(আড্ডার ইংজেী ভার্সনে প্রকাশ পায় ডিসেম্বর 6, 2005) আমি সত্যি আমার গুরুকে খুবই মনে করি যার প্রেরণায় শুরু হয় আমার লেখা। আমার গুরু (মেন্টর) বাংলাদেশ বিষয়ক লেখায় ছিলেন অত্যস্ত সিদ্ধহস্ত। তার লেখা বের হতো বেশ ক'টা বাংলা কাগজে। পাঠকরা তার লেখায় হাস্যরস ও কঠিন বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে উপভোগ করত। আমি ছিলাম তার লেখার বড়ই ভক্ত। তিনি ছিলেন আমার লেখার প্রেরণার উৎস। শেষ পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত উৎসাহে বাংলাদেশ নিয়ে লেখার সিদ্ধান্ত নিতে আমি বাধ্য হলাম।
আমি আমার কম্পিউটারে বাংলা সফটওয়্যার যোগ করলাম, তার সাথে আলাপ করতে লাগলাম যেসব বিষয় নিয়ে আমি লিখব। কথা ছিল, তিনি আমার লেখাগুলো পর্যালোচনা করে বলবেন, কোন্ কোন্ দৈনিকে আমি পাঠাতে পারি। আমার গুরু খুবই আনন্দিত যে তার চেস্টা সাফল্যের আলো দেখতে যাচ্ছে। আমিও মহা আনন্দিত যে, আমি এমন গুরু পেয়েছি যিনি আমাকে হাতে কলমে লিখতে খড়ি দিবেন। তারপর হঠাৎ খবরটা বের হলো যে আমার গুরু আমাকে ও তার প্রিয় পাঠকদেরকে একা রেখে নীরবে চলে গেছেন। তিনি চলে গেলেন একেবারের জন্য।
আমি আমার প্রথম লেখার খসড়া নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকি যে তাকে ই-মেইল করব দেখার জন্য। তা আর হয়ে উঠল না। আমি জানি, কেউ আর আমাকে ফোন করে লেখার তাড়া দেবে না। খুব অকালেই আমি হারালাম আমার গুরুকে। যিনি আমাকে লেখার জন্য এতোটা উৎসাহ দিয়েছেন তাকে কিভাবে জানাই আমার শ্রদ্ধাঞ্জলী? আমি কি আমার লেখার প্রিয় পাঠকদের অনুরোধ করতে পারি আমার গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে? যদি আপনি রাজী হন, আপনি কি আপনার ব্যক্তিগত গুরুর সাথে দেখা বা ফোন করে বলতে পারবেন, "আপনার উপরে উঠার পেছনে আপনি তার কাছে কতটা ঋণী"। আপনি যদি তা করেন, তাতেই আমি শান্তি পাব, কারণ আমি তো এটাও আর করতে পারি না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

