somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিদ্রুপ মোকাবেলার পন্থা ইহুদী নাসা পৈতালিকরা কোরান গবেষণা করে আবিষ্কার করেছে !

৩০ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দাবি : ইহুদী নাসারা কোরান গবেষণা করে সব কিছু আবিষ্কার করেছে ।

জী এই দাবি আমাদের হুজুর আলেম মমিনরা সব সময়ে করে থাকে , এটা নিয়ে অনেক রকমের তর্ক আছে কিন্তু ইহুদী নাসারা যে কোরান গবেষণা করে তাদের ধর্মকে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপকে মোকাবেলা করে নিজেদেরকে ব্যাপক বিদ্রুপের হাত থেকে রক্ষা করেছে , সেটা আজকে প্রমাণীত ।
ভাই সব আপনারা কখনো দেখেছেন, হিন্দুদের কোন প্রতিবাদ করতে , যখন কেহ তাদের দেবদেবিকে গালাগালি করে বা তাদের পূজার মু্র্তি গুলোকে ভেংগে ফেলে । আমাদের দেশের হুজুরা ওয়াজ মহফিলে কি ভাবে তাদের ধর্মকে গালাগালি করে , সেটাতো আপনারা জানেন , কিন্তু তারা কোন টু শব্দ করে না বা এক কথায় এই সব গালাগালিকে পাত্তা দেয় না ।
বাংলাদেশের হিন্দুদের পরিষদ কিন্তু খুব প্রভাবশালী এবং যেহেতু বর্তমান সরকার ভারতের পাচাটা দালাল , তাই তাদের প্রভাব অপরিসীম । এরা ইচ্ছা করলে ধর্ম অবমাননার মামলা করে এই সব বিদ্রপকারী হুজুরদের বারোটা বাজাতে পারে কিন্তু তারা এই বিষয়কে পাত্তাই দেয় না ।
এবার দেখুন খৃষ্ঠান বৌদ্ধ বা আরো অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে তারা কি করে বিদ্রুপ গালাগালির সামনে । এটা অবাক ব্যাপারে তারা চুপ , টু শব্দ করে না পাত্তা দেয় না ।
আপনার কি মনে করেন তারা তাদের ধর্মকে ভালো বাসে না ? অবশ্য ভালোবাসে । তারা কি কষ্ঠ দু:খ পায় না ? অবশ্যই পায় , অবশ্যই তাদের রাগ হয় কিন্তু তারা নিরব থাকে এবং বিদ্রুপকে কোন পাত্তা দেয় না ।

কি বুঝলেন ? কিছু বুঝলেন ?

জী পবিত্র কোরানে ঠিক এই ভাবে বিদ্রুপকারীকে ইগনোর করতে বলেছে , যেটা হিন্দু, খৃষ্ঠান, বৌদ্ধরা করে কিন্তু মুসলমানরা এই ব্যাপারে কোরানের নির্দেশের ধারে কাছে যায় না বরং অনুসরন করে কিছু হাদিসকে ।

মনে রাখবেন যত প্রতিক্রীয়া প্রকাশ্য দেখাবেন গালাগালি তত বাড়বে । বিদ্রুপকারীরা যখন দেখবে বিদ্রুপ করলে মুসলমানরা মাতে না বা ক্ষেপে না বা কোন প্রতিক্রীয়া দেখায় না, তখন তারা চুপ হয়ে যাবে । এই পন্থা অবলম্বন করার জন্য আল্লাহ তালা পবিত্র কোরানে বেশ কয়েকটা আয়াত নাজিল করেছেন ।
বিদ্রুপকারীরা খুব মজা পায় যখন দেখে মুসলমানরা খুব ক্ষেপে যায় , তাই বার বার ক্ষেপাতে চায় এবং এর ভিতরে তারা আনন্দ পায় ।
অমুসলিমরা যে ভাবে বিদ্রুপকে পাত্তা দেয় না , ঠিক সেই ভাবে কোরানে উপদেশ দেওয়া আছে ।

মনে করুন আপনাকে বল্টু বোললে আপনি খুব ক্ষেপে যান , মারতে তেড়ে যান , মারামারি শুরু করেন , তখন দেখবেন আপনার আসে পাশের মানুষ সুযোগ পেলে আপনাকে বল্টু বলে রাগাবার চেষ্ঠা করবে এবং এটাই তাদের আনন্দ , আপনি যত ক্ষেপবেন তাদের তত আনন্দ ।
এবার মনে করেন আপনি বল্টু বলাকে আর পাত্তা দিচ্ছেন না , রেগে যাচ্ছেন না , হেসে এড়িয়ে যাচ্ছেন অথবা বোলছেন আমি বল্টু হোলে তুই হলি টল্টু হেল্টু , তখন দেখবেন আপনাকে আর বল্টু বলে কেউ ক্ষেপাচ্ছেনা ।
কারন আপনার আসে পাশের মানুষ যখন দেখবে আপনি ক্ষেপছেন না , তখন তারা বল্টু বলা বন্ধ করে দিবে ।

জী ঠিক এই ভাবে বিদ্রুপকে পাত্তা না দিয়ে মোকাবেলা করার উপদেশ কোরানে দেওয়া হয়েছে ।
মনে রাখবেন যত ক্ষেপবেন তত বিদ্রুপ বেড়ে যাবে , কারন বিদ্রপকারীরা রেগে গেলেই আনন্দ পায় ।

এবার দেখি কোরানের আয়াত কি বলে

সুরা মোজ্জামেল ( ৭৩--১0 ) কাফেররা যা বলে, তজ্জন্যে আপনি সবর করুন এবং সুন্দরভাবে তাদেরকে পরিহার করে চলুন।

সুরা নিসা আয়াত ১৪0- আর কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতি এই হুকুম জারি করে দিয়েছেন যে, যখন আল্লাহ তা’ আলার আয়াতসমূহের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও বিদ্রুপ হতে শুনবে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা প্রসঙ্গান্তরে চলে যায়। তা না হলে তোমরাও তাদেরই মত হয়ে যাবে। আল্লাহ দোযখের মাঝে মুনাফেক ও কাফেরদেরকে একই জায়গায় সমবেত করবেন।
সুরা আল আনাম ( ৬--৬৮)
যখন আপনি তাদেরকে দেখেন, যারা আমার আয়াত সমূহ নিয়ে উপহাস করে, তখন তাদের কাছ থেকে সরে যান যে পর্যন্ত তারা অন্য কথায় প্রবৃত্ত না হয়, যদি শয়তান আপনাকে ভূলিয়ে দেয় তবে স্মরণ হওয়ার পর জালেমদের সাথে উপবেশন করবেন না।

সুরা আহযাব ( ৩৩ -৪৮)

আপনি কাফের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না এবং তাদের উৎপীড়ন উপেক্ষা করুন ও আল্লাহর উপর ভরসা করুন। আল্লাহ কার্যনিবার্হীরূপে যথেষ্ট।

সুরা ক্কাফ (৫০-- ৩৯) অতএব, তারা যা কিছু বলে, তজ্জন্যে আপনি ছবর করুন এবং, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনার পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন। --

আপানার নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন উপরের কোরানের আয়াত গুলোতে ইগনোর করা, চুপ থাকা, কোন প্রতিক্রীয়া না দেখানো বা পাত্তা না দেওয়ার উপদেশ দেওয়া হয়েছে ।
দেখুন ঠিক ঐ কাজ গুলো করে অমুসলিমরা হাতে নাতে কেমন ভাল ফলাফল পাচ্ছে । ওয়াজ মহফিলের হুজুরদের হাজারো বিদ্রুপকে তারা পাত্তা দিচ্ছে না ।


সুরা আহযাব (৩৩-৫৭) যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি। --- এই আয়াতে শাস্তি দানকারি স্বং আল্লাহ তালা কোন মানুষ নহে ।


দেখুন সুরা হিজরে আয়াত ৯৫ তে আল্লাহ কি বোলছেন -- বিদ্রুপকারীদের জন্য আমিই আপনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট"----- সুতরাং এই আয়াত স্পষ্ঠ করে বলেছে বিদ্রুপকারীদের আল্লাহ নিজে শাস্তি দিবেন ।

এখন দেখুন একে মুসলমানরা বিদ্রুপকারীকে পাত্তা না দিয়ে , পাত্তা দিচ্ছে না বা ইগনোর করছে কোরানের নির্দেশ এবং আরো দেখা যাচ্ছে আল্লাহ তালার উপরে তাদের আস্থা নেই , যেখানে আল্লাহ নিজেই বোলছেন তিনি নিজে বিদ্রুপকারীদের শাস্তি দিবেন , সেই নিশ্চয়তাকে ও এই সব মুসলমানরা ইগনোর করছে ।


এবার দেখি মুসলমানরা কোরানের উপদেশকে উপেক্ষা করে, ২৫০ বৎসর পরে সংকলিত হাদিস পড়ে, বিদ্রুপকে মোকাবেলা করতে গিয়ে, বিদ্রুপ মোকাবেলা করাতে কতখানি সাফল্য পেয়েছে ।

হাদিসের উপদেশ মেনে নিয়ে , যদি ইসলাম ধর্মকে কেউ যদি বিদ্রুপ করে তখন সাথে সাথে মুসলমানদের ঈমাণী জোস শত গুণ বেড়ে যায়, রীতিমত জেহাদের হুংকার দেয় , খুন করে ফেলা , জালাও পোড়াও সহ মিটিং মিছিল সমাবেশ শুরু করে ।

বিদ্রুপকারীরা ঠিক এই জিনিসটাই চায় , এতেই তাদের যত আনন্দ এবং কিছু দিন পর পর তারা আবার আরেকটা মাশকারা করে এবং সাথে সাথে ডিজারেবেল রেজাল্ট, তারা পেয়ে যায় ।

বিদ্রুককারীরা হিন্দু খৃষ্ঠান বৌদ্ধ সহ অন্য ধর্মকে নিয়ে মাশকারা করতে গিয়ে, খুব হতাশ কারন তারা দেখে , আমরা এদের যত গালাগালি করি, মাশকারা করি, তারা পাত্তাই দেয় না এবং আমরা আনন্দ পাই না । যেহেতু মুসলমানরা রিয়েক্ট করে তাই মাঝে মাঝে তাদের সাথে মাশকারা করে একটু মজা লুটাই ।

এখন দেখতে পাচ্ছেন মুসলমানরা হাদিসের উপদেশ অনুসরন করে বিদ্রুপ মোকাবেলা করতে গিয়ে কি ভাবে নাজেহাল হচ্ছে ।তারা বার বার ক্ষিপ্ত হয়ে জালাও পোড়াও সহ প্রতিবাদ করছে এবং বিদ্রুপকারীরা আড়ালে থেকে আট্টহাসি হেসে গুড়িয়ে যাচ্ছে এবং কিছু দিন পর পর আবার আরেকটা মাশকারা কোরছে । এই ভাবে কখনো বিদ্রপকারীকে থামানো যাবে না , যতই চেষ্ঠা করেন ।
অথচ ইহুদী নাসা পৈতালিকরা কোরানের উপদেশ অনুসরন করে , কি ভাবে নিজেদেরকে ব্যাপক বিদ্রুপের হাত থেকে রক্ষা করছে ।

পরিশেষে বোলতে চাই ইহুদী নাসা পৈতালিকরা কোরান গবেষণা করে , বিদ্রুপ মোকাবেলা করার পন্থা আবিষ্কার করে এবং প্রয়োগ করে , নিজেদের কি ভাবে ব্যাপক বিদ্রুপের হাত থেকে রক্ষা করছে ।
বিদ্রপকারীদের আনন্দ, যখন তাদের টার্গেট রিয়েক্ট করে , রাগান্নিত হয় । যত রাগ দেখাবেন ততই বিদ্রুপের শিকার হবেন । পাত্তা দিবেন না বিদ্রুপকারী হতাশ হয়ে চুপ হয়ে যাবে এবং এটাই কোরানের উপদেশ ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৩৬
১২টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৬৪ জন ব্লগার চাই

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৩ ই জুন, ২০২১ দুপুর ২:৪৪




বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় ব্লগ হচ্ছে আমাদের প্রিয় সামু ব্লগ। কিন্তু জিনিস ইদানিং খুব ফিল করছি। এত বড় প্লাটফর্মে
কি বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ৬৪ জন ব্লগার ব্লগিং করেন না... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ !! ( একটি রম্য কবিতা)

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ১৩ ই জুন, ২০২১ বিকাল ৫:১৬


চুপ !! (একটি রম্য কবিতা)
© নূর মোহাম্মদ নূরু

চুপ! চুপ!! চুপ পেলাপান, এক্কেবারে চুপ !!!
চ্যাচা মেচি করলে রাজা রাগ করিবেন খুব।
কথা বলো চুপি চুপি দাড়ি পাল্লায় মেপে
ওজন বেশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ ভাষায়ঃ কপি-পেস্ট দোষের কেন [একটি গল্প ফাও]

লিখেছেন আরইউ, ১৩ ই জুন, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৯




একটা গল্প বলিঃ ৯০ এর দশকের কোন এক সময় হবে, তখনকার। গ্রামের নাম নীলগন্জ। ঢাকা থেকে অল্প দূরে -- ধরা যাক ২৫ কি ৫০ কিলোমিটার হবে -- ছোট একটা গ্রাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মহামারী ব্ল্যাক ডেথের গর্ভ হতে জন্ম নেয়া কিছু সাহিত্য ও শিল্প কর্ম নিয়ে একটি পর্যালোচনা।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ৯:৩১


সুত্র : Click This Link
আমরা অনেকেই জানি ব্ল্যাক ডেথ ( Black Death) নামে পরিচিত মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর একটি মহামারী অস্বাভাবিক মারণক্ষমতা নিয়ে প্যানডেমিক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বে। মধ্য এশিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভিনদেশী গানের সুরের আদলে রবীন্দ্রসঙ্গীত

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ১০:১১


কৈশোর ও তারুণ্যের মাঝামাঝি বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কয়েক দিন আগের পোস্টে কিছু হিন্দি গানের লিংক দিয়েছিলাম যেগুলির সুর রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে ধার করা ছিল। এই পোস্টে কিছু রবীন্দ্রসঙ্গীতের সন্ধান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×