somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামী আন্দোলনঃ সাফল্যের শর্তাবলী-৪-মওদুদী (রঃ) এর বই থেকে - (ভুল খুজে বের করুন)

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তৃতীয় পোষ্ট দ্বিতীয় পোষ্ট প্রথম পোষ্ট

পূর্ণতাদানকারী গুণাবলী

এ পর্যন্ত আমরা সমাজ সংশোধন ও ইসলামী জীবনব্যবস্থা পরিগঠনের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনের অপরিহার্য গুনাবলী আলোচনা করেছি। এ প্রসংগে যে সকল বিষয়ের উল্ল্যেখ করা হয়েছে সেগুলো নিছক প্রারম্ভিক ও মৌলিক গুণাবলীর পর্যায়ভুক্ত।

কোনো ব্যবসা শুরু করতে হলে যেমন একটা সর্বনিম্ন পুঁজির প্রয়োজন হয়, যা না হলে ঐ ব্যবসা শুরু করাই যেতে পারে না। তেমনি এ গুণাবলীই হচ্ছে ব্যক্তির সর্বনিম্ন নৈতিক পুঁজি। এগুলো ছাড়া সমাজ সংশোধন ও ইসলামী জীবনব্যবস্থা পরিগঠনের কাজ শুরু করাই যেতে পারে না।

বলাবাহুল্য যে সব লোক নিজেরা ইসলাম সম্পর্কে অবগত নয় বা এ
ব্যাপারে মানসিক নিশ্চিন্ততা ও একাগ্রতা লাভ করতে পারেনি অথবা তাকে নিজেদের চরিত্র, কর্ম ও বাস্তব জীবনের ধর্মে পরিণত করতে সক্ষম হয়নি বা ইসলাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে নিজেদের জীবনোদ্দেশ্যে পরিণত করেনি, তাদের দ্বারা কোনো ইসলামী জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তাই করা যায় না। অনুরূপভাবে যদি অভিস্পীত গুণাবলী সমন্বিত ব্যক্তিবর্গের নিছক সমাবেশ হয় কিন্তু তাদের দিল পরস্পরের সাথে সংযুক্ত না হয়, তাদের মধ্যে সহযোগিতা শংঙ্খলা ও সংগঠন না থাকে, তারা এক সাথে মিলেমিশে কাজ করার রীতিতে অভ্যস্থ না থাকে, এবং পারস্পরিক পরামর্শ ও সমালোচনার যথার্থ পদ্ধতি সম্পর্কে যদি তারা অজ্ঞ থাকে। তাহলে তাদের নিছক সমাবেশ কোনো প্রকার ফলপ্রসু হতে পারে না।

কাজেই একথা ভালোভাবে অনুধাবন করা উচিত যে, ইতিপূর্বে আমি যে চারটি ব্যক্তিগত ও চারটি সামষ্টিক গুণাবলীর উলেখ করে এসেছি গুলোই হচ্ছে এ কাজ শুরু করার প্রাথমিক পূঁজি এবং একমাত্র এ প্রেক্ষিতেই গুলো গুরুত্বপূর্ণ ।

কিন্তু এ কাজের বিকাশ ও সাফল্যের জন্যে নিছক এতটুকু নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পুঁজি যথেষ্ট এ ধারণা যথার্থ নয়। এখন আমরা সংশোধন ও পরিগঠনের এ উদ্দেশ্যকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য অন্যান্য অপরিহার্য
গুণাবলীর আলোচনা করবো।


খোদার সাথে সম্পর্ক ও আন্তরিকতাঃ

এ গুনাবলীর মধ্যেসর্বপ্রথম উলেখযোগ্য হচ্ছে খোদার সাথে সম্পর্ক ও আন্তরিকতা। দুনিয়ার অন্যান্য কাজ ব্যক্তি,পরিবার, গোত্র, জাতি বা দেশের জন্যে করা যেতে পারে, ব্যক্তিস্বার্থ ও ব্যক্তিগত লাভের যাবতীয় দিক সম্ভাবনা সহকারে সম্পাদন করা যেতে পারে, খোদা বিশ্বাসই নয়, খোদাকে অস্বীকার করেও করা যেতে পারে এবং এর ভেতসব রকম পার্থিব সাফল্য লাভের সম্ভাবনাও রয়েছে। কিন্তু ইসলামী জীবনব্যবস্থা কায়েম করা একটি সম্পুর্ণ বিপরীতধর্মী কাজ। যে পর্যন্ত মানুষের সম্পর্ক খোদার সাথে যথার্ধ শক্তিশালী ও গভীর না হয় এবং সে একমাত্র খোদার জন্যে কাজ করতে মন না করে সে পর্যন্ত এ কাজে কোনো প্রকার সাফল্য সম্ভব নয়।

কারণ এখানে মানুষ খোদার দ্বীনকে কায়েম করতে চায়। আর এজন্যে সবকিছু খোদার জন্যে করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ কাজে একমাত্র খোদার সন্তুষ্টিই কাম্য হতে হবে। একমাত্র খোদাপ্রীতিই এ কর্মের মূল প্রেরণা হতে হবে। তাঁর সাহায্য ও সমর্থনের ওপর পূর্ণ আস্থা থাকতে হবে। তাঁরই নিকট থেকে পুরষ্কারের আশা রাখতে হবে। তাঁরই হেদায়াত এবং
তাঁরই আদেশ নিষেধের আনুগত্য করতে হবে। এবং তাঁরই নিকট জবাবদিহির ভয়ে সমগ্র মন আচ্ছন্ন থাকতে হবে।


এছাড়া আর কোন ভয়, লোভ-লালসা প্রীতি ও আনুগত্যের মিশণ্র এবং অন্য যে কোন স্বার্থের অন্তর্ভুক্তি এ কাজকে যথার্থ পথ থেকে বিচ্যুত করবে এবং এর ফলে অন্য কিছু কায়েম হতে পারে কিন্তু খোদার দ্বীন কায়েম হতে পারে না।


আখেরাতের চিন্তাঃ


এ প্রথমোক্ত গুণটির সাথে নিকট সম্পর্কযুক্ত দ্বিতীয় গুণটি হচেছ আখেরাতের চিন্তা। যদিও দুনিয়াই মুমিনের কর্মস্থল এবং সবকিছু তাকে এখানেই করতে হয়। কিন্তু এতদসত্তেও সে এ দুনিয়ার জন্যে কাজ করে না বরং আখেরাতের জন্যে করে এবং দুনিয়ার ফলাফলের দিকে তার লক্ষ্য থাকে না বরং তার লক্ষ্য থাকে আখেরাতের ফলাফলের প্রতি।


যেসব কাজ আখেরাতে লাভজনক সেসব তাকে করতে হবে এবং যেসব কাজের ফলে আখেরাতের কোনো লাভ হবেনা সেগুলো তাকে বর্জন করতে হবে। আর দুনিয়ার যেসব ক্ষতি আখেরাতে লাভজনক সেগুলো তাকে গ্রহণ করতে হবে।

তাকে একমাত্র আখেরাতের শাস্তি ও পুরস্কারের চিন্তা করতে হবে। দুনিয়ার কোনো শাস্তি ও পুরস্কারের গুরুত্ব তার চোখে থাকা উচিৎ নয়। এ দুনিয়ায় তার চেষ্টা ফলপ্রসু হোক বা না হোক, সে সফলতা বা ব্যর্থতা যারই সম্মখীন
হোক, তার প্রশংসা বা নিন্দা যাই করা হোক, সে পুরস্কার লাভ করুক বা পরীক্ষার মধ্যে নিক্ষিপ্ত হোক, সকল অবস্থায় তাকে এ বিশ্বাস নিয়ে কাজ করা উচিত যে, যে খোদার জন্যে সে এ পরিশ্রম করছে তাঁর দৃষ্টি থেকে কিছুই প্রচ্ছন্ন নেই এবং তাঁর নিকট আখেরাতের চিরন্তন পুরস্কার পাওয়া থেকে সে কোন ক্রমেই বঞ্চিত হবে না এবং সেখানকার সাফল্যই হচ্ছে আসল সাফল্য। এ মানসিকতা ছাড়া এ পথে মানুষের পক্ষে নির্ভুল লক্ষ্যের দিকে এক পা অগ্রসর হওয়াও সম্ভব নয়।

দুনিয়ার স্বার্থের সামান্যতম মিশণ্র এর মধ্যে থাকলে এখানে পদস্খলন ছাড়া গত্যন্তর নেই। যে ব্যক্তি দুনিয়ার সাফল্যকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পরিণত করে অগ্রসর হয় খোদার পথে একটি না হলেও দুচারটি আঘাতেই সে হিম্মতহারা হয়ে পড়ে। দুনিয়ার স্বারর্থ যার মনে স্থান লাভ করে এ পথের যে কোন সাফল্য কোনো না কোনো পর্যায়ে তার দৃষ্টিভঙ্গীতে পরিবর্তন আনে

চরিত্র মাধুর্যঃ

চরিত্র মাধুর্য উপরোক্ত গুণটির প্রভাবকে কার্যতঃ একটি বিরাট বিজয়ী শক্তিতে পরিণত করে। খোদার পথে যারা কাজ করে তাদের উদার হৃদয় ও বিপুল হিম্মতের অধিকারী হতে হবে, সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতিশীল ও মানবতার দরদী হতে হবে। তাদের হতে হবে ভদ্র ও কোমল স্বভাবসম্পন্ন, আত্মনির্ভরশীল ও কষ্টসহিষ্ণু, মিষ্টভাষী ও সদালাপী।

তাদের দ্বারা কারো কোনো ক্ষতি হবে এমন কোনো ধারণাও যেন কেউ পোষণ করতে না পারে এবং তাদের নিকট থেকে কল্যাণ ও উপকার সবাই কামনা করবে। তারা নিজেদের প্রাপ্যের চাইতে কমের ওপর সন্তুষ্ট থাকবে এবং অন্যকে তার প্রাপ্যের চাইতে বেশী দিতে প্রস্তুত থাকবে। তারা মন্দের জবাব ভালো দিয়ে দেবে অথবা কমপক্ষে মন্দ দিয়ে দেবে না। তারা নিজেদের দোষ-ত্র“টি স্বীকার করবে এবং অন্যের গুণাবলীর কদর করবে।

তারা অন্যের দূর্বলতার প্রতি নজর না দেবার মতো বিরাট হৃদয়পটের অধিকারী হবে, অন্যের দোষ-ত্র“টি ও বাড়াবাড়ি মাফ করে দেবে এবং নিজের জন্যে কারোর উপর প্রতিশোধ নেবে না। তারা অন্যের সেবা গ্রহণ করে নয় বরং অন্যকে সেবা করে আনন্দিত হবে।

তারা নিজের স্বার্থে নয় বরং অন্যের ভালোর জন্যে কাজ করবে। কোনো প্রকার প্রশংসার অপেক্ষা না করে এবং কোন প্রকার নিন্দাবাদের তোয়াক্কা না করে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবে।

খোদা ছাড়া আর কারোর পুরস্কারের প্রতি দৃষ্টি দেবে না। তাদেরকে বল প্রয়োগে দমন করা যাবে না। ধন-সম্পদের বিনিময়ে বশ করা যাবে না কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের সামনে তারা নিদ্বির্ধায় ঝুঁকে পড়বে।

তাদের শত্র“রাও তাদের উপর এ বিশ্বাস রাখবে যে, কোনো অবস্থায়ই তারা ভদ্রতা ও ন্যায়নীতি বিরোধী কোনো কাজ করবে না। এ চারিত্রিক গুণাবলী মানুষের মন জয় করে নেয়। এগুলো তলোয়ারের চাইতেও ধারালো এবং হীরা, মনি-মুক্তার চাইতেও মুল্যবান। যে এহেন চারিত্রিক গুণাবলী অর্জনকারী সে তার চারপাশের জনবসতির ওপর বিজয় লাভ করে। কোনো দল পূর্ণাঙ্গরুপে এ গুণাবলীর অধিকারী হয়ে কোনো মহান উদ্দেশ্য সম্পাদনের জন্যে সুসংবদ্ধ প্রচেষ্টা চালালে দেশের পর দেশ তার করতলগত হতে থাকে এবং দুনিয়ার কোনো শক্তিই তাকে পরাজিত করতে সক্ষম হয় না।

ধৈর্য্যঃ

এই সংগে আর একটি গুণও সংযুক্ত আছে, তাকে সাফল্যের চাবিকাঠি বলা যায়। সেটি হচ্ছে ধৈর্য্য। ধৈর্যের বহু অর্থ হয় এবং খোদার পথে যারা কাজ করে তাদের এর প্রত্যেকটি অর্থের প্রেক্ষিতেই ধৈর্যশীল হতে হয়।


ধৈর্যের একটি অর্থ হচেছ তাড়াহুড়ো না করা,

নিজের প্রচেষ্টার ত্বরিত ফল লাভের জন্যে অস্থির না হওয়া এবং বিলম্ব
দেখে হিম্মত হারিয়ে না বসা। ধৈর্যশীল ব্যক্তি সারাজীবন একটি উদ্দেশ্য সম্পাদনের জন্যে অনবরত পরিশ্রম করতে থাকে এবং একের পর এক ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েও পরিশ্রম থেকে বিরত হয় না। মানুষের সংশোধন ও জীবন পরিগঠনের কাজ অন্তহীন ধৈর্যের মুখাপেক্ষী। বিপুল ধৈর্য ছাড়া কোনো ব্যক্তি এ কাজ সম্পাদনে সক্ষম হয় না। এটা নিছক ছেলের হাতের মোয়া নয়।


ধৈর্যের দ্বিতীয় অর্থ হচেছ তিক্ত স্বভাব, দুর্বল মত ও সংকল্পহীনতার রোগে আক্রান্ত না হওয়া।

ধৈর্যশীল ব্যক্তি একবার ভেবে চিন্তে যে পথ অবলম্বন করে তার ওপর অবিচল থাকে এবং একাগ্র ইচ্ছা ও সংকল্পের পূর্ণ শক্তি নিয়ে অগ্রসর
হতে থাকে।

ধৈর্যের আর একটি অর্থ হচেছ বাধা বিপত্তির বীরোচিত মোকাবেলা করা এবং শান্ত চিত্তে লক্ষ্য অর্জনের পথে যাবতীয় দুঃখ কষ্ট বরদাশ্ত করা। ধৈর্যশীল ব্যক্তি যে কোনো ঝড় - ঝঞ্জার পর্বত প্রমাণ তরঙ্গাঘাতে হিম্মতহারা হয়ে পড়ে না।

দুঃখ-বেদনা, ভারাক্রান্ত ও ক্রেধান্বিত না হওয়া এবং সহিষ্ণু হওয়াও ধৈর্যের একটি অর্থ। যে ব্যক্তিকে সমাজ সংশোধন ও পরিগঠনের খাতিরে কিছু অপরিহার্য ভাঙার কাজও করতে হয়, বিশেষ করে যখন দীর্ঘকালের বিকৃত
সমাজে তাকে এ কর্তব্য সম্পাদন করতে হয়, তখন অবশ্যি তাকে বড়ই নিম্নস্তরের হীন ও বিশ্রী রকমের বিরোধীতার সম্মখীন হতে হয়। যদি সে গালি খেয়ে হাসবার ও নিন্দাবাদ হজম করার ক্ষমতা না রাখে এবং দোষারোপ ও মিথ্যা প্রপাগান্ডাকে নির্বিবাদে এড়িয়ে গিয়ে স্থির চিত্তে ও ঠান্ডা মস্তিষ্কে নিজের কাজে ব্যস্ত না থাকতে পারে, তাহলে এ পথে
পা না বাড়ানোই তার জন্যে বেহ্তর কারণ এ পথে কাঁটা বিছানো। এর প্রত্যেকটি কাঁটা এই দৃঢ় মনোবল নিয়ে মুখ উঁচিয়ে আছে যে, মানুষ অন্য যে কোনোদিকে নির্বিঘ্নে অগ্রসর হতে পারে কিন্তু এদিকে তাকে এক ইঞ্চিও এগিয়ে আসতে দেয়া হবে না

এ অবস্থায় যে ব্যক্তি কাপড়ের প্রত্যেকটি কাঁটা ছাড়াতে ব্যস্ত হবে সে কেমন করেই বা অগ্রসর হবে? এ পথে এমন সব লোকের প্রয়োজন যারা নিজেদের কাপড়ে কোনো কাঁটা বিধলে কাপড়ের সে অংশটি ছিঁড়ে কাঁটাগাছের গায়ে রেখে দিয়ে নিজের পথে এগিয়ে যেতে থাকবে। কেবল বিরোধীদের মোকাবেলায় এ ধৈর্যের প্রয়োজন হয় না বরং অনেক সময় এ পথের পথিকের নিজের সহযোগীদের এ তিক্ত ও বিরক্তিকর বাক্যবাণেও বিদ্ধ হতে হয় এবং তাদের ব্যাপারে ধৈয ও সহিঞ্চুতার পরিচয় না দিলে সমগ্র কাফেলা পথ ভ্রষ্ট হতে পারে।


ধৈর্যের এক অর্থ হচ্ছে, সকল প্রকার ভয়ভীতি ও লোভ-লালসার মোকাবেলায় সঠিক পথে অবিচল থাকা, শয়তানের উৎসাহ প্রদান ও নফ্সের খাহেশের বিপক্ষে নিজের কর্তব্য সম্পাদন করা। হারাম থেকে দূরে থাকা ও খোদার নির্দেশিত সীমার মধ্যে অবস্থান করা, গোনাহর পথে যাবতীয় আরাম-আয়েশ, লাভ প্রত্যাখ্যান করা এবং নেকী ও সততার পথে সকল প্রকার ক্ষতি ও বঞ্চনাকে সাদরে বরণ করা। দুনিয়াপূজারীদের আরাম-আয়েশ স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেও তার প্রতি লোভ না করা এবং এজন্যে সামান্য আক্ষেপ না করা। দুনিয়ার স্বাথ উদ্ধারের পথ প্রশস্ত দেখে এবং সাফল্যের সুযোগ-সুবিধা নিজের হাতের মুঠোর মধ্যে পেয়েও পুর্ণ মানসিক নিশ্চিন্ততার সাথে একমাত্র নিজের লক্ষ্য অর্জনের পথে লব্ধ দানের উপর সন্তুষ্ট থাকার নাম ধৈয।

উপরোক্ত সকল অর্থেই ধৈর্য হচ্ছে সাফল্যের চাবিকাঠি। কাজেই আমাদের কাজের মধ্যে যে কোন দিক দিয়ে ধৈর্যহীনতা দেখা দিলে অবশ্য আমাদেরকে তার কুফলের সম্মখীন হতে হবে।


প্রজ্ঞাঃ


এসব গুণের পাশাপাশি আর একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হচ্ছে প্রজ্ঞা। কাজের বেশী সাফল্য এরই ওপর নির্ভরশীল। দুনিয়ায় যে সব জীবন ব্যবস্থা কায়েম রয়েছে উন্নত পর্যায়ের বুদ্ধিজীবি ও চিন্তাশীল লোকেরাই সেগুলো চালাচ্ছে। তাদের পেছনে ব্যক্তিগত উপায়-উপকরণের সাথে সাথে বুদ্ধি ও চিন্তা শক্তি এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষমতাও কাজ করছে। এগুলোর মোকাবেলায় আর একটি জীবন ব্যবস্থা কায়েম করা এবং সাফল্যের সাথে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া নেহায়েত ছেলে-খেলা নয়।

নিছক বিছমিল্লাহর গম্বুজে যাদের বসবাস এ কাজ তাদের দ্বারা সাধিত হওয়া সম্ভব নয়। সরলমনা, চিন্তা ও তীক্ষ বুদ্ধি বিবর্জিত লোকেরা যতই সৎ নেক-দিল হোক না কেন, একাজ তাদের দ্বারা সম্পাদিত হবার সম্ভাবনা নেই। এজন্যে গভীর দৃষ্টি, চিন্তাশক্তি, বুদ্ধি ও বিবেচনা শক্তির প্রয়োজন।

এ কাজ একমাত্র তাদের দ্বারাই সম্পাদিত হতে পারে যারা পরিস্থিতি সম্পকে ওয়াকিফহাল, বিচার-বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখে
এবং জীবন সমস্যা বুঝার ও সমাধানের যোগ্যতা রাখে। এসব গুণকেই এক কথায় প্রজ্ঞা বলা যায়।

বুদ্ধি ও জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা ও প্রকাশের ওপর এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। প্রজ্ঞার অভিব্যক্তি হচ্ছে মানবিক মনস্তত্ব অনুধাবন করে সেই অনুযায়ী মানুষের সাথে ব্যবহার করা, এবং মানুষের মনের ওপর নিজের দাওয়াতের প্রভাব বিস্তার করে তাকে লক্ষ্য অর্জনে নিয়োজিত করার পদ্ধতি অবগত হওয়া।

প্রত্যেক ব্যক্তিকে একই পেটেন্ট ওষধু না দিয়ে বরং প্রত্যেকের মেজাজ ও রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা করা। প্রত্যেককে একই লাঠি দিয়ে হাঁকিয়ে না দিয়ে বরং প্রত্যেক ব্যক্তি, শেণ্রী ও দলের বিশেষ অবস্থা অনুধাবন করে সেই অনুযায়ী তাদের সাথে ব্যবহার করা।


নিজের কাজ ও তা সম্পাদন করার পদ্ধতি জানা এবং তার পথে আগত যাবতীয় বাধা-বিপত্তি, প্রতিবন্ধকতা বিরোধিতার মোকাবেলা করাও প্রজ্ঞার অভিব্যক্তি। তাকে নির্ভুলভাবে জানতে হবে যে, যে উদ্দেশ্য সম্পাদনের জন্যে সে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তা সফল করার জন্যে তাকে কি করতে হবে, কিভাবে করতে হবে এবং কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা কিভাবে দূর করতে হবে।পরিস্থিতির প্রতি নজর রাখা, সময়-সুযোগ অনুধাবন করা এবং কোন্ সময়ে কোন ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে, এসব
জানাও প্রজ্ঞারই পরিচয়। অবস্থা না বুঝেই অন্ধের মতো পা বাড়িয়ে দেয়া, অসময়োচিত কাজ করা, কাজের সময় ভুল করা গাফেল ও বুদ্ধি বিবেচনাহীন লোকের কাজ।

এ ধরনের লোকেরা নিজেদের উদ্দেশ্য সম্পাদনের জন্যে যতই
সততা ও সৎ সংকল্পের সাথে কাজ করুক না কেন তারা কোনো ক্রমেই কামিয়াব হতে পারে না।


সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫৭
১৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গীতিকবিতাঃ হারকিউলিসের ডাক

লিখেছেন অব্যক্ত কাব্য, ২১ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪




কত শোকে আর মাতম করলে দেশটা হবে শুদ্ধ?
কতবার আর লড়তে হবে, কত করতে হবে যুদ্ধ!
হারকিউলিস, ঝাপিয়ে পড়ো যত নিপীড়ক খুনির বুকে।
দেখতে চাইনা আর কোন মা কাঁদছে ধুকে ধুকে।

দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এ দেশে ন্যায় বিচার!? = ডাইনোসরের দুধ.. /#) :#| :-ls ।

লিখেছেন সাইবার সোহেল, ২২ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:২৫

আমরা বাঙালি বা বাংলাদেশীরা আজীবনই লোভী, স্বার্থপর.. প্রতিবারই কোন না কোন একটা জঘন্য ঘটনা ঘটে সারা দেশ প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে বিচারের দাবিতে.. কিছুদিন পর অন্য কোন একটা ঘটনায় আগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার শিশু আবদুল্লাহর হত্যার বিচার কি হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে মে, ২০২৬ রাত ২:০৯


একটা ১০ বছরের বাচ্চা, যে মাত্র একদিন আগে ফোনে মায়ের কাছে ২৫০ টাকার চকলেট খাওয়ার আবদার করেছিল, সে হুট করে বাথরুমের ভেণ্টলেটরে ঝুলে আত্মহত্যা করতে পারে এই গল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাখো পরিবারের বেঁচে থাকার গল্প অনিশ্চয়তার মুখে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



যেখানে আইন, ধর্ম আর রাজনীতি একসাথে জট পাকায়- সেখানে সবচেয়ে আগে হারিয়ে যায় সাধারণ মানুষের শান্তি ও জীবিকা।
গরু শুধু প্রতীক নয়, এটা লাখো পরিবারের বেঁচে থাকার গল্প।
এই গল্প এখন অনিশ্চয়তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ধর্ম আল্লাহ'র মত করে পালন করিনা, করি আমাদের নিজেদের মত করে!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২২ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৯


পবিত্র কোরআন-এ শূকরের মাংস খেতে নিষেধ করা হয়েছে চারটি জায়গায়। কিন্তু দেখুন, আমরা মুসলমানরা এই নির্দেশটি আজ পর্যন্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আসছি। পৃথিবীর প্রায় সব মুসলিমকে আপনি চেষ্টা করলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×