somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকা পরিবারের সদস্য। "একই আকাশ, একই বাতাস", "আমরা এক", "আমাদের স্বপ্ন এক"- এসব বাক্য শুনতে আবেগঘন হলেও কূটনীতির জগতে শব্দেরও রাজনৈতিক অর্থ থাকে।

একজন রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার যখন বলেন, "আমাদের ১৪০ কোটির সঙ্গে ২০ কোটি যোগ করেছি, ১৬০ কোটি", তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে- এই "আমরা" শব্দটির সীমানা কোথায়?
বাংলাদেশ কি ভারতের জনসংখ্যার একটি সম্প্রসারিত অংশ?
বাংলাদেশ কি ভারতের কোনো সাংস্কৃতিক উপনিবেশ?
নাকি বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, সমমর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র?

দুই দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও ভৌগোলিক বাস্তবতার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা অবশ্যই আছে। কিন্তু ঘনিষ্ঠতা আর একীভূত পরিচয় এক জিনিস নয়।
বাংলাদেশের মানুষের কাছে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, নদীর পানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা- সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু সেই সহযোগিতার ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা।

সমস্যা হলো, ভারতের একটি অংশ এখনো বাংলাদেশকে এমন এক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে, যেখানে সম্পর্কের ভাষা হয় অভিভাবকের, অংশীদারের নয়। পিঠ চাপড়ে দেওয়া, আবেগ দেখানো, বড় ভাইসুলভ উপদেশ দেওয়া- এসব হয়তো অতীতে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে এখন নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ২০০৭ থেকে ২০২৪, ৫ আগস্টের বাংলাদেশ নয়। "স্বামী-স্ত্রী" সম্পর্ক খতম।

বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক জনগণ এখন রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রশ্নে অনেক বেশি সংবেদনশীল। আমরা বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু অধীনতা নয়। সহযোগিতা চাই, কিন্তু তাচ্ছিল্য নয়। সুসম্পর্ক চাই, কিন্তু আত্মসমর্পণ নয়।

ভারতের জন্যও এই বাস্তবতা বোঝা জরুরি। দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা চাইলে প্রতিবেশীদের "ছোট" হিসেবে নয়, "সমমর্যাদার অংশীদার" হিসেবে দেখতে হবে। কারণ সম্মান ছাড়া বন্ধুত্ব টেকে না, আর মর্যাদা ছাড়া সহযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে কে কাকে কতটা পিট চাপড়াবে তার উপর নয়; বরং কে কাকে কতটা সম্মান করে তার উপর।

রাষ্ট্রের সম্পর্ক আবেগ দিয়ে শুরু হতে পারে, কিন্তু টিকে থাকে মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে। সেই সত্যটি যত দ্রুত নয়াদিল্লি বুঝবে, ততই দুই দেশের জন্য মঙ্গল। আর বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদেরও মনে রাখতে হবে- স্বাধীনতা শুধু একটি পতাকা নয়; স্বাধীনতা হলো এমন এক মানসিকতা, যেখানে কোনো রাষ্ট্রই অন্য কোনো রাষ্ট্রের ছায়া হয়ে বাঁচে না।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদার ভিত্তিতে, অভিভাবকত্বের ভিত্তিতে নয়। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে- কে কাকে কতটা সম্মান করে তার উপর।
কারণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জগতে স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই; স্থায়ী হলো জাতীয় স্বার্থ এবং পারস্পরিক সম্মান। বাংলাদেশ কোনো বৃহত্তর রাষ্ট্রের কাহিনির শেষের সংযোজন নয়; তার নিজস্ব ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রচিন্তা ও আত্মপরিচয় আছে। থাকবে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা, সমতা ও আত্মমর্যাদার প্রশ্ন।

বাংলাদেশ ভারতের বন্ধু হতে পারে, অংশীদার হতে পারে, সহযোগী হতে পারে- কিন্তু কখনো কারও রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বা কূটনৈতিক অভিভাবকত্বের অধীন হতে পারে না।

গঙ্গার পানি যেমন নিজের গতিতে সাগরে পৌঁছায়, তেমনি বুড়িগঙ্গাও নিজের স্রোতধারা নিয়েই প্রবাহিত হয়। দুই নদীর গন্তব্য এক হতে পারে, কিন্তু পরিচয় এক নয়।
এই সহজ সত্যটি যত দ্রুত সবাই উপলব্ধি করবে, তত দ্রুত দক্ষিণ এশিয়ায় একটি পরিণত, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পাঠের সওয়াব

লিখেছেন শিমুল মামুন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬


লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এর ফজিলত ও সওয়াব অনেক বেশি। আমলটি করার ব্যাপারে হাদিসে অনেক বর্ণনা এসেছে।

সাগরের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাফ হয়
আবদুল্লাহ ইবনে আমর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সী পার্ল এবং চারপাশ

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৪


খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গল। সূর্য তখনও জাগেনি। ব্যালকুনিতে গিয়ে বসলাম কিছুক্ষন। সামনে সাগর আপনমনে ঢেউ তুলে নাচছে। একজন মানুষও নাই সাগরপাড়ে। এমন নিরিবিলি সাগরপাড়ই চেয়েছিলাম। যেখানে পুরোটাই আমার থাকবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

হয় না দেখা আর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


কতদিন হলো, হয় না দেখা
রঙধনু মেলা, শীত কাটে না
আর ঐশ্বর্য উষ্ণ বেলা
চঞ্চলতায় টিপুটিপু খেলা;
বিস্মৃতির পাতায় ডুবে যাচ্ছে
চাঁদ না দেখার আর্তনাদ,
ভেঙ্গে পরেছে অমোঘ
অপেক্ষায় দীর্ঘশ্বাস ঘুণ ধরেছে
নুনে পরেছে সময়ের ছলনা
মুখ ফিরেছে বাতাসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×