somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুধুই লেখা অথবা গল্প - ৪

২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্ব প্রকাশের পর.............
প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব
তৃতীয় পর্ব

ছোট ছোট ভালো লাগা- মিষ্টি করে ভালোবাসায় এগিয়ে যেতে থাকে মানব মানবীর দিন। তাদের একজনের দিন শুরু হত অপরকে দেখার সুতীব্র বাসনা নিয়ে, শেষ হত সারাদিনে যাপিত সময়ের মধুর অতল সমুদ্রের তল ছুঁতে ছুঁতে। প্রতিটি দিন তাদের কাছে নতুন হয়ে আসত - একে অপরের আরও কাছে আসত। প্রতিদিন তারা একে অপরের ইছ্ছায় নিজেকে পরিবর্তন করতে লাগলো নিজের অজান্তেই। তাই প্রতিদিন তারা একে অপরের কাছে নতুন সত্ত্বা হয়ে ধরা দিতে লাগলো। তাই একই মানুষের সাথে দীর্ঘসময় শুধুই সময় কাটিয়ে দেয়ার মাঝেও তাদেরকে টানা একঘেয়ে ক্লান্তিকর প্রেমের অভিনয়ে যেতে হয়নি।

তাদের ভালো লাগা ভালোবাসার ধাপগুলো এমন সুবিন্যস্তভাবে প্রলম্বিত হয়েছে যাতে তাদের সম্পর্ক রূপান্তরের দ্রুততায় অপরিপক্কও রয়ে যায়নি আবার শ্লথতা দিয়ে বিরক্তিকর হয়ে উঠেনি। প্রথম দিকে শুধুই যে পারস্পরিক অনুভূতি ছিল তাদের সেতুবন্ধন তা দিনে দিনে আরো তীব্রতা পায় শারীরিক স্পর্শে। নিজেদের অনুভূতির সীমারেখা ভেঙে তারা শুধুই এক সত্তার দিকে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। তারা দুই সত্তা ধাবিত হয় সেই পরম সত্তার দিকে। হাতে হাতের ছোয়া কপোলে অধরের চুম্বনে তারা ভীত হয়নি;কিংবা কে বলতে পারে তীব্র আনন্দে চরম প্রাপ্তিকে হারাবার ভয়ে মানব হয়তো একটু হতচকিত হয়েছে - মনের টান আর অস্তিতের সান্নিধ্য ভুলিয়ে দিয়েছে সমাজ সংস্কার ধর্মকে। তারা শুধুই নিজেদেরকে অনুভব করেছে নিজেদের মাঝে।

তারা পারস্পরিক তীব্র সান্নিধ্যে এল কোন এক রোমান্টিক শরৎ পূর্ণিমার ঘোর লাগা সন্ধ্যা। খুব কাছে থেকে পরস্পরকে নতুনভাবে দেখে তারা আবিষ্কার করে পরস্পরের নতুন রূপ। সেই সন্ধ্যাটি তাদের দুইজনের কাছে খুব আলাদা করে শুরু হয়েছিল কিনা তা বলতে পারি না, মানুষের নৈমিত্তিক জঞ্জাল ধারণ করে বিষাক্ত বাতাসে ধূসরিত হওয়া আকাশের বুকে সেদিনও শশী হেসেছিল ঝাপসা হয়ে। পঙ্কিল নগরীর উপকন্ঠে রাসায়নিক আবর্জনা ধারণ করে ক্লান্ত নদীর বুকে তারা সেদিন ভেসেছিল। তাদের প্রেমের সুরভি সেই নদ্যম্বুর দুর্গন্ধময় তরলকে খানিকের জন্য করে তুলেছিল অমৃত সলিল। মানব সেদিন হারিয়েছিল ক্ষণিকের জন্য তার ভাবনাকে। তার চিত্তকে জুড়ে বসে ছিল শুধুই একজন নারী অথবা তাদের সেই পরম সত্ত্বা। সেদিন ঝাপসা চাঁদ সবার কাছে কিভাবে ধঁরা দিয়েছিল জানি না- একজন মানবের মনে একজন মানুষীর উপর সেই চাঁদ রুপালি বৃষ্টির জোছনা হয়েছে ঝরে পড়েছে সকলের অগোচরে।

গল্পটি এভাবে যদি চলে যেত চিরকাল বোধ করি মানব মানবীর আপত্তি থাকত না; অথবা হয়তো থাকত অপরের প্রয়োজনে তাদের মধ্যকার পারস্পরিক বিকাশ থেমে গেলে-এবং তা-ই তাদের শেষ পরিণতি যেন। মানব অবশ্য তারও আগেই পরে গেল দোটানায়। এবং সেই দোটানা ভাবলে সাধারণ মনে যা আসবে ঘটনা তার চেয়ে একটু ভিন্ন। তার সেই দোটানার পিছনে অন্য কোন নারী নেই কিংবা আসারও কোন সুযোগ নেই।
তবে কী? কী তার দ্বন্দ্ব? সমাজ সংস্কার? এই বেলায় সোজা উত্তর দেয়া না গেলেও এটুকু বলা যায় শুধু ভালোবাসার মোহে মানবীর পিছনে ছোটা তার সংস্কার বাঁধা না দিলেও খুব একটা উৎসাহিত করে না তা প্রমাণিত সত্য। তারপরো সমাজকে ধাক্কা দেবার - সমাজের বিরুদ্ধচারী হবার ক্ষমতা তার আছে বলেই বিশ্বাস। কিন্তু তার বড় বাঁধা হয়ে আসল অন্য- সম্পূর্ণই অন্য একটি ব্যাপার। তা হলো ভালোবাসার গ্রাফ। সে রাতের পরও তারা অনেকবারই মিলিত হয়েছে কিন্তু সে হঠাৎ করেই উপলব্দ্ধি করে সে রাতের মত তীব্র আবেগে তারা আর কখনোই সাড়া দেয়নি। তাদের প্রেমের এই ক্ষয়িষ্ণুতা যেন তার কাছে ভালবাসার বার্ধক্য মনে হতে থাকে। বুড়িয়ে যাচ্ছে ভালোবাসা- ছুটে চলেছে তার অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর দিকে।
মানবের মত ভালবাসার মৃত্যু ভয়ে আতঙ্কিত না হয়েও মানবী কিছুটা অসহায় বোধ করছিল। সে তার ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরতে চায় আষ্টেপৃষ্টে। কিন্তু পারে না। নারী বিদ্বেষী আমাদের ক্রুদ্ধ সমাজ বিদ্রোহী নারীদের শুধুই রাঙানি দেয় তার রক্তচক্ষু দিয়ে। এই ভয় আর ভালবাসা ধরে রাখার তীব্র চাপে ভালবাসা যেন তার স্বতঃস্ফুর্ততা হারিয়ে যেতে থাকে।

ভালোবাসার মৃত্যুতে বিষণ্ণ ঝাপসা তীব্র রূপালি চাঁদ কিংবা কালো পবিত্র অমৃত সলিলের কান্নার গোঙানি মানব কিংবা মানবী কারো কানেই পৌঁছতে পেরেছিল কিনা বলতে পারি না।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৩
১৬টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×