আমার পোস্টের শেষ কমেন্টটাতে বলা হয়েছে "যে বলেছে তারে ধরুন" গোছের কথায় বেশ হতাশ হলাম। জাতীয় পতাকা নিয়ে হঠকারিতার কোন সুযোগ নেই। আমার আগের পোস্টে যে 6টি প্রশ্ন আছে তা সহজ ও সরল ভাষায় লেখা। দেশের প্রতি নূ্যনতম ভালবাসা থাকলে দেশাত্মবোধ থাকলে জাতীয় পতাকা নিয়ে কেউ আপওিকর লিখলে তার প্রতিবাদে দলমত নির্বিশেষে এগিয়ে আসবে। যদিও সবাই মোটামুটি আন্তরিকভাবেই চেস্টা করেছে এটা বলার যে জাতীয় পতাকা নিয়ে বাঁদরামি করা অন্যায় কিন্তু আমি আরও সোচ্চার প্রতিবাদ আশা করেছিলাম। দেশ প্রেম যদি ঈমানের অংগ হয় তাহলে দেশের সাথে বেঈমানী করলে তো মীরজাফর ও মুনাফেকদের কাতারে গিয়ে দাাঁড়াতে হয়। একথা বুঝার লোকের কি সত্যি অভাব পড়েছে?
ইসলামের নামে যারা গণহত্যা চালায় আর নৃশংসতা করে তাদের ব্যাপারে নিস্পৃহ থেকে কি ইসলাম কপচানো যায়? এই তো সেদিন শিবির নেতা সালেহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ শিক্ষককে হত্যা করে এখন ফেরারী হয়ে আছে। কই ইসলাম নিয়ে যারা সারাদিন মায়াকান্না করেন তারাতো এর প্রতিবাদ করতে সোচ্চার হন না? বরং জামাতীরা বলেন, সালেহীর কিছু হলে তারা জোট সরকার ছেড়ে দিবেন। জানেন কী, ইসলাম যদি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে মেনে নেন তাহলে রাজনৈতিক ইসলাম বা দলভিওিক ইসলাম প্রবর্তন করে পূর্ণাঙ্গ ইসলামের বিধানকে খন্ডিত করার কোন সুযোগ নেই। ইসলামে নতুন দল প্রবর্তন যদি বেদায়াত হয় তাহলে তাকে মেনে নেন কেন? আর যদি তর্কের খাতিরে বলেন এটা বেদায়াতে হাসানাহ তাহলে প্রশ্ন যে, এধরণের গণহত্যার অপকর্ম যদি রাজনৈতিক ইসলামের চেহারা হয় তাহলে তো এধরণের ইসলাম দিয়ে হাসানাহ, শান্তি আর মুক্তি আসবে কিভাবে?
যেমনটা আমার মন্তব্যে বলেছি, ধর্মের ব্যাপারে আমার কোন এলার্জি নেই। ধর্ম কারো ক্ষতি করে না। কিন্তু ধর্মকে খন্ডিত করে যখন সুবিধাবাদী রাজনৈতিক ইসলামের প্রবর্তন হয়, তখন তা শুরু করে অনাচার, নৃশংসতা, হত্যা আর নির্যাতন। দেশকে ভালবাসার জন্য মুসলমান হতে হয় না, কিন্তু প্রকৃত মুসলমানরা নিজের দেশকে কখনও হেয় করে না। বলুন তো, জামাত পরিচালিত ক'য়টি স্কুলে জাতীয় সংগীত বাজানো হয়? অথচ কঠোর শরীয়াহ আইনেও জাতীয় সংগীতকে সিদ্ধ হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। এই হচ্ছে খন্ডিত ও রাজনৈতিক ইসলামের চেহারা। হয়তোবা আগামীদিনে নতুন প্রজন্মের জামাতী-শিবিররাই ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের যাতে তাদের কারণে অন্তত: রাজনৈতিক ইসলাম ম্লান না হয়। ধার্মিক হওয়া খুব ভাল যদিও বকধার্মিক খুবই বিপজ্জনক যার নমুনা এদেশে প্রতিনিয়ত দেখা যায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


