somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ দু'জনার দুটি পথ দু'টি দিকে গেছে বেঁকে...(২৩)

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আগের পর্ব (২২)

সেদিন গাড়িতে রুমি বলছিল শীত শীত লাগছে একটু, আমি নিরব ছিলাম, কথাটাকে তখন তেমন গুরুত্ব দিয়ে শুনা হয়নি, কেন জানি সংকোচ বোধ করছিলাম আমি, কি কথা বলা যায়, কিভাবে শুরু করা যায় ভাবছিলাম, আমার অনুভুতিগুলো তখন কাজ করছিলনা, চিন্তাগুলো তালগোল পাকছিল, তাই রুমির কথাটা তখনো আমার বুঝা হয়ে উঠেনি, হয়তো আজও বুঝে উঠতে পারিনি কথাটারা কি মানে, তবে হঠাৎ হঠাৎ মনে পড়ে কথাটা এখনও, একটা ছোট কবিতাও লিখা হয়েছে বিষয়টা নিয়ে আরও অনেক পরে, ছোট কবিতা তাই মুখস্থ আছে আজও, আবৃত্তি করা চলে তবে একটু পরেই করা যাবে, এখন আবার ফিরে যাওয়া যাক সেই শনিবারে।

আমরা গিযে বসলাম সেই গাছের ছায়ায়, ঘাসের উপর বিছানো মাদুর এর উপর। রুমিকে খুব স্বাভাবিকই মনে হলো সেদিন, সে যে দেড়টা বছর আত্মগোপন ছিল আমার কাছে, তার কোন ভাবলেষ দেখলামনা, আমি যখন নিরব ছিলাম মৌনতাটা সেই ভাঙগাল একটা প্রশ্ন করে, "তুমি কি আমার বাসায় ফোন করতে মাঝের মধ্যে? বিশেষ করে রাতে!" বললাম কখনো করিনি, কতবার হাত নিশফিশ করেছে একবার ফোন করি, কতবার ০১১২....... অক্ষরগুলো ডায়াল করতে করতে আর করা হয়নি, খুব কষ্ট হতো আমার, অসহ্য রকম একটা অনুভূতি হত, নিজেকে সামলাতে না পেরে ভাবতাম একবার ফোন করেই ফেলি, মোবাইল সেইভে থাকা নাম্বারটা স্ক্রিনে এনে সেন্ড বাটনে টিপ দিতে দিতে আর দেয়া হয়না।

অঞ্জন দত্তের গানটা নিশ্চয় শেনা আছে তোমার, আমি তোমাকে গিফ্ট করেছিলাম, "হ্যালো ২৪৪১১৩৯" গানটা আমার প্রতি রাতের সংগী হয়ে গেল, সারা রাত শুনতাম, শেষে হয়ে গেলে গান রিপিট দেয়া আছে, বাজতেই থাকত, আমি থাকতাম আধো ঘুম আর আধো জাগরণে, বাবা যখন মাঝরাতে তাহাজ্জুত পড়ার জন্য উঠতেন তখন আমার রুমে এসে বন্ধ করে দিতেন।

অন্য রকম একটা জগৎ তৈরী হয়ে গেছে আমার নিজের কাছে, পৃথিবীর কোন কিছুর প্রতি যেন আমার আর কোন আগ্রহ নেই, অন্য রকম একটা নেশার জগৎ, সেখানে নেই কোন আনন্দ, হাসি-কান্নার বাড়াবাড়ি, নেই কাউকে পাবার আনন্দ কিংবা হারাবার ভয়, আমি থেকে থেকে ঢুকে যেতাম সেই জগতে, কখনো কখনো অফিসে কাজের ফাকেঁও কতবার ঢুকে গেছি, তখন একটু যে প্রবলেম হয়না তা নয়, তবে প্রতি রাতে আমি সেই জগতে বিচরণ করি, বিশেষ করে বৃহষ্পতি আর শুক্রবারের রাতটা, রাতে ইচ্ছে করে ঘুমাতামনা, গান শুনতাম আর টুকটাক কবিতা লিখতাম।

রুমি হঠাৎ বলে বসল আমার মুখে গানটা শুনবে, আমিও পড়লাম বিপদে, গান অনেকেই গাইতে পারে, অনেকে গান না শিখেও মোটামোটি বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডায় একের পর এক গেয়ে যেতে পারে, সেখানে তাল লয় ঠিক না থাকলেও তখন শুনতে মন্দ লাগেনা, তবে আমি কোন ভাবেই গাইতে পারিনা, এমন বেসুর কেন আমার কন্ঠটা আমি নিজেও বুঝিনা, গান গাইলে সেটা শুনতে মনে হয় কবিতা পড়ছি, কোন ভাবেই যায়না আমার মুখে গান গাওয়া বিষয়টা, এদিকে রুমি গো ধরে বসে আছে, কোন কথা বলবেওনা কিংবা শুনবেওনা, আগে গানটা তাকে শুনানো চাই, হার মানতো হলো, প্রতিবারইতো হার মানি, আজকে না হয় আবার মানলাম।

বেলা বোষ

চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছ
এখন আর কেউ আটকাতে পারবেনা
সমন্ধটা এবার তুমি ভেস্তে দিতে পার
মাকে বলে দাও বিয়ে তুমি করছনা।।
চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি বেলা সত্যি
আর মাত্র কয়েকটা মাস ব্যাস
স্টার্টিং এ ওরা ১১০০ দেবে
তিন মাস পরে কনফার্ম
চুপ করে কেন বেলা কিছু বলছনা
এটা কি ২ ৪৪ ১১ ৩৯
বেলা বোস তুমি পারছকি শুনতে
দশ বারো বার রং নাম্বার পেরিয়ে তোমাকে পেয়েছি
দেবনা কিছুতেই আর হারাতে।
হ্যালো ২ ৪৪ ১১ ৩৯
দিননা ডেকে বেলাকে একটিবার
মিটার যাচ্ছে বেড়ে এই পাবলিক টেলিফোনের
জরুরী খুব জরুরী দরকার।
স্বপ্ন এবার হয়ে যাবে বেলা সত্যি
এত দিন ধরে এত অপেক্ষা
রাস্তার কত সস্তা হোটেলে বদ্ধ কেবিনে বন্দি দু'জনে
রুদ্ধশ্বাস কত পরীক্ষা।।
আর কিছুদিন তারপর বেলা মুক্তি
কসবার ঐ নীল দেওয়ালের ঘর
সাদা-কালো এই জঞ্জালে ভরা মিথ্যে কথার শহরে
তোমার আমার লাল-নীল সংসার
এটা কি ২ ৪৪ ১১ ৩৯
বেলা বোস তুমি পারছকি শুনতে?
দশ বারো বার রং নাম্বার পেরিয়ে তোমাকে পেয়েছি
দেবনা কিছুতেই আর হারাতে।
হ্যালো ২ ৪৪ ১১ ৩৯
দিননা ডেকে বেলাকে একটিবার
মিটার যাচ্ছে বেড়ে এই পাবলিক টেলিফোনের
জরুরী খুব জরুরী দরকার।
চুপ করে কেন, একি বেলা তুমি কাঁদছ?
চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি সত্যি
কান্না কাটির হল্লা হাটির সময় গেছে পেরিয়ে
হ্যালো ! তুমি শুনতে পাচ্ছ কি? ।।
.....................................
.....................................
......................................
.......................................
.......দূর ছাই ২ ৪৪ ১১ ৩৯.....।

তারপর দু'জনই অনেক্ষণ নিরবে বসে ছিলাম, গানের কথাগুলো যেন আমাদের নিজেদের কথা হয়ে গেল, আমি মিলাচ্ছিলাম আমার সাথে, ওদিকে রুমিও বোধ'য় তার নিজের সাথে মিলাচ্ছিল গানের কথা গুলো।

টি বয় এসে পেঁয়াজু দিযে গেল, সংগে মুড়ি, পেঁয়াজু আমার খুব প্রিয় একটা খাবার, এমন সুন্দর পরিবেশ, বটবৃক্ষের নিচে ঘাসের উপর মাদুর পাতা, এমন সুন্দর পরিবেশে যেন পেঁয়াজুই খাওয়া উচিত, চা টা একটু পরেই দিতে বলেছি, রুমি হাত বাড়িযে পেঁয়াজু নিল একটা, সাইজটা বেশী বড় নয়, ছোট ছোট, হাতেই রেখে দিল, মুখে আর দিলনা, কি যেন ভাবছে রুমি, আমি আর লোভ সামলাতে পারলামনা, মুখে দিয়েই দিলাম।

"আচ্ছা তোমার বাসায় রিং করেছি কিনা প্রশ্নটা কেন করলে?" জিজ্ঞেস করলাম রুমিকে, সে হাসল একটু করে শব্দহীন, তারপর বলল, " আমার বাসায় প্রায়ই রিং আসতো, আমি কখনো মোবাইল রিসিভ করতামনা, কেননা মা আমাকে সন্দেহ করত, রিং পড়তেই থাকতো, হয়তো মা কিচেনে আমাকে বলল রিসিভ করতে আমি করতামনা, মা নিজেই এসে রিসিভ করত, আর ওদিকে কোন শব্দ নেই, মা হ্যালো হ্যালো করে রেখে দিত, আর বাঁকা চোখে তাকাত আমার দিকে।

চলবে...............

পরের পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ২:৪৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কমলাপুর টু নারায়ণগঞ্জ - ৩ : (ছবি ব্লগ)

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৭




সময়টা ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখ।
উত্তর বাড্ডা থেকে রওনা হয়ে সকাল ১১টার দিকে পৌছাই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন। উদ্দেশ্য রেললাইন ধরে হেঁটে হেঁটে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত যাবো

হাঁটা শুরু হবে কমলাপুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং মোরাল পুলিশিং বন্ধ করতে হবে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



১.
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক ছেলে পুলিশের সাথে তর্কের জেরে পুলিশ তাকে পিটাইছে দেখলাম।

ছেলেটা যে আর্গুমেন্ট পুলিশের সাথে করছিলো তা খুবই ভ্যালিড। পুলিশই অন্যায়ভাবে তাকে নৈতিকতা শেখাইতে চাচ্ছিলো। অথচ পুলিশের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এমপি সাহেবের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম!

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩১


অনেক দিন আগে হুমায়ূন আহমেদের একটা নাটক দেখেছিলাম। সেখানে কোন এক গ্রামে একজন এমপি সাহেব যাবেন। এই জন্য সেখানে হুলস্থুল কান্ডকারখানা শুরু হয়ে যায়। নাটকে কতকিছুই না ঘটে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাঁজা বৃতান্ত

লিখেছেন মুনতাসির, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪

গাজা নিয়ে আমাদের মধ্যে বিশেষ অনুভূতির নাম হলো—এরা গাজাখোর। ব্যাপারটা এমন যেন বিশেষ কোনো শ্রেণি। না, আমি গাজা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি না। কিন্তু গাজা নিয়ে আমাদের দেশে যেভাবে আলোচনা, জেল-জরিমানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিয়া ও খালেদাকে নিয়ে বিষোদগার করা চুপ্পু হঠাৎ কেন তারেকের প্রশংসায় গদগদ, তারেকে মুগ্ধ!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯


২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠে “চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি” পরে ২৪ ফেব্র্রুয়ারি “রাষ্ট্রপতির আরো বিস্ফোরক তথ্য” শিরোনামে সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। এখানেও তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের ভূয়সী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×