" আমার মা,আমার পৃথিবী "
মাঝেমধ্যে হঠাৎ করেই মাগো তুমি আমার স্বপ্নে এসে আমার হ্রদয় ছুঁয়ে যাও। সেদিন সারাটাক্ষন আমি আমার মায়ের মাঝে ডুবে থাকি। কোনো কাজে মন বসাতে পারিনা।
কিশের এতো ছিলো গো মা তোমার, আরও একটু রয়ে- সয়ে গেলে কি এমন ক্ষতি হতো বলো?
আমি যখন দাঁড়িয়ে গেলাম চারপাশ আমার শূন্য করে কোথায় গেলে কত দূরে মা। মনটা কি তোমার কাঁদেনি
একবারও। আর আমার এই সাফল্যের পিছনে যার অবদান,উৎসাহ সবচেয়ে বেশি ছিলো, সেও তো তুমিই মা।
তুমি কি জানতেনা, মা মানে শুধুই মা নয়,মা মানে সন্তানের জন্য একটা
নির্ভর যোগ্য পৃথিবী, আর সেখানেই তো
আজ আমি শূন্য, শূন্য আমার চারপাশ।
মাঝেমধ্যে ঘরময় তোমার আঁচলের গন্ধ এসে আমায় স্পর্শ করে।সব প্রয়োজনে তোমাকে পাশে পেয়েছি অথচ কখনো কোনো দিন ও বলা হয়ে উঠেনি,মাগো, তোমায় ভীষণ ভালো বাসি। যে কথাগুলো বলা হয়নি কোনো দিন, সে কথাগুলোই কেন যেন বারবার মনে করিয়ে দেয় এখন এই নি:সঙ্গ পড়ন্ত বিকেলে ।
মা মানে অন্যরকম এক মায়াবী টান, যে নামে ডাকলে বুকের ভয়গুলো নিমিষেই কোথায় উধাও হয়ে যায়,যেই আঁচলের তলায় দাঁড়ালে রোদের আলো ও শীতল হয়ে আসে। মা মানে নি:সর্ত ক্ষমা, পৃথিবীর সবাই ছেড়ে গেলেও যে মানুষটা নি:স্বার্থ ভাবে পাশে এসে দাঁড়ায় সেই হচ্ছে অশেষ মায়ার মা,যার ভালো বাসার কোনো কমতি থাকেনা,থাকেনা কোনো স্বার্থপরতা।
মায়ের কঠিন রক্তচক্ষুর আড়ালে যে কতটা দায়িত্ব বোধ আর কতটা স্নেহ লুকিয়ে ছিলো সেটা তখন বুঝতে পারিনি, তাই যত রাগ যত অভিমান সবচেয়ে বেশি ছিলো মায়ের সাথেই। মাঝেমধ্যে ভীষণ অসম্ভবে ও মাগো,শুধু তোমাকেই কেন যেন বারবার মনে পরে।
আমি ঢাকায় চলে আসার সময় মা আমায় জড়িয়ে ধরে কান্না করে বলছিলেন, আর এসে যদি আমাকে না পাস মন খারাপ করবিনা কিন্তু, মা কখনো কারুর চীরদিন থাকেনা। বলেই ডুকরে উঠলেন। সত্যি আর কোনো দিন আমার স্নেহময়ী মায়ের সেই স্পর্শ, সেই ঘ্রাণ কোথাও খুঁজে পাইনি। জানি,প্রিয়জনকে হারিয়ে মানুষ কাঁদে কিন্তু মা হারানোর কান্নাটা এতো গভীর হয় যে চিৎকার দিয়ে গলা ফাটালে ও ভীতর থেকে সব ভেঙে চুরে একাকার হয়ে যায় নি:শব্দ এক অদ্ভুত শীতলতায়। পৃথিবীর সবকিছু আগের মতই স্বাভাবিক চলে অথচ মা হারা এক সন্তান চুপিসারে শুধু এগিয়ে চলে অসীম এক শূন্যতার ভীতরে।
-----------
জিনাত নাজিয়া

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

