জীবনের কঠিন ছকে বাধা আমাদের এই ব্যস্ত জীবন। ঘড়ির কাঁটা ধরে চলে এই জীবন। সময়ের কাছে নিসঠুরভাবে বন্দী আমরা। জীবনের এই কঠিন বাস্তবতা বুঝতে পারি ঠিকই, কিন্তুু মুক্তির চেস্টা করি না। কি অদ্ভুত অসহায়ত্ব। বলে উঠি বেঁেচ থাকার তাগিদে এই সংগ্রাম। যাদের জীবন-যাপন মধ্যবিও জীবনধারায় আবদ্ধ, তারা মেনে নেয় এটা। বিওবানদের ব্যস্ততা আরও বেশী। তাদের কাছে প্রতিটি ব্যস্ততা সমৃদ্ধির সোপান। ব্যস্ততার এই ধারা মানসিকভাবে আমাদের বিপর্যস্ত করছে। মেজাজ বড়ই খটখটে। সব ব্যাপারে রয়েছে উদাসীনতা। রয়েছে এড়িয়ে চলার প্রবণতা। খেয়ে আসছি, তুমি খেয়ে নাও-এধরনের কথাবার্তা। কালকে গেলে হয় না, মানা করে দিলে না কেন?- এধরণের অভিযোগ তো নিয়মিত শুনা যায়।
পৃথিবীর সওর ভাগ পানি, উষ্ণতার কারণে তা আরও বাড়ছে। শরীরের সওর ভাগ পানি। এতো তারল্যের মধ্যে বসবাস আমাদের, তাই জীবনের এই অহেতুক কাঠিন্য জন্ম দিচ্ছে মানসিক অসুস্থতা আর অস্থিরতা। আড্ডাবাজ তাই আমাদের সমাজের এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। চেস্টা করলেই পারবেন ছকে বাধা এই জীবনের কাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে। সময় পেলেই ছুড়ে ফেলে দিন মোবাইল ফোন কয়েক ঘন্টা বা কয়েকদিনের জন্য। অথবা অফিস থেকে দুপোর বেলা ছুটি নিয়ে চলে যান প্রিয়জনকে বেইলী রোডে। অথবা বাসায় সবাইকে নিয়ে রান্নাঘরে গিয়ে নতুন কিছু তৈরী করে সারপ্রাইজ দিতে পারেন আপনজনকে। জীবনে তারল্য আনার জন্য সবসময় টাকার প্রয়োজন হয় না, হয় কেবল বিশুদ্ধ মনের-আবেগের। অর্থের সন্ধানে আমাদের জীবনে প্রাচুর্য আসে ঠিকই, বিনিময়ে হারিয়ে যায় সুন্দর মনটা। বিষন্নতায় ভুগি আমরা। রঙীন তরল পানীয়তে সমর্পন করি নিজেকে। অন্যকিছুতে হয়ে পড়ে নেশাগ্রস্ত ব্যস্ত-বিওবান পিতা-মাতার সন্তানরা। প্রাচুর্য আছে, শান্তি নাই। কোন্ দোকানে বিক্রি হয় একটু শান্তি? শান্তি দোকানে পাওয়া যায় না। তাই তারল্যের সন্ধান করুন অনেক দেরী হয়ে যাওয়ার আগেই। তারল্যের সন্ধানে ব্যস্ত এই জীবনে আমার সাথে গেয়ে উঠুন:
"কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে!
মেলে দিলেম গানের সুরে এই ডানা মনে মনে...
কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে"!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

