
পবিত্র কোরআন-এ শূকরের মাংস খেতে নিষেধ করা হয়েছে চারটি জায়গায়। কিন্তু দেখুন, আমরা মুসলমানরা এই নির্দেশটি আজ পর্যন্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আসছি। পৃথিবীর প্রায় সব মুসলিমকে আপনি চেষ্টা করলেও শূকরের মাংস খাওয়াতে পারবেন না। ভুলক্রমে খেয়ে ফেললেও গলায় আঙুল ঢুকিয়ে বমি করে সেটা বের করে দিতে চাইবে! কিন্তু কেন আল্লাহ্র এই নির্দেশ আমরা মুসলিমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আসছি?
কোরআনে তো আমাদের জন্য আরও অনেক বিধি-নিষেধ আল্লাহ্ দিয়েছেন। সেগুলো কেন আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি না?
আল্লাহ্ সুবহানাহু তাআলা শুধু গীবত নিষেধ করার জন্যই পুরো একটি সূরা নাজিল করেছেন— “সূরা আল-হুমাযাহ”। আমরা কি সেই নিষেধ মান্য করি?
এছাড়াও জিনা, ব্যভিচার, মিথ্যা কথা বলা, মানুষ হত্যা, ধর্ষণ, ঘুষ, ওজনে কম দেওয়া— এগুলো নিয়েও কঠিন থেকে কঠিন নিষেধাজ্ঞা বহুবার এসেছে। কিন্তু এগুলো কি আমরা শূকরের মাংস হারাম হওয়ার মতো করে অনুসরণ করি? না, করি না। এর কারণ কী?
আসলে আমরা ধর্ম পালন করি অনেক সময় আমাদের সুবিধামতো। যে বিধি-নিষেধগুলো পালন করতে আমাদের শারীরিক কষ্ট হবে, মানসিক কষ্ট হবে কিংবা স্বার্থে আঘাত লাগবে, সেগুলো আমরা মানতে চাই না। আর যেগুলো মানতে এসব সমস্যা সৃষ্টি হয় না, সেগুলো আমরা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলি। যেমন শূকরের মাংস খাওয়ার বিষয়টি— আপনি শূকরের মাংস না খেলেও এর বিকল্প হিসেবে আরও অনেক কিছু খেতে পারেন। তাই এটি মেনে চলা খুব বেশি কঠিন কিছু নয়।
দেখুন, শেষ জামানায় নাকি ঈমান ধরে রাখা এমন কষ্টকর হবে, যেন হাতের তালুতে জ্বলন্ত কয়লার টুকরো ধরে রাখা।
কালেমা পড়া, দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, বছরে ৩০ দিন রোজা রাখা, সামর্থ্য থাকলে জীবনে একবার হজ করা, যাকাত দেওয়ার মতো অর্থ থাকলে যাকাত দেওয়া— এগুলো কি খুব কঠিন কাজ? যে কেউ মন স্থির করলে নিয়মিত এগুলো করতে পারবে।
কিন্তু এবার ভাবুন— মিথ্যা কথা না বলা, সুদ না দেওয়া ও না নেওয়া, ঘুষ না দেওয়া ও না নেওয়া, গীবত না করা, প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা, ওজনে কম না দেওয়া, হত্যা-ধর্ষণ থেকে বিরত থাকা, অহেতুক তর্ক-বিতর্ক না করা— এখন ঈমান ধরে রাখতে কোন কাজগুলোকে জ্বলন্ত কয়লার টুকরো হাতে ধরে রাখার মতো কঠিন মনে হচ্ছে?
আল্লাহ্ সুবহানাহু তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।
জুম্মা মোবারক।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


