
১। আমাদের এলাকায় মুদি দোকানে কাজ করে জাহিদ।
জাহিদের বয়স ২৪/২৫ হবে। সহজ সরল ভালো একটা ছেলে। জাহিদের সাথে আমার বেশ খাতির আছে। সময় পেলেই সে আমার কাছে আসে। নানান বিষয়ে আমি গল্প করি। জাহিদ খেতে পছন্দ করে। এবং যে কোনো খাবার হাসি মুখে খেয়ে ফেলে। খাবারে তার না নাই। মুদি দোকানে সপ্তাহে একদিন ছুটি। সেদিন জাহিদ ঘুরে বেড়ায়। পকেটে টাকা থাকলে ঢাকার বাইরে চলে যায়- ফ্রি খাওয়ার জন্য। যাতায়াত ভাড়া না থাকলে কোনো মাজারে চলে যায়। সেদিন গেলো মিরপুর মাজারে। কারণ বৃহস্পতিবার মিরপুর মাজারে খিচুড়ি দেয়। গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারেও যায়। সেদিন জাহিদ গেলো জামালপুর। সেখানে জনপ্রিয় একটা খাবার আছে। নাম মেন্দা। হালিমের মতো দেখতে একটা খাবার। শীত কালে নতুন ধান ওঠে। গ্রামের সবাই মিলে একসাথে একদিন খাওয়াদাওয়া করে। সরিষার তেল দিয়ে রান্না হয়। গরুর মাংস, চালের গুড়া। প্রচুর ঝাল দেওয়া হয়। জামালপুর মেন্দা খেতে গিয়ে জাহিদের যে টাকা খরচ হয়েছে, সেই টাকা দিয়ে সে ঢাকায় ভালো কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে পারতো।
২। আর কয়েকদিন পর নির্বাচন।
আমি ভোট দিতে যাবো না। নো নেভার। ভোট কাকে দিবো? কোন শালাকে? যে শালারা নির্বাচনে দাড়িয়েছে, তাদের আমার পছন্দ না। যারা দেশে সরকার গঠন করবে, তাদের আমার পছন্দ না। যাইহোক, আমাদের এলাকায় দাড়িয়েছেন মির্জা আব্বাস আর নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী। মির্জা আব্বাস আমাদের এলাকার জন্য মসীহ। উনি আমাদের এলাকার অসংখ্য ছেলেকে চাকরি দিয়েছেন। চাকরি দেওয়া চারটেখানি কথা নয়। চাকরি দিতে সবাই পারে না। অন্যদিকে নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী একটা ইতর। জাস্ট ইতর। রাজনীতি বুঝে না। আমি সিউর সে লেখাপড়াতেও ভালো ছিলো না। মাদ্রাসায় পড়েছে। মির্জা আব্বাসের নখের সমান যোগ্যতা নাসিরের নেই। অথচ সে প্রতিদিন মির্জা আব্বাসকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলছে। বলেই যাচ্ছে। মির্জা আব্বাস যথেষ্ট ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছেন। ভদ্রতার পরিচয় দিয়েছেন। মির্জা আব্বাস চাইলে ফু দিয়ে পাটোয়ারীকে উড়িয়ে দিতে পারেন। নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন।
৩। শবে বরাত এখনও আসেনি।
সুরভি অলরেডি নানান রকমের হালুয়া বানিয়ে বসে আছে। এবার সে ঠিক করেছে সবাইকে হালুয়া দিবে। অলরেডি সে হালুয়া বানিয়ে সবাইকে বিলি করে দিয়েছে। সবাই তার প্রশংসা করেছে। আমার ধারনা সুরভি সকলের কাছ থেকে 'প্রশংসা' পাওয়ার জন্যই হালুয়া বিলি করেছে। সবাই খেয়ে মুগ্ধ! অনেকে তাকে ফোন করে বলেছে, আমরা হালুয়া পাইনি। আমাদের হালুয়া কই? সুরভি তাদের বলেছে, পেয়ে যাবেন। হালুয়া-সন্দেশ বানিয়ে, পাঠাও দিয়ে পাঠিয়ে দিবো। সারারাত জেগে সে হালুয়া বানায়। রান্নাঘরে খুটখাট শব্দ করে। আমার ঘুমের সমস্যা হয়। আমি কোনো হালুয়া'ই খাই না। এমন কি সুরভি ঘরে অনেক রকমের মিষ্টি বানায়- সেগুলোও আমি কখনও ছুঁয়েও দেখি না। এটা তার বিরাট দুঃখ। আসলে এই বয়সে এসে নানান রকমের হালুয়া আর মিষ্টির প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই। মন চায় না খেতে। আমি খাই না বলে সুরভি রাগ করে।
৪। ছোটবেলার কথা।
আমরা চার ভাই। চার ভাই'ই মিষ্টি খেতে খুব পছন্দ করতাম। আব্বা আমাদের জন্য দুই কেজি মিষ্টি নিয়ে আসতো। মিষ্টির প্যাকেট খোলা হতো। আমরা চার ভাই বসে ননস্টপ মিষ্টি খেতে থাকতাম। আব্বা দূরে বসে আমাদের চার ভাইয়ের মিষ্টি খাওয়া দেখতো। ঠোঁটের ফাক দিয়ে মিষ্টির রস গড়িয়ে গড়িয়ে জামায় পরতো। শার্ট প্যান্টে মিষ্টির রস দিয়ে মাখামাখি অবস্থা। মিষ্টি খাওয়ার একটা বয়স আছে। বয়সের সাথে সাথে মানুষের খাদ্যাভ্যাস বদলে যায়। চকলেট, আইসক্রিমের জন্য একসময় কত পাগল ছিলাম। এখন ফ্রিজ ভরতি চকলেট থাকে, আইসক্রিম থাকে, মিষ্টি থাকে- ছুঁয়েও দেখি না। এক কাপ চা পেলেই খুশি হয়ে যাই। আমার কন্যা ফারাজা যা খেতে চায়- তাকে খেতে দেই। মানা করি না। হয়তো এমনটা সময় আসবে, মেয়ে খেতে চাইবে না। তার খেতে ইচ্ছা হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


