somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার মাঠ, কারো ঝরে পড়া বকুল ফুলফল, শিউলি আহরণ এবং অতঃপর মালাগাঁথা! এমনটাও অসংখ্য দিন-বার হয়েছে না বলেকয়ে ফুলফল আহরণ এমনকি বৃক্ষসমেত! আর অবকাশের বাইরের দিনগুলো ছিলো সাত সকালে বই নিয়ে বসে পড়া কেননা তখনো এতটা বৈষয়িক হতে শেখেননি পণ্ডিত মশাইরা! অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাড়ির গুরুজন বা নিকটজনরাই ছিলেন অত্যন্ত চড়া মেজাজের গৃহশিক্ষক সাথে বিচিত্র কিসিমের শাস্তি- আহা স্মৃতি!

অতঃপর সময় যৌবনপ্রাপ্ত হলেই স্কুলযাত্রার প্রস্তুতি।
এখনকার মতো তখন এতো রঙিন ও যুগোপযোগী কিছু বের হয়নি যাকে বলা যেতে পারে স্কুলব্যাগ! অধিকাংশেরই বাহন ছিলো বিচিত্র বাহারের পলিথিন- নাইলন সুতা নির্মিত ব্যাগ! অবস্থাপন্নদের জন্য বরাদ্দ ছিলো টিনের তৈরি একধরনের ক্ষুদ্রাকার সুটকেস যা আবার তালা-চাবি সমৃদ্ধ! কারো কারো টিফিন নেয়ার বালাই, কারো যৎসামান্য অর্থ আর সবার জন্য বরাদ্দ ছিলো স্কুল কর্তৃক টিফিন- আহা সেকালের টিফিন- কী যে নির্ভেজাল মজাদার- এখনো জিহবা ভিজে যায় জলে!

সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার তার আগে শনিবার অর্ধদিবস নাকি শুক্রবার সেটা নেই ঠিক স্মৃতি অন্তর্গত।
তবে পরস্পরের মধ্যে ব্যাপক বিনিময় হতো আউটবই- যা মূলত গল্প- উপন্যাস! স্কুল থেকে ফিরেই বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে চলতো খেলার জন্য মাঠ ভাগাভাগি বা দখলবাজি- শীতে ক্রিকেট আর গ্রীষ্মে ফুটবল- হাত -পা ছিলে যাওয়া ছিলো নেহায়েতই মামুলি ঘটনা! তবে জারি ছিলো কঠোর অনুশাসন- সন্ধ্যার পূর্বেই গৃহ প্রত্যাবর্তন নতুবা বিচিত্র ধরনের শাস্তির নেমে আসতো খড়গ! জন্ডিস আলোর নিচে পড়তে বসা, হোমওয়ার্ক ও ঘুমানোর পূর্বে কখনো কখনো কিভাবে যেনো মিলে যেতো টিভিদর্শন- এই সপ্তাহের বাংলা সিনেমা ও পরবর্তীতে মুভি অব দ্য উইক!

বৈচিত্র্যময়তার মধ্যে আরো যোগ হয়েছিল স্কুল ফাঁকি, ক্লাশ ফাঁকি-
ছুটিতে মাতুতালয় যাত্রা- আহা আমার উল্কা এক্সপ্রেস! ভালো লাগে না একালের ঝলমলে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন! তখন বিভিন্ন উৎসব- পার্বণে একধরনের রীতি অনুসৃত হতো- শুভেচ্ছাস্বরূপ পিঠেপুলি- মিষ্টান্ন বিনিময় আর ছিলো অপরিসীম সহমর্মিতা! ছিলো না জাতপাত কিংবা গোত্রসংঘাত। মূলত আমাদের সবার শৈশব- কৈশোরের গল্প অভিন্ন; জনপ্রিয় হয়নি এখনকার মতো বৈষম্য- বিভেদ! ঘরে ঘরে প্রাচুর্য না থাকলেও খেলা করতো ব্যাপক সরলতা।

সেই সময়ের গল্প শোনা-
জানা মানুষগুলো এখন সময়ের স্রোতে যে যার মতো আছে সুখে- অসুখে! তাবৎ বিষয়াদি ফ্রেমবন্দী করতে একদিন বসে পড়বো পড়বো করে বসা হয় না বলেই লিখে রাখলাম সারাংশ! হয়তোবা সারাংশই থেকে যাবে- যেনবা একালের রূপকথা! রূপকথা আমরা ইদানিং খাই বটে কিন্তু মাখাই না! যে যার মতো রান্না করে খাক, পুড়িয়ে খাক বা সেদ্ধ করে খাক- খেতে খেতে না হয় মেখে যাবে একআধটু!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানুষ দ্বিতীয় বিয়ে কেন করে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭



যাদের চরিত্র খারাপ তারাই দ্বিতীয় বিয়ে করে।
দ্বিতীয় বিয়ে করা অন্যায়। একজন নীতিবান মানুষ কখনও দ্বিতীয় বিয়ে করে না। দ্বিতীয় বিয়ের ফল তো ভালো হয় না। আমাদের দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখনই কওমী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৮


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখনই কওমী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিন। এর জন্য যদি আকাশ ভেঙে পড়ে, তাহলে ভেঙে পড়ুক। এর কারণে যদি দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা-ই হোক। এখনই উপযুক্ত সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমজনতা আর রাজনীতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৮

দেশটা এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে চায়ের দোকানের বেঞ্চি থেকে শুরু করে ফেসবুকের কমেন্টবক্স পর্যন্ত সবাই ভূরাজনীতির গোপন উপদেষ্টা। কেউ ন্যাটো বুঝে, কেউ "র" এর ফাইল পড়ে ফেলেছে বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনৈতিক দল গঠনের মতো জনপ্রিয়তা ইউনুস সাহেবের ছিলো না ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ২:২৬


মাঝে মাঝে আমি ইউটিউবে বা মাহফিলে গিয়ে হুজুরদের ওয়াজ শুনি। শোনার কারণটা ধর্মীয় যতটা না, তার চেয়ে বেশি হলো আমাদের সমাজের হুজুররা দেশীয় অর্থনীতি বা সামাজিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×