
চেনা চেনা লাগছে!
আচ্ছা আমি একটু পরিচয় করিয়ে দেই।
উনার নাম শাহেদ। মানবতার ফেরিওয়ালা ।
উনি রিজেন্ট হসপিটালের মালিক। যে হাসপাতালের বৈধ কোন কাগজ পত্র নাই। না, না পরিচয় এখনো পুরো দেয়া হয়নি। । আরেকটু পরিচয় দিই, উনি টিভি টকশো তে জ্বালাময়ী নীতি নৈতিকতার বিষয়ে সবক দেন।উনার গলা এবং হাত অ-নে-ক লম্বা। উনার নেটওয়ার্ক একেবারে টপ লেবেলে।
এবার উনার মহান কর্মের কথা বলি।
উনি করোনা ভাইরাসের মিথ্যা রিপোর্ট বিক্রি করতেন। এসব বাবদ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। মিথ্যা রিপোর্টের কারণে এখন হাজার হাজার লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।
উনার মিথ্যা রিপোর্ট বিক্রির কারণে আজ বেশ কিছু দেশ বাংলাদেশকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।
করোনার ভুয়া সনদ, বাড়তি অর্থ আদায় করে আলোচনায় আসা এই হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. শাহেদকে নিয়ে কৌতূহল চারপাশে। তিনি কীভাবে এমন একটি হাসপাতাল গড়ে তুললেন, করোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব বাগিয়ে নিলেন- এমন নানা প্রশ্ন মুখে মুখে। ফেসবুক পেজে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে। রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে মো. শাহেদ বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতেও অংশ নিতেন। দিতেন নানা পরামর্শ। নিজে প্রতারণার জাল ফেলে কীভাবে মানুষকে এভাবে নসিহতের বাণী শোনাতেন না নিয়ে বড় বিস্ময় মানুষের মাঝে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪২৬৪টি স্যাম্পল রিজেন্ট টেস্ট করেছে এবং এর বাইরে ৬ হাজারের বেশি স্যাম্পল টেস্ট না করেই তারা ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযান চলাকালে ফ্রিজের মধ্যে এক অংশে মেডিসিন অন্য অংশে মাছ মিলেছে। হাসপাতালটির ডিসপেনসারি সেখানে সব সার্জিক্যাল আইটেম ৫/৬ বছর আগের মেয়াদোত্তীর্ণ। যেই চিকিৎসা বিনামূল্যে করার কথা সেটির জন্য রোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে আবার সরকারের কাছ থেকেও সেই টাকা গ্রহণ করেছে হাসপাতালটি।
‘করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা এবং বাড়িতে থাকা রোগীদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করতো রিজেন্ট হাসপাতাল। এ ছাড়াও সরকার থেকে বিনামূল্যে করোনা টেস্ট করার অনুমতি নিয়ে রিপোর্ট প্রতি সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা করে আদায় করতো তারা। এভাবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে মোট তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রিজেন্ট। এই সমস্ত অপরাধ ও টাকার নিয়ন্ত্রণ চেয়ারম্যান সাহেব (রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদ) নিজে করতেন অফিসে বসে।’
করোনা আক্রান্ত বাবাকে রিজেন্টে ভর্তি করেন নি শাহেদ: রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. শাহেদের বাবাও করোনা আক্রান্ত হন। তবে তাকে রিজেন্ট হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে ভর্তি করানো হয় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে। বিষয়টি জানা যায়, এই হাসপাতালের একজন সাবেক কর্মীর মাধ্যমে। তিনিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি রিজেন্ট হাসপাতাল ছেড়ে দিয়েছেন আগেই। তাকে ফোন দিয়েছিলেন মো. শাহেদ। তিনি প্লাজমা দেয়ার আবেদন জানিয়ে ছিলেন তার কাছে। তবে রক্তের গ্রুপ না মেলায় তিনি প্লাজমা দিতে পারেন নি। এ ছাড়াও নিজের ফেসবুক ওয়ালে বাবার জন্য বি পজেটিভ প্লাজমার জন্য আবেদন করে পোস্টও দিয়েছিলেন শাহেদ। তিনি ওই কর্মীকে জানিয়ে ছিলেন ইউনাইটেড হাসপাতালে তার বাবা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মানবজমিন হতে। ছবিঃ ফেসবুক।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



