কিস্তি - ১
আমাদের যারা ইসলাম নিয়ে লেখেন, বলেন বা চিন্তা ভাবনা করেন, তাদের কথার মূল সুরটি হল কুর’আন এবং হাদিসকে অনুসরন করা হচ্ছে ইসলামকে মানার মূল পন্থা। এর কারন হচ্ছে, বিদায় হজ্জের ভাষন বা খুৎবায় মুহাম্মদ (সঃ) তার উম্মতের জন্য দুইটি স্থির দন্ড রেখে যান আর একটি হচ্ছে কুর’আন অন্যটি তাঁর কৃত কাজ এবং মুখ নিসৃত বানী বা হাদিস। এই দুইটির উপরেই বেড়ে উঠেছে আমাদের পরবর্তীকালের ইসলাম।
এখন থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে আরব উপদ্বীপে যখন বিভিন্ন সামাজিক অনাচার বেড়েই চলেছিল, সে সময়ে মহান সৃষ্টিকর্তা তার মনোনীত ধর্মের প্রচারক হিসাবে মুহম্মদ (সঃ)-কে প্রেরন করেন। আরব উপদ্বীপে সে সময়ে যা যা ঘটছে, এখন আমাদের পারিপার্শিকতা ঠিক তার সমতুল্য। কিন্তু আফসোস আমাদের, ইসলাম বলে দিয়েছে, মুহাম্মদ (সঃ) এর পরে আর স্রষ্টা কর্তৃক কোন প্রেরিত ধর্ম প্রচারক আসবেন না। তাই ১৪০০ বছর আগের নিয়ম কানুনের ভেতরে থেকেই আমাদেরকে আমাদের এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
তাহলে আমাদের মুহাম্মদ (সঃ)-এর জীবনী পড়া দরকার, এবং তা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া দরকার। এই যে আমরা প্রতি বছর বিশাল ব্যয় করে ঈদে মিলাদুন্নবি পালন বা উতযাপন করি, তার প্রচলন মুহাম্মদ (সঃ)-এর মৃত্যুর পরে ছিল কিনা তা আমাদের কাছে অজানা। উল্টোভাবে এই ধরনের অনুষ্ঠানকে এখন অনেকেই বি’দাত বলছেন। কেন বি’দাত বলছেন, তারও ব্যাখ্যা তারা দিচ্ছেন। তাই সেই বিষয়ের পুনঃআলোচনার দরকার নাই, এই ব্লগেই অনেক লেখা আছে, আগ্রহীরা সেগুলো খুঁজে নিয়ে পড়ে দেখতে পারেন।
এখানে এই আলোচনার লক্ষ্য হচ্ছে, আজকের দিনে কি ভাবে আমরা নবীর জীবনী থেকে শিক্ষা নিতে পারি। এর জন্য আমাদের দরকার তাঁর জীবনীগ্রন্থ পড়া।
তিনি তাঁর জন্মের আগেই তাঁর পিতাকে হারান। সেই সময়ের আরব ঐতিহ্য মোতাবেক তাঁকে জন্মের কিছু দিন পরেই চলে যেতে হয় ঊষর মরুভূমিতে এক বেদুইন পরিবারের কাছে। সেখানে তিনি বড় হন। মেষ চরানো শিখেন, সেই অর্থে লেখাপড়া শেখেন নাই। পাঁচ বছর তাদের সাথে কাটাবার পরে ৫ বছর বয়েসে তিনি মায়ের কোলে ফিরে আসেন।
( চলবে )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

