somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চে গুয়েভারার ছবির অজানা কাহিনী

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঠোঁটের ওপর হাল্কা গোঁফ, মুখে দাড়ির জঞ্জাল, চোখে তীক্ষ দৃষ্টি, অবিন্যস্ত লম্বা চুলের ওপর চ্যাপ্টা গোলাকৃতির একটা টুপি বসানো। এক নজর দেখেই বলে দেওয়া যায়, এ ছবি আর দশটা চবির চেয়ে একেবারেই ভিন্ন, চিবর মানুষটিও তা-ই। অন্যায়, নিপীড়ন আর শোষণবিরোধী সাম্যবাদেও প্রতীক এই মানুষটি। যে মানুষ ভেঙ্গে দিয়েছেন দেশকালের সীমানা। যে মানুষ প্রতীক হযে উঠেছেন বঞ্চিত মানবতার। তাঁর নাম চে গুয়েভরা।

আজ থেকে ৪০ বছর আগে আর্জেন্টিনার এই বিপ্লবী নেতা আততায়ীর গলিতে নিহত হন। কিন্তু চে’র সেই ছবি, তাঁর সেই চেতনা আজও মানুষের হৃদয়পটে অম্লান হয়ে আছে। শুধু কি হৃদয়ে ? টিশার্ট, দেয়াল আইসক্রিমের মোড়ক, সিগারেট, কোথায় নেই তাঁর ছবি! চে গুয়েভারা রীতিমতো একটা ব্রান্ড। এবং এই ব্রান্ডের লোগো হচ্ছে চে’র সেই বিখ্যাত ছবি, যার অর্থ পরিবর্তন। ছবিটি যুদ্ধ ও বিশ্বয়ানবিরোধী তথা পরিবেশবাদেও প্রতীক হয়ে উঠেছে। বললেন, চিত্র বিশ্লেষক ত্রিশা জিফ।

চে গুয়েভারার যে ছবি বিশ্ববাসীর কাছে এত সমাদৃত, সেই ছবির নেপথ্যে রয়েছে আরেক কাহিনী। ১৯৬০ সালের ৫ মার্চ ছবিটি তোলেন আলবের্তোর কোর্দা। কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রোর দপ্তরের আলোকচিত্রী ছিলেন তিনি। সেদিন চে গুয়েভারার হাভানায় একট গণ শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ঠিক তার এক দিন আগেই হাভনা বন্দরে বোমা ও বিস্ফোরণবোঝাই একটি ফরাসি মালবাহী জাহাজ বিস্ফোরিত হয়। ভয়ানক সেই বিস্ফোরণে কিউবার ৮০ জন নাগরিক নিহত হন। শেষকৃত্যানুষ্ঠানে কোর্দার ক্যামেরার ফ্লাশ ঝিলিক দিয়ে ওঠে। ফ্রেমবন্দী হয় পৃথিবীর সর্বকালের সেরা আলোকচিত্র।

কোর্দা চে ঘুয়েভারার সেই ছবির ক্যাপশানে লিখেছিলেন, ‘ক্রুব্ধ ও বিষন্ন বীর যোদ্ধা’ সেদিন চে’র অভিব্যাক্তি বর্ণনায় এর চেয়ে বেশি কিছু লেখার প্রয়োজন ছিল না ।

এরপর ছবিটি চলে যায় কোর্দার ব্যক্তিগত স্টুডিওতে। দীর্ঘ এক বছর সেই ছবি কোথাও প্রকাশিত হয়নি। কোর্দার স্টুডিওতে যাঁরা আসা যাওয়া করতেন, তাঁদেও চোখেই পড়েছে দেয়ালে ঝুলে থাকা ক্রুব্ধ, বিষন্ন এক বিপ্লবীর ছবি।

এরই মধ্যে সাতটা বছর কেটে যায়। ইতালীয় বামপন্থী একজন প্রকাশক ও বুদ্ধিজীবি চে’র ছবিটি দেখে আকৃষ্ট হন। গিয়াংগিয়াকোমো ফেলত্রিনেল্লি ছবিটি নিয়ে আসেন ইতালিতে। প্রথমবারের মতো চে’র পোস্টার ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে দেয়ার কৃতিত্ব তাঁরই। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেদেশ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে ছাপা হওয়ার পর ছবিটি ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়।

ত্রিশা জিফ বলেন, ‘চে গুয়েভারার তখন অন্তিমশয়নে। তাঁকে হত্যার প্রতিবাদে প্রথম বিক্ষোভ মিছিল হয় ইতালি মিলানে। ধীরে ধীরে সেই আন্দোলনের গতি সঞ্চার হয়। প্যারাগুয়ে ও ফ্রান্স ছাড়াও চে’র হত্যঅর বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে সমগ্র ইউরোপে। লোকে শোষণ ও বৈষমের অবসান চায়, চায় পরিবর্তন। চে’র ছবিটি সেই পরিবর্তনেরই প্রতীক। ’ কিন্তু লাতিন আমেরিকার চে গুয়েভারা মুখায়ব মানে হচ্ছে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রতীক।

- বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই যোদ্ধা!

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৭


এই লোকটির নাম আল আমিন। সে বিশেষ একটি দলের হয়ে জুলাই মঞ্চে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেয় মাঝেমধ্যে। এর সম্পর্কে গুরুতর একটি অভিযোগ উঠেছে, সে নাকি ৫ আগস্ট দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের দাপুনিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×