এবিষয়ে কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন তুলে ধরার আগে লেখকের ব্যাপারে একটু আলোকপাত করার দরকার। হীরন্ময় কারলেকার কলকাতার সাংবাদিক। তিনি পাইওনীয়ার পএিকার উপদেস্টা সম্পাদক। হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, স্টেটসম্যান পএিকার সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। সেইজ পাবলিকেশনে প্রকাশিত তার বইয়ের পর্যালোচনা পড়তে হলে টোকা দিন: http://tinyurl.com/zjmgu
বইটি কি অসংখ্য ভুল তথ্য পরিবেশন করেছে? তাই প্রশ্নগুলো সাজিয়ে দিলাম এ নিয়ে আরও চিন্তা ভাবনা করার জন্য। বাংলাদেশ কি পরবতর্ী আফগানিস্তান? অবশ্যই না। বইটির আপওিকর প্রচ্ছদটি আর শিরোণাম বাংলাদেশ সম্পর্কে কেবল বিভ্রান্তি ছড়ানোর অসৎ উদ্দেশ্যে একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ? বাংলাদেশে মৌলবাদী রাজনীতির কোন অস্তিত্ব কেউ কি দেখাতে পারবে?
বাংলাদেশে রাজাকার জামাত শিবির কখনও কি দেশদ্রোহী ছিল? অবশ্যই না। দেশের জন্য সীমাহীন ভালবাসার অংশ হিসেবে তারা পশ্চিম পাকিস্তানীদের সাথে হাত মিলিয়ে এদেশের নিরীহ মানুষদের নিধন করেছে।
রাজাকার জামাতীরা কি যুদ্ধাপরাধী? অবশ্যই না। অপরাধীরা তো শাস্তি পায়। জামাতীরা নিতান্তই নিরপরাধী, তাই তাদেরকে আইন কখনো স্পর্শ করেনি। আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে তারা বেরোবে কি করে? কে আবার তাদেরকে পূণর্বাসন করেছে?
মৌলবাদী রাজনীতির স্বীকৃতিতে ও বিস্তৃতিতে জিয়া ও এরশাদের সামরিক সরকার কি কোন সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা দেখিয়েছে?
প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য মৌলবাদী রাজনীতির কোন ব্যবহার বাংলাদেশে কি কখনো হয়েছে?
জেএমবি'র ক্যাডারদের অনেকের কাছে কি জামাতীদের জেহাদী বই আর সাঈদীর ক্যাসেট পাওয়া গিয়েছিল? তারা আগে কেউ কি জামাত-শিবিরের সাথে যুক্ত ছিল?
জামাতে ইসলামীর কি কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আছে? বইটি মৌলবাদী জামাতীদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড: আবুল বারাকাতের সামপ্রতিক যে গবেষণা পএটি ব্যবহার করেছে তা কি সত্য?
জেএমবি'র সদস্যরা কি বিরোধী দল কর্তৃক সৃস্ট? বিরোধী দলের নেত্রী ভেবেছিলেন, আত্মঘাতী বোমার মাধ্যমে তিনি নিজে অন্যান্যদের মতো শহীদ হতে পারলে তার দল অনেক এগিয়ে যাবে। হয়তোবা তিনি উপলদ্ধি করেছিলেন, শহীদ জিয়া জীবিত এরশাদের চেয়ে অনেক বেশী শক্তিশালী। তাই সেই পথে তিনি নিজেও এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।
বিএনপি'র সাংসদ যখন অভিযোগ আনেন জেএমবি 'র মৌলবাদীদেরর বিস্তার সম্পর্কে, তখন সে সম্পর্কে কোন তথ্য অনুসন্ধান করলে কি কেঁচো খুড়তে গিয়ে সাপ বের হয়ে যেতো? জেএমবি'র নেতারা যখন রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ আদালতে প্রকাশ্যে আনে তখন তা ধামাচাপা দেয়া হয় কার স্বার্থে?
বইটি নতুন নয়। গত পাঁচ মাসে এই বইয়ের অভিযোগগুলো খন্ডন করে যুক্তিযুক্ত উওর দেওয়ার মতো লোক কি দেশ থেকে উধাও হয়ে গেছে? দেশের বিরুদ্ধে যদি মিথ্যে প্রচারণা হয়, তার উওর দেওয়া সকল নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। কাজেই সেই দায়িত্ব পালনে যখন আমরা ব্যর্থ তখন বরং এধরণের আপওিকর বিষয়ের লেখকদের উপর এক চোট নিয়ে আমরা আত্মতৃপ্তি খুঁজে নেব। আমাদের এই অন্তর্দ্বন্দ্বের অবসান কবে হবে?
একথা সকল তর্কের উধের্্ব যে বাংলাদেশ কখনো আফগানিস্তান হবে না। কিন্তু তারপরেও আমরা যদি খরগোশের মতো চোখ বন্ধ করে রাখি তাহলে কি আমরা মৌলবাদ ও ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রেহাই পাব? সমাজের বিভিন্ন স্তরে মৌলবাদীদের পরিকল্পিত বিস্তৃতি কি শুধু দু:স্বপ্ন? শিবির নেতা সালেহীর মতো লোকরা অপরাধের হাত থেকে নীরবে নিস্কৃতি পাবে যার মাঝে হারিয়ে যাবে ড: আজাদ আর ড: তাহেরের মতো নিরীহ নিরপরাধ অধ্যাপকরা। উদীচীর আসরে বোমা হামলাকারীরা বেকসুর খালাস পাবে কারণ আইন একেবারে অন্ধ। কিন্তু তাই বলে "অন্ধ হলে কী প্রলয় বন্ধ থাকবে"?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




