আমার প্রিয় পোস্ট

বিস্মৃতি ও বিষাদটিলা

আমাদের কবিতা: শেষ পর্ব

০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৫৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

আমাদের কবিতা: প্রথম পর্ব এখানে

আমাদের কবিতা : দ্বিতীয় পর্ব এখানে

আমাদের কবিতা কী রকম, কেন এমন হলো এবং সেটার যৌক্তিকতা কত দূর গত দুই পর্বে সেটা আমি লিখেছি এবং পাঠক ও এর ফলে শুন্যদশকের প্রবণতা চিহ্নিত করতে পেরেছেন বলে মনে হয়। এ পর্যায়ে এসে আমাদের কবিতার প্রবণতা চিহ্নিত করতে যেয়ে আমি প্রবণতা হিশেবে কিছু কবিতার সরাসরি উল্লেখ করতে চাই। এই উদ্ধৃতি শুধুমাত্র প্রবণতাগুলোকে স্পষ্ট করে দেখানোর জন্যে, উদ্ধৃতিগুলোর সাথে কবিদের নামও তুলে দেব কীনা, এ প্রশ্নে আমার কাছে মনে হয়েছে যেহেতু কবিতাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ, সেহেতু কবিতাগুলো এখানে নামহীন হয়েই অবস্থান করুক। এতে নামের ঔজ্জ্বল্যের বদলে কবিতাগুলো নিজেই আরো বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, পাঠকও একে আরো নিরপেক্ষভাবে পড়তে পারবেন।

আমাদের কবিতার প্রবণতা সম্পর্কে, আমার কাছে মনে হয়, নিচের উদ্ধৃতিগুলোর পর আমার আর কিছু লেখার থাকতে পারে না। পাঠকের কাছে যখন টেক্সট হাজির- তখন তাকে আর ‘বুঝিয়ে’ দেয়ার কোনও মানে হয় না। কেননা, পাঠক যথেষ্ঠ বুদ্ধিমান। তিনি নিজেই বুঝে নেবেন, গ্রহন বা প্রত্যাখান করবেন। আর এভাবেই একেকজন পাঠকের ইন্টারপ্রেটেশনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে শুন্য দশকের কবিতা। প্রিয় পাঠক, এবার তাহলে উদ্ধতিগুলো পড়া যাক । আশা করবে কবিতাগুলো পড়ে মন্তব্য করতে ভুলে যাবেন না , কেননা, আপনাদের মন্তব্যের উপরই একরকম গড়ে উঠবে এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য, শুন্যদশকের কবিতার রূপ:


১.
মায়ের উদ্দেশে বাবা যে চুমুটা ছুঁড়ে দিয়েছিলেন বাতাসে শুনেছি, সেই হাওয়াই চুমুটা থেকেই জন্ম নিয়েছিলো পৃথিবীর প্রথম প্রজাপতি

মা, পৃথিবীর যে-কোনো নারী থেকে যাকে কখনোই আলাদা করা যায় না—তাকে খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত-বিভ্রান্ত সেই প্রজাপতিটার ডানা থেকে যখন টুপটাপ ঝরে পড়ছিলো রঙের আকুতি—রঙের সেই অপচয় ঠেকাতেই সম্ভবত জন্ম হয়েছিলা পৃথিবীর আর সব প্রজাপতির

মাকে বাবা খুঁজে পেয়েছেন সেই কবে ! অথচ তার মুখের দিকে তাকিয়ে কখনোই মনে হয় নি—জীবনে একটাও প্রজাপতি তার খোঁপায় বসেছে।

২.
রাস্তায় কখনও কোথাও আমার নামটা দেখলে কেমন যেন অন্যরকম হয়ে যাই। তখন রিক্সাচালককে বড় আত্মীয় মনে হয়। মনে হয় ওই বাড়ির সদস্য আমি। যার সামনে টিনের সাইনবোর্ডে লেখা : ইমরান ভিলা। তখন তিন পায়ের রিক্সাটাকে শরীর আর লেখাটাকে মনে হয় আমার মুখ।

আমার বাড়ির পাশে অসুস্থ একটি ছেলের নাম ইমরান। তার জন্য তুলেছি চাঁদা।

কোনো মেয়ের নাম যদি ইমরান হতো তাকে মনে হয় আমি বাসতাম সবচেয়ে ভালো বেশি।

আমার নামে আরও অনেক বাঙালিদের নাম আছে। এই থেকে প্রমাণিত হয় যে, পৃথিবীতে নামের চেয়ে মানুষ বেশি।

আমার পিতা অনেক গাছ লাগিয়েছে বাড়ি। একটা বৃক্ষের নাম রেখেছি ইমরান। এখন ভাবছি শালিক পাখি যেমন কথা বলে ; সে যদি একদিন বলে ওঠে ‘ও পথিক, জানো ! আমার নাম ইমরান মাঝি’।

আমার নামের অক্ষরগুলো দিয়ে এলোমেলো আরো কয়েকটা মানুষের নাম আছে। সেই ব্যক্তিসমূহকেও আমার আপন মনে হয়।

৩.
গোপন বাক্সের দিকে চেয়ে গিনিপিগ ওর লক্ষণীয় বনভূমি নেই।
গুনটানা মানুষের মতো ভেতরে গুঞ্জরন শুধু ! নিজস্ব সুর টুনটুনির
দূষণে খোয়া গেছে। হয়তো বাতাসও সে পথে সমর্পণ হতে গেছে।
পাশের সিট থেকে ভ্রাম্যমাণ কেউ-বা ‘জলে তর্জনী ডুবিয়ে
সহ্য করে মাছের ঠোকর’ নেহাত-ই কেউ যন্ত্রণায় পোড়ে !
বুঝি, মানুষ ঐ অতসীর খেলা শিখতে শিখতেই কতকাল নষ্ট করে
বাক্যবাগীশের চুলে টান ধরে শ্যামলারঙের মতো, তুমি দেখো—
এক ভ্রান্ত কবির অস্থি-মজ্জা, খানাপিনা, পাড়ভাঙা
মূলত, ভূগোল তৈরিতে যা লাগে- আমি বুঝি, ভেতরে ভেতরে পা ঠুকছে সে সব।

৪.

জোছনায় হেলান দিয়ে লাস্যময়ী রাত্রির কাছে কেমন করেই যেন মানিয়ে যাচ্ছে খলিফা হারুন-অর-রশিদ। এইরকম নেশাতুর রাতে গাছেদের ঘোরলাগা সেই অভূতপূর্ব উচ্চতাকে পেছন ফেলে, দুর্দান্ত লন্ঠন হাঁকিয়ে বহুদিন ছুটে গেছে বাড়ির পাশের বয়ে যাওয়া রাস্তা। পায়ের ওপর ভর করে পথের সংকলিত রচনা আর পথিমধ্যে বাদামি বাষ্প ওঠা ব্যথিত টি-স্টলের আগুন যারা রাত্রিকালে রিভিশান দেয়, সেখানে আমিও পেয়ে যেতে পারি দারিদ্র্য বিরচিত ঝরাপাতা, বহমান বিষাদ আর অকৃতকার্য ছাত্রের অশ্র“-পরিচিতি। যেমন তুমুল শাদা খাতায় উবু হয়ে জিরিয়ে নেয় নির্জনতার সা¤প্রতিকতম বঞ্চনা ; বিষণœ আলোর টিমটিম হাতছানি, মৃদুমন্দ শুকতারার চন্দ্রাহত ঘুমপাড়ানি ঘ্রাণ, ঘুমকাতুরে নিবিড় বৃক্ষরাজি, পানশালা—বাংলা মদ পেরিয়ে মাতাল রাস্তার ঢলে পড়া... তবু কী সকল অভাবের জোছনা ক্রোড়ে জড়িয়ে রাখতে পারে দূর অতিথিসম্পর্কের রাত ?

‘তুঁহু মম মন্দাক্রান্তা, নেশামন্ত বিভাসনিশুতি’-কেমন করেই যেন মানিয়ে যাচ্ছে খলিফা হারুন-অর-রশিদ... খলিফা অঝোর ঝরাপাতা। থরথর রাত্রি বিরচিত—বাড়ির পাশেও গাছেদের ঘোরলাগা...

৫.
এখনো কিছু দৌর্বল্য দূরবর্তী পাহাড়ের সবুজ গাছে, ঝিকিমিকি রোদে
হাজার যুগ যুগ মুহূর্তভাণ্ড বুক-সমুদ্দুরে, খেয়া হয়ে আছি
টানগণিতের সূত্রে ভাবনাসড়কে বিকারহীন দর্শন উঠে এলে
চোখের সম্মুখে দেখি গহীন পরিখা থেকে উঠে আসছে
লাল লাল আগুনের চোখ, প্রভাতসংগীত...
৬.
গগনে ঘুমন্ত মাঝি
তার নৌকা চন্দ্রগিরি পাড়ে লেগে আছে।

৭.
যে দরজায় নক করলো সে হচ্ছে আমি
যে দরজা খুললো সেও হচ্ছে আমি
যিনি কিছুই করলেন না তিনি হচ্ছেন
আমাদের লাশ
কবরে নেমে চকলেটের গন্ধ ছড়ান।

৮.
হে রেডিও, আমার প্রাণরে ভেতর হতে তাড়িয়ে এনেছো এই জেব্রা জবাই, আহত দৃশ্য- ভাঙা তোমার করুণ স্বও তাই। আর মধ্যরাতের অধৈর্য্য বাতাস বেয়ে সময়ের দিকে উঠে যাচ্ছে অস্থির শামুক; খোলসের গুরুভার, জীবনের ওজন, মাধুর্য্য, হাভাব, বেপথ এই রাতেই কী পার হয়ে যাবে আকাশের অদ্বিতীয় নক্ষত্ররচিত জ্বলজ্বলে স্তর, প্রজ্ঞাবৃক্ষ। যে আমি দাঁড়িয়ে আছি পাথর-পাত্রের ভেতর তা আজ ভরে গেছে রক্তে, অক্ষত শরীর থেকে কিভাবে যে এতো রক্ত বেরিয়ে আসছে- একাই উতরে গেলো ত্বকের প্রেক্ষাগৃহের দরজা, গাঢ রঙ, আড্ডা, মাতালের শিস, হাসি, বিষন্ন নিরিহ সুর, কামনা, সংলাপ।

প্রশান্ত নদীর পাশে শুয়ে আছি। জল আজ ধীরে ধীরে আলোসুতোর মায়াবী পথ ধরে ঐ পাহাড়ের দিকে চোখের আড়ালে তার শীতল তন্তুও পোষাক ছেড়ে আমাকেও ডাক দিচ্ছে বৃষ্টি শাবলের মত পৃখিবীর দিকে ছুটে যেতে।

শিশু শামুক, আজানা ঐ কীটরাজ্যে বরং তোমার সাথেই যাওয়া ভালো । লাখো জেব্রার পিঠের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে নিজের প্রথম নাম ভুলে যেতে যেতে রক্ত-গন্ধ ছড়ানো আমার দেহ তুলে দেব ক্ষুদার্থ সোনালী ঈগলের ঘরে।

৯.

আমি আর বাসের কাচের জানলায় আমার মুখ
পরস্পর কথা বলি, মাথা রাখি চুলে
সে বলে কীসের ভুলে তোমার গালটা এমন গরম ?

আমি বলি কই-তোমারটা তো ঠাণ্ডা
কীভাবে এ যাত্রীহীন সন্ধ্যায় আমার সাথে লুকোচুরি করো ?

আমার গলাটা গরম, কিন্তু তোমার আওতায় পৃথিবীর যাবতীয় রঙ্গমেলা

দুজনার আরও পরে আরও অনেক যন্ত্রণা শেষে দেখা হবার কথা ছিলো

দোষী হয়তো আমরা দুজনেই

১০.
সন্ধ্যা শেষের গলিতে দাঁড়িয়ে পাটল রঙের ঘোড়া। পিঠে তার ডানা নাই। দূর অতীতের আরবি ঘোড়ার এদেশি সহোদর, খর্বকায়। বাঁকানো শরীরে চাবুক আর ভারবহনের ক্লেশকর দাগগুলো কেউ একদিন হয়তো ঠিকই দেখতে পাবে। হ্রেষা নাই, চুপচাপ। আমি চিনতে চেষ্টা করি : ঘোড়াই বটে।

শুনি মধ্যরাতে তার হ্রেষা অকস্মাৎ ! আমাদের সুপ্তিঘোর চিরে লক্ষ-কোটি ঘোড়ার হ্রেষা তার সাথে একযোগে ছুটে চলে, ছুটে চলে রঙিন কাগজে বাঁধাই-করা বইয়ের মতো নিয়তির নানা মাঠ-বাট পার হয়ে...। সমস্ত নিয়তির শেষে পৌঁছানো যায় এখানে, এই প্রান্তরে, ঘোরলাগা পূর্ণিমায়। পড়ে আছে অশ্বের শাদা হাড়গোর। আর সর্বশেষ মীমাংসার শেষে যেন, অভিজ্ঞ শকুনেরা পাহারায়। তাঁরা বলে : ‘ঘোড়ারা পয়দা করে কেবলই ঘোড়া’।

মাঠের ওপারে সেই আয়ুবৃক্ষ। তার নিচে বসে আছে প্রবীণ শকুন। পাতা ঝরানো আর নাম-ঘোষণা এখন তারই আয়ত্তে। ঘোড়দৌড় তার খুব প্রিয়। সে বলে : ‘ঘোড়া দৌড়ায় জোরে...খুব জোরে। ঘোড়ার দলেই থাকে গাধা ও খচ্চর ; তারা দৌড়ায় না, হাঁপায়। দেখে সুখ আসে।’ এ সময় আয়ুবৃক্ষ হতে একটি পাতা ঝরে পড়লে সে ব্যস্ত হয়।

আমাদের উড়িয়ে নিতে চায় ফের তুমুল হ্রেষারব। দেখি কোটি কোটি অশ্বের অভিযান টলায়মান চাঁদের নিচে। জগতের সমস্ত আস্তাবল ভেঙে, কবিতা সঙ্গীত বা পটচিত্র থেকে, ক্যালেন্ডারের পৃষ্ঠা থেকে, রাত্রির তালাবদ্ধ সব চিত্রশালা পিছে ফেলে, প্রাচীন গুহার প্রস্তরিত অন্ধকার থেকে, ক্যানভাসের সদ্য-সমাপ্ত ছবি থেকে, অশ্বাসীন বীরের ভাস্কর্য থেকে বীরকে ভূলুণ্ঠিত করে ছুটে এসেছে সব ঘোড়া অদম্য অদ্ভুত দুর্বিনীত উল্লাসে...। তারা ছুটছে নির্বাধ স্রোত। উত্তেজনাবশত আমি চড়ে বসতে যাই। দেখি নিচে কাতরাচ্ছে সঙ্গিনী, এক ভয়ার্ত মাদী-ঘোড়া...গলায় আটকে গেছে হ্রেষা !

১১.

আজ রাতে আমি কোনো বান্ধবীর মোবাইলে হানা দেবো না, অপরিচিত হয়ে। আজ রাতে দূরের কোনো হরিণকে করবো না হ্যালো..., খাঁচাবন্দি করার লোভে। আজ সারারাত প্রার্থনা করবো প্রেতাত্মা ও লোডশেডিংয়ের। প্রার্থনা করবো সমুদ্রখেকো ঝিনুকের। পুজো করবো ডাইনির মোহনীয় আত্মার। আজ রাতে আমার সমস্ত শরীরের, আমার শরীরের সমস্ত পৃথিবীর এবং পৃথিবী-ঊর্ধ্ব জগতের ভেতর সবকিছু মিইয়ে যাবে। আমার নাভি থেকে বেরিয়ে একটা শিকড় গেঁথে যাবে মাটিতে। আমি হয়ে উঠবো পৃথিবীর প্রাচীনতম শিশ্নগাছ
তুই কী হবি, বলতো, আমার রোদ্দুর ?

১২.

পিঠে বৃষ্টি ঠেকিয়ে শীত আমাকে থ্রেট দিচ্ছে
-যাব যাব বলেছিলাম, যাইনি এখনো।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: গদ্য  বিভাগে ।

 

  • ৫৯ টি মন্তব্য
  • ৮১৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৯ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৪৫
comment by: অ রণ্য বলেছেন: এই কবিতা গুলোর পিঠে কোন কমেন্ট করবার মত ভাষা পাচ্ছিনা
এবং এও জানি একটা নির্দিস্ট গ্রুপ ছাড়া এইখানে কেউ কমেন্টও করবেনা
যেমনটা আমি এক জাগায় লিখেছিলাম
এই রকম .....


[[আজ আমরা তারাই কেবল কবিতাকে আঁকড়ে ধরে আছি, লালন বা প্রতিপালন করছি, যারা কোন না কোনভাবে কবিতার সাথে জড়িত, বাকিরা কবিতাকে ছেড়ে দিয়েছে অনেক আগেই৷ এ নিয়ে আমার একবার বেশ তর্ক হয়েছিল এক কবির সাথে এবং উনিও মেনে ছিলেন, হ্যাঁ, উনার পরিমন্ডলেও কথাটি চরম সত্য যে, আমরা যারা কোন না কোন ভাবে লেখালেখি বা কবিতার সাথে জড়িত আছি, তারাই কবিতাকে পৃষ্ঠপোষকতা করছি, বই কিনছি, পড়ছি৷ আসলে আমাদের আজকালকার অবস্থা প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে গেছে, যেখানে সৃষ্টি অজস্র কিন্তু তাকে বহন বা বিকাশের পথে এগিয়ে নেয়ার মাধ্যম প্রায় শূন্য৷ আমরা যা চেয়েছি তা হয়ত হচ্ছে এবং করছিও, কিন্তু পাঠকরা আমাদের থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে সরে যাচ্ছে৷]]

যাক সে কথা........আর এই কথাটি এখানে তুলে দিলাম এই জন্য যে এমন একটা পোস্টের পর একঘন্টা পেরিয়ে যাবার পরও.....দেখাচ্ছে মোট পঠন ১২ মাত্র.........

এমন একটা পোস্টও পাঠককে টানতে পারেনা...........!!

০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:২৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৪৮
comment by: অ রণ্য বলেছেন: ৭.
যে দরজায় নক করলো সে হচ্ছে আমি
যে দরজা খুললো সেও হচ্ছে আমি
যিনি কিছুই করলেন না তিনি হচ্ছেন
আমাদের লাশ
কবরে নেমে চকলেটের গন্ধ ছড়ান।



এই কবিতাটি আমার মনের মধ্যে অন্যরকম অনুরণন তুলেছে
বিশেষ করে শেষ লাইনে চকোলেট শব্দের প্রয়োগ.....কবিতাটিকে পাঠকের জন্য এমনভাবে উন্মুক্ত করেছে যে............কোন শ্রেণীর পাঠকের জন্য ভাববার দিগন্তের পরিধি কিছুমাত্র কম পড়বেনা...........
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:২৫

লেখক বলেছেন: সেটাই।

৩. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৫০
comment by: মৃদুল মাহবুব বলেছেন: "আয়াজের সাইকেল আমি পাহারা দিচ্ছি জাহানারাদের ডিহি গলিতে

সাইকেল নিয়েও ভেতরে যাওয়া যায় কিন্তু এতটা পিচ্ছিল পথে আয়াজ একাই
যাক আর আসুক আর যাক। আমি বরং নিঃশব্দে মাঠের দিকে যেতে যেতে দেখি—
জাহানারাদের প্রতিটি বোনের ভেতর তাস খেলছে চারজন করে আর ভেতর থেকে
কারো দরজা খোলার অপো করছে আয়াজের অসংখ্য মুখ

সাইকেল কাঁপে, আয়াজের সাইকেল আমাকে পাহারা দেয় জাহানারার অসহ্য জঙ্গলে"

এই কবিতাটিও যুক্ত করা হোক।
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:২৬

লেখক বলেছেন: তোর মন্তব্যের মাধ্যমে যুক্ত হলো না কি?

মন্তব্যগুলোও তো লেখার অংশ।

৪. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৫৭
comment by: অ রণ্য বলেছেন: ওহ................দয়া করে বলে যান এইটা কার লেখা
আমি একটি মাত্র কবিতাতেই মাত হয়ে গেছি

কি লাইন

ভেতর থেকে কারো দরজা খোলার অপেক্ষা করছে আয়াজের অসংখ্য মুখ

যদিও পুরো কবিতাটিই অসম্ভব রকমের ভালো
অবশ্যই সংগ্রহে রাখার মত
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:২৯

লেখক বলেছেন: এখানে আমি যাদের লেখার উদ্ধৃতি দিলাম বা দিলাম না, তাদের কবিতাগুলোর স্বার্থেই কোনও কবির নাম বলতে পারবো না।

একজনের নাম বললে আরো এমন দাবি আসতে পারে, তখন কী করবো?

৫. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:০১
comment by: অ রণ্য বলেছেন: আমি এর আগে যেবার সবচে' আলোড়িত হয়েছিরাম কোন কবিতা পড়ে সেটি চনাব রাদ আহমেদের লেখা..............কবিতাটি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি.........তখনকার ঘঠনা যখন আমি সবেমাত্র লেখা শুরু করি এবং কবিতাটি আমাকে প্রচন্ডভাবে আকর্ষণ করে যায়.........




সাতাশি ডিগ্রী কোণ করে
দাঁড়ানো যাত্রীরা কাঁপছে জ্বরে কাঁপছে
ভেতরে দুষিত বাতাস

পশ্চিমাকাশ তোমার কপাল

কালো ছোট টিপ ছিল
বিকালের সূর্য

আমার জ্বরতপ্ত বাস থেকে
আরো বামে আরো বামে হাসফাঁস করে চলে যায়
সাদা বাড়ি অবমাননাকর
যার কাছে তারা সরে যায় দ্রুত যারা দুরে তারা-

আমার বাসের গায়ে জ্বর - আমার কন্ডাকটর
সাতাশি ডিগ্রী কোণ করে উপর থেকে
ভাড়া চাইছে

তা মেটাবে কে
আমি নাকি ঐ - ?
দর কষাকষি করি আর
আমাদের বামপাশে সূর্য

আমাদের বাম গাল পুড়ে যায় লাল আলো আমাদের
বামপাশে কালকের শার্ট গায়ে

দাড়িয়াল ভদ্রলোক
কালকের কালো টিপ
তোমার কপালের গায়ে সূর্য


[নোট: কবিতাটি কেবল শেয়ার করা...রাদ আহমেদের অনুমতি ব্যতিরকেরই....]
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:২৭

লেখক বলেছেন: রাদ আহমেদের কবিতা এখানে আছে কী না, সেটা ভালো করে খুঁজুন।

৬. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৩২
comment by: অ রণ্য বলেছেন: আমি জানিান টুকু ভাই
আপনি কি জানেন
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৫২

লেখক বলেছেন: না। আপাতত জানি না।

৭. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৪৬
comment by: অ রণ্য বলেছেন: খুঁজলাম আমি
পেলাম না................আসলে উনি কবিতাকে সামনে আনার প্রবণতা যথেষ্ট কমিয়ে দিয়েছেন

০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৫৩

লেখক বলেছেন: হয়তো।

৮. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৪৭
comment by: অ রণ্য বলেছেন: তবে মাঝে মাঝে হঠাত হঠাত এইখানে পোষ্ট করেন

ttp://kobitacard.com/mm-chdyo/muktomoncho/index.php
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৫৫

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে।

৯. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৫৮
comment by: অ রণ্য বলেছেন: এবার উপরের কমেন্টটা মানে রিপ্লাইটা উড়াইয়া দেন
নাহলে ভাববে আমি পাবলিসিটি করছি

০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ২:০৪

লেখক বলেছেন: আপনার কোনো কিছু ভারো লাগলে আপনি সেটার পাবলিসিটি করবেন না কেন?

১০. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ২:১২
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন:
পড়লাম... যথারীতি চমৎকার....

"পিঠে বৃষ্টি ঠেকিয়ে শীত আমাকে থ্রেট দিচ্ছে
-যাব যাব বলেছিলাম, যাইনি এখনো।"

কথাটা চুরি করলাম.. এখন শোভা পাচ্ছে আমার প্রোফাইলে... ধারা শুনিয়ে দেয়ার মত কেউ হাজির হবে না তো?

পরে কি যেন লিখবি আরো.. সেগুলোর অপেক্ষায় রইলাম।

যথারীতি প্রিয় পোস্টে গেল.... +
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:২১

লেখক বলেছেন: হ্যা, সামনে আরো কিছু বিষয় সামনে নিয়ে আসার ইচ্ছা আছে।

তুই যে কবিতাটা তোর প্রোফাইলে রাখলি, সেটি এক ব্লগারের। ব্লগ থেকেই নেয়া।

প্রিয় পোস্টে রাখার জন্য থ্যাকংস।

১১. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:৪৩
comment by: সেলিম তাহের বলেছেন: তিনটি পর্বই মনযোগ দিয়ে পড়লাম। পরিশ্রমলব্ধ এই দীর্ঘ পর্যালোচনার জন্য তারিক টুকু আপনার প্রশংসা করি।

আমি তত্ত্বালোচনায় যেতে চাই না, কারণ সেই অন্তরদৃষ্টি, মেধা বা মনন-কোনটাই আমার নেই।

শুধু একটা তাগিদ ও বোধ আমার ভিতরে সততই কাজ করে, নাড়া দেয়। আর সেটা হলো, অক্ষরবৃত্ত ছন্দই পাড়ে পাঠককে আবার কবিতার ঘরমুখো করতে। শুণ্যদশকের কবিতা থেকে আজ প্রাকৃত বা লৌকিক ভাষা অপসৃতপ্রায়। তথাকথিত প্রমিত ভাষার চর্বিতচর্বনের উত্তরআধুনিকতা এক ফ্যাশনদুরস্তে পরিণত হয়েছে যেন ইদানিংকার কবিতাগুলোয়...তা সে কবিতার শরীর কে ধারণ করুক চায় না করুক।

কবিতা থেকে আমরা কী উৎপাদন করি? কেবল স্মৃতি। স্মৃতির ক্রমাগত সামাজিক ও রাজনৈতিক পুনরুৎপাদন ইতিহাসের প্রধাণতম উপাদান।

কবিতা স্বয়ং জ্ঞান নয়, জ্ঞানের ইঙ্গিত মাত্র।
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৩৪

লেখক বলেছেন: সেলিম তাহের,

'শুধু একটা তাগিদ ও বোধ আমার ভিতরে সততই কাজ করে, নাড়া দেয়। আর সেটা হলো, অক্ষরবৃত্ত ছন্দই পাড়ে পাঠককে আবার কবিতার ঘরমুখো করতে।'

এই কথাটা আমি আরেকটু ঘুরিয়ে বলতে চাই। বলতে চাই : শুধুমাত্র ভালো কবিতাই পারে যারা কবিতা পড়া ছেড়ে দিয়েছেন তাদের দিয়ে আবার কবিতা পড়াতে। এখানে ছন্দ বা দর্শনকে আমরা না-ই ভাবলাম। সেটা অন্তশীলভাবে আসুক।

লৌকিক /প্রাকৃত ভাষার ব্যাপারে যেটা বল্লেন সেটা নিয়ে আমার খানিক দ্বিমত রয়েছে। আমি মনে করি, প্রাকৃত/লৌকিক ভাষা..প্রমিত ভাষা...পোস্টমর্ডানিজম এদের কে একটেবিলে বসানো যায় না। উত্তরআধুনিকতার নাম করে এই দেশে বহু কিছু হয়েছে, লৌকিক ভাষায় লেখালেখি ও করিয়েছেন অনেক লিটলম্যাগ। কিন্তু, সেই যে প্র্যাকটিস, সেটা থেকে আমরা কী পেলাম,আজো জানি না। তাই মোটাদাগে ভাষার জন্যই এসব হচ্ছে, এটা বলা যাবে না হয়তো।

‌‌'স্মৃতির ক্রমাগত সামাজিক ও রাজনৈতিক পুনরুৎপাদন ইতিহাসের প্রধাণতম উপাদান।'
-এটাতো একভাবে নীটশেরও কথা। স্মৃতি পুনুরুৎপাদিত হয়, ঘুরে আসে।

'কবিতা স্বয়ং জ্ঞান নয়, জ্ঞানের ইঙ্গিত মাত্র। '

এটাই বোধহয় আমাদের কথা, কবিতা দর্শন নয়, সে পাঠককে তৃপ্ত করা ছাড়া আর কিছু করতে পারে না। সে যে ইংগিত দেয় সেটা জ্ঞান হতে ও পারে আবার না ও হতে পারে।

১২. ০৯ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১০:৪৬
comment by: অ রণ্য বলেছেন: নাম না বলাই ভালো টুকু ভাই
কবিতার স্বাদ আস্বাদন করিনা কেন

কবিতা এইখানে স্বয়ং এমনরুপে ধরা দিয়েছে যে
নাম অতি গৌণ..........
০৯ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৫৩

লেখক বলেছেন: হ্যা,সেটাই।

১৩. ১০ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:০৫
comment by: সুতরাং বলেছেন: আমাদের সময়ে লেখা কার যেন একটি কবিতার দু'টো লাইন আমার খুব পছন্দ-
আমি প্রতিদিন নতুন পথ
হারিয়ে যাওয়া ছেলেটির চোখে
১০ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৩

লেখক বলেছেন: শাওন ভাই, ধরে নেন আপনার এই দুটি লাইন ও এখানে যুক্ত করা হলো।

কেননা, কবিতার প্রবণতা একজনে চিহ্নিত করতে পারে না, অনেকে মিলেই করেন। আর অনেক ভাল কবিতা আমার চোখের আড়ালে ও থাকতে পারে। এমনকী বোধগম্য নাও হতে পারে। কিন্তু তার জন্য তো পাঠক আছেনই।

পাঠকই তার মতো করে নিজের লিস্ট বানিয়ে নেবেন।

ভাল থাকবেন, ধন্যবাদ।

১৪. ১১ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:০৪
comment by: মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: মজার আলোচনা হয়েছে।ভালো লাগলো।ব্যস্ততার কারণে অংশ নিতে পারলাম না।তবে আপনার প্রয়াস প্রসংশনীয়।ভালো থাকুন।
১১ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১:৪৩

লেখক বলেছেন: যাক, আপনি যে সময় করে আসতে পেরেছেন, তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ভালো থাকবেন।

১৫. ১১ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১:৫৬
comment by: সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:

জব্বর কথাবার্তা হইছে
+
১১ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৬. ১১ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:০৫
comment by: সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:
তারিক টুকু

গতকাল আসলে সমযের অভাবে তড়িঘড়ি একটা কমেন্ট করে চলে গিয়েছিলাম। আর আজাইরা গুতাইন্না পাবলিকও আমার সময় খেয়ে ফেলেছিলো।
কিছু ইলাবরেট মন্তব্য পোস্টের দাবীর প্রেক্ষিতে দু'টি কথা বলতে চাইছি। প্রথমেই বলে নেই, কবিতার ইন্টারপ্রিটেশনের বেলায় আমার সীমাবদ্ধতা আছে। অনেক কবিতার অন্তর উপলব্ধিতে না-আসলেও ভালোলাগাবোধের ছোঁয়াকে প্রত্যাখ্যান করতে পারি না। কবিতার এই কেরামতি অতীতেও ছিলো এখনো আছে ভবিষ্যতেও থাকবে। আমি মুলতঃ বিগত শতকের নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে কবিতার ভূবনে ঢুকেছি। লিটলম্যাগকেন্দ্রিক চর্চাই অল্প-বিস্তর। এরপর আবার হঠাৎ বিক্ষুব্ধ অভিমানে প্রায় আধেক দশক সাহিত্য থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু আবার স্বয়ংক্রিয় তৃষ্ণার্ত হয়ে শিল্প-সুন্দরীর ভালোবাসার কাছে ফিরে আসি। কবিতার জনম দেয়ার চেষ্টা বা পঠনের মাধ্যমে কবিতার ভালোবাসা আমাকে সাইকোথেরাপী দ্যায়। এটা আমার এই ভাসমান জীবনে অনেক পাওয়া।

কিঞ্চিত আলোচনায় আসি।
উদ্ধৃতি-১
টানা গদ্যের আঙ্গিক বিগত শতাব্দির শেষ দশকেও বহু চর্চিত। এখনো মায়া ছড়ায় এবং প্রবণতাও লক্ষণীয়। তৎসম শব্দের ব্যবহার কম হওয়াতে মিহি-মাধুর্য্য লেগে আছে কবিতার শরীরে। আর অন্তরে-মা, পৃথিবীর তাবৎ নারী মায়ার আধার, বাবা যাকে খুঁজে পান কিন্তু মা প্রজাপতি-মায়া রিক্ত। এই বেদনাকে দেখা যাচ্ছে স্ফুট হয়েছে মর্মস্পর্শী হয়ে।

উদ্ধৃতি-২
অঙ্গসৌষ্ঠব মেদভুরিহীন মোলায়েম মধুর আর অন্তরে আত্মপ্রীতি।

উদ্ধৃতি-৩
অন্যরকম আবহ বুনন গঠন।
গিনিপিগদের লক্ষনীয় বনভূমি থাকে না মুলত।
এখানে চিত্রকল্পেরা বহুমাত্রিক।

উদ্ধৃতি-৪
চিত্রকল্প মধুর লেগেছে।
কিন্তু কি কথা কহিতে চাহিলেন, বোধগম্য হইলো না।

উদ্ধৃতি-৫
জীবনানন্দ বাবুর কবিতার মতো মায়া লাগলো। পরিখা থেকে উঠে আসতে থাকা আগুনের চোখ কি সংহারী?


উদ্ধৃতি-৬
হুমম..
অনেক মাঝিরাই আকশে ঘুমিয়ে থাকেন এই সময়ে।

উদ্ধৃতি-৭
ওরে বাপরে!
ঠিক তো, জীবন্ত আমি প্রশ্ন বানাই উত্তরও বানাই
লাশ এসব থেকে মুক্ত।


পরের চারটি উদ্ধৃতিসমূহে সুন্দর শব্দ বাক্য চিত্রকল্প আছে। তবে ওখানে মক্তব থেকে চুল খোলা যে সুন্দর মেয়েটি বেরিয়ে এলো তার নাম আয়শা আক্তার নয়, তার নাম-পরিচয়হীনতা দেখতে পেলাম।

সব শেষে অধমের একখান কথা, এই প্রকারের ধ্রুপদী পংক্তিরা বিশেষ শিক্ষিত সীমিত সংখ্যক পাঠক-মন ধৌতকরণে সক্ষম। অবশ্য ইহাও সত্য যে অনেক কবিতা কবি নিজের জন্যই লিখিয়া থাকেন। কবিতা ধ্রুপদী হইয়াও তো বোধগম্য রূপ পাইতে পারে যদি কবি সেইদিকে খেয়াল রাখেন। যদিও জানি, জীবনানন্দ দাশের অবচেতনের অনেক চিত্রকল্প পাঠক বোধের বাইরে অথচ সুন্দর মায়াময়।
১১ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:০০

লেখক বলেছেন: আজাইরা গুতাইন্না পাবলিকও আমার সময় খেয়ে ফেলেছিলো।

- এই গুতাইন্না পাবলিক -দের ব্লগে আমিও যেতে চাই, কিন্তু পারি না, কেননা, খুব বেশি সময় নষ্ট হয় এতে। যাক, বিষয়টি আপনিও বোঝেন নিশ্চয়ই।

আমরা পাঠকেরা না জানতে পারি, কিন্তু এই লেখাটি যখন কোনো লেখক পড়বেন- যার কবিতা এখানে আছে, তিনি তো আপনার কমেন্ট দেখবেন। আশাকরি, তিনি এই কমেন্ট থেকে তার কবিতা সম্পর্কে আরেকটু জানবেন।

আমার মনে হয়, কবিতার চর্চাটা আরো বেশি অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে হওয়া উচিৎ। যেমন এই ব্লগ। এটা নিশ্চয়ই নত্য যে, অনেকের কবিতা এখানে একদমই পড়া যায় না, কিন্তু এও সত্য যে, দৈনিক বা লিটলম্যাগের তালিকাভূক্ত লেখক না হয়েও অনেকে, আমার ধারনা, বেশ ভালো লিখছেন।

যাক, আপনার মতামত আমারো ভালো লেগেছে। তাই অনেক ধন্যবাদ।

১৭. ১২ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:২৬
comment by: কৃত্তিবাস বলেছেন: আপনি কি প্রবণতা বলতে সব আপনার কবিতা দিয়াছেন, নাকি কাদের কাদের টা দিয়াছেন তাহার নাম কইবেন?

না হইলে আমরা কেমনে বুঝমু?
১২ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৭

লেখক বলেছেন: আমার ধারনা আপনি শুন্য দশকের কবিতা পড়েন না। পড়লে এমন মন্তব্য করতে পারতেন না।

কে কীভাবে বুঝবেন, সেটা তো তিনিই ঠিক করবেন। আমি ভাই কাউকে বোঝানোর জন্য ব্লগিং করি না।

১৮. ১২ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:২৮
comment by: কৃত্তিবাস বলেছেন: আপনে আগে আপনার কবিতার প্রবণতা কি সেইটা আমাগোরে কন, না হইলে আপনে কী বলতেছেন সেইটা পরিষ্কার হইবো না।

আর একটা কথা, আমাদের কবিতা নিয়া লেখনের দায়িত্ব আপনেরে কে দিলো? মৃদুল মাহবব আর আফনি বুদ্ধি কইরা এইটা করচেন কি?
১২ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৩

লেখক বলেছেন: আমার কবিতার প্রবনতা কী সেটা আমার লেখা পড়ে আপনাকে বুঝতে হবে, আমি বলতে যাবো কেন?

আর আমাদের কবিতা নিয়া আমাকে লেখার দায়িত্ব কে দিলো, এটা আমাকে না জিজ্ঞাসা করে শুন্য দশকের কোন কবিকে জিজ্ঞাসা করেন, উত্তর পেয়ে যাবেন।

মৃদুল এর প্রসঙ্গ আসলো কোত্থেকে ? দেখি আপনি এই লেখাটার পেছনে আমার + মৃদুলের কোন যোগসাজশ আবিষ্কার করতে পারেন কী না। আশাকরি এ বিষয়ে কমেন্ট বা পোস্ট দেবেন। পালিয়ে যাবেন না।

১৯. ১২ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:২৯
comment by: কৃত্তিবাস বলেছেন: এই দুই বন্ধু আসলে কি চান?
১২ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৫

লেখক বলেছেন: আপনার কি মনে হয় ? পোস্ট বা কমেন্ট দেন। সাহস থাকলে পালাবেন না।

২০. ১২ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:০০
comment by: আপন মাহমুদ বলেছেন: টুকু খুব জামেলায় আছি। প্রথম পর্বটা পড়লাম। ভালো লেগেছে। আপনার সঙ্গে দেখা হলে বিস্তারিত শেয়ার করতে পারতাম। অনেকেরই চোখে ছাই পড়বে আপনার এ উদ্দ্যোগে। আপনি আপনার মতো হাঁটুন।
১২ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৮

লেখক বলেছেন: আপন আপনাকে ধন্যবাদ। যারা নাম গোপন করে ব্লগে বা রিয়্যাল লাইফে নানান সমালোচনা করতে চায়, তাদের প্রতি আমার করূণা হয়।

খুব করূণা হয়। এদের শক্তি ও সামর্থ (লেখালেখির) নাই বলে আরেক জনের উল্টা পাল্টা সমালোচনা করতে একধরনের আনন্দ বোধ করে।

এটাও এক ধরনের বিকৃতি।

২১. ১২ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১২
comment by: আপন মাহমুদ বলেছেন: হ্যা, এটাকে এক ধরনের শিকনেসও বলা যেতে পারে। রাইট ওয়েতে সমালোচনার যোগ্যতাও এদের নেই। এদের জন্ম দুর্গন্ধ ছড়ানোর জন্য।
১২ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:১৯

লেখক বলেছেন: খুব করূণা হয় এদের জন্য।

২২. ১২ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:৫৬
comment by: মৃদুল মাহবুব বলেছেন: @ কৃত্তিবাস, আপনারে কেমন চেনা চেনা লাগতাছে বস। সব ভালো তো? ভালো হইলেই ভালো। দেখা হবে। আর দেখাতে হয়ই, কি বলেন?
১৩ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ২:৩৬

লেখক বলেছেন: মৃদুল, কী লিখবো।

করূণা হয় রে... আহ!

২৩. ১৩ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:০৩
comment by: আপন মাহমুদ বলেছেন: যারা আসল পরিচয় িনয়ে সামনে আসতে ভয় পায়। তাদের জন্য আমার পক্ষ থেকেও " ক্ষমা"।
১৩ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:২০

লেখক বলেছেন: সেটাই। চলেন আমরা সবাই উনাকে ক্ষমা করে দেই।

২৪. ১৩ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:০৯
comment by: অ রণ্য বলেছেন: ক্ষমা করে দিই
না করতে পারলে নিজেরাই অপরাধী বোধ করব
চলুন এদের ক্ষমা করে দিই
১৪ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৪:২১

লেখক বলেছেন: চলুন।

২৫. ১৪ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৫৩
comment by: আপন মাহমুদ বলেছেন: "জাহানারাদের প্রতিটি বোনের ভেতর তাস খেলছে চারজন করে আর ভেতর থেকে
কারো দরজা খোলার অপেক্ষা করছে আয়াজের অসংখ্য মুখ "

মৃদুল, আপনি যে কবিতাটা যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন তা সত্যি অসাধারণ__ আমারও মনে হয় এটা অনায়াসে যুক্ত করা যায়।


(ওর জন্য আমার বগলে গতকালের জমা
....সবটুকু ক্ষমা)
১৪ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:০৯

লেখক বলেছেন: করা যায় :)

২৬. ১৪ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪২
comment by: সোমেশ্বর অলি বলেছেন: ব্লগে আমি এতোটাই অনিয়মিত যে, অনেক ভালো লেখায় মন্তব্য করতে পারি না। টুকুর লেখাটুকু পুরোপুরি এখনো পড়িনি। বিভিন্ন মন্তব্য ও কবিতাংশ দেখে বুঝি বেশ পরিশ্রমী একটি লেখা। এ পর্বে উল্লিখিত কবিতাংশগুলো সত্যিই ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ টুকু...সাধুবাদ...
২৭. ১৪ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৮
comment by: সোমেশ্বর অলি বলেছেন: ব্লগে আমি এতোটাই অনিয়মিত যে, অনেক ভালো লেখায়ও মন্তব্য করতে পারিনা। এ পর্বটা পড়েছি। কবিতাগুলো পড়ে সত্যি ভালো লেগেছে। কবির নাম প্রকাশ করলে মন্দ হতো না। ধন্যবাদ টুকু। সাধুবাদ...
১৪ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:১০

লেখক বলেছেন: অলি, অনেক অনেক ধন্যবাদ।

কেমন আছেন?

২৮. ১৫ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৯:৪০
comment by: মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: @সুতরাং
আপনার ভালো লাগা কবিতাটি সাইদ জুবেরীর একটি কবিতার সাথে প্রায় পুরোটাই মিলে যায়,কয়েকটা শব্দ এদিক ওদিক।এ আলোচনাতেও জুবেরীর একটি কবিতার উল্লেখ পেলাম(বৃস্টি),অন্যদের কিছু কবিতাও পরিচিত ঠেকলো,সে প্রসংগে গেলাম না।
যাহোক সেই কবিতাটা দেখার জন্য এখানে দেখুন-
পথ

১৭ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:১৩

লেখক বলেছেন: :)

২৯. ২০ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:২৮
comment by: জেন সাধু বলেছেন: ভালো।
২১ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:৫৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩০. ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৮ ভোর ৪:৫১
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: শেষ পর্যন্ত ছিলাম। পরিশ্রমের একটি কাজ করেছেন পাঠকদের জন্য,ধন্যবাদ।
১১ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:১৮

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ

 



 


© ২০০৭-২০০৮ তারিক টুকু
tariquetuku(@)gmail(.)com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ