
সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।
সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের সুন্নতের? কিন্তু তুমি আল্লাহর সুন্নাতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহর সুন্নতে কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।
সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।
সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।
সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত প্রচার করলে না। আল্লাহ তোমাকে মানুষ হতে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।
* বিভিন্ন পথ আল্লাহর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করায় আল্লাহর সিরাতিম মুসতাকিম হলো তাঁর অভিন্ন পথ। এটা আল্লাহর সুন্নাত। আল্লাহর এ সুন্নাত ছেড়ে গেলে বিভিন্ন পথে জাহান্নামে চেলে যেতে হয়। রাসূল (সা.) অভিন্ন ফিকাহের মাধ্যমে তাঁর এ দায়িত্ব পালন করেছেন। রাসূলের (সা.) পর এ দায়িত্ব ছিল মাওলা আলির (রা.)। তিনি অভিন্ন ফিকাহ সংকলন করে আমির কর্তৃক অনুমোদন করিয়ে বিশ্বের সকল মসজিদের ইমামের কাছে পাঠিয়ে দিলে এবং তাঁরা সেই অভিন্ন ফিকাহ শিক্ষার ব্যবস্থা করলে মুসলমানের ইবাদতের নিয়ম বিভিন্ন রকম হত না।এখন আল্লাহর পছন্দের নামাজে কেউ বুকে হাত বাঁধে, কেউ নাভির নীচে হাত বাঁধে এবং কেউ নামাজে হাত বাঁধে না।বিভিন্ন পথ আল্লাহর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করার কথা আল্লাহ বললেও মুসলমান আল্লাহর পছন্দের নামাজই বিভিন্ন করে ফেলেছে।মতভেদে আল্লাহ মহাশাস্তির কথা বললেও মুছল্লিদের সেদিকে কোন খেয়াল নাই।এমতাবস্থায় আল্লাহ মুসলমানদেরকে মানুষ থেকে রক্ষা করছেন না। রাসূল (সা.) ইন্তেকালের সময় ফিতনা দেখেছেন। প্রথম খলিফা ফিতনার সাথে যুদ্ধ করে জীবন পার করেছেন। অন্য তিন খলিফা ও দুই ইমাম নিহত হয়েছেন। মোয়াল্লাফাতে কুলুব এর কোটায় হযরত মোয়াবিয়া (রা.) রেহাই পেয়েছেন। মক্কার খলিফা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে (রা.) হত্যা করে মক্কার রাজপথে তাঁর লাশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। একালে গাজা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। এরপর ইরানের উপর হামলা চলছে। হযরত আলীর (রা.) বংশের ইমামগণ বেশী সংখ্যায় নিগত হয়েছেন। সর্বশেষ আলী থামেনি নিহত হয়েছেন।মতভেদের মধ্যে যারা সঠিক তারাও শাস্তির আওতায় আসছে মতভেদ নিরসনে কাজ না করার কারণে। হযরত আলী (রা.) থেকে যে পীর তন্ত্র চলমাণ তারাও অভিন্ন পথে নাই। পীরগণ বিভিন্ন দলে নির্বাচনে অংশগ্রহল করে সসম্মানে ফেল করেছেন। মাওলা কোন এটা দিকও যদি অভিন্ন রাখতে না পারেন তাহলে তাঁর আর মাওলার দায়িত্ব পালন করা হলো কই? সুতরাং মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না। অন্য খলিফাগণের মতই তিনি একজন খলিফা। মাওলা হিসাবে তাঁকে অন্য খলিফাগণের উপরে স্থান দেওয়া সঠিক না। তিন দল সাহাবা তাঁকে অন্য খলিফাগণের উপর স্থান না দিলেও আমরা তাঁদের থেকে এক কদম অগ্রসর হয়ে হযরত আলীকে (রা.) কেন অন্য খলিফাগণের উপর স্থান দেব? মহানবির (সা.) চার খলিফার সবাইকে আমরা সম্মানের আসনে রাখব- ইনশাআল্লাহ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



