
মাঝে মাঝে মানুষের মনস্তত্ত্ব দেখে বড় অদ্ভুত লাগে। আমরা মুখে যত কথাই বলি না কেন, সংকটের মুহূর্তে মানুষ তার স্বার্থের মুখোশটা খুলে ফেলে। অথচ রক্তের সম্পর্কের চেয়েও বড় পরিচয় হলো মানুষ হওয়া। কিন্তু সেই মানুষ হওয়াটাই আজকাল সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনাটা বেশি দিন আগের নয়। আমাদের এক আত্মীয়ের মেয়ের একটা প্রেমের বিয়ে হলো। ছেলেটা সরকারি চাকরি করে, দেখতে-শুনতেও ভালো। কিন্তু সমাজের তো স্বভাবই হলো অন্যের সুখে কাঁদা ছিটানো। চারপাশের মানুষ নানা কানাঘুষা শুরু করল—মেয়ে নাকি পালিত, পরীক্ষায় এক বিষয়ে ফেল করেছে। এই সামান্য অজুহাতে ছেলের পরিবার বেঁকে বসল। মেয়ের নিজের বাবা পর্যন্ত নিজের মেয়ের পরিচয় অস্বীকার করে বসল! অথচ তরুণ বয়সের সেই ভালোবাসার টান আর আকুলতাটুকু তো মিথ্যে ছিল না। অনেক ঝামেলা পেরিয়ে, লুকিয়ে-চুরিয়ে যখন বিয়েটা হলো এবং আমরা যখন মীমাংসা করতে গেলাম, তখন উল্টো আমাদেরকেই অপমান সহ্য করতে হলো। নিজের সন্তানকে নিয়ে এমন উদাসীনতা ও নিষ্ঠুরতা ভাবাই যায় না।
ছোটবেলায় রূপকথায় একটা গল্প শুনেছিলাম। এক রাজার খুব শখ হলো সে নিখুঁত সোনা বানাবে। সে রাজ্যের সেরা লোহালক্কড় গলিয়ে একাকার করল, কিন্তু সোনা আর পেল না। কারণ আসল সোনা বানাতে হলে যে কাঁচামালের খাঁটি মন দরকার, সেটা তার জানা ছিল না। আমাদের সমাজেও আজ ভালোবাসার সোনা খুঁজতে গিয়ে আমরা স্বার্থপরতার খনিকের লোহা পেয়ে যাই। রক্তের সম্পর্ক শুধু জন্ম দেয়, কিন্তু মন বড় না হলে সেই সম্পর্ক একটা ভারী বোঝার চেয়ে বেশি কিছু হয়ে ওঠে না।
শেষ পর্যন্ত ছেলে-মেয়েটা ভালো আছে শুনলে শান্তি লাগে। তবে সমাজের এই নির্মম রূপটা চোখের সামনে ভেসে উঠলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিইবা দেওয়ার থাকে? মানুষ দিন দিন বড্ড স্বার্থপর আর সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠছে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




