somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কলিমুদ্দি দফাদার
“কলিমদ্দিকে আবার দেখা যায় ষোলই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাজারের চা স্টলে। তার সঙ্গীরা সবাই মুক্তি, সে-ই শুধু তার পুরনো সরকারি পোশাকে সকলের পরিচিত কলিমদ্দি দফাদার।”

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করত এবং তা পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে চড়া দামে বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভারী করত। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে তারা নানাবিধ দান-দক্ষিণা সংগ্রহ করত। সমগ্র মিসর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মন্দিরের জাল এবং সাধারণ মানুষকে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলার ভয়ে শাসকরা সব জেনেও অনেক সময় নিশ্চুপ থাকতে বাধ্য হতেন।

অনুরূপ চিত্র দেখা যায় ঈসা (আ.)-এর সময়কালেও। তৎকালীন ইহুদি রাব্বিরা সুদের ব্যবসা, মন্দির থেকে অবৈধ কর আদায় এবং কৃষকদের ফসলের একটি বড় অংশ হাতিয়ে নেওয়ায় মত্ত ছিল। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় ছিল, তারা তাওরাতের মূল শিক্ষা ও প্রতিপাদ্যকে আড়ালে রেখে নিজেদের মনগড়া 'শরিয়াহ' বা নিয়মকানুনকে জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল। যখন ঈসা (আ.) তাদের এই ভণ্ডামি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন, তখন এই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করে। শেষ পর্যন্ত তারা রোমান গভর্নরের কাছে ঈসা (আ.)-কে শূলে চড়ানোর আবেদন জানায়, যাতে তাদের শোষণের পথে কোনো বাধা না থাকে।

ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা এবং এর মূল চেতনা বিকৃত করা এক শ্রেণির ধর্মযাজক ও পুরোহিতদের হাজার বছরের পুরোনো সংস্কৃতি। যখন ধর্মকে আধ্যাত্মিকতার পরিবর্তে ক্ষমতা দখল, সমাজে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থ উপার্জনের মাধ্যম বানানো হয়, তখন যারা এর প্রতিবাদ করেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই এই ভণ্ডদের চক্ষুশূলে পরিণত হন।

সময়ের গিয়েছে সভ্যতার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু হাজারো বছরের ধর্ম ব্যবসা এখন বহাল তবিয়তে আছে। আমাদের দেশের আলেমসমাজের একটি অংশের আচার-আচরণ ও নৈতিক স্খলন আজ প্রশ্নবিদ্ধ। তারা একদিকে মসজিদ-মাদ্রাসা ও ফতোয়াকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ধর্মীয় আবেগ পুঁজি করছেন, অন্যদিকে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য কৌশলে সরকারের থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন। সত্যনিষ্ঠার চেয়ে সুবিধাবাদই যখন তাদের প্রধান চারিত্র্য হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাদের কথা ও কাজ আর সাধারণ মানুষের জন্য অনুকরণীয় থাকে না।ধর্মগ্রন্থ হিসেবে কুরআনকে শরীফকে  হয়তো সৃষ্টিকর্তা সহজে মুখস্থ করার ক্ষমতা দিয়েছেন। না হয় আমি শংকিত ছিলাম বর্তমানে দাঁড়ি-টুপি ওয়ালা এই মাওলানারা ইহুদি রাব্বিদের মতো কুরআনের আয়াত  বিকৃতি করে ফেলতো জ্বাল হাদিসের মতো।

অধ্যাপক গোলাম মাহবুব; নামকরা এমবিবিএস ডাক্তার। উনার প্রাইম টাইমে এতো রোগীর চাপ ছিলো যে সরকারী চাকুরী ছেড়ে প্রাইভেট হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে বসেন। আমার বাপের বন্ধু মানুষ, দুইজন একসাথে হজ্ব ও করেছেন। যতদূর শুনেছি উনি মসজিদ মাদ্রাসায় প্রচুর দান সদকাহ করতেন‌। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে তার জীবনদর্শনে এক বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে তিনি কুরআন অধ্যয়ন করে ব্যক্তিগত উপলব্ধি থেকেই ইসলাম পালন করছেন। এখন তিনি মসজিদে ইমামের পেছনে নামাজ পড়ছেন না, এমনকি জানাজা নিয়ে সন্তানদের প্রতি তার বিশেষ অসিয়ত রয়েছে। তার এই বিবর্তন ও বর্তমান অবস্থান সত্যিই ভাববার মতো।

বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মানুষ অনেক বেশি সচেতন। বিশেষ করে ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন মক্কা-মদিনার মূল ইসলামের সাথে আমাদের দেশের প্রচলিত প্রথাগত ইসলামের পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হয়, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের চিন্তার খোরাক তৈরি হয়। সাবেক মেজর জাকারিয়া কামালের মতো ব্যক্তিরা যখন বিজ্ঞান বা যুক্তির আলোকে কথা বলেন, তখন তা তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্যতা পায়।অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আমাদের দেশে ধর্মের নামে এমন অনেক বিষয় প্রচলিত আছে যা মূলত স্থানীয় সংস্কৃতি বা ভুল ব্যাখ্যা থেকে আসা।মক্কা-মদিনার শিক্ষা: যা মূলত কুরআন এবং বিশুদ্ধ সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আবার প্রচলিত প্রচারণা অনেক ক্ষেত্রে আবেগসর্বস্ব ওয়াজ-মাহফিল বা ব্যক্তিপূজার দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা মূল ইসলাম থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে নিতে পারে।

যাইহোক, তারা ভালো নাকি মন্দ, সত্য-মিথ্যা এই বিতর্কে যাবো না।‌ ধর্মের উপর আমার জ্ঞান সীমিত। তবে মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন হচ্ছে, ওয়াজ মাহফিলে তারা বিতর্কিত মন্তব্য করে আরো বেশি ফেতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করছেন। এগুলির একটা রিফর্ম দরকার। যেকোনো গঠনমূলক সমালোচনা বা সংস্কারের দাবি উঠলেই তাকে"শাহবগী"" নাস্তিক" বাম ইহুদি-নাসারা" বা "পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র" বলে গা বাঁচানো যাবে না। ভুলগুলো স্বীকার করা এবং তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া দুর্বলতা নয়, বরং সাহসিকতা। সবকিছুতে ষড়যন্ত্র খুঁজে বের করলে সমস্যার মূলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। মধ্যযুগীয় ইউরোপে চার্চ যখন মানুষের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করেছিল, তখনই রেনেসাঁ বা নবজাগরণের জন্ম হয়েছিল। ইসলামের নামে এইসব কর্মকান্ড চলতে থাকলে এদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা ওয়াজ-মাহফিল মৌলভীদের বিরুদ্ধে গণজাগরণ হবে।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:০৩
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পিকারকে নিরপেক্ষ হতেই হবে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

স্পিকারকে নিরপেক্ষ হতেই হবে....

দুইদিন আগে সংসদে ট্রেজারি বেঞ্চের একজন সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র আপত্তি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এমন অবস্থায় ডেপুটি স্পিকার অত্যন্ত দৃঢ়তা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×