somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুধুই লেখা অথবা গল্প -৩

১০ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্ব প্রকাশের পর

গল্পের এই বেলাতে মানব মানবীদের মাঝে প্রেম হয়ে গেলো বলে যদি কেউ মনে করেণ সেটা খুব সঠিক বলা যাবে না। কিন্তু সেই পথেই যাত্রা হচ্ছে তাদের এই কথাতে মানব বা মানবী কেউই আপত্তি তুলবে না। কিন্তু সেই পথে বাধা কী হতে পারে? অন্য কোন বস্তুগত বিষয় হলে মানবটি হিসাব কষতে বসে যে, কী হতে পারে তার বিরুদ্ধে সে কী করবে? কিন্তু বিষয়টি একেবারে মানবিক বলে তা হলো না। একেবারে যেমন হঠাৎ একটা ঘোরলাগা ঘটনায় তাদের পরিচয় তেমনি ভাবেই তাদের সম্পর্ক এগিয়ে যায় আরো ঘোরের মধ্য দিয়ে।এই ঘোরটিকে টেনে নিতে মানবীটির অবদান যে বেশি সেটা বলাই বাহুল্যতা। তার স্মপ্নময়ী সত্তা প্রেমকে দেখে এসেছে অন্যভাবে। যে প্রেম তার মনে ধোঁয়াটে কুয়াশা হয়ে ছুঁয়ে গেছে শুধু ,যাকে সে কল্পনার ধোঁয়াশা হয়ে দেখেছে, সে আজ ঘনীভূত মেঘ হয়ে তার জীবনে এসেছে তার চেয়ে পাঁচ বছরের ছোট এক মানব রুপী শুভ্র অনিলের মাঝে ভর করে।

মানব কিছুটা উদভ্রান্ত সেই প্রথম পরিচয়ের দিন থেকে। সে কিছুটা ঝোঁকের মাথায় মানবীর দিকে যে হাত বাড়িয়েছিল, সে হাতে মানবীর বন্ধুত্বের উষ্ণ ছোয়া ঝড় তোলে। সে তার মাঝে মানবীর সত্তাকে অনুভব করে। একেবারে অদ্ভুতভাবে যে কেউ তার বাড়ানো হাত ছুয়ে যাবে সে কখনো ভাবে নি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সে নানা রকম চিন্তায় চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে যায়। তার কাছে প্রেম বড়ো প্রার্থিত। কিন্তু মোহ আর প্রেমের মধ্যকার দূরত্ব সে জানে না। আর তার মনে বাজে শুধু প্রেম শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়। মানিকের কথা শুধু কানে বাজে তার। ভালোবাসা এক মাসে মরে যায়। তারপরে কী থাকে? ভালোবাসা ছাড়া সবই থাকে। এইখানে সে বিপত্তিতে পড়ে যায় । কেননা মানবীর সাথে সে শুধু ভালোবাসার বাধনেই জড়াচ্ছে। এর পরিণতি নিয়ে সে ভাবিত হয়ে উঠে ঠিক যতটা নির্ভাবনায় মানবীটি থাকে। মানবকে আষ্টে পৃষ্টে জড়িয়ে ধরে মানবীর ভালবাসা যেমনিভাবে ঝড়ো হাওয়া পথভোলা পথিককে বেঁধে ফেলে। তার স্বপ্নময় সাধারণ চিন্তায় সে ছোয়া পায় মানবীর। বারে বারে সে নতুন ঘোরে পড়ে যেত যখন তার তীব্র চন্দ্রবিলাসী রাতে অনুভব করত তার মত আরেকজনের ভাবনা তার মত করে এগুচ্ছে কিংবা কোন স্নিগ্ধ বাদলা দিনে তার শরীরে লাগা সুই সম বৃষ্টিধারাতে সে কারো পরশ খুঁজে পায়।

এমনি চিন্তাগুলো তাদেরকে আরো বেশি কাছে টানে, এর সব কিছু সত্যি ছিল না দূলোমাটির এই পৃথিবীতে, কিন্তু তাদের দুজনের গড়া অন্য দুটি জগতে সবই সত্য ;কিন্তু ভালোবাসার টানে সময় যত গড়াতে লাগলো এই দুটো জগত তাদের মধ্যকার ব্যবধান ঘুচিয়ে প্রথমে কাছাকাছি তারপরে খুব কাছাকাছি তারও পরে মিশে যায় এক বিন্দুতে। আর সে বিন্দু প্রথমটায় এই ধূলামাটির পৃথিবী হতে অনেক দূরে থাকলেও তাদের তীব্র সর্বনাশী প্রেম সে বন্দুকে এতটা শক্তিমান করে ফেলে ব্ল্যাক হোলের মতো
ধরিত্রীকে শুষে নেয়। শুষে নেয় শুধু দুইটি মানব মানবীর জন্য।

মানবীর তীব্র আকর্ষনী কিংবা সম্মোহনী ক্ষমতা সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে মানবের শঙ্কাকে উপলক্ষ করে দেয় শঙকামুক্তির আনন্দ উদযাপনের। তাহলে তাদের মাঝে কোন কৃত্রিমতা ছিল না? এই প্রশ্নের জবাব দেয়াটা দুঃসাধ্য, কেননা তাদের সম্পর্ক অন্যদের মত না আবার একেবারেই সবার মত; যেন গ্রীক বীর একিলিস তার চারিত্রিক স্ববিরুদ্ধতার বিশেষ গুনটিকে তাদের ভালোবাসার জন্য দিয়ে যান এই ধরার বুকে নেমে এসে। এই স্ববিরুদ্ধতার একিলিসীয় দিকটি মানব মানবীর কেউই অবগত ছিলেন না। তারা সাধারণ অনুভূতি প্রবণ মানুষের মতই শুধু ভালোবেসে যেতেন। নিজের ভালোবাসার মানুষের সান্নিধ্য লাভেই নিহিত ছিল তাদের ভালো বাসার প্রকাশ।সান্নিধ্য লাভ কখনো হয়েছে শুধুই পাশাপাশি বসে, কিংবা কোন হাওয়ার রাতে বাতাসের ঝাপটা গায়ে জড়িয়ে কিংবা কখনো খুনসুটি ; টানা ভালোবাসার একঘেয়ে ক্লান্তি থেকে বিরতি নিতে তাদের মাঝে কথা বলা মুখ দেখা দেখি বন্ধ যে হয়নি তা বলতে পারি না, কিন্তু সাধারণ দশটা ভালোবাসার মতোই সেসব ঘটনা তাদের দূরত্বকে কমিয়ে গেছে শুধু।

তাদের প্রেমের অসাধারণ অথবা অস্বাভাবিক দিক হচ্ছে সম্ভাবনা হীনতা। নিশ্চিতভাবে সাধারণ দশটা প্র্বেম যেমন রুপকথার গল্পের মত “অবশেষে সুখে শান্তিতে বসবাস করল” টাইপ সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হয়নি।সাধারন্যে তাই এর প্রতি বিরাগ থাকাটা বিচিত্র ছিল না। যারা কখনো স্বামী স্ত্রী হয় না এমন ভালোবাসা হয় না? হয় বটে কিন্তু সেটা সম্ভাবনা হীনতার মাঝে শুরু হয় না।তাই সেই সব প্রেমে বিয়ের আগে মন অথবা দেহ কিংবা দুটোরই আদান প্রদান হতে দেখলে যতটা বিপ্লব এসে উপস্থিত হয়, তার চেয়ে ঢের বেশি প্রতিক্রিয়া সাধারন্যে ঘটে এই দু মানব মানবীর রিকশায় চড়ে কোন বৃষ্টি সিক্ত দুপুর উপভোগে।

তাদের এই পারস্পরিক তীব্র চেতনা তাদেরকে নিয়ে যেতে থাকে বিপন্ন ভবিষ্যতের দিকে।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৫
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×