somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আজকের বাকের ভাই
একটি সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি যেখানে শুধু মানুষের বসবাস রবে।

কেমন আছেন আমাদের মেধার কারিগররা||তাদের কথা কি আপনার মনে পড়ে?

২৩ শে মে, ২০১৫ দুপুর ১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সৃষ্টিকর্তা আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, মেধাও তিনিই দিয়ে দিয়েছেন কিন্তু তার বিকাশ ঘটেছে আমাদের "মা" এর হাত ধরে। পরিবারের বড়দের হাতেই শুরু হয়েছে অক্ষর চেনার কাজ, আমাদের পাঠ্যগত শিক্ষার শুরু গ্রামের বা শহরে অবচেতন মনে কাজ করে যাওয়া নানা শিক্ষকের মাধ্যমে। বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক দামী দামী স্কুল রয়েছে কিন্তু আমরা যারা ২৩+ বা তারও বেশী তাদের ৮০% ভাগই শিক্ষক বলে পায়েছি কিছু অদ্ভুত মানুষদের, যারা লাঠি হাতে আমাদের অ আ চিনতে শিখিয়েছে, পড়তে শিখিয়েছে। আদিকালের বই ঘেটে ইতিহাস পড়িয়েছে, জানিয়েছে পৃথিবী জয়ের কাহিনী, স্বপ্ন দেখিয়েছে বড় হবার।

ছোটকালের সেই প্রাইমারী স্কুল শেষ করার যুগ পাড়িয়ে গেছে, মাধ্যমিকের শিক্ষকদেরও ছেড়ে এসেছি অনেক বছর আগে। উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষকদের ছাড়ারও বছর ছয়েক পাড় হয়ে গেছে। এখন আমরা আর তাদের পড়ানো সেই বইগুলো পড়িনা, আমাদের হাতে এখন অনেক মোটা মোটা বই থাকে, থাকে ইন্টারনেট সম্বলিত দামী ফোন। আমরা চাইলেই দেখি ফেলি অজানা অনেক তথ্য, কিন্তু সেই অবহেলিত মানুষগুলোর কথা কি কখনো ভাবেছি, একবারও কি খোজ নিয়েছি তারা কেমন আছে?

বিশ্ব বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক মারা গেলে আমরা কালো ব্যাচ ধারণ করি, কোন শিক্ষককে অপমান করা হলে বিচারের দাবীতে রাস্তায় নামি, স্লোগানে মুখে ফেনা তুলি। আমি বলছি না এগুলোর কোনটা খারাপ, বা করা উচিত না, কিন্তু একবারও কি ভেবেছেন আমাদের যারা এতো বড় হবার স্বপ্ন দেখালো তারা কেমন আছেন?
তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের বাইরে উচ্চ পদে কর্মরত আছেন অনেকে, দেশে কর্মরত আছেন অনেকে, অনেকর নামের সামনে ড:, ইন্জিনিয়ার, নেতা, মন্ত্রী সহ বসেছে অনেক বিশেষণ। যাদের অনেকেই এসি রুমে বসে কোটি কোটি টাকার হিসাব করে, ব্যঙ্কে টাকার সংখ্যাটা কম নয়। কিন্তু আমাদের মেধার কারিগরদের অবস্থা দিন দইন আরো খারাপ হয়ে চলছে। যারা তাদের কর্মস্থল থেকে বিরতি নিয়েছেন তাদের শেষ বয়সে বার্ধক্যেজনিত কারণে ঔষুধ কেনার টাকাটা মেটাতেও অনেকের কষ্ট হয়। মহান কারিগরদের কেউ মারা গেলেও আমরা জানতে পারি না, কালো ব্যচতো দুরের কথা।

আমি জানি না কি করে তাদের খেয়াল রাখতে হবে, কি করা যেতে পারে। কিন্তু এবার সেই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখেছি, আমার সময়ের তিনজন শিক্ষক মারা গেছেন। যাদের দুইজনই বার্ধক্যজনিত কারণে, বাকী একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তাই অবসর নিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন পেনশনের টাকায় নিজের চিকিৎসা করাবেন, কিন্তু হয়নি। কারণ জানেন, তিনি সাতমাস ঘুরেও নিজের সেই টাকা তুলতে পারেন নি বরং শেষ জীবনে এমন চক্কর কাটতে কাটতে ত্যাগ করেছেন শেষ নি:শ্বাস।
এমনভাবে অবহেলায় আমাদের কতো শিক্ষক যে কষ্টে ইহলোক ত্যাগ করেছেন তা জানা নেই। তারা এতোটাই হতোভাগা যে অবসর শেষে যে কারো বাসায় কাজ করবেন তাও সম্ভব নয়, কারো কাছে হাত পাতবেন তা তারা কখনোই পারবেন না। কিন্তু উর্ধগতী মুল্য, বিশেষ করে যদি কারো নিজের অন্য কোন সম্পদ না থাকে বা সন্তান না থাকে, তবে? তাদের জীবনের পাতাগুলো কেমন হবার কথা একবারও ভেবেছেন?

যারা আমার লেখা পড়েন তারা ভালো করেই জানেন, গুছিয়ে লেখার অভ্যাস বা ক্ষমতা কোনটাই আমার নেই। তারপরও লিখে যাই, জানিনা আপনাদের কিছু বুঝাতে পারলাম কিনা?
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×