কিস্তি - ১ [ Click This Link ]
কিস্তি – ২
মক্কায় মায়ের কাছে ফিরে আসবার কিছু কাল পরে তার মা প্রয়াত হন। তখন তার বয়েস মাত্র আট। তিনি হয়ে পড়েন পিতৃ-মাতৃহীন, চলে আসেন দাদার কাছে। এই সময়কার ঘটনা তেমন আলোচিত হয় না, শুধু আমরা জানতে পারি তিনি সমমনা কিছু যুবকদের নিয়ে তৈরী করেছেন “হিলফুল ফুজুল” বা ‘সত্য সমিতি’। তাদের কাজ ছিল সমাজের নিচু শ্রেণির লোকেদের অধিকার নিয়ে, তাদের প্রতি করা বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। এ কাজ খুবই কঠিন ছিল। এবং মনে রাখতে হবে, মুহাম্মদ (সঃ)-এর কাছে তখনো সৃষ্টিকর্তার বানী এসে পৌছায় নাই। তিনি এই কাজগুলো ন্যায় ও সুবিচারের চিন্তা থেকেই করেছিলেন।
এই ভাবেই দিন কাটছিল। এর মানে দাড়াচ্ছে, তিনি সামাজিক আচারাদি পালন করে যাচ্ছিলেন, এবং তাঁর মনে সায় দেয় না এমন সব কাজ থেকে বিরত রাখতেন নিজেকে। এই সময়ে তাঁর সত্যবাদিতা ধীরে ধীরে মক্কায় প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর দাদা ছিলেন সমাজের প্রভাবশালী একজন। তাই তাঁর গ্রহন যোগ্যতাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
ইতোমধ্যে খাদিজা নামের সমাজের এক প্রভাবশালী মহিলা এবং ব্যবসায়ী তাঁকে তাঁর ব্যবসার প্রধান কর্মাধক্ষ্য হিসাবে নিয়োগ দেন। মুহম্মদ (সঃ) নিজ বুদ্ধি এবং বিবেচনায় খাদিজার ব্যবসা বৃদ্ধিতে সাহায্য করেন। এতে খুশি হন মুহম্মদ (সঃ) এর নিয়োগকর্ত্রী। এক সময়ে তিনি প্রেমে পড়েন এই যুবকের।
আমরা ইতিহাস থেকে জানি যে, মুহম্মদ (সঃ)-এর প্রেমে যখন খাদিজা হাবুডুবু খাচ্ছিলেন, সে সময়ে তার বয়স ৩৮ বা ৩৯। কিন্তু সেই বয়েসেও তিনি ছিলেন অসামান্য সুন্দরী। অনেকেই এই মহিলাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তিনি বেছে নিলেন তার প্রধান কর্মাক্ষ্যকে। এই বিয়ে তার জন্য তৃতীয় হলেও মুহম্মদ (সঃ)-এর জন্য ছিল প্রথম বিবাহ। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, বিয়ের সময়ে পাত্রীর বয়েস ছিল ৪০ এবং পাত্রের বয়স ছিল ২৫!
এরপরে খাদিজার ব্যবসার দেখাশোনা করে এবং নিজের বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মুহম্মদ (সঃ) অনেক ধন-সম্পত্তির মালিক হন। তিনি অল্প দিনেই মক্কার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ীতে পরিণত হন।
কিন্তু নিজের ৪০ বছরে বয়েসে যখন সৃষ্টিকর্তার বাণী প্রাপ্ত হন, এর পরে তাঁর জীবনী লেখকরা তাঁকে ব্যবসার সাথে সংযুক্ত ছিলেন, এমন কোন কিছু লেখা থেকে বিরত থাকেন। এর মানে দাঁড়ায় যে তিনি সৃষ্টিকর্তার বাণী পাবার পরে আর ব্যবসা করেন নাই। যদিও কুর’আন-এ ব্যবসাকে অনুমতি দিয়ে সুদকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু মুহম্মদ (সঃ) তাঁর বাকী জীবনে ব্যবসা করেছেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায় না।
( চলবে )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

