ভালোবাসতাম অধরাকে।
অধরাও বলেছিল- সেও ভালোবাসে আমাকে। জীবনের চেয়েও বেশি!
ভীষণ রূপবতী অধরা। হীরা ও অধরাকে পাশাপাশি রাখলে, অধরার সৌন্দর্যই জয়ী হবে।
যাই হোক, অধরা বলেছিল বিয়ের আগেই নিজেদের একটা বাড়ি! আমি বলেছিলাম হবে। সে শর্ত জুড়লো খুব সুন্দর হতে হবে! আবারো আশ্বস্ত করলাম, হবে।
সমস্ত সঞ্চয়, পূর্ব পুরুষের রেখে যাওয়া ভিটে-বাড়ি বিক্রি করে বিশাল বাড়ি বানালাম। বাড়িটা, যে কারো পছন্দ হবে। বাড়িতে আভিজাত্য না থাকলেও স্বচ্ছলতা ছিল। কি ছিল না বাড়িটাতে। অনেকে বাড়িটাকে ছোট গ্রাম বলে ভুল করতো। অনেকটা জায়গা নিয়ে ছিল বাড়িটা। শহরে এক সাথে অনেক জায়গা না থাকায়। বাড়িটা করেছিলাম শহরের এক পাশে। শহরের উপকণ্ঠে।
বাড়ির প্রশংসা করে প্রত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে। টিভিতে প্রতিবেদন দেখানো হয়েছে। অনেকে এখানে নাটক, সিনেমা করতে চেয়েছিল। এ জন্য মোটা অংকের টাকাও দিতে চেয়েছিল। রাজি হইনি।
বাড়িটাকে সুন্দর হতেই হবে। কারণ নকশাটা করেছিল আমার দোস্ত আর্কিটেক্ট আসলাম। দেশ বরেণ্য আর্কিটেক্ট বললে ভুল হবে। তাকে পৃথিবী খ্যাত তরুণ আর্কিটেক্টও বলা যায়।
যাই হোক... অধরার মা-বাবা আসলো। অকেনক্ষণ সময় নিয়ে ঘুরে ঘুরে বাড়িটা দেখল। আমার রুচির অনেক প্রশংসা করলো। আরো অনেক কথা হলো। সবশেষে তারা যা বললেন, শুনে একটু হাসলাম।
কথা-সংক্ষেপ ছিল এই- ‘আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অধরার সাথে জহিরুলের বিয়ে। অধরাও রাজি।’
পরে বন্ধুদের মারফত জানলাম। জহিরুলের একটা নয়, কয়েকটা বাড়ি। সেটা আবার শহরের এক পাশে নয়, অভিজাত এলাকায়। গাড়ি আছে অনেকগুলো। ফ্যাক্টরি আছে। এই আছে, সেই আছে, আরো কত কি! কি নেই তার?
তারপর আর কোন দিন কথা হয়নি অধরার সাথে। দেখা হয়েছিল কয়েক বার।
তিন মাস পর...
বাড়িটা দুস্থ-এতিম শিশুদের দান করে দিয়েছিলাম। অফিসের কাছাকাছি ছোট্ট একটা বাসাভাড়া নিলাম। পরিপূর্ণ স্বাধীন মানুষ হয়ে জীবন যাপন করতে লাগলাম....
তাই করি; যখন যা মন চায়। কবিতা পড়তে মন চাইলে কবিতা। খেতে ইচ্ছা করলে খাই। ইচ্ছে না হলে উপোস থাকি। ক্ষুধা-তৃষ্ণার কোন বালাই নাই। হাঁটতে মন চায়- হেঁটে আসি অনেকটা দূর। বাসায় ফেরার তাড়া নেই সারারাত রাস্তায় হেঁটে হেঁটে কাটিয়ে দেই। কখনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করি-
কেমন আছো?
আয়নার ওপাশের মানুষটা বলে- ভালোই তো আছো, মন্দ কি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


