somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুনতাসির রাসেল
শব্দ আমার আশ্রয়, চিন্তা আমার পথ। ইতিহাস, সমাজ আর আত্মপরিচয়ের গভীরে ডুব দিই—সত্যের আলো ছুঁতে। কলমই আমার নিরব প্রতিবাদ, নীরব অভিব্যক্তি।

অন্তর্দিগন্ত

১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই সে মরুভূমির মতো নিজের ভেতর জল জমাতে চেয়েছে,
আর ভুলে গেছে,
জল যত স্থির হয়, ততই তার মধ্যে শেওলা জন্মায়।

অথচ দেখো,
ভোরের শিশিরের কোনো ভাণ্ডার নেই, তবু সূর্যের প্রথম আলোয় সে হীরার মতো দীপ্ত।
আকাশের কোনো সম্পত্তি নেই, তবু পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ বিস্তার তার।
বাতাসের কোনো ঠিকানা নেই, তবু সমস্ত ফুলের গন্ধ তার হাত ধরেই ভ্রমণ করে।

মানুষও একদিন এসব জানত।

সে জানত,
এক মুঠো ভাতের পাশে বসা প্রিয় মুখ একশো ভোজের চেয়ে মূল্যবান।

সে জানত,
ক্লান্ত শরীরের নিশ্চিন্ত ঘুম রাজমুকুটের চেয়েও বিরল সম্পদ।

সে জানত,
সন্ধ্যার শেষে যেখানে ফিরে যাওয়া যায়, সেই ঘরই পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী রাজ্য।

তারপর একদিন
সংখ্যা এসে বসল মানুষের মনে।

সে নক্ষত্র গুনতে গুনতে আকাশ হারাল,
ফুলের দাম জানতে গিয়ে সুগন্ধের সঙ্গে সম্পর্ক হারাল,
নদীর গভীরতা মাপতে মাপতে ভুলে গেল,
জলের গান।

সেই থেকে
তার ভেতরে জন্ম নিল এক অদৃশ্য মরুভূমি।
যত জল ঢালা হলো, তত তৃষ্ণা বিস্তৃত হলো।
যত প্রাপ্তি জমল, তত দূরে সরে গেল সন্তুষ্টির সীমা।
পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় দাঁড়িয়ে সে দেখল,
দিগন্ত আসলে কোনো স্থান নয়।
এ এক আহ্বান,
যেখানে পৌঁছানো যায় না, শুধু অনুসরণ করা যায়।

তাই সে চলল।
ঋতুর পর ঋতু।
আলোর পর অন্ধকার।
এক নাম থেকে আরেক নামে, এক অর্জন থেকে আরেক অর্জনে।

অথচ
পথের ধারে একটি ঘাসফুল নিঃশব্দে ফুঁটে ছিল।
একটি পাখি বিকেলের আকাশে নিজের ছোট্ট বৃত্ত এঁকে ফিরেছিল।
একটি জানালায় প্রদীপ জ্বলেছিল কারও প্রতীক্ষায়।

পৃথিবীর গভীরতম ঐশ্বর্য সেই দৃশ্যগুলোর ভেতরেই ছিল,
কিন্তু মানুষ সেগুলোর পাশ দিয়েই নিজের অভাবের বোঝা বহন করে চলছিল।

তারপর একদিন
সন্ধ্যা নেমে এলো।
নদীর উপর।
পাহাড়ের উপর।
মানুষের দীর্ঘ পথের উপর।
তখন সে দেখল,
যে নদীকে সে সমুদ্র ভেবেছিল, তা ছিল যাত্রা ।
আর যে শিখরকে সে গন্তব্য ভেবেছিল, সেটা ছিল বিরতি।
যে প্রাপ্তিগুলোকে সে কৃতিত্ব ভেবেছিল, সেগুলোও ঋতুর মতোই অতিবাহিত হয়ে গেছে।

শুধু কিছু দৃশ্য থেকে গেছে
বৃষ্টির পর ভেজা মাটির গন্ধ,
কোনো বিকেলের নির্জন আলো,
দূর আকাশে ভেসে যাওয়া একটি নিঃসঙ্গ পাখি।

ঠিক যেমন
শিশির কখনো নিজের দীপ্তির সংবাদ রাখে না,
আকাশ কখনো নিজের বিস্তারের হিসাব জানে না,
বাতাস কখনো নিজের পথের দৈর্ঘ্য মাপে না।

তবু
তাদের কিছুই অসম্পূর্ণ নয়।

তখন
দীর্ঘ যাত্রার শেষে
সে প্রথমবার বুঝল,
পূর্ণতা হয়তো অর্জনের অন্য নাম নয়।
হয়তো পূর্ণতা সেই অবস্থার নাম,
যেখানে নদী সমুদ্র হওয়ার তাড়নায় ক্লান্ত নয়,
যেখানে আকাশ আরও বিস্তৃত হওয়ার প্রয়োজন অনুভব করে না,
যেখানে একটি প্রদীপ নিজের ছোট্ট আলোকবৃত্ত নিয়েই সন্তুষ্ট।

আর তখন
দিগন্ত দূরে ছিল না।
দূরে ছিল না কোনো কাঙ্ক্ষিত তীরও।
কারণ যে অনন্তকে সে পৃথিবীর প্রান্তে খুঁজছিল,
সে অনন্ত
নিঃশব্দে বসে ছিল
এক ফোঁটা শিশিরের মধ্যে,
একটি ক্ষণস্থায়ী বিকেলের মধ্যে,
একটি মানুষের হৃদয়ের মধ্যে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:১০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রামের বন্যায় আক্রান্তদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি?

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:০৭


সম্মানিত ব্লগার,
বাংলাদেশের সবরকমের দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের ব্লগারদের বিশেষ অবদান রয়েছে। দুর্যোগে আক্রান্তদের সহযোগিতায় আমাদের সামু ব্লগারেরা সবসময়ই এগিয়ে এসেছেন। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমি অনুরোধ করছি না। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট : প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪১


বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শুধু একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। নতুন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×