কিস্তি - ১ [ Click This Link ]
কিস্তি - ২ [ Click This Link ]
কিস্তি – ৩ [ Click This Link ]
কিস্তি – ৪
ইসলাম ধর্মের ভেতরে রাজ-রাজাড়দের ঐতিহ্য মুহম্মদ (সঃ)-এর মৃত্যুর খুব সল্প সময়ের ভেতরেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তার আগেই অবশ্য মুসলমানেরা নিজেদের ভেতরে একচোট রক্তক্ষয়ী যুদ্ধও সেরে নেয় [ কিস্তি – ৩ –এ এই বিষয়ে সামান্য বলা হয়েছে। এ ছাড়াও এই ব্যাপারে অনেক লেখা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে আছে। আগ্রহীরা একটু খুঁজলেই পেয়ে যাবেন ]।
আরো আশ্চর্য হচ্ছে, যে কুর’আন আজকে আমাদের সামনে আছে, তা মুহম্মদ (সঃ)-এর মৃত্যুর অনেক পরে সংকলিত। এমন কি কুর’আনের সর শ্লোক তাদের অবতীর্ণ কালের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে সন্নিবেশিত করা হয় নি। প্রশ্ন হচ্ছে, এই এলোপাথাড়ি ভাবে সন্নিবেশনের জন্য কি সৃষ্টিকর্তার কোন অনুমতি ছিল? সরল মতে দেখলে, তা না থাকারই কথা।
জানলে আশ্চর্য হবেন, সর্বশেষ শ্লোকটি প্রবেশ করেছে বাকারা বা গাভী শির্ষক অধ্যায়ে [ আরবীতে সুরা ]। এই গাভী আধ্যায়টিকে আবার দেখা হয় মক্কায় অবতীর্ণ অধ্যায় হিসাবে।
মুহম্মদ (সঃ)-এর মুখনিসৃত বাণী আর কৃত কর্ম, যাকে আমরা হাদিস বলি, তা সংগ্রহের কাজ শুরু হয় তাঁর মৃত্যুর এক থেকে দেড়শ পর থেকে। তাও সে উদ্যোগগুলো ছিল ব্যক্তি কেন্দ্রিক। সে সময়ের মুসলমান রাজারা এই ব্যাপারে সহোযোগীতা তেমন করেন নাই। এমন কি হাদিস সংগ্রহের কাজে নিয়োজিতদের অনেক সময়েই রাজাদের মনমত হাদিস না-সরবরাহের অপরাধে কারাবাস-জুলুম সইতে হয়েছে। তাই আজো অনেক হাদিস নিয়ে বিতর্ক হয়।
কুর’আন ভিত্তিক জীবনাচার থেকে মুসলমানেরা যে মুহম্মদ(সঃ)-এর মৃত্যু অল্প দিনের ভেতরেই বেরিয়ে যাবে, তা তিনি তাঁর মৃত্যুর আগে অনুমান করেছিলেন। তিনি বার বার এ সম্পর্কে হুশিয়ার করে গেছেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর অল্প দিনের ভেতরে যখন ব্যতয়গুলো ফুটে ঊঠতে লাগল, সে সময়ে একদল অনুসরনকারী মূলধারা অনুসরণকারী হিসাবে পরিচিত হবার জন্য বিদ্রোহ করলেন। এদের ইতিহাসের পাতায় খারিজি বলা হয়। একই ধুরনের খারিজি গোছের লোকের ইসলামের এই ১৪০০ বছরে ইসলামকে সঠিক পথে রাখাবার জন্য বিভিন্ন গোষ্ঠী গঠন করেছে।
এরপর থেকেই শুরু হয় ইসলাম ধর্মে গোষ্ঠী-উপগোষ্ঠীর ধারা। এখন ইসলামের ভেতরে বর্তমান আছে হাজার হাজার গোষ্ঠী আর উপগোষ্ঠী। শিয়ারা ভাগ হয়ে চলে যায়। এর পরে নির্ধারিত নিয়ম পালন করা নিয়েও তৈরী হয় ভিন্নমত। আসে ইমামদের যুগ। সৃষ্টি হয় ধর্ম পালনের নামে বিভিন্ন মতের বিকাশ। মূল ধারাটিকে ঠিক রেখে, অর্থাৎ দৈনিক পাঁচবার প্রার্থনা করতে হবে – তবে ইমামরা বাতলে দিচ্ছেন একেক ভাবে পালনের উপায়।
যে ধর্মে একটি অনন্য ঐশ্বী ধর্মগ্রন্থ আছে, তাদের ভেতরে কেন ধর্ম পালনের জন্য আলাদা আলাদা নিয়ম থাকবে? এইটা সেই সময়ের গীর্জার পালিত নিয়মকেই মনে করিয়ে দেয়। আর এই সাথে মুসলমান সমাজে তৈরী হয় পাদ্রীদের মত এক শ্রেণীর মানুষের যারা ধর্মকে তাদের “বিষয়” বলে ভাবতে শুরু করেন, এবং বাদবাকীদের “কম ধর্ম জ্ঞান সম্পন্ন” হিসাবে ধর্ম ব্যাখ্যার অযোগ্য বলে বাইরে ঠেলে দেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

