এক দেশে বাস করত এক পন্ডিত। তাহার সহযোগীতা করার জন্য সাথে থাকত কিসমত আলী নামের এক লোক। স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে কিসমত আলী খুবই হাল্কা পাতলা ছিল। একদিন পন্ডিত ভাবল সে বিদেশ ভ্রমণ করিবে। অতঃপর সে কিসমত আলীকে সাথে নিয়ে বিদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল। ভ্রমণের জন্য যে দেশে গেল তারা সেই দেশের মানুষজন খুবই আজব। সেই দেশে সবই সমান। যেমন চালের দাম পাঁচ টাকা, ডালের দামও পাঁচ টাকা। এক কেজি গরুর মাংসের দাম পাঁচ টাকা, ছাগলের মাংসের দামও পাঁচ টাকা। কয়েকদিন থাকার পর পন্ডিত ভাবল এদেশে থাকা ঠিক হবেনা কারণ যেই দেশে সব কিছুর দাম সমান সেই দেশে শিক্ষিত অশিক্ষিতদের মধ্যে কোন তফাত থাকবে না। তাই সে সিদ্ধান্ত নিল দেশে ফিরে আসবে। কিন্তু তাহার সহযাত্রী কিসমত আলী দেশে ফিরতে নারাজ। সে ভাবল, যে দেশে ঘিয়ের দাম পাঁচ টাকা সেই দেশ থেকে আমি যাবনা কারণ সে খেয়ে দেয়ে মোটা হতে চায়। তাই পন্ডিত মশাই একাই দেশে প্রত্যাবর্তন করলেন। চলে গেল অনেকদিন। হাল্কা পাতলা কিসমত আলী খেয়ে দেয়ে অনেক মোটা তাজা হল। এই দেশেই বাস করত এক কাঠুরিয়া। কাঠুরিয়ার বাড়ীতে চুরি করতে এসে দেয়াল ধসে মারা গেল এক চোর। চোরের বউ দেশের রাজার নিকট অভিযোগ করল, রাজামশাই কাঠুরিয়াকে ডাকলেন। বললেন তোমার বাড়ীর দেয়াল ধসে ঐ মহিলার স্বামী মারা গেছে। তাই তোমাকে শুলে চঁড়ানো হবে। কাঠুরিয়া বলল হুজুর, আমার তো কোন অপরাধ নেই। অপরাধ করেছে রাজমিস্ত্রী যে আমার বাড়ীটি বানিয়েছিল। নিশ্চয়ই সে বালি সিমেন্ট পরিমাণ মত দেয়নি। রাজামশাই রাজমিস্ত্রীকে ডেকে বললেন, তুমি কাঠুরিয়ার বাড়ী বানানোর সময় বালি সিমেন্ট পরিমাণ মত দেওনি। তোমাকে শুলে চড়াঁনো হবে। রাজমিস্ত্রী বলিল, হুজুর আমার তো কোন দোষ নেই। দোষ হল আমার উস্তাদের যিনি আমাকে শিখেয়েছেন কি পরিমাণ বালির মধ্যে কত পরিমাণ সিমেন্ট মেশাতে হয়। রাজামশাই বলিলেন উস্তাদকে ডাক। কিন্তু মজার বিষয় হল উস্তাদ বেচারা খুবই হাল্কা পটকা, শরীরে যে মাংশ আছে তা দেখে কংকালও লজ্জা পাবে। শুলে চড়ানোটা একটা হাস্যকর ব্যপার হয়ে দাড়াঁবে! কিন্তু রাজামশাই তো এক কথার মানুষ। তিনি উজির কে ডেকে বলিলেন যান, সমস্ত রাজ্য খুঁজে একজন মোটা তাজা মানুষ নিয়ে আসেন শুলে চড়াঁনোর জন্য। এদিকে পন্ডিতের সহযাত্রী কিসমত আলী দীর্ঘ ছয় মাস ঘি খাওয়ার পর বেশ মোটা তাজা হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত সৈনিকরা তাকেই ধরে নিয়ে আসল শুলে চড়ানোর জন্য। অন্যদিকে পন্ডিত মশাই ভাবলেন দীর্ঘ ছয় মাস হয়ে গেল কিসমত আলীর সাথে দেখা হয় না! তাই তিনি রাজ্যে দেখা করতে আসলেন। কিন্তু একি হায়! এসে দেখেন কিসমত আলী মৃত্যর মুখে। তিনি ভাবতে লাগলেন কিভাবে কিসমত আলীকে বাচাঁনো যায়। তিনি রাজা মশাইকে বলিলেন, রাজামশাই আমাকে শুলে চড়াঁন। রাজামশাই তো অবাক। মানুষ বাচাঁর জন্য আমার কাছে ফরিয়াদ করে। আর এই পন্ডিত মরার জন্য পাগল। তিনি পন্ডিতকে জিজ্ঞেস করলেন তুমি মরতে চাও কেন? পন্ডিত বলিল হুজুর, আজকের দিনে যে ব্যক্তি শুলে চড়েঁ মৃত্যু বরণ করিবে সে পরজন্মে এই রাজ্যের রাজা হয়ে পুনরায় জন্ম গ্রহন করিবে। এ কথা শুনে রাজ্যের উজির এবং সৈনিকেরা শুলে চড়াঁর জন্য নিজেদের পেশ করতে লাগল। রাজামশাই বলিলেন আমি এই রাজ্যের রাজা। সুতরাং আমি আবারও রাজা হওয়ার ইচ্ছা পোষন করি। অতএব, আমাকেই শুলে চড়াঁনো হোক। অতঃপর বেকুব রাজাকে শুলে চড়িঁয়ে হত্যা করা হল আর এদিকে পন্ডিতমশাই তার শিষ্যকে নিয়ে নিজ দেশি প্রত্যাবর্তন করিলেন। পরিশেষে বুঝা গেল পন্ডিত সব সময়ই পন্ডিত হয়। সেটা শেয়াল পন্ডিত ই হোক আর মানুষ পন্ডিত ই হোক। হে হে হে হে হে ...।
পন্ডিত সব সময়েই পন্ডিত, হউক সেটা শিয়াল পন্ডিত।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।
কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজকের ডায়েরী- ১৯৮

আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
শরাব পিনে দে.....

মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন
বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!
প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”
বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।