
গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে ঝিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে তাদের ভালো লাগে। দুখু মিয়ার বউ মর্জিনা বানু লাকড়ির চুলায় ভাত রান্না বসায়েছেন। আজ ভালো খাবার ডিম আলু টমেটোর তরকারি আর গরম গরম ভাত! দুইদিন যাবত দিনে রাতে প্রবল বৃষ্টিতে দুখু মিয়ার খুব আনন্দ লাগে। গনগনে রোদের তাপে দিনে কাজ করা যায় না, রাতে ঘুমানো যায় না। দিন দিন গরম বাড়তেছে - আল্লাহপাক তাঁর বান্দাদের কেনো এতো কষ্ট দিতেছেন তিনিই ভালো জানেন!
দুখু মিয়া একজন দিনমজুর, যে যা কাজ দেয় তাই করে। তিতাস নদীর তীরে তার ছাপরা ঘর, বউ মর্জিনা বানু, মেয়ে ফুলবানু, একটি কোদাল, একটি লাঙ্গল ছাড়া আর কোনো সহায় সম্পত্তি নেই। মাছ ধরার একটি জাল ছিলো, ছিড়ে গিয়েছে সেই কবে! টাকার অভাবে আর জাল কেনা হলো না, জাল বোনার সুতাও কেনা হলো না। জাল থাকলে এই বৃষ্টির দিনে তিতাসে মাছ ধরতে পারতো! তিতাস নদীর টেংরা মাছের মতো এতো স্বাদের মাছ মনে হয় পৃথিবীতে নেই।
জনম দুঃখী দুখু মিয়ার আনন্দের কারণ আছে। দুইদিন আগে মিঞা বাড়ির মিঞা ভাইয়ের সহকারী মহসিন ভাই দুখু মিয়াকে খবর দিয়ে বাড়িতে নিয়ে গিয়েছেন। ফোন করে মিঞা ভাই ধমক দিয়ে দুখু মিয়ার কাছে জানতে চেয়েছেন, হাল চালাতে পারবে কিনা? হাল চালাতে পারলে কাজ আছে। বারো বাংলা ঘুরে ঘুরে আর কাজ করতে হবে না। নদীর পাড়ে লাউ ঝিঙা চিচিঙ্গা ক্ষেত হবে, ক্ষেতে হাল দিতে হবে, পানি দিতে হবে। হাল চালাতে পারলে, সময়ে সময়ে পানি দিতে পারলে এই ক্ষেতের লাভ লোকসান সবজি দুখু মিয়া পাবে। মিঞা বাড়ি হতে দুখু মিয়ার হাতে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে। মিঞা ভাইয়ের ধমকে কেনো জানি দুখু মিয়ার কান্না আসে! মিঞা ভাই হয়তো জানেন না, দুখু মিয়া আর মর্জিনা বানু হাতে লাঙ্গল টেনে এর তার বাড়ির আঙিনায় শাক সবজি চাষ করে দিয়ে আসে! মিঞা ভাই হয়তো জানেন না, দুখু মিয়া আর মর্জিনা বানু অনেক কষ্ট করতে জানে। মিঞা ভাই হয়তো জানেন না, দুখু মিয়া আর মর্জিনা বানু কাজ পেলে দিনে রাতে কাজ করবে।
দুইদিন যাবত প্রবল বৃষ্টিতে নদীর পাড়ের মাটি নরম হয়েছে। আজ ভোর রাতে বৃষ্টিতে ভিজে দুখু মিয়া আর মর্জিনা বানু জমির আইল ধরে লাঙ্গল টানা শুরু করেছেন!
পরিশিষ্ট: দুখু মিয়া আর মর্জিনা বানুর হাতে লাঙ্গল টেনে জমি হাল চাষ করার প্রয়োজন নেই। জমি ট্রাক্টরেই চাষ হবে। কিন্তু তাদের পরীক্ষার প্রয়োজন ছিলো। দুখু মিয়া আর মর্জিনা বানু লেটার মার্ক পেয়ে পাশ করেছেন।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: বাংলাদেশে যাদের হালের গরু নেই, তারা কিভাবে জমি চাষ করেন? - চাঁদগাজী সাহেব আপনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আপনার লেখায় এমন কিছু থাকে যে, মানুষ খুঁঁজে খুঁজে তাদের জন্য কিছু করতে হয়। আপনি ভালো থাকুন, আপনি সুস্থ থাকুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


