত সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন
যেখানে তুমি আমি বাধাহীন
আজকের দিনটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনে কিছু করা বলতে আসলে "প্রচুরস" টাকা কামানো বলে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৩ রা জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৯

স্কুলে যখন ছিলাম, তখন "প্রচুরস" শব্দটা আমরাই তৈরী করি। প্রচুর দিয়েও যখন যথেষ্ট বোঝানো যায় না, তখন "প্রচুরস" ব্যবহার করা হয়, প্রচুরের প্লুরাল আর কি।



আমার আব্বার বইয়ের দোকান ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পতনের অপেক্ষায়...

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০


(ছবিটার পুওর কোয়ালিটির জন্য দুঃখিত। নিজের তোলা এর চেয়ে ভালো কোন ছবি পেলে পরে এটা রিপ্লেস করে দিব)

আমরা এখন...
পাকাফল হয়ে হয়ে ঝুলে আছি,
ভূমিপানে নতমুখে,
পতনের অপেক্ষায়....... ...বাকিটুকু পড়ুন

×