আজ আপনি যে বাটা সু পড়ছেন, ১৯৭০ সালে সেই বাটা সু কোম্পানীর ম্যানেজার হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিলেন বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক হোয়াইল হেমার ওডারল্যান্ড,
বাংলাদেশকে ভালবেসে তিনি পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেন, সংগ্রহ করতে থাকেন গোপন তথ্যগুলো তা পাঠিয়ে দিতেন মুক্তিযোদ্ধাদের,
চিন্তা করতে পারেন! এই দেশের নাগরিক হয়ে অনেক কুলাঙ্গার সেদিন রাজাকারের ভূমিকা পালন করেছিল তাদের মুখে চপেটাঘাত করে দেখিয়ে দিলেন ওডারল্যান্ড, বীর প্রতীক আসলেই তার প্রাপ্য,
ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধকালীন মুহূর্তে তিনি পাক বাহিনীর বিভিন্ন তথ্য, যুদ্ধকৌশল ও পরিকল্পনা সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী, জেড ফোর্সের অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ও ২ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর এটিএম হায়দারসহ বিভিন্ন সেক্টর কমান্ডারের কাছে পাঠাতেন,নিজের গাড়িতে করেমুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ নিয়ে যেতেন,
এমন কি মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্য তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করতেন, রণকৌশলের পাশাপাশি পাকবাহিনীর নির্মম গণহত্যা ও ধ্বংসযঞ্চের ছবি তুলে তিনি তথ্য মাধ্যমে পাঠাতেন, সারা বিশ্ব সেই সব ছবি দেখে শিওরে উঠত, তৈরী হয়ে গেল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে জনমত,
একটা কথা বলতে ভুলে গেছি, মি ওডারল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেডারল্যান্ডের আমস্টার্ডাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন, বাটা সু চাকরি ছেড়ে দিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ১৯৪০ সালে তিনি জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, পরে আবার বাটার ম্যানেজার, সত্যি এমন সোনার মানুষ ছিল বলে বাটা সু এতো টেকসই,
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৮ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান, ২০০১ সালের ১৮ মে ৮৮ বছর বয়সে পার্থ হাসপাতালে এই বীর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, সত্যি কথা বলতে কি তাকে দেখে অনেক কিছু শিখার আছে আমাদের ৷

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



