
ছোটবেলার স্কুল পালানোর গল্পগুলো আজও মনে পড়লে হাসি পায়। পড়াশোনার চেয়ে টিফিন পিরিয়ডে বন্ধুদের সাথে হইহুল্লোড় আর লুকিয়ে পালানোর নেশাই তখন বেশি ছিল।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (ওজোপাডিকো, রূপাতলী) পড়ার সময়কার কথা:
একবার টিফিনে স্কুল পালিয়ে বাসার দিকে যাচ্ছি। পাওয়ার হাউসের কোণার জঙ্গলঘেরা পথে হঠাৎ মুখোমুখি বাবার সাথে! সেই ধরা খাওয়ার পর যে মার খেয়েছিলাম, তা আজও মনে পড়ে। বাবা ছিলেন আমার প্রথম 'নিরাপত্তা বেষ্টনী', যার ভয়েই তখন তটস্থ থাকতাম।
পরবর্তীতে রূপাতলী জাগুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়কার কিছু ঘটনা:
১. হেডমাস্টার স্যারের কানমলা: একবার টিফিন পালিয়ে উকিল বাড়ী সড়কের মাথায় দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ রিকশায় স্যারের সাথে দেখা! আমাদের হেডমাস্টার শ্রী শ্রী রবীন্দ্রনাথ সুতার স্যার কাছে ডেকে যে কানমলাটা দিয়েছিলেন, তা আজও আমার জীবনের সেরা শিক্ষা।
২. দোকানের নিচে লুকোচুরি: ক্লাসের পর ক্লাস ফাঁকি দিতে স্কুলের পাশের দোকানের নিচে লুকিয়েছিলাম। কিন্তু স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জলিল কাকা (মারা গেছেন) আমাকে দেখে ফেললেন। তাঁর চেনা চোখ ফাঁকি দেওয়ার সাধ্য কার! তিনিই আমাকে ধমক দিয়ে স্কুলে ফেরত পাঠিয়েছিলেন।
৩. ফনিক্স সাইকেলে গাবখান অভিযান: একবার বাবার সেই দামী 'ফনিক্স' সাইকেলটা নিয়ে টিফিন পিরিয়ডেই পাড়ি দিয়েছিলাম গাবখান সেতু পর্যন্ত। বিদেশ ফেরত মামার দেওয়া ডলার ভাঙিয়ে বন্ধুদের নিয়ে খাওয়া-দাওয়া—সে ছিল যেন এক বিশাল অভিযান!
৪. নানা বাড়িতে বিনা নিমন্ত্রণে ভোজ: বন্ধুদের নিয়ে স্কুল পালানোর আরেক গন্তব্য ছিল নানা বাড়ি (রূপাতলী গ্যাস্টারবাইন কাছে)। খালাদের হাতের রান্না করা আলুর ভাজি আর মোলা মাছের স্বাদ আজও জিভে লেগে আছে। এখন বুঝি, না বলে অত মানুষ গিয়ে হাজির হওয়াটা কতটা অবুঝপনা ছিল!
ছোটবেলার এই দুষ্টুমিগুলোই আজ বড় সুন্দর স্মৃতি হয়ে আছে। আপনারা কি স্কুল জীবনে এমন কোনো 'অপারেশন' চালিয়েছেন? শেয়ার করতে পারেন কমেন্টে!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





