এটা গল্প না অগল্প বুঝা যায় না। কিন্তু এটা দুটি প্রাণের কথা এবং শুধুই দুটি প্রণের কথা।এই গল্পের যেহেতু শুধুই দুটি চরিত্র তাই নায়ক নায়িকা ভিলেন খাজা গেল না বরং শুধুই দুজন নর আর নারী। আর যেহেতু তারা কেবলই দুজন তাই তাদের নাম অপ্রয়োজনীয়। শুধুই নর আর নারী। যেহেতু মানব মানবীরা জন্ম হতেই একে অন্যকে চিনে আসে না তাই এই গল্পের শুরু তখন থেকেই যখন এই নর নারী দুজন একে অপরের অচেনা মুখ ছিল।
নর খুবই অদ্ভুত প্রকৃতির মানুষ ছিল। অদ্ভুত স্বপ্ন নিয়ে স্বপ্নময়তার জগতে তার বাস ছিল। তার কাছে সবকিছুকে ই কখনো মনে হত খুবই সাধারণ আবার কখনো সামান্য বিষয়গুলোকে মনে হতো অসাধারণ। সে পথ ভ্রমন করে ক্লান্ত হয়ে যেত অবাক না হতে পেরে আবার মাঠের বড় ঘাসের বুকে দলবদ্ধ পতঙ্গ তাকে আন্দোলিত করত। সে দেখে যেতে চাইত শুধুই কিংবা অনুভব করত অথবা তার গ্রহণ করার নেশা ছিল অস্বাভাবিক,ঠিক যতটা অস্বাভাবিক কম ছিল নিজেকে মানুষের মাঝে তুলে ধরার। তার মন বিকেলের মৃদু বাতাসের সাথে উড়ে যেত দূরে খুজে বেড়াত কোন অজানা জীবন সঙ্গিনীর; ঝা ঝা রোদে সে রোদের গন্ধ শুকে বেড়াত আর নারিকেল ছের ন্যুব্জ পাতার সাথে কথা কইত সে। আশেপাশের তীব্র শূন্যতায় সে পূর্ণ হয়ে যেত ,আবার বেদনাহীনতার বেদনা তাকে পুড়িয়ে বেড়াত। তীব্র কঠোর সত্তার আবরণে সে ঢেকে রাখত এক অদ্ভুত কোমল মানবীয় সত্তাকে।
নারী বরং সাধারণ দশজনের মতই ছিল। সাধারণ মানবী নিজের মাঝে ধরে রেখেছিলো অপার কৌতূহলকে। তার জানার বড় আগ্রহ দেখার বড় সাধ কিন্তু সে যেন দেখতে পেত না অনেক কিছুকেই। মানুষের আচরণে সে চমকিত হত কখনো বা ব্যথিতও। ঘোর বর্ষায় ঘোর লাগা চোখে সে শুভ্র বারিপানে চেয়ে থাকত , কিংবা কখনও আর দশজনের মত সেও নিজেকে একাত্ম করে দিত শুভ্র বাদলের সাথে। শুভ্র বারি আর কৃষ্ণ জলদ মেঘ, সাদা কালোর এই মিলন তাকে হাসিয়ে তুলত। শরতের শ্বেত বরুণের মত তার মন ভেসে চলে যেত অজানা প্রেম পাহাড়ে। তীব্র জোছনার ঘোর লাগা তাপ কিংবা স্নিগ্ধ রবির হাসিমাখা পরশ তার মনের ঠাণ্ডা বরফ অনুভুতিকে তরল করে দিত শুধুই একজনের অপেক্ষায়।
এই দুই স্বপ্নময়ী মানব মানবীর পরিচয়ের মাধ্যমেই এই গল্পের শুরু।
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



