somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খামচি বৃত্তান্ত!!!

২৭ শে জুন, ২০১১ রাত ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি যখন পিচ্চি ছিলাম তখন আমার পপি নামের এক বান্ধবী ছিল।বান্ধবী বললাম এই কারণে যে তখন বন্ধু বলতে শুধু ছেলে বন্ধুকেই বুঝানো হতো। তাই আমাকে শেখানো হয়েছিল বান্ধবী। কি এক অদ্ভুত কারণে আমার এই নামটা খুব পছন্দ হয়েছিলো। কেউ জিজ্ঞেস করুক আর না করুক আমি সবাইকে আগ বাড়িয়ে বলতাম, “ আমরা বান্ধবী”। যেটা বলছিলাম পপির ছোট ভাইটার নাম ছিল রাব্বি। রাব্বি ছিল দস্যু টাইপের ছেলে। মারামারিতে ও খামচা-খামচিতে এক নাম্বার।সকল প্রকার মারামারি আর খামচা-খামচির প্রশ্রয়দাতা ছিল রাব্বি।আমি যখন ওদের বাসায় খেলতে যেতাম তখন দেখতাম ওরা খেলা টেলা বাদ দিয়ে মারামারিতে ব্যস্ত। ভয়ংকর দৃশ্য ছিল। সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে চলত ওদের চিল্লাচিল্লি আর কান্নাকাটি =p~ =p~ =p~ । ওরা মারামারি করতো আর আমি এক কোনায় বসে এইগুলা দেখতাম। দস্যু ভাইটার কল্যাণে পপির হাতে মুখে শুধু খামচির দাগ ছিল। কিন্তু পপি ও ছেড়ে দেয়ার পাত্র ছিল না। রাব্বি একটা খামচি দিলে পপি দুইটা খামচি দিতো। এই কারণে এই ভাই-বোন এলাকায় বেশ পরিচিতি লাভ করেছিল।

একদিন আম্মু আমাকে বলল যে আমি যেন পপিদের বাসায় প্রতিদিন না যাই। আর গেলেও মারামারি চলাকালীন সময় যেন বাসায় চলে আসি। আসলে আম্মুর উদ্দেশ্য ছিল আমি যেন ওদের কাছ থেকে মারামারি-খামচাখামচি না শিখি। তো ওইদিন বিকেল বেলা যখন পপি আসল তখন আমি পপিকে বললাম যে,” তোমাদের বাসায় আর যাবো না। আমার আম্মু নিষেধ করেছে।“ পপি কিছুক্ষণ ঘ্যানঘ্যান করে চলে গেল। আসল ঘটনা ঘটল সন্ধ্যা বেলা। পপির আম্মু এসে আমার আম্মুকে বলল, “ আপনি নাকি আপনার মেয়েকে আমার বাসায় যেতে নিষেধ করেছেন। আমার মেয়ের সাথে মিশতে নিষেধ করেছেন।কারণ কি? আমার মেয়ে কি এতই খারাপ যে আপনি মিশতে নিষেধ করবেন............ইত্যাদি ইত্যাদি X(( X(( X((।" যাইহোক, আম্মু অনেক কষ্টে পরিস্থিতি সামলালেন।তারপর, পপির আম্মু যাওয়ার পর আচ্ছামত আমাকে ঝাড়লেন।আমি আবারও পপিদের বাসায় যাওয়া শুরু করলাম আর খামচা-খামচি দেখতে লাগলাম =p~ =p~ =p~


এক সময় পপিরা বদলী হয়ে চলে যায়। তারপর অনেকদিন খামচা-খামচি দেখি নাই। অনেক অনেক বছর পর ঈদ উদযাপন করতে দাদু বাড়ি গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি দস্যু টাইপের এক পিচ্চি।বয়স তিন বছর। তিন বছর আগে যখন এসেছিলাম তখন এই পিচ্চিকে দেখি নাই।কিছুক্ষণ খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলাম এই পিচ্চি আমার মেজো চাচার ছোট ছেলে। দস্যুটার নাম নাঈম। ওর বড় বোন কে দেখে আমি রীতিমতো টাস্কি খেলাম। কারণ ওর হাতে-মুখে- চোখে খামচির দাগ। এইগুলা দেখে পপি –রাব্বি কথা মনে পড়ে গেল। জিজ্ঞেস করতেই বলল যে এইসব ওই দস্যুটার কাজ। তারপর কিছুক্ষণ পর দস্যুরুপী নাঈম আমার কোলে চড়ে বসলো। কিন্তু কি মনে করে জানি ছেলেটা কোল থেকে নামার সময় আমার গালে একটা খামচি বসিয়ে দিল। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এর কোন প্রতিশোধ নিতে পারলাম না। আর মুখে খামচির দাগ নিয়ে এক করুণ ঈদ উদযাপন করলাম সেবার :(( :(( :(( :(( ।এখন নাঈমের বয়স সাত কি সাড়ে সাত হবে। শুনেছি এখনও সে তার খামচিপনা চালিয়ে যাচ্ছে। আর তার প্রধান এবং প্রিয় শিকার তার বড় বোন;)


এরপর আরও কিছু খামচি হামলার শিকার হয়েছি। ওগুলো বেশী টেকসই ছিল না বলে বিস্তারিত কিছু বললাম না। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। পিচ্চিকালে এত খামচা-খামচি দেখেও কখনও কাউকে খামচি দেই নি। অথচ এই বয়সে এসে অন্যরা আমার খামচি হামলার শিকার হচ্ছে।গত এক বছরে আমার খামচি হামলার শিকার দুইজন। মেজাজ খুব খারাপ হয়েছিলো দেখে ভাইয়াকে দুইবার খামচি দিয়েছি। কিন্তু কোনবারই আমার ভাই কোন ব্যাথা পায় নি। এই কথা শুনে মেজাজ আরও খারাপ হয়েছিলো। ঢং আর কি!!! এত বড় বড় নখ দিয়ে খামচি দিলে ব্যাথা পাবে না!! কি আশ্চর্য!!! আর সর্বশেষ আমার খামচি হামলার শিকার হয়েছে রিকি পন্টিং। সে ও কোন ব্যাথা পায় নি। অবশ্য তার মতে , “আমার কোন কিছুতেই ব্যাথা লাগে না”:P ।চিন্তা করছি সাধের নখ গুলো কেটেই ফেলবো................................................/:)/:)/:)

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০১১ দুপুর ১২:৪৯
১৯টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এসো ঈদের গল্প লিখি..... পড়ি

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১


আরও অনেকের গল্প পড়ার অপেক্ষায়..... স্বপ্নের শঙ্খচিলভাইয়া, নতুন নকিবভাইয়া, প্রবাসীকালোভাইয়া,ওমর খাইয়ামভাইয়া, হুমায়রা হারুন আপুনি, করুনাধারা আপুনি, মেহবুবা আপুনি, রাজীব নূর ভাইয়া, রানার ভাইয়ার গল্প পড়তে চাই, জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×